• ‘এই লুকই আপনাদের হৃদয় চুরি করে নিয়েছে’, ৯ ছবি পোস্ট করে লিখলেন নায়িকা

     
     
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করলেন চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি ৯টি ছবি পোস্ট করে নিজের একটি বিশেষ লুকের গল্প শেয়ার করেছেন তিনি। ফারিয়ার ভাষ্য, মিউজিক ভিডিওর বিভিন্ন লুকের মধ্যে এই একটি লুকই সবচেয়ে বেশি দর্শকের মন জয় করেছে। এটি তাঁর নিজেরও সবচেয়ে প্রিয় লুক।

    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

    ফেসবুকে পোস্ট করা ছবিগুলোর সঙ্গে দেওয়া দীর্ঘ ক্যাপশনে এই নায়িকা জানান, এই পোশাকের সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো এর ডিজাইনার তাঁর মা। তিনি লেখেন, ‘আমি শুধু একটা আইডিয়া দিয়েছিলাম, আর মা সেটাকে এমন একটা রঙিন স্বপ্নে পরিণত করলেন, যা দেখে আমিও অবাক।’

    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

    ফারিয়া আরও লিখেছেন, ‘মিউজিক ভিডিওর এতগুলো লুকের মধ্যে এই একটা লুকই আপনাদের হৃদয় চুরি করে নিয়েছে, আর সত্যি বলতে আমারও খুব প্রিয়।’

    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

    তিনি জানান, পুরো পোশাকটি তৈরি করা হয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী কাঞ্জিভরম শাড়ি থেকে। সবুজ ও গোলাপি রঙের সমন্বয়ে তৈরি এই পোশাককে তিনি ‘উৎসবের মতো চঞ্চল, মিষ্টি এবং একেবারে মেইন ক্যারেক্টার এনার্জিতে ভরপুর’ বলে বর্ণনা করেছেন।

    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

    শুধু পোশাক নয়, গয়নাও ছিল ফারিয়ার এই লুকের অন্যতম আকর্ষণ। অল্প সময়ের মধ্যে সবাই মিলে যেভাবে এই লুকটি তৈরি করেছেন, তা ভাবলে এখনো তাঁর বিস্ময় লাগে। ফারিয়ার মতে, ‘পুরো লুকের ওপর যেন চেরি অন টপ! এত অল্প সময়ে সবাইমিলে যেভাবে এই লুকটা তৈরি করেছে, সেটা ভাবলেই এখনো অবাক লাগে।

    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

    গয়নাগুলো পুরো লুকটিকে আরও পরিপূর্ণ করেছে।’ বিশেষভাবে তৈরি করা এই গয়নার জন্য তিনি ‘সিক্স ইয়ার্ড স্টোরি বাই লোরা খান’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

     
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে

    পোস্টটি প্রকাশের পর ভক্তদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। অনেকে মন্তব্যে ফারিয়ার লুক, পোশাকের নকশা এবং রঙের ব্যবহারের প্রশংসা করেছেন।

    গত মাসের শেষের দিকে ‘লোকে বলে’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিও মডেলে হয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। গানটি গেয়েছেন ফারিয়া নিজেই। এটি লিখেছেন তাহজীব এম বাঁধন। কম্পোজার ফুয়াদ আল মুক্তাদির। ভিডিওটি বানিয়েছেন বাবা যাদব।

    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
    নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক থেকে
  • ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে মুখ খুললেন মৌসুমী, ক্ষোভ ওমর সানীর

    বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী মৌসুমী অভিনীত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটি নিয়ে মুক্তির আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর তাঁর পরিচালিত কাজটি ১৫ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা বলার পর আপত্তি জানিয়েছেন মৌসুমী ও তাঁর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী।

    আজ রোববার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওমর সানী বলেন, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ মূলত কোনো সিনেমা নয়, এটি একটি নাটক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে শুটিং করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, দর্শক যেভাবে মৌসুমীকে দেখে অভ্যস্ত, কাজটি সেই প্রত্যাশার সঙ্গে যায় না। তাই তিনি ছবিটির মুক্তি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

    মৌসুমী ও ওমর সানি
    মৌসুমী ও ওমর সানিসংগৃহীত

    একই ভিডিওতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মৌসুমী। তিনি জানান, নির্মাতার অনুরোধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একটি এক ঘণ্টার নাটকে কাজ করতে রাজি হন এবং কয়েক দফায় শুটিংও করেন। পরে নির্মাতা তাঁকে জানান, ফুটেজ বেশি হওয়ায় এটি টেলিছবি হিসেবে মুক্তি দেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক নিয়েও আলোচনা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, কাজটি সিনেমা হিসেবে মুক্তি পাচ্ছে এবং সেন্সর সনদও পেয়েছে—যা তাঁর কাছে বিস্ময়কর। মৌসুমীর অভিযোগ, তাঁর অজান্তেই কাজটিকে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাঁকে ‘কাটপিসের মতো ব্যবহার’ করা হয়েছে, যা তিনি অনৈতিক বলে মনে করছেন।

    সিনেমার একটি দৃশ্যে সহশিল্পীর সঙ্গে মৌসুমী। ছবি: ফেসবুক থেকে
    সিনেমার একটি দৃশ্যে সহশিল্পীর সঙ্গে মৌসুমী। ছবি: ফেসবুক থেকে

    এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মৌসুমী চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন—পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি ও শিল্পী সমিতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে ওমর সানী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছেন।

    মৌসুমী
    মৌসুমী
     

    ওমর সানী ও মৌসুমীর অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই ভিডিওটি বানাতে মৌসুমী আপাকে বাধ্য করা হয়েছে। এই প্রকল্পে তাঁকে সিনেমার সম্মানী দিয়েই যুক্ত করেছিলাম।’

    তবে এর আগে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ‘কনট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে মৌসুমী বলেছিলেন, ‘হাসান জাহাঙ্গীরের কোনো সিনেমার শুটিং করিনি। তাঁর সঙ্গে দুটি নাটকের কাজ হয়েছে।’

    সবকিছু মিলিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটি নির্ধারিত তারিখে মুক্তি পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৫ মে পর্যন্ত। উল্লেখ্য, মৌসুমীকে সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে ‘সোনার চর’ সিনেমায়।

  • ‘কফিলের মেয়ে’ থেকে ‘আদরের দুলাভাই’, টিভিতে সম্পর্কের নানা গল্প

    ঈদ আয়োজনের শেষ দিনেও ছোট পর্দায় কমেনি ব্যস্ততা। দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে থাকছে নতুন নাটক, টেলিফিল্ম, গান ও ধারাবাহিকের বিশেষ পর্ব। কোথাও পারিবারিক গল্প, কোথাও ভালোবাসা, আবার কোথাও হাস্যরস আর আবেগের মিশেলে তৈরি আয়োজন। আজকের পর্দায় দেখা যাবে মোশাররফ করিম, মুশফিক আর ফারহান, কেয়া পায়েল, জোভান, তটিনী, সজলসহ জনপ্রিয় অনেক অভিনয়শিল্পীকে। সাত দিনের ঈদ আয়োজনের শেষ দিনের টিভি সূচি নিয়ে বিনোদনের বিশেষ আয়োজন—পর্ব ২।

    বৈশাখী টেলিভিশন
    বেলা ১১টায় ‘গানে গানে ঈদ আনন্দ’। অতিথি: কণ্ঠশিল্পী আতিক হাসান, প্রিয়াংকা বিশ্বাস। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘অবশেষে জিরো’। অভিনয়ে আবদুল্লাহ রানা, মাসুম বাশার, আইরিন তানি, শাকিলা পারভিন। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘ঝগড়াটে পরিবার’। অভিনয়ে শিবলী নোমান, পূর্ণিমা বৃষ্টি। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘কফিলের মেয়ে’। অভিনয়ে জেবা জান্নাত, সবুজ আহমেদ, সোহাগ। সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘মোগো বাড়ি বরিশাল’। অভিনয়ে রাশেদ সীমান্ত, নাবিলা ইসলাম। রাত ৮টা ১০ মিনিটে নাটক ‘শেকড়’। অভিনয়ে শামীম হাসান সরকার, তাসনুভা তিশা।

    রাত ৯টা ২০ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘ভাত হাসান’। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, রোবেনা রেজা জুঁই। রাত ১০টায় ধারাবাহিক নাটক ‘সাক্ষী মফিজ’। অভিনয়ে মীর সাব্বির, ময়মুনা মম, সুজাত শিমুল। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘দিল মোহাব্বত’। অভিনয়ে জাকিয়া বারী মম, আরফান আহমেদ। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে মেগা নাটক ‘হৃদয়ে তুমি’। অভিনয়ে সজল, নাদিয়া মিম, শতাব্দী ওয়াদুদ।

     ‘আদরের দুলাভাই’ নাটকে মোশাররফ করিম
    ‘আদরের দুলাভাই’ নাটকে মোশাররফ করিমমাছরাঙা

     

    মাছরাঙা
    বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে নাটক ‘বুকের ভেতর আগুন’। অভিনয়ে মুশফিক ফারহান, কেয়া পায়েল। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘লাভ স্টেশন’। অভিনয়ে চঞ্চল চৌধুরী, মৌসুমী হামিদ। রাত ৮টায় নাটক ‘সুখের গল্প’। অভিনয়ে জোভান, কেয়া পায়েল। রাত ৯টা ১০ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘আদরের দুলাভাই’। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, রোবেনা রেজা জু্ঁই। রাত ১০টা ২০ মিনিটে নাটক ‘ভালোবাসার গল্প’। অভিনয়ে ইয়াশ রোহান, তটিনী। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘বাড়ির ছোট ছেলে’। অভিনয়ে মুশফিক আর ফারহান, হিমি।

    এনটিভি
    বেলা ২টা ২০ মিনিটে টেলিফিল্ম ‘একজন শফিক সাহেব’। অভিনয়ে আইশা খান, শরাফ আহমেদ জীবন। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ধারাবাহিক নাটক ‘মা বাবা ভাই বোন’। অভিনয়ে শহীদুজ্জামান সেলিম, সাবেরী আলম, নিশাত প্রিয়ম, আবু হুরায়রা তানভীর, শবনম ফারিয়া। সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে নাটক ‘ভালোবাসি তাই’। অভিনয়ে সাদ সালমি নাওভী, ইন্দ্রানী নিশি। রাত ৯টা ১০ মিনিটে নাটক ‘কাইজ্জা’। অভিনয়ে মোশাররফ করিম, নীলাঞ্জনা নীলা। রাত ১১টা ৫ মিনিটে নাটক ‘জীবন সংসার’। অভিনয়ে জাহের আলভী, ইফফাত আরা তিথি।

  • ‘কাদা-ছোড়াছুড়িতে জড়াবেন না’, ভক্তদের উদ্দেশে অপু বিশ্বাস

    ভক্তদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সেখানে ভক্তদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অহেতুক তর্কবিতর্ক ও কাদা–ছোড়াছুড়ি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    অপু বিশ্বাস
    অপু বিশ্বাস

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে অপু বিশ্বাস লিখেছেন, ‘আজ এই দীর্ঘ পথচলায় আপনারা যেভাবে আমার ছায়া হয়ে পাশে আছেন, তার জন্য আমি চিরঋণী। আপনারা আমাকে শুধু একজন শিল্পী হিসেবে নয়, আপনাদের পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে ভালোবেসেছেন। আর এই ভালোবাসার পেছনের প্রধান কারণ হলো আমার কাজ। আপনারা আমাকে কাজ দিয়ে চিনেছেন, কাজের মাধ্যমেই আমি আপনাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছি।’

    ভক্তদের প্রশংসা করে অপু বলেন, ‘আমি গর্বিত এই ভেবে যে আমার ভক্তরা শুধু সংখ্যায় নয়, বরং তাঁরা তাঁদের শিক্ষা, রুচি এবং মার্জিত আচরণের জন্য অনন্য। আপনারা যে কতটা ধৈর্যশীল এবং সুশিক্ষিত পরিবারের প্রতিনিধি, তা বারবার প্রমাণ করেছেন। আমি মনে করি, অপুর ভক্ত হওয়া মানেই আভিজাত্য আর শিষ্টাচারের এক অনন্য মেলবন্ধন।’
    এ সময় ভক্তদের উদ্দেশে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ—আপনারা কারও সঙ্গে কোনো ধরনের অহেতুক তর্কে বা কাদা–ছোড়াছুড়িতে জড়াবেন না।’

    অপু বিশ্বাস
    অপু বিশ্বাস

    মনে রাখবেন, যাঁরা নিজেদের কাজ বা অর্জন দিয়ে আলোচনায় থাকতে পারেন না, তাঁরাই অন্যের পরিবার নিয়ে চর্চা করেন বা আজেবাজে পোস্ট করে গুরুত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আপনাদের ব্যক্তিত্ব এতই ঊর্ধ্বে যে কারও নীচু মানের মন্তব্যের উত্তর দিয়ে আপনাদের সেই মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার প্রয়োজন নেই। যাঁরা সস্তায় জিততে চান, তাঁরা কখনোই আপনাদের এই মার্জিত আভিজাত্যের নাগাল পাবেন না।

    ​নিজের পরিবারের প্রশংসা করে অপু লিখেছেন, ‘আমার পরিবার আমার অহংকার। যখন প্রয়োজন হয়েছে, আমি নিজেই আমার পরিবারকে আপনাদের সামনে এনেছি। এখন আর নতুন করে কোনো পোস্ট বা কথার মাধ্যমে আমার পরিবারকে নিয়ে কারও কাছে কিছু প্রমাণ করার নেই। আমাদের পরিচয় আমাদের কাজ, আমাদের বংশমর্যাদা এবং আমাদের শিক্ষা।

    অপু বিশ্বাস
    অপু বিশ্বাসছবি : অপু বিশ্বাসের সৌজন্যে

    ​পোস্টে অপু আরও লিখেছেন, ‘আপনারা যেভাবে আমাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন, ঠিক সেভাবেই আপনাদের ভালোবাসার সেই ছোট্ট আব্রাহাম খান জয়কে আপনাদের স্নেহ আর মমতায় আগলে রাখবেন। তাকে সুন্দরভাবে সবার কাছে উপস্থাপন করাই হোক আপনাদের লক্ষ্য।’

    সবশেষে অপু লিখেছেন, ‘​আমরা কোনো বিতর্ক বা হট্টগোলে নেই; আমরা আছি ভালোবাসা আর কাজের গৌরবে। আপনারা শান্ত ও হাসিখুশি থাকুন। কারণ, আপনাদের এই মার্জিত রূপটিই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’

  • ‘কিছু দলের প্রভাব বেশি’—আইসিসির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিদায় নিয়েছে ১ মার্চ, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ মার্চ। কিন্তু তাদের পর বাদ পড়েও আগেই ভারত ছেড়েছে ইংল্যান্ড। ৫ মার্চ সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের দুই দিনের মধ্যেই, ৭ মার্চ চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন হ্যারি ব্রুকরা।

    নিজেদের পর বাদ পড়লেও ইংল্যান্ডকে আগেভাগে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করায় আইসিসির ওপর ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন আচরণে ‘ক্ষমতা’ দেখানো হয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে অঞ্চলটির আকাশপথ ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বকাপ খেলে ফেরার যাত্রাতেও। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খেলতে আসা কয়েকটি দল সময়মতো দেশে ফিরতে পারেনি। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ে দল সুপার এইট থেকে বাদ পড়ার পর কয়েক দিন অপেক্ষার পর ভারত ছাড়তে পেরেছে।

    বিশ্বকাপে খেলা দলগুলোর ভ্রমণের বিষয়টি দেখভাল করে আইসিসি। ইএসপিএনক্রিইনফোর খবরে বলা হয়, আইসিসি ইংল্যান্ড দলের জন্য একটি চাটার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করায় হ্যারি ব্রুকরা শনিবার ভারত ছেড়ে গেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল যাবে ৮ মার্চ।

    ইনস্টাগ্রামে ডেভিড মিলারের ক্ষোভ
    ইনস্টাগ্রামে ডেভিড মিলারের ক্ষোভ স্ক্রিনশট

    এই পরিস্থিতিতে আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান ক্রিকইনফোর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখেন, ‘মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইংল্যান্ড দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর বাদ পড়েও আজ রাতে চার্টার্ড ফ্লাইটে বাড়ি ফিরছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো কলকাতায় উত্তরের অপেক্ষায় বসে আছে।’

    মিলারের সেই পোস্টেই প্রতিক্রিয়া জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। মন্তব্যের ঘরেই তিনি লেখেন, ‘মিলার, যাঁরা পেছনে আছেন, তাঁরা যেন শুনতে পান, সে জন্য দয়া করে আর একটু জোরে বলুন স্যার।’

    এরপর স্যামিকে ট্যাগ করে মিলার আরও তীব্র ভাষায় আইসিসির সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘ইংল্যান্ডের জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে আইসিসির খুব একটা সময় লাগে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাত দিন ধরে চার্টার্ড ফ্লাইটের অপেক্ষায় আছে আর দক্ষিণ আফ্রিকার আজ চার দিন হলো। তবুও আমরা এখনো অপেক্ষাতেই আছি।’

    একই সুর শোনা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি ককের কণ্ঠেও। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, ‘আইসিসি, আমরা এখনো কিছুই জানতে পারিনি। অথচ ইংল্যান্ড আমাদের আগেই কোনোভাবে চলে যাচ্ছে? ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা একেবারেই অন্ধকারে পড়ে আছে! অদ্ভুত ব্যাপার যে কিছু দলের প্রভাব অন্যদের চেয়ে কত বেশি।’

    ইংল্যান্ড দলের আগেভাগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছে আইসিসি
    ইংল্যান্ড দলের আগেভাগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছে আইসিসি, রয়টার্স

    শুধু খেলোয়াড় ও কোচই নন, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও। তিনি এক্সে লেখেন, ‘ইংল্যান্ড বৃহস্পতিবার বিদায় নিয়েছে আর আজই চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফিরে যাচ্ছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ গত রোববার টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েও এখনো কলকাতায় আছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও একই অবস্থায়। এখানেই বোঝা যায় ক্ষমতার ভারসাম্যটা ঠিক নেই।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সব দলের প্রতি সমান আচরণ করা উচিত। আইসিসির টেবিলে আপনি বেশি শক্তিশালী বলেই আলাদা সুবিধা পাবেন, এটা হওয়া উচিত নয়।’

    আইসিসির ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ‘জীবনে কখনো প্রথম হতে পারিনি, আজ হলাম’

    মঞ্চে দাঁড়িয়ে কাঁপছিল পা। হাতে ট্রফি, ঝলমলে আলো, ক্যামেরা আর করতালির শব্দ। তবু যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না—এটাই সত্যি! রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতার জন্য এই মুহূর্তটি শুধু একটি জয়ের নয়; বহুদিনের না পাওয়া এক স্বপ্নপূরণেরও গল্প।
    শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’-এর মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়। দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন করে এই প্রতিযোগিতার বিজয়ী পেল বাংলাদেশ।

    ট্রফি হাতে নেওয়ার পরপরই আবেগাপ্লুত বর্ণিতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার পা কাঁপছিল, দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। দর্শকের ভালোবাসায় এই জায়গায় এসেছি। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

    প্রথম হওয়ার অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতা
    বর্ণিতার ভেতরে জমে ছিল এক দীর্ঘদিনের আক্ষেপ—কখনো প্রথম হতে না পারার। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে  তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় পড়ালেখায় ভালো ফল করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু জীবনে কখনো প্রথম হতে পারিনি। সব সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছি। সব সময়ই মনে হতো, কোথাও না কোথাও প্রথম হতে চাই। আজ সত্যিই আমি এই মঞ্চে প্রথম হতে পেরেছি।’

    জয়ের আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ব
    জয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেও বর্ণিতার চোখে স্পষ্ট দায়িত্ববোধ। তাঁর কাছে এই ট্রফি কেবল পুরস্কার নয়, আরও বড় কিছু। তিনি বলেন, ‘এই ট্রফিটা শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটা অনেক বড় দায়িত্ব। সবার ভালোবাসা আর সমর্থনেই আমি এখানে এসেছি। সেই ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে চাই, সামনে আরও দূর যেতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

    প্রথম আলো

    এই জয় বর্ণিতার জন্য নতুন দরজাও খুলে দিয়েছে। ট্রফির পাশাপাশি তিনি পাচ্ছেন বিলাসবহুল গাড়ি, শিহাব শাহীনের ওয়েব কনটেন্টে কাজের সুযোগ এবং সবচেয়ে বড় চমক—ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে রায়হান রাফীর পরিচালনায় একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ। এ প্রসঙ্গে বর্ণিতা বলেন, ‘রাফী স্যার শুরু থেকেই আমাদের মেন্টর ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর সিনেমা বড় পর্দায় দেখেছি দর্শক হিসেবে। এখন তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অবিশ্বাস্য। আমি সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

    প্রতিযোগিতার পথচলা
    ২০০৫ সালে শুরু হওয়া লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতা কয়েক বছর নিয়মিত চলার পর বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে আয়োজনটি হয়েছিল। সাত বছর বিরতির পর গত বছর শুরু হয় এর দশম আসর।

    ট্রফি হাতে বিদুষী বর্ণিতা
    ট্রফি হাতে বিদুষী বর্ণিতা

    লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীকে ডাকা হয়। সেখান থেকে সেরা ১০ জনকে নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেল আইয়ে সম্প্রচার শুরু হয় প্রতিযোগিতাটি। এবারের আসরের মেন্টর ছিলেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফী। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন পাঁচ প্রতিযোগী—আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, তিস্তা পাল ও নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। এর মধ্যে প্রথম রানারআপ হয়েছেন নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল এবং দ্বিতীয় রানারআপ চট্টগ্রামের আমিনা।

    শুক্রবার অনুষ্ঠানে ইউনিলিভারের মার্কেটিং ডিরেক্টর ও বিজনেস ইউনিট হেড নাবিলা জাবীন খান বলেন, ‘লাক্স সুপারস্টারের গল্পগুলো সব সময়ই অনুপ্রেরণার। এটি একজন সাধারণ নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার যাত্রা।’ সেই যাত্রার নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন রাজশাহীর বর্ণিতা।

    চ্যানেল আই অবলম্বনে

  • ‘জেল থেকে ফেরার পর পুরুষ দেখলেই শরীর ভয়ে কাঁপে’

    প্রেমিক সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই দুঃস্বপ্নের সময় কাটিয়েছেন অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। মাদক–কাণ্ডে জেল খেটেছেন, দিনের পর দিন খবরের শিরোনাম হয়েছেন। সম্প্রতি দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন রিয়া। এ উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

    সুশান্তের মৃত্যু ঘিরে বিতর্কে রিয়ার নাম জড়িয়ে পড়েছিল। বিষয়টি তাঁর অভিনয়জীবনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি অভিনেত্রী দূরে সরে গিয়েছিলেন রোল-ক্যামেরা, অ্যাকশনের জগৎ থেকে। দীর্ঘ সাত বছর পর অভিনয়জীবনে ফিরছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আজকাল তিনি ‘ট্রোল্‌ড’ না হলে মনে হয় সব আদৌ ঠিক করছেন তো! সুশান্তের মৃত্যুর পরে তাঁর জেলে যাওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় বসে দেখেছিলেন কোটি কোটি মানুষ। রিয়ার আক্ষেপ, সেইসব মানুষের মধ্যে ১ কোটি মানুষও যদি তাঁর আদালত থেকে ক্লিনচিট পাওয়ার অর্থটা বুঝত।

    রিয়া চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    রিয়া চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    যদিও জেলে যাওয়ার পর থেকে কিছু ভয় মনের মধ্যে বসে গিয়েছে রিয়ার। তিনি বলেন, ‘জেল থেকে ফেরার পর মনে হতো পৃথিবীটা বাসযোগ্য নয়, বাইরে বেরোতে ইচ্ছে করত না। দরজা খুলে কোনো পুরুষকে দেখলেই শরীর কাঁপে এখনো। অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়।’

    অভিনয়ে ফেরা
    নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ‘ফ্যামিলি বিজনেস’–এর মাধ্যমে অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে রিয়ার; যা তাঁর ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিরে আসা প্রসঙ্গে রিয়া বলেন, এই অভিজ্ঞতা তার কাছে একই সঙ্গে আবেগঘন ও অবাস্তব মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সাত বছর। ব্যাপারটা সত্যিই অদ্ভুত আর অবিশ্বাস্য লাগছে। আমি ভাবতেই পারিনি যে আবার কখনো অভিনয় করব। সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।’

    নিজের অতীত ও বর্তমানের তুলনা টেনে রিয়া আরও বলেন, ‘১৭ বছর বয়সে অভিনয়ই ছিল আমার স্বপ্ন। তারপর অনেক কিছু ঘটে গেল, কাজ বন্ধ হয়ে গেল, আর আমাকে সেই স্বপ্ন থেকে সরে আসতে হয়েছিল। এখন আমি আবার ফিরেছি, কিন্তু আমি আগের মতো নেই। আমার ক্যারিয়ারও বদলেছে। অভিনয় এখন আগের মতো একই অর্থ বহন না করলেও, অনেক দিক থেকে এর গুরুত্ব আমার কাছে আগের চেয়েও বেশি।’
    রিয়ার এই প্রত্যাবর্তনের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া বেশ ইতিবাচক। অনেকেই তাঁকে সাহস ও ভালোবাসার বার্তা দিয়ে লিখেছেন—‘তোমাকে নিয়ে গর্বিত’, ‘তুমি আরও শক্ত হয়ে ফিরেছ’, ‘নতুন শুরুতে শুভকামনা’।
    নিউজ ১৮ অবলম্বনে

  • ‘দলদল মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিকটা দেখিয়েছে’

    বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেড়নেকর মনে করেন, ঝুঁকি নেওয়ার সাহসই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও সেই সাহসটুকু ধরে রাখতে চান তিনি। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক আলাপচারিতায় নিজের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’, অভিনয়জীবনের পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

    অভিনয়জীবনের নতুন মোড়
    ছোট শহরের বাস্তবধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেই শুরুতে পরিচিতি পান ভূমি। ‘দম লাগা কে হ্যাঁয়সা’ ছবির সন্ধ্যা ভার্মা চরিত্র দিয়ে তাঁর অভিনয়যাত্রার শুরু। এরপর ‘বালা’, ‘আফওয়া’, ‘ভক্ষক’, ‘বাধাই দো’সহ একাধিক ছবিতে তাঁকে মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মেয়ের ভূমিকায় দেখা গেছে।

    সেদিক থেকে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘দলদল’ তাঁর ক্যারিয়ারে এনেছে ভিন্নমাত্রা। ভূমি এখানে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সর্বকনিষ্ঠ প্রধান কর্মকর্তা—ক্ষমতা, চাপ ও নৈতিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত এক জটিল চরিত্র। ভূমি বলেন, ‘এটা আমার যাত্রার স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ বলেই মনে হয়েছে। আমি সব সময় এমন গল্পের দিকে ঝুঁকেছি, যেখানে সমাজ বা মানুষের আচরণকে প্রশ্ন করা হয়। কিন্তু দলদল মানুষের ভেতরের অন্ধকার দিকটা যেভাবে দেখিয়েছে, সে ধরনের কাজ আমি আগে করিনি।’

    চরিত্রটি নিয়ে ভূমি আরও বলেন, ‘রীতা এমন একজন মানুষ, যে অমীমাংসিত ট্রমা ও নৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে নীরবতার মধ্যে বাস করে। সিরিজটির জগৎ অন্ধকার, অস্বস্তিকর এবং মানসিকভাবে খুব চ্যালেঞ্জিং। সেই অস্বস্তিই আমাকে এই প্রকল্পের প্রতি টেনেছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমি এমন চরিত্র চাই, যারা সব কথা বলে না—দর্শকের ওপর ভরসা রাখে। যে চরিত্র আমাকে স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে নিয়ে গিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। “দলদল” ঠিক সেটাই করেছে।’

    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    বদল নয়, বিবর্তন
    ভূমি জানান, এখন কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ‘প্রথমে গল্প আমাকে অনুভূতির জায়গা থেকে টানে, তারপর ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিই। এখন “সঠিক প্রকল্প” বলতে আমি বুঝি এমন কিছু, যা আমাকে চ্যালেঞ্জ করবে, একটু ভয়ও দেখাবে।’ তিনি বলেন, ‘একঘেয়ে বা আরামদায়ক চরিত্রে আর আগ্রহ নেই; বরং এমন পরিচালক ও লেখকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যাঁরা জটিলতা ও দ্ব্যর্থতাকে গুরুত্ব দেন।’

    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    প্রায় এক দশকের ক্যারিয়ারের দিকে তাকিয়ে ‘বদল’ নয়, ‘বিবর্তন’ শব্দটিকেই প্রাধান্য দেন ভূমি। তাঁর ভাষায়, ‘শুরুতে ছোট শহরের সাধারণ মেয়ের চরিত্রে পরিচিতি পেলেও এখন আমি এমন নারীর গল্প বলতে চাই, যারা সামাজিক কাঠামোর ভেতরে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে লড়াই করছে।’

    ভূমি যোগ করেন, ‘চরিত্রের পরিসর বদলেছে, কিন্তু মানুষের গল্প জানার আগ্রহ একই আছে। আমার চরিত্রগুলো প্রায়ই এমন নারীদের নিয়ে, যারা সমাজ, শ্রেণি, লিঙ্গ ও নৈতিকতার কাঠামোর ভেতর নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম করে।’
    গণ্ডি ভাঙার ইচ্ছা

    ‘অর্থবহ সিনেমা’ও কখনো কখনো একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি তৈরি করতে পারে—এমনটাই মনে করেন ভূমি। তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি এখন এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে বড় বাজেটের চমকপ্রদ সিনেমা এবং গভীর, সংবেদনশীল গল্প—দুটিই পাশাপাশি এগোচ্ছে। আমি এই দুই ধারাতেই কাজ করতে চাই।’

    তবে একটি বিষয় ভূমি সব সময় ধরে রাখতে চান, ‘ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা’। তাঁর কথায়, ‘জটিল এবং সত্যনিষ্ঠ গল্প বেছে নেওয়ার সাহসটাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। একজন অভিনেতা হিসেবে আমি সব সময় এমন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা সত্যিই কিছু বলতে চান।’

    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ভূমি পেড়নেকর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • ‘দয়া করে বাঁচান’, দুবাইয়ে আটকে পড়া অভিনেত্রীর আকুতি

    পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে দুবাইয়ে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত হওয়ায় বলিউড অভিনেত্রী সোনাল চৌহান বর্তমানে সেখানেই আটকে পড়েছেন। নিরাপদে ভারতে ফিরতে তিনি ভারতের সরকারের সহায়তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন।

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। এর জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথে ব্যাপক বিঘ্ন দেখা দেয় এবং দুবাইসহ একাধিক শহরে ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এই অবস্থায় দুবাইয়ে অবস্থানরত সোনাল চৌহান ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ট্যাগ করে লেখেন, তিনি চলমান সংকটের মধ্যে দুবাইয়ে আটকে আছেন এবং দেশে ফেরার কোনো পরিষ্কার পথ নেই। নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি সরকারের দিকনির্দেশনা ও সহায়তা কামনা করেন।

    সোনাল চৌহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সোনাল চৌহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুবাইয়ে ভারতীয় দূতাবাসকেও উল্লেখ করে দ্রুত সহায়তার আবেদন জানান। তাঁর এই আবেদন সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্বোধন করে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে একাধিক বিমান বাতিল হওয়ায় আটকে পড়েছেন তিনি। নিরাপদে এবং সঠিক সময়ে নিজভূমে ফেরার কোনো আশা তