বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী। এ ছাড়াও সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলী।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অন্য আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করবেন অথবা ওই দুই পদে যতদিন বহাল রাখার ইচ্ছা পোষণ করবেন, ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো চিঠি তুলে দিয়েছেন সে দেশের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা। চিঠিতে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সুবিধাজনক দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।
ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা আজ মঙ্গলবার বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে সন্ধ্যায় তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি এক্সে প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর চিঠি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার তথ্য জানান তিনি।
ওম বিরলা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি গঠনমূলক বৈঠক এইমাত্র শেষ করেছি। আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে থেকে পাঠানো একটি ব্যক্তিগত চিঠি তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছি। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে শুভকামনা জানিয়েছেন এবং সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’
সাক্ষাৎ নিয়ে ভারতের লোকসভার স্পিকার আরও লিখেছেন, ‘ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে আমি আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী নেতৃত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে পাওয়া চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গেছে, নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তিনজন প্রভাবশালী নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পূর্ণমন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির অভিজ্ঞ নেত্রী আফরোজা খানম। তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের পর্যটন খাতকে পুনর্গঠন এবং বিমান পরিষেবার মানোন্নয়নে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারে যুক্ত হচ্ছেন বিএনপির অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী দুই নারী মুখ শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফারজানা শারমিন। মন্ত্রণালয়ের বণ্টন অনুযায়ী ফারজানা শারমিনকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের নারী অধিকার রক্ষা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তাকে এই দ্বৈত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া বিএনপির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। শামা ওবায়েদ দীর্ঘদিন ধরেই দলের কূটনৈতিক উইংয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের ১১ তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একইসঙ্গে মঙ্গলবার ( ১৭ ফেব্রুয়ারি) ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রীসভার কে কোন দায়িত্ব পেলেন দেখে নেওয়া যাক
মন্ত্রী হলেন যারা:
১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (এমপি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
২. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (এমপি) অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করা তারেক রহমানকে অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় চীনের দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে।
অভিনন্দনবার্তায় লি কিয়াং বলেন, চীন ও বাংলাদেশ প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের গত ৫১ বছরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা, পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা এবং ‘উইন-উইন’ ফলাফলের ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়ন হয়েছে। এটি রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ বিনিময়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
[caption id="attachment_267496" align="alignnone" width="957"] চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংছবি: রয়টার্স[/caption]
চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারের কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার বিষয়ে সমর্থন জানায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নেওয়া, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা জোরদার করা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিময় বাড়ানোর মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশ ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্ব’কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল বয়ে আনা যাবে।