• ‘হুট করে এমন দলের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব নয়’

    প্রশ্ন:এই প্রথম এশিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

    ‎তহুরা খাতুন: সত্যি বলতে অনেক ভালো লাগছে। চীন–কোরিয়ার মতো দলগুলো এশিয়ান কাপে অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের বিপক্ষে খেলতে পারাটাও কম কী! এমন টুর্নামেন্টে প্রথমবার আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি, এটা ভেবে আরও ভালো লাগছে। এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতেও পারব। আমাদের মূল লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলা, সবার সঙ্গে লড়াই করা। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলে হারলেও অনেক কিছু শেখা যায়।

    প্রশ্ন:টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আপনার দৃষ্টিতে প্রস্তুতি কেমন হলো?

    ‎তহুরা: মোটামুটি হয়েছে, তবে আরও ভালো হতে পারত। এশিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে সবাই একসঙ্গে থাকতে পারলে ভালো হতো। ঘরোয়া লিগ চলায় সেটা আর হয়নি। পুরো দল যদি আগে থেকে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় অনুশীলন করতে পারত, দলের কম্বিনেশন আরও ভালো হতো।

    এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
    এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
     
    প্রশ্ন:আপনি তাহলে বলছেন, এ সময় লিগ আয়োজন করাটা ঠিক হয়নি?

    ‎তহুরা: লিগের কারণে হয়তো ফিটনেসে ঘাটতি পড়েনি, তবু এ সময়ে লিগ আয়োজন করা একদম ঠিক হয়নি। বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশ-পাতাল তফাত। লিগ হতে হবে এমন একটা সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ব্যস্ততা কম থাকবে। আমাদের উচিত ছিল, এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে পড়ে থাকা। কিন্তু সবাইকে লিগ খেলতে হয়েছে। এত বড় টুর্নামেন্টের আগে লিগ কেন করা হলো, এ বিষয়টা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না।

    প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতিটা কোথায় দেখছেন?

    তহুরা: দেখুন, ভারত অনেকগুলো ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছে। তারা তুরস্কেও ক্যাম্প করেছে। বড় কোনো টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে ভালো দলের বিপক্ষে বেশি বেশি ম্যাচ খেলা উচিত। আমরা যদি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে খেলতাম, হয়তো গোল খেতাম, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা মূল টুর্নামেন্টে অনেক কাজে লাগত।

    প্রশ্ন:চীন–উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর প্রতিপক্ষ নিয়ে কী পরিকল্পনা?

    তহুরা: চীন, কোরিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে, তারা প্রতি ম্যাচেই প্রচুর গোল দেয়। যাঁরা ফুটবল সম্পর্কে জানেন, তাঁরা বুঝবেন, হুট করে এমন দলের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব নয়। আমাদের চেষ্টা থাকবে মাঠে সর্বোচ্চ লড়াই করা। হার–জিত যা–ই হোক, লক্ষ্য থাকবে সম্মানজনক স্কোর করা এবং যতটা কম সম্ভব গোল খাওয়া। দু-একটা গোল পেলে সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি। আসলে তাদের বিপক্ষে তেমন কোনো আশা দেখছি না।

    বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
    বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
    প্রশ্ন:গোল আটকানোর জন্য রুপনা-শিউলিরা কতটা প্রস্তুত?

    তহুরা: গোল আটকানোর কাজটা সহজ হবে না। চীন-কোরিয়ার সঙ্গে আমরা আগে কখনো খেলিনি। তারপরও রুপনা আমাদের সেরা গোলকিপার। অবশ্যই সে সেরা চেষ্টাটাই করবে। ডিফেন্ডাররাও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    প্রশ্ন:‘অচেনা’ চীন-কোরিয়া সম্পর্কে কীভাবে ধারণা নিচ্ছেন?

    ‎তহুরা: কোচ চীন-কোরিয়ার শক্তিমত্তা ও দুর্বলতাগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। তারা কোথায় ভালো, কোন দলের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হবে—এসব নিয়ে কোচ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। এভাবে কিছুটা ধারণা পাচ্ছি।

    প্রশ্ন:ভিডিওতে তাদের খেলা দেখেননি? তাহলেও তো কিছু ধারণা পেতেন...

