আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী ১ মে থেকে আফ্রিকার প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকান ইউনিয়নের (এউ) ৩৯তম বার্ষিক সম্মেলনে এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে আফ্রিকার ৫৩টি দেশ চীনের বিশাল বাজারে কোনো প্রকার শুল্ক ছাড়াই পণ্য রপ্তানি করতে পারবে।
চীনের এই নতুন ঘোষণার আওতায় শুধুমাত্র এসওয়াতিনি (সাবেক সোয়াজিল্যান্ড) বাদে আফ্রিকার বাকি সব দেশ এই বাণিজ্যিক সুবিধা পাবে।
উল্লেখ্য যে, এসওয়াতিনি এখনো তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখায় তাদের এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। বর্তমানে চীন আফ্রিকার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং মহাদেশটির অবকাঠামো উন্নয়নে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের মাধ্যমে বড় বড় প্রকল্পে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংরক্ষণবাদী শুল্ক নীতির বিপরীতে চীন নিজেকে আফ্রিকার আরও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সম্মেলনের ফাঁকে আফ্রিকার ঋণ সংকট নিয়ে নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি ঘোষণা করেছেন, কোনো আফ্রিকান দেশ যদি চরম জলবায়ু দুর্যোগ বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার হয়, তবে তাদের ঋণ পরিশোধের কিস্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার সুযোগ দেবে দেশটি।
মেলোনির এই প্রস্তাবটি মূলত ইতালির বিশেষ ‘মাত্তেই প্ল্যান’-এর অংশ, যা আফ্রিকার সঙ্গে জ্বালানি, কৃষি ও অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। যদিও এই ঋণ স্থগিতের প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।
আফ্রিকান ইউনিয়নের এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে পানি নিরাপত্তা ও স্যানিটেশন। ২০২৬ সালের জন্য সংস্থাটির থিম হলো: “এজেন্ডা ২০৬৩ বাস্তবায়নে টেকসই পানি সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ।”
পরিসংখ্যান বলছে, আফ্রিকার প্রায় ৪০ কোটি মানুষ বর্তমানে নিরাপদ খাবার পানির সংকটে রয়েছেন এবং ৮০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধা নেই। সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্ব নেতারা এই মানবিক সংকট নিরসনে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।