চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে এসে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ঘুরে দেখেন তিনি।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাবের ইতিবাচক সম্ভাবনা আছে। তবে পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও আছে, যার জন্য সতর্ক পর্যালোচনার প্রয়োজন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ইতিমধ্যে শ্রমিকেরা আন্দোলন করছে, তাদের দাবি রয়েছে। আমরা বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছি। একই সঙ্গে আমাদের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থও নিশ্চিত করতে হবে। বৃহত্তর অর্থনৈতিক লাভের বিষয়টি স্পষ্ট হলে দেশপ্রেমের জায়গা থেকে শ্রমিকেরা নমনীয়তা দেখাবেন বলে আশা করা যায়।’

উল্লেখ্য, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দীর্ঘ মেয়াদে বিদেশি কোম্পানির হাতে পরিচালনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার এসে এই প্রক্রিয়া প্রায় গুছিয়ে আনে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষি শুরু হয়। জাতীয় নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন বন্দরের শ্রমিকেরা। শ্রমিক আন্দোলনের মুখে ইজারাপ্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বন্দরের কিছু নতুন প্রকল্প পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ল্যান্ডলর্ড মডেল নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চায়। এতে কনটেইনার টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর যেভাবে এগিয়েছে, সেটা ইতিবাচক। তবে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। আমরা চাই, সমন্বিতভাবে কাজ করে এই সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে।’

সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, নৌপরিবহনসচিব জাকারিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের (রিহ্যাব) ২০২৬-২৮ মেয়াদের নতুন সভাপতি হয়েছেন গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান মো. আলী আফজাল। তিনি ২৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

মো. আলী আফজাল প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার বা দলপ্রধান। ছয় সহসভাপতি পদের মধ্যে চারটিতে জয়ী হয়েছেন এই প্যানেলের প্রার্থীরা। বাকি দুটি পদে জয়ী হয়েছেন আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা।
সভাপতি পদে আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্যানেল লিডার ও রিহ্যাবের বর্তমান সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান পেয়েছেন ১৯৩ ভোট। এ ছাড়া জাগরণ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মোকাররম হোসেন খান পেয়েছেন ৯০ ভোট। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল খায়ের সেলিম পেয়েছেন ১২ ভোট।

রিহ্যাবের নির্বাচন গতকাল শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়
রিহ্যাবের নির্বাচন গতকাল শনিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়
 

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভোট গণনা শেষে দিবাগত রাত একটার দিকে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সিনিয়র সহসভাপতি পদে আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের আবদুর রাজ্জাক ২১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের লিয়াকত আলী ভূঁইয়া পেয়েছেন ২১৪ ভোট।

প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে সহসভাপতি হয়েছেন আবু খালিদ মো. বরকতুল্লাহ, এ এফ এম উবাইদুল্লাহ ও মো. হারুন অর রশিদ। আর আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ থেকে সহসভাপতি হয়েছেন মোহাম্মদ আকতার বিশ্বাস ও মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান (চট্টগ্রাম অঞ্চল)।

নির্বাচিত ২০ পরিচালকের মধ্যে ১১ জন আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী। বাকি ৯ জন প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে জয়ী হয়েছেন।

ঢাকা

বাংলাদেশের আর্থিক, রাজস্ব ও বিনিময় হার—এ তিন খাতে ব্যাপক সংস্কার দরকার বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির মতে, তিনটি খাতের প্রতি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের এখনো অনেক কাজ বাকি।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন এ কথা বলেন। ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশের সাংবাদিকেরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

১৩ এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক শুরু হয়েছে, যা ১৮ এপ্রিল শেষ হবে। এ বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ মোট ১৪ জন অংশ নিয়েছেন।

জবাবে কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বাংলাদেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। বলেছি, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসা সরকারই উচ্চাভিলাষী সংস্কারকাজ হাতে নিতে পারে। তারা আমাদের কথা শুনেছে। এখন আমরা দেখব তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।’

