দেশে প্রথম ভার্চুয়াল টেলিকম অপারেটর হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রথমবারের মতো চালু হয়ে গেল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠাটির মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) সিম।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই সেবার আওতায় এখন আনলিমিটেড ভয়েস কল, আনলিমিটেড ডেটা এবং কোয়াড-প্লে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই এমভিএনও সিম সাধারণ গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিমটি সচল হয়েছে। ভয়েস কল, ডাটা কল, আলাপ টু মোবাইল নেটওয়ার্ক, আলাপ টু আলাপ, জিপন ইন্টিগ্রেশন-এই চারটি ইভেন্টের সফল প্রভিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। কল টেস্টও সফল হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী আরও জানান, বিটিসিএল গুলিস্তান/রমনা কার্যালয়ে সরেজমিন প্রভিশনিং, অ্যাক্টিভেশন ও টেস্ট কল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হবে। এখন এমভিএনও এবং ট্রিপল প্লে নিয়ে কাজ চলছে। এগুলো একসঙ্গেই চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।

এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিটিসিএল দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটরের মাধ্যমে আনলিমিটেড কোয়াড-প্লে সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এই উদ্যোগকে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও সেবা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএলের রমনা অফিসে এ সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এমভিএনও মডেলে নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই আনলিমিটেড মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিটিসিএল, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালু করছে।

এ সেবার আওতায় গ্রাহকরা আনলিমিটেড ভয়েস কল এবং আনলিমিটেড ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা ‘আলাপ’-ও এই প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জিপন কানেকশন এবং রাউটারসহ আনলিমিটেড ইন্টারনেট এবং জনপ্রিয় ওটিটি কনটেন্ট (নাটক, মুভির) প্ল্যাটফর্ম টফি এই এমভিএনও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আনলিমিটেড ভয়েস, আনলিমিটেড ডেটা, আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল কনটেন্টকে একীভূত করে কোয়াড-প্লে সেবা দেওয়া হবে।

এর আগে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিটিসিএলকে পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও নেটওয়ার্ক চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আধুনিক এই প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে গ্রাহক সেবায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কী এই এমভিএনও

নিজস্ব অবকাঠামো ছাড়া অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে টেলিকমসেবা প্রদানের পদ্ধতিকে বলা হয় ভার্চুয়াল অপারেটর বা এমভিএনও। এই অপারেটরদের নিজস্ব স্পেকট্রাম লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নেই। তারা অন্যান্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি পাইকারি হারে কিনে গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বিক্রি করে।

যেসব অপারেটরের বাড়তি নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি আছে অথবা পুরো ফি দিয়ে স্পেকট্রাম লাইসেন্স কেনার সমপরিমাণ গ্রাহক নেই, তারা উদ্বৃত্ত নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি এভাবে বিক্রি করে থাকে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানই লাভবান হয়। এমভিএনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপারেটিং ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় কল ও ডেটা ব্যবহারের রেটও কম হয়ে থাকে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে এমন এমভিএনও-এর সংযোগ ব্যবহার করলে গ্রাহকেরও মোবাইল নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা কম হবে।
এত দিন নিজস্ব নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সেবা দিচ্ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি মোবাইল অপারেটর (এমএনও)। অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলো মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার শুরুর দিকেই এমভিএনও নিয়ে কাজ করেছে। ২০০০ সালের আগস্টে বিশ্বের প্রথম এমভিএনও হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডেনমার্কের সনোফোন। ২০০৮ সালের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই চালু হয় ৪০টিরও বেশি এমভিএনও।