    ‎তহুরা: না, তাদের খেলার ভিডিও দেখার সুযোগ হয়নি, কোচও দেখাননি। হয়তো অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর দেখাবেন।

    প্রশ্ন:এই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোচের কী বার্তা?

    তহুরা: সেটা না-ই বলি। অনুশীলনে সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। কোচ আমাদের যেভাবে খেলার নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেভাবেই মাঠে তা কার্যকর করার চেষ্টা করব। সবাই মিলে একটা দল হিসেবে খেলতে চাই।

    প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতুন
    প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতু
    প্রশ্ন:উজবেকিস্তানকে নিয়ে নিশ্চয়ই ভিন্ন ভাবনা আছে...

    তহুরা: তারাও কিন্তু সবাইকে হারিয়েই এই টুর্নামেন্টে এসেছে। তবে বড় দুই দলের তুলনায় তাদের সঙ্গে লড়াই একটু ভালো হতে পারে। যদি আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু মাঠে দিতে পারি, তাদের বিপক্ষে ভালো কিছুর সম্ভাবনা আছে।

    প্রশ্ন:এই সফরে সুইডেনপ্রবাসী আনিকাও আছেন। তাঁকে নিয়ে কতটা আশাবাদী?

    ‎তহুরা: ভালো, সে আমাদের সঙ্গে অনুশীলন করছে। ধীরে ধীরে সবকিছু মানিয়ে নিচ্ছে। এখন মাঠে কেমন করে, সেটা তো আর আমি বলতে পারব না।

    প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন কোনো বাধা হবে?

    তহুরা: মনে হয় না। আমরা সেখানে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় পাব। আমাদের সঙ্গে একজন অস্ট্রেলিয়ান ফিটনেস কোচ আছেন, যিনি ট্রেনিং ও খাবারদাবার সবকিছু তদারক করছেন। এই সুবিধা আরও আগে থেকে পেলে ভালো হতো।

  • ‘হেরিনকে আরও পরিণত লাগছে’

    সংগীতশিল্পী হেরিনের জন্মদিন ১৫ মে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে নিউজিনসের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যাডর। অ্যাডর লিখেছে, ‘হ্যাপি হেরিন ডে।’ সঙ্গে হেরিনের ছবি জুড়ে দেওয়া হয়।

    সমুদ্রসৈকতে হাতে ফুল নিয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় হেরিনকে। লম্বা চুলে স্নিগ্ধ সাজে দেখা গেছে তাঁকে। ইউরোপীয় ধাঁচের বিভিন্ন লোকেশনে ক্রপটপ ও অফ–শোল্ডার পোশাকে তোলা ছবিগুলো হেরিনকে আরও পরিণত করে তুলেছে।

    পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৬ লাখ ৮০ হাজারের বেশি লাইক পায়। ভক্তদের মন্তব্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। কেউ লিখেছেন, ‘তারা কি ফিরছে?’ আবার কেউ বলেছেন, ‘হেরিনকে আরও পরিণত লাগছে।’

    হেরিন
    হেরিন, ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    অনুরাগীদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে তোলা হতে পারে। অ্যাডর জানিয়েছে, সদস্য হেইন, হেরিন ও হানি সংগীত প্রযোজনার কাজে কোপেনহেগেনে গিয়েছিলেন।

    পাঁচ সদস্যের নিউজিনস দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ক্রিয়। এর পেছনে রয়েছে এজেন্সির সঙ্গে দীর্ঘ আইনি বিরোধ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সদস্যরা অ্যাডরকে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেন এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন।

    পরে চুক্তির বৈধতা নিশ্চিত করতে অ্যাডর মামলা করলে প্রথম ধাপের রায় সদস্যদের বিপক্ষে যায়। এতে দীর্ঘ সময়ের জন্য দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