রাজস্ব আহরণের বিষয়ে কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করেনি। এটি নিম্নস্তরে রয়েছে এবং গত তিন বছরে তার আরও অবনমন ঘটেছে। কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পরে জানানো হবে।

কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, সহায়তা হওয়া উচিত লক্ষ্যভিত্তিক। আর দরকার সীমিত সম্পদের দক্ষ ব্যবহার। বাংলাদেশের রাজস্ব ভিত্তি তুলনামূলকভাবে ছোট, রাজস্ব আহরণও কম হয়। ফলে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশি চাপে রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষও কষ্টে আছে। ফলে যে সম্পদই বাংলাদেশের থাকুক না কেন, তার সর্বোচ্চ লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, আর্থিক খাতের অন্য প্রতিবন্ধকতাগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে, যাতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা যায়। তিনি বলেন, এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও জ্বালানি ধাক্কায় প্রভাবিত হয়েছে। এ কারণে নীতি–সহায়তা এবং কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। এ আলোচনা কীভাবে, কতটা এগোয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ব্যতীত অন্যান্য সব করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়েছে। এখন ২০২৫–২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত। অর্থাৎ কোম্পানিগুলো এই সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দিতে পারবে। 

সোমবার (১৩ এপ্রিল ) জারি করা আদেশে এনবিআর এ সিদ্ধান্ত জানায়। 

আদেশে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ) অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, যেসব করদাতার অর্থবছর ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হয়েছে— তাদের জন্য নির্ধারিত রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ পুনরায় এক মাস বাড়িয়ে ১৫ মে নির্ধারণ করা হলো। 

জানা গেছে, করদাতাদের রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং নির্ধারিত সময়ে অধিকসংখ্যক রিটার্ন জমা নিশ্চিত করতেই এই সময় বাড়ানো হয়েছে। 

এ সংক্রান্ত আদেশে সংশ্লিষ্ট সব কর অঞ্চল, কর কমিশনার কার্যালয়, কর আপিল অঞ্চল, বৃহৎ করদাতা ইউনিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটসহ এনবিআরের বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

 

পাবনার বেড়া উপজেলায় বাংলা বছরের শেষ প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী উৎসব চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে জমে উঠেছে গ্রামবাংলার লোকজ আয়োজন। মাসজুড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে সনাতন ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য চিত্র।

চৈত্র মাসের শুরু থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ১০ থেকে ২০ জনের দল গঠন করে তরুণ ও মধ্য বয়সীরা অংশ নিচ্ছেন এ আয়োজনে। লাল বা গেরুয়া রঙের পোশাক পরে ঢাকঢোল-কাঁসরের তালে তালে তাঁরা দোকান ও বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন। অনেকেই শিব-পার্বতীর সাজে, আবার কেউ বহুরূপীর বেশে লোকজ ঐতিহ্যের নানা রূপ তুলে ধরছেন।

এই আয়োজনে বিশেষভাবে লক্ষ করা যায় ‘পাটঠাকুর’ বহনের প্রথা। কাঠের তৈরি, তেল ও সিঁদুরে রাঙানো এই পাটঠাকুরকে ভক্তরা মাথায় করে নিয়ে যান, যা দেবতা শিবের প্রতিকৃতি হিসেবে বিবেচিত। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পাটঠাকুর স্থাপন করে সংক্ষিপ্ত পূজা ও আচার সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাড়ির গৃহিণীরা চালুনিতে বা কুলায় করে চাল, ডাল, তরকারির সিধা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ২০, ৫০ বা ১০০ টাকা তুলে দেন উৎসবের দলগুলোর হাতে। এভাবে সংগৃহীত খাদ্যসামগ্রী ও অর্থ দিয়ে চৈত্রসংক্রান্তির দিন বা বাংলা বছরের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হয় মহোৎসব।

বেড়া উপজেলার কেন্দ্রীয় হরিবাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সমীরণ চৌধুরী বলেন, ‘এই উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি আমাদের সমাজের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক। ছোট-বড় সবাই এতে অংশ নেয়, যা নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করে।’

চৈত্র মাসজুড়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সদস্যদের বিভিন্ন বাড়িতে নিরামিষ ভোজের আয়োজন করা হয়। এতে গ্রামীণ জীবনে উৎসবের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে চৈত্রসংক্রান্তির আগের দিন নারীদের উপবাস পালন ও বিশেষ পূজার প্রচলন আছে।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের বেড়া উপজেলা শাখার সভাপতি ভৃগুরাম হালদার বলেন, চৈত্রসংক্রান্তির আগের দিন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা উপবাস থাকেন এবং সন্ধ্যায় মহাদেবের পূজা করেন। মহাদেবের আরেক নাম ‘নীল’, এই বিশ্বাস থেকেই নীল পূজার আয়োজন করা হয়।

সংস্কৃতি ও ইতিহাস গবেষকদের মতে, চৈত্রসংক্রান্তির এই আয়োজনের শিকড় বহু প্রাচীন কৃষিভিত্তিক সমাজে প্রোথিত। বছরের শেষ প্রান্তে প্রকৃতি, ফসল ও জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই উৎসবের সূচনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে রূপ নিয়েছে।

চৈত্রসংক্রান্তির দিন উপজেলার বিভিন্ন খোলা মাঠে বসে পূজা ও মেলা। এর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ চড়ক পূজা। ভক্তরা নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই পূজা সম্পন্ন করেন। এবারও হিন্দু ধর্মীয় পঞ্জিকা অনুসারে চৈত্রসংক্রান্তির দিনে বেড়া পৌর এলাকার বনগ্রাম কালীবাড়ি চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে চড়ক মেলা।

বেড়ার মনজুর কাদের মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, পাটঠাকুর বহন, বাড়ি বাড়ি ঘোরা, চাল-ডাল সংগ্রহ—এসব বেড়ার দীর্ঘদিনের একটি বিশেষ ঐতিহ্য। এখানে ধর্মীয় আচার, লোকজ রীতি আর মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক একসঙ্গে জড়িয়ে আছে।

চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৭৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ১০ শতাংশ।

এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ। এছাড়া ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম প্রতি লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ফার্নেস তেল ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা হয়েছে। 

রোববার (১২ এপ্রিল) বিইআরসি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন দাম আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে ফার্নেস তেলের দাম বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নির্ধারণ করত। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথমবারের মতো সংস্থাটি ফার্নেস তেলের দাম ঘোষণা করে। আজ দ্বিতীয়বারের মতো দাম সমন্বয় করা হলো।

বিপিসির অধীন থাকা তেল বিপণন করা সরকারি চার কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল নতুন দামে ফার্নেস তেল বিক্রি করবে। এ তেলের প্রধান ক্রেতা সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। 

সরকারের নির্বাহী আদেশে ফার্নেস তেলের দাম সবশেষ নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের ২ আগস্ট। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসির হাতে দেয়। গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিইআরসির কাছে দাম নির্ধারণের প্রস্তাব করে বিপিসি। এরপর চারটি তেল বিপণন কোম্পানিও প্রস্তাব পাঠায় বিইআরসিতে। এক বছর পর গত ২৯ জানুয়ারি এ প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি।

 

ঢাকা

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত করতে তদারকি জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। 

এতে বলা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ২০২৫ সালভিত্তিক এবং পরবর্তী সময়ের সব প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ইতোমধ্যে সুপারভিশন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন (রিস্ক বেইজড সুপারভিশন বা আরবিএস) চালু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একভাবে না দেখে যেসব ব্যাংকে ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। এতে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়ম আগেভাগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা; বিশেষ করে ঋণঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। একইসঙ্গে এ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

 

টানা ১০ দিন ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। ইকোনমিক টাইমসের সংবাদে বলা হয়েছে, মার্কিন ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমছে।

আজ সকালে নিউইয়র্কের বাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫২ ডলার ৪৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১৯শতাংশ কমেছে। ফলে বিশ্ববাজারে এখন সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩৪৭ ডলার। গত ৩০ দিনে সোনার দাম কমেছে ৮০১ ডলার ৪৭ সেন্ট বা ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। জানুয়ারিতে সোনার দাম যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল, সেখান থেকে এখন তা প্রায় ২২ শতাংশ কম।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সোনা নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বল্প থেকে মধ্য মেয়াদে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি সুদহার বাড়তি থাকবে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে। ফেডারেল রিজার্ভসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন অবস্থান সোনার বাজারে চাপ তৈরি করছে। সোনার থেকে সুদ বা সরাসরি আয় হয় না, সে কারণে ফেডের নীতি সুদহারের সঙ্গে সোনার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ঝুঁকি কমাতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ কমিয়ে আনায় স্বল্প মেয়াদে সোনার দামে তীব্র ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। সেই সঙ্গে নিকট ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভ নীতি সুদহার কমাবে—এমন প্রত্যাশা কমছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে মূল্য সংরক্ষণের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে সোনার গুরুত্ব আবারও বাড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

এদিকে গতকাল দিনের শুরুতেই সোনার দাম চার মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে—আউন্স প্রতি দাম কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯৮ ডলার। পরে অবশ্য দাম বেড়ে যায়। একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণভোক্তা দেশ চীনের শেয়ারবাজারে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন হয়। চীনের বাজারও শেষমেশ ঘুরে দাঁড়ায়।

গতকাল সোনার দামে বড় ধরনের পতনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় সোনার দাম ঘুরে দাঁড়ায়। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে—ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর সোনার দাম আংশিকভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।

কী হচ্ছে সোনার বাজারে

বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত বছর ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর পর থেকে সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছিল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, চলতি বছর সোনার দাম ছয় হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
সাধারণত অর্থনৈতিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সোনার দিকে ঝোঁকেন। ফলে সোনার মূল্য দ্রুত বেড়ে যায়। বিশ্বব্যাপী সংঘাতের সময় এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর সোনার দাম দ্রুত বেড়ে যায়। প্যারিসভিত্তিক ফরাসি আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ রেমি বুরজো বলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। এতে সোনার বাজারের গতিপথই বদলে যায়।

চীনসহ কয়েকটি দেশ ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে ব্যাপকহারে সোনা কেনা শুরু করে। এতে সোনার দাম বাড়তে শুরু করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের সময় সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

ডলারের শক্তি বাড়ছে

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন ডলারের দাম বাড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে। আজ শূন্য দশশিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৩৮৭-এ উঠেছে। খবর রয়টার্সের

সামগ্রিকভাবে মার্চ মাসে ডলার ইনডেক্সের মান ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। অক্টোবরের পর এটাই ডলার ইনডেক্সের মাসিক সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ফেড আপাতত সুদহার কমাবে না।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, একদিকে তেলের দাম বাড়তি, আরেক দিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাধান দেখা যাচ্ছে না; এই পরিস্থিতিতে ডলারের পালে যে হাওয়া লেগেছে, তা আগের মতোই থাকবে। যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত না থাকলে এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে এশিয়ার বাজারে দুই বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার আজ ৭ দশমিক ৭ ভিত্তি পয়েন্ট বেড়েছে। ফলে ডলার আরও শক্তিশালী হবে।

এ বছর সোনা ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ফলে যুদ্ধের মধ্যে সোনার দাম বাড়ছে না। সেই সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় সোনার দাম এখন কমছে।

বিষয়টি হলো, যেহেতু সোনার লেনদেন ডলারে হয়, সেহেতু ডলার শক্তিশালী হলে সোনার মূল্যবৃদ্ধি কঠিন হয়ে পড়ে। সোনার দাম যে টানা ১০ দিন ধরে কমছে, এটাই তার মূল কারণ।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকলে সোনা আবারও বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। তবে আপাতত সোনার বাজারে বড় ধরনের উত্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।