এমভিএনওর ধরন

এমভিএনওর রয়েছে চারটি ধরন। ব্র্যান্ডেড রিসেলার এমভিএনও শুধু একটি এমএনও-এর অধীনে কাজ করে, বলা যায় একই প্রতিষ্ঠানের দুটি আলাদা ব্র্যান্ড। ভিন্ন ভিন্ন ডেমোগ্রাফিকের গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য এ ধরনের এমভিএনও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। থিন এনভিএমও অনেকটাই ব্র্যান্ডেড রিসেলারের মতো, তবে তাদের নিজস্ব কাস্টমার সাপোর্ট সিস্টেম, বিলিং ও ট্যারিফ থাকে। দুই ক্ষেত্রেই মূল অপারেটরের সিম ও নাম্বার সিরিজে সেবা দিয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। মিডিয়াম এমভিএনও চাইলে নিজস্ব ব্র্যান্ডের সিম, নাম্বার এবং ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বিক্রি করতে পারে। এই তিন ধরনের এমভিএনও সাধারণত একাধিক এমএনওর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে না।
বিটিসিএল কাজ করছে ফুল এমভিএনও হিসেবে। একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক, নিজস্ব সিম, নাম্বার, আলাদা ধরনের সেবার জন্য আলাদা সিম এবং পুরো নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও কাস্টমার সেবা অবকাঠামোর মাধ্যমে কাজ করবে তারা।

গ্রাহকের লাভ

এমভিএনও ব্যবহারে বেশ কয়েকটি বাড়তি সেবা পাবে ব্যবহারকারীরা। একই সংযোগ থেকে ভয়েস কল ও মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পাশাপাশি ডেটা কলিং এবং জিপনের মাধ্যমে ইন্টারনেটসেবা ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা থাকায় নেটওয়ার্কজনিত সমস্যাও কম হবে, কভারেজ নিয়ে চিন্তা থাকবে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের এমভিএনও অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাইকারি মিনিট ও ডেটা প্যাক বিক্রি করে। সেটিও গ্রাহকদের জন্য লাভজনক। বিটিসিএল জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করবে গ্রাহকদের সর্বনিম্ন মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটসেবা দেওয়ার।

 

বাংলাদেশ ০ : ৪ উজবেকিস্তান

চীন ও উত্তর কোরিয়ার পর উজবেকিস্তানের কাছেও হেরে শেষ হলো বাংলাদেশের এশিয়ান কাপ। আজ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরেছে ৪-০ গোলে। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে কোণঠাসা হয়ে থাকা বাংলাদেশ আজ তুলনামূলক ইতিবাচক ফুটবল খেলেছে।

পাশাপাশি গোলের বেশ কিছু সুযোগও তৈরি করেছে তারা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের হয়ে জোড়া গোল করেছেন দিলদোরা নোজিমোভা। অন্য গোল দুটি করেছেন দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা ও নিলুফার কুদ্রাতোভা। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে টিকিট কাটল উজবেকিস্তান।

 
চীনের বিপক্ষে ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ঋতুপর্ণা চাকমার বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়ে চমক দেখিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সেই শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন উজবেকর গোলরক্ষক মাফতুনা জনিমকুলোভা। প্রথম দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচে কয়েকটি গোল বাঁচিয়েছেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার। যদিও তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। নৈপুণ্য দেখালেও তিন ম্যাচে মিলি গোল হজম করেছেন ১১টি।

আজ পার্থে শুরু থেকে প্রতি-আক্রমণে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু গতি ও শক্তিতে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সুবিধা করতে পারছিল না। এর মধ্যে ম্যাচের ১০ মিনিটে গোল পিছিয়েও পড়ে বাংলাদেশ। তবে এরপরও দ্বিতীয় গোলের জন্য উজবেকদের বাংলাদেশ অপেক্ষায় রাখে ৬২ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু দ্বিতীয় গোলের পরই যেন ভেঙে পড়ে বাংলাদেশ দল। ৬২ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে সব মিলিয়ে তিন গোল হজম করে পিটার বাটলারের দল।

এর ফলে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগও শেষ হয়ে গেল। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতেই।

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। তাদের বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে পিটার বাটলারের দল।

পার্থে ম্যাচ শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায়। শুরুতে গোল খেয়েও হাল ছেড়ে দেয়নি বাংলাদেশ। গোলের কাছাকাছি গেলেও কাঙ্ক্ষিত গোলটি শেষ পর্যন্ত পায়নি আফঈদারা।

প্রথম ম্যাচে চীনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ নারী দল। ফলে এশিয়ান কাপের শেষ আটে জায়গা করে নিতে বাংলাদেশের সামনে এখন প্রথম ও প্রধান শর্ত– উজবেকিস্তানকে হারাতেই হবে।

১২ দলের এই টুর্নামেন্টে তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলগুলো সরাসরি শেষ আটে যাবে। বাকি দুটি জায়গা পাবে গ্রুপে ‘তৃতীয়’ হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুই।

 

 
 

বাংলাদেশ দলে তিন পরিবর্তন

একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছেন। একাদশে রদবদলের মাধ্যমে কোচ মূলত দলের গতি ও মাঝমাঠের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। ৪ ডিফেন্ডার ও ৫ মিডফিল্ডার নিয়ে দল সাজিয়েছেন তিনি।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে বড় চমক সুইডেন প্রবাসী মিডফিল্ডার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। আগের দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে খেললেও আজ তিনি প্রথমবার একাদশে।

দলের রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠকে সুসংগঠিত করতে প্রথম ম্যাচে খেলা দুজনকে আজ ফেরানো হয়েছে একাদশে। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ শিউলি আজিমকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে মাঝমাঠে ফিরছেন উমেলাহ মারমা।

গোলপোস্টের নিচে অভিজ্ঞ রূপনা চাকমার বদলে গত দুটি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন মিলি আক্তার। উচ্চতার সুবিধা কাজে লাগিয়ে যেভাবে তিনি দুটি ম্যাচে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তা রীতিমতো মুগ্ধ হওয়ার মতো। তাই টানা তৃতীয় ম্যাচেও মিলির ওপরই ভরসা রেখেছেন বাটলার।

একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন রক্ষণভাগের নবীরণ, মাঝমাঠের আইরিন ও ফরোয়ার্ড শামসুন্নাহার সিনিয়র।

বাংলাদেশের একাদশ

গোলরক্ষক : মিলি আক্তার।

রক্ষণভাগ: শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার (সিনিয়র), আফঈদা খন্দকার ও কোহাতি কিসকু।

মাঝমাঠ: মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, উমেলাহ মারমা ও আনিকা রানিয়া ।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের পুরস্কার শুধু ট্রফি নয়, অর্থকড়িও। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে যেমন বড় অঙ্কের টাকা পেতে যাচ্ছে ভারত। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) খালি হাতে ফেরাচ্ছে না কাউকেই।

রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড তো বটেই, সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল, সুপার এইটে থমকে যাওয়া চার দল, এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ৮ দলের জন্যও অর্থ বরাদ্দ আছে।

২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (১ ডলার সমান ১২১.৬৫ টাকা) মোট ১৬৪ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নদের জন্য বরাদ্দ ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ শিরোপা জিতে ভারত পাচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৩৬ কোটি টাকা।

ফাইনালে ভারতের কাছে ৯৬ রানে হেরে যাওয়া নিউজিল্যান্ড পাচ্ছে ভারতের প্রায় অর্ধেক—১৬ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ১৯ কোটির টাকার কাছাকাছি। ভারত ও নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে যাদের হারিয়েছে, সেই ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা পাচ্ছে ৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার বেশি।

২০ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকে বিদায় নেয় ৪টি দল। জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান পাচ্ছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা সাড়ে চার কোটি টাকার বেশি করে। আর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ১২টির দলের প্রতিটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বাবদ পাচ্ছে আড়াই লাখ ডলার বা ৩ কোটির বেশি টাকা করে।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিদায় নিয়েছে ১ মার্চ, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ মার্চ। কিন্তু তাদের পর বাদ পড়েও আগেই ভারত ছেড়েছে ইংল্যান্ড। ৫ মার্চ সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের দুই দিনের মধ্যেই, ৭ মার্চ চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন হ্যারি ব্রুকরা।

নিজেদের পর বাদ পড়লেও ইংল্যান্ডকে আগেভাগে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করায় আইসিসির ওপর ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন আচরণে ‘ক্ষমতা’ দেখানো হয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে অঞ্চলটির আকাশপথ ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বকাপ খেলে ফেরার যাত্রাতেও। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খেলতে আসা কয়েকটি দল সময়মতো দেশে ফিরতে পারেনি। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ে দল সুপার এইট থেকে বাদ পড়ার পর কয়েক দিন অপেক্ষার পর ভারত ছাড়তে পেরেছে।

বিশ্বকাপে খেলা দলগুলোর ভ্রমণের বিষয়টি দেখভাল করে আইসিসি। ইএসপিএনক্রিইনফোর খবরে বলা হয়, আইসিসি ইংল্যান্ড দলের জন্য একটি চাটার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করায় হ্যারি ব্রুকরা শনিবার ভারত ছেড়ে গেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল যাবে ৮ মার্চ।

ইনস্টাগ্রামে ডেভিড মিলারের ক্ষোভ
ইনস্টাগ্রামে ডেভিড মিলারের ক্ষোভ স্ক্রিনশট

এই পরিস্থিতিতে আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান ক্রিকইনফোর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখেন, ‘মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইংল্যান্ড দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর বাদ পড়েও আজ রাতে চার্টার্ড ফ্লাইটে বাড়ি ফিরছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো কলকাতায় উত্তরের অপেক্ষায় বসে আছে।’

মিলারের সেই পোস্টেই প্রতিক্রিয়া জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। মন্তব্যের ঘরেই তিনি লেখেন, ‘মিলার, যাঁরা পেছনে আছেন, তাঁরা যেন শুনতে পান, সে জন্য দয়া করে আর একটু জোরে বলুন স্যার।’

এরপর স্যামিকে ট্যাগ করে মিলার আরও তীব্র ভাষায় আইসিসির সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘ইংল্যান্ডের জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে আইসিসির খুব একটা সময় লাগে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাত দিন ধরে চার্টার্ড ফ্লাইটের অপেক্ষায় আছে আর দক্ষিণ আফ্রিকার আজ চার দিন হলো। তবুও আমরা এখনো অপেক্ষাতেই আছি।’

একই সুর শোনা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি ককের কণ্ঠেও। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, ‘আইসিসি, আমরা এখনো কিছুই জানতে পারিনি। অথচ ইংল্যান্ড আমাদের আগেই কোনোভাবে চলে যাচ্ছে? ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা একেবারেই অন্ধকারে পড়ে আছে! অদ্ভুত ব্যাপার যে কিছু দলের প্রভাব অন্যদের চেয়ে কত বেশি।’

ইংল্যান্ড দলের আগেভাগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছে আইসিসি
ইংল্যান্ড দলের আগেভাগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছে আইসিসি, রয়টার্স

শুধু খেলোয়াড় ও কোচই নন, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও। তিনি এক্সে লেখেন, ‘ইংল্যান্ড বৃহস্পতিবার বিদায় নিয়েছে আর আজই চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফিরে যাচ্ছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ গত রোববার টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েও এখনো কলকাতায় আছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও একই অবস্থায়। এখানেই বোঝা যায় ক্ষমতার ভারসাম্যটা ঠিক নেই।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সব দলের প্রতি সমান আচরণ করা উচিত। আইসিসির টেবিলে আপনি বেশি শক্তিশালী বলেই আলাদা সুবিধা পাবেন, এটা হওয়া উচিত নয়।’

আইসিসির ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ২৪০ বছরের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে ৫ বলে ৫ উইকেট নিলেন নিউজিল্যান্ডের পেসার ব্রেট রানডেল।

আজ নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট প্লাঙ্কেট শিল্ডে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের হয়ে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন ৩০ বছর বয়সী রানডেল।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথমবার হলেও পেশাদার ক্রিকেটে এই ঘটনা প্রথম নয়। গত বছর আয়ারল্যান্ডের কার্টিস ক্যাম্ফার আয়ারল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি লিগে ৫ বলে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালে জিম্বাবুয়ের কেলিস এনধলোভুও একটি অনূর্ধ্ব-১৯ ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি ম্যাচে ৫ বলে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন।

 

নেপিয়ারে ম্যাকলিন পার্কের ব্যাটিং–স্বর্গে নিজের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে ওপেনার হেনরি কুপারকে ফিরিয়ে তোপ শুরু করেন রানডেল। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে বোল্ড করেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২৪ টেস্ট খেলা জিত রাভালকে।

পরের বলে জো কার্টারকে ক্যাচ বানিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। তৃতীয় বলে স্লিপে রবি ও’ডোনেলকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে পোঁছান ‘ডাবল হ্যাটট্রিকে’। এর পরের বলে ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ককে ইনসাইড এজ বোল্ড করে গড়েন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের বিশ্ব রেকর্ড।

রানডেলের তোপে মাত্র ৯ রানেই ৫ উইকেট হারায় নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস। এ সময় ডানহাতি এ পেসারের বোলিং ফিগার ছিল ১.৪–০–২–৫। শেষ পর্যন্ত ২৫ রানে ৭ উইকেট শিকার করেন তিনি, আর নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস অলআউট হয় ৮২ রানে। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রানডেলের সেরা বোলিং ছিল ৪৫ রানে ৬ উইকেট।

ডি.সি. ইউনাইটেড ১–২ ইন্টার মায়ামি

৯০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে আর মাত্র এক গোল দরকার লিওনেল মেসির। আজ মেজর লিগ সকারে ডি.সি. ইউনাইটেডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ৮৯৯তম গোলটি করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

আর একটি গোল করলে তিনি হবেন ৯০০ গোল করা ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড়, এই মুহূর্তে ৯৬০ গোল নিয়ে তাঁর সামনে শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

ইন্টার মায়ামির আজকের ম্যাচটি ডিসি ইউনাইটেডের মাঠে হওয়ার কথা থাকলেও মেসিকে নিয়ে প্রবল আগ্রহের কারণে খেলা হয়েছে বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার বাল্টিমোর এমঅ্যান্ডটি ব্যাংক স্টেডিয়ামে। ৭২০২৬ জন দর্শকের উপস্থিতিতে মেসি ম্যাচের ২৭তম মিনিটে বক্সে ঢুকে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠান।

ম্যাচটিতে ইন্টার মায়ামি জিতেছে ২-১ গোলে। ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো দি পল মায়ামিকে এগিয়ে দেওয়ার পর মেসির গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে ডিসি ইউনাইটেডের হয়ে একটি গোল শোধ দেন বারিবো। এটি এবারের লিগে মায়ামির টানা দ্বিতীয় জয়। এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির কাছে হেরে মৌসুম শুরু হয়েছিল দলটির।

মেসি ৯০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বুধবার। সেদিন কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের প্রথম ম্যাচে ন্যাশভিলের মুখোমুখি হবে মায়ামি।

বাল্টিমোরের ম্যাচটি দেখতে গ্যালারিতে ছিলেন ৭২ হাজারের বেশি দর্শক
বাল্টিমোরের ম্যাচটি দেখতে গ্যালারিতে ছিলেন ৭২ হাজারের বেশি দর্শকএএফপি

বছরে সাত-আট কোটি ডলার পান মেসি

ইন্টার মায়ামির অন্যতম মালিক জর্জ মাস জানিয়েছেন, অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে মালিকানা শেয়ারসহ বছরে ৭ থেকে ৮ কোটি মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। দলের স্পনসরশিপ এবং অতিরিক্ত আয়ের উৎসগুলো সর্বোচ্চ করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে মায়ামি ব্রাজিলের আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ‘নু’-এর সঙ্গে নতুন স্টেডিয়ামের নামকরণের চুক্তি সই করেছে। ২৬,৭০০ আসনবিশিষ্ট এই ‘নু স্টেডিয়ামে’ আগামী ৪ এপ্রিল প্রথম ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মাস বলেন, ‘আমার বিশ্বমানের স্পনসর প্রয়োজন, কারণ, খেলোয়াড়েরা দামি। আমি মেসিকে যা দিই, তার প্রতিটি পয়সার যোগ্য তিনি। তবে এর পরিমাণ সব মিলিয়ে বছরে ৭ থেকে ৮ কোটি ডলার।’

২০২৮ পর্যন্ত মায়ামিতে খেলার কথা মেসির
২০২৮ পর্যন্ত মায়ামিতে খেলার কথা মেসির, এএফপি

এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত স্যালারি গাইড অনুযায়ী, মেসি মেজর লিগ সকারের সবচেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন। যার মূল বেতন ১ দশমিক ২ কোটি ডলার, গ্যারান্টিযুক্ত ক্ষতিপূরণ ২০,৪৪৬,৬৬৭ ডলার।

ইএসপিএন জানিয়েছে, মেসি অ্যাডিডাসের সঙ্গে তাঁর এনডোর্সমেন্ট চুক্তি এবং লিগ সম্প্রচার অংশীদার অ্যাপলের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তি থেকেও আয় করে থাকেন। বর্তমান চুক্তি অনুসারে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেসির মায়ামিতে থাকার কথা।

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে ক্রমশ। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এই যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না; বরং হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে দুই পক্ষই। এরই মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। আর নতুন দফায় এসে প্রথমবারের মতো ঘোষণা দিয়ে হাইপারসনিক মিসাইলও ব্যবহার করেছে ইরান।

দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করা হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো হামলায় ২২০ জন মার্কিন সেনা ও কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে ইরান। খবর প্রেস টিভির।

শনিবার (৭ মার্চ) রাতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) আওতাধীন খতম আল-আনবিয়ার সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তার দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এয়ার বেসে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সৌদি আরবের আল-খার্জে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। সেইসঙ্গে পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন আইআরজিসির এ কর্মকর্তা।

তবে, এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও।

আটদিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। এরই মধ্যে ইরানের ওপর ভয়ংকর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শনিবার (৭ মার্চ) রাতেই ইরানের নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।

আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর হামলা চালানোর জন্য নতুন মার্কিন স্থাপনা খুঁজছে ইরানও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরানের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং সরাসরি তাদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে ইরান এখন আমেরিকান অঞ্চল, বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করবে। যেগুলো এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে হামলা চালানো হবে।

সেইসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামনে কখনই আত্মসমর্পণ করবে না ইরান।

 

আপনি যখন ‘জোড়াতালির’ একটা লিগ খেলে এশিয়ান কাপের মঞ্চে যাবেন, তখন এমন অসহায় আত্মসমর্পণটা স্বাভাবিক! যেখানে প্রতিপক্ষ চীন–উত্তর কোরিয়া, তাদের সামনে দাঁড়ানোর আগে অন্তত উচ্চ র‍্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল। এ প্রয়োজনীয়তার কথা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলারও বোঝাতে পারেননি দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে)। তাই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ৫–০ গোলের হারটা শুধু হার নয়, বাংলাদেশের জন্য একটা শিক্ষাও।

চীন ও উত্তর কোরিয়া—দুই দলের বিপক্ষে দুরকম বাংলাদেশকে দেখা গেল। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে চীনের দ্রুতলয়ের প্রতি–আক্রমণ, দূরপাল্লার পাস আর ক্রসের পসরা থামিয়ে বাংলাদেশও আক্রমণ করেছে। কিন্তু আজকের চিত্র একেবারে ভিন্ন।

বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে নিষ্ক্রিয় করে উত্তর কোরিয়া দেখিয়েছে কীভাবে রক্ষণ তছনছ করতে হয়। গোল পাঁচটা না হয়ে আট–নয়টা বা দশটা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন অন্তত সেই কথাই বলছে।

রক্ষণ সামলাতেই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ
রক্ষণ সামলাতেই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ, এএফপি
 

পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের গোলমুখে ৩১টি শট নিয়েছে উত্তর কোরিয়া, যার ১১টি ছিল পোস্টে। বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের গোলে একটি শটও নিতে পারেনি। গোলকিপার মিলি আক্তার একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন। পাঁচটি বল তাঁর আশপাশ দিয়ে জাল ছুঁয়েছে ঠিকই, কিন্তু আরও পাঁচ–ছয়টি গোলে শট কিন্তু দারুণ দৃঢ়তায় আটকেছেন তিনি।
শুধু মিলির দৃঢ়তাই নয়, বাংলাদেশের রক্ষণভাগ নিয়েও সন্তুষ্টির জায়গা আছে।

সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের ক্ষিপ্রতা এতটাই তীব্র ছিল বাংলাদেশের পাঁচ ডিফেন্ডারের সঙ্গে দুই মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমাও প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্টের কাজে মন দেন। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করেলেও আক্রমণভাগে বরাবরের মতো ব্যর্থই বাংলাদেশ। বিপরীতে উত্তর কোরিয়া অ্যাটাকিং থার্ডে ক্রমাগত ক্রস বাড়িয়ে, লং শটে তৈরি করা সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করেছে।

উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকল
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকল, এএফপি
 

বাংলাদেশ নিজেদের পায়ে খুব একটা বল রাখতে পারেনি, পারেনি আক্রমণ করতেও। এই ‘না পারাটা’ যেমন তাদের ভীষণ পীড়া দেবে, তেমনি উত্তর কোরিয়ার শক্তি–সামর্থ্য দেখার পর এই হার থেকে ইতিবাচক বিষয়গুলোও তুলে নেবে।

উত্তর কোরিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ (র‍্যাঙ্কিংয়ে ১১২তম) থেকে ১০৩ ধাপ এগিয়ে, চারবার বিশ্বকাপে খেলেছে তারা, দশবার এশিয়ান কাপে খেলে তিনবার হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। গত দশ ম্যাচে হেরেছে মোটে একটি। এমন একটা দলের বিপক্ষে ৫–০ গোলের হার স্রেফ হারই নয়, বরং বাংলাদেশের এই দলটাকে কীভাবে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নতুন করে ভাবার উপলক্ষও।

তরুণ গোলকিপার মিলি আক্তার অনেকটাই মার্কিন কিংবদন্তি গায়ক এলভিস প্রিসলির মতো! সিডনিতে নারী এশিয়ান কাপের আবহে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার এমন মন্তব্যই করেছেন। গোলপোস্টের নিচে মিলির স্টাইলে এতটাই মুগ্ধ বাটলার যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিং অব রক অ্যান্ড রোল’–এর সঙ্গে মিলির তুলনা টানলেন তিনি।

নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে অভিষেকে প্রথম ম্যাচে চমক দিয়েছে বাংলাদেশ, আর তার নেপথ্যে রয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। প্রথম ম্যাচে নয়বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ২–০ গোলে হারের ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে বাটলার নামিয়ে দিয়েছিলেন তরুণ গোলকিপার মিলি আক্তারকে।

কোরিয়া ম্যাচ সামনে রেখে আজ সকালে ম্যাচের ভেন্যু সিডনি ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাটলার। সেখানেই মিলিকে চীনের বিপক্ষে ম্যাচে কেমন দেখলেন—এমন প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। উত্তরে মিলির প্রশংসায় বাটলার বলেন, ‘গোলকিপার মিলি অনেকটা এলভিস প্রিসলির মতো, তার দারুণ একটা স্টাইল আছে। এই টুর্নামেন্টে তার চুলের স্টাইলই সেরা। আজ সকালেও আমরা এটা নিয়ে কথা বলছিলাম। সে অনেক দিন ধরেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল এবং সে যে আগে খেলেনি, তার একমাত্র কারণ হলো আমাদের কোনো ম্যাচ ছিল না।’
তরুণ মিলি আক্তার চীনের বিপক্ষে দারুণ সব সেইভ করেছেন
তরুণ মিলি আক্তার চীনের বিপক্ষে দারুণ সব সেইভ করেছেনবাফুফে

বাটলার মনে করেন, বাংলাদেশে সাহসী গোলকিপার আছে, কিন্তু পরিচর্চার অভাবে তাঁরা আলোয় আসতে পারেন না, তাই তাঁদের সুযোগ করে দেওয়াটাই জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে বাটলার যোগ করেন, ‘চীন ম্যাচের আগে ৯০ থেকে ১০০ দিন আমাদের কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল না, যা দুর্ভাগ্যজনক। আমাকে এই সিদ্ধান্তের কোনো কৈফিয়ত দিতে হবে না (মিলিকে একাদশে নেওয়া)। আমার মনে হয় বাংলাদেশের ফুটবলে গোলকিপিংয়ে বড় সমস্যা আছে, যা নিয়ে কাজ করা দরকার। এটা করা আমার কাজ নয়; আমি যা করতে পারি, তা হলো নতুনদের খুঁজে বের করা এবং মিলির মতো তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার মতো সাহসী হওয়া।’

এলভিস প্রিসলি
এলভিস প্রিসলিএক্স

মিলির সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে বাটলার আরও বলেন, ‘সে এই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিল, কারণ তার উচ্চতা আছে (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি), হাত ভালো এবং দারুণ একটা চরিত্র। সবচেয়ে বড় কথা, সে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ থেকে এসেছে; কারণ, সে একজন সৈনিক এবং অনেকেই এই বিষয়টি জানে না।’

সিডনির মাঠে কালকের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে এই ‘এলভিস প্রিসলি’র গ্লাভসজোড়া কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।