    গত বছরের নভেম্বরে অ্যাডর হেইন, হেরিন ও হানির ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে ড্যানিয়েলের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের কথাও জানায়। মিনজির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

  • ‘১৭ বছরে তিন বিয়ে জীবনটাই ধ্বংস করে দিয়েছে’

    তিনটি ব্যর্থ বিয়ে নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বললেন মালয়ালম অভিনেত্রী মীরা বাসুদেবান। ৪৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, জীবনের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ বছর তিনি ‘তিনটি বিয়ের পেছনে নষ্ট’ করেছেন। এই তিন বিয়ে জীবনটাই ধ্বংস করে দিয়েছে। তাঁর কথায়, সেই সময়টুকু যদি নিজের ক্যারিয়ার, পরিবার বা ব্যক্তিগত উন্নয়নে ব্যয় করতেন, তাহলে জীবন অন্য রকম হতে পারত।

    ২০০৩ সালে ‘রুলস: পেয়ার কা সুপারহিট ফরমুল’ মিলিন্দ সুমনের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান মীরা। পরে মালয়ালম সিনেমায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ‘থানমাথরা’ ছবিতে মোহনলালের সঙ্গে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

    সম্প্রতি ধন্যা বর্মাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্ষেপের সুরে মীরা বলেন, ‘আমি প্রায়ই আমার ছেলেকে বলি, আমি জীবনের ১৭টি বছর তিনটি বাজে বিয়েতে নষ্ট করেছি। ওই সময়টায় আমি আরও অনেক কিছু অর্জন করতে পারতাম, যদি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করতাম। সিনেমা, ফিটনেস বা নিজের জন্য একটা ভালো সামাজিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলার দিকে মন দিতে পারতাম।’
    মীরা আরও বলেন, ‘আমি জীবনে আরও অনেক কিছু করতে পারতাম, কিন্তু পারিনি। বাবা, মা আর বোনের সঙ্গে অনেক সময় কাটাতে পারতাম। কিন্তু তার বদলে আমি সেই সময় অন্যদের জন্য নষ্ট করেছি। এমন কিছু সম্পর্কের পেছনে সময় দিয়েছি, যেখানে আমাকে কখনোই গুরুত্ব বা সম্মান দেওয়া হয়নি।’

    মালয়ালম অভিনেত্রী মীরা বাসুদেবান। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    মালয়ালম অভিনেত্রী মীরা বাসুদেবান। ইনস্টাগ্রাম থেকে

    এটাই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার নিজের ব্যর্থ দাম্পত্য জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন মীরা। চলতি বছরের শুরুতে মুভি ওয়ার্ল্ড মিডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আগেই মেনে নিয়েছিলাম যে এসব ঘটনা ঘটবে। আমি ভুল করেছি, আর সেটা লুকানোর কিছু নেই। এখন আমাকে নিজের জীবন নিয়ে সামনে এগোতে হবে। বর্তমানে আমি ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ব্যস্ত এবং জীবনে খুব সুখী। এখন আমি জীবনের খুব সুন্দর একটা পর্যায়ে আছি।’

    মীরার প্রথম বিয়ে হয়েছিল ২০০৫ সালে চিত্রগ্রাহক অশোক কুমারের ছেলে বিশাল আগারওয়ালের সঙ্গে। তবে সেই সম্পর্ক টেকেনি, ২০১০ সালের জুলাইয়ে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০১২ সালে মালয়ালম অভিনেতা জন কোক্কেনকে বিয়ে করেন তিনি। এই দম্পতির একটি ছেলেসন্তানও রয়েছে। কিন্তু ২০১৬ সালে তাঁদের সম্পর্কেরও ইতি ঘটে।

    এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে চিত্রগ্রাহক ভিপিন পুথিয়ানকমের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মীরা। কিন্তু সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২৫ সালের আগস্টে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

    অভিনয়জীবনে মীরা কাজ করেছেন একাধিক আলোচিত ছবিতে। এর মধ্যে রয়েছে ‘উরুভান’, ‘একানথাম’, ‘কুট্টামামা’, ‘থাক্কল’ ইত্যাদি।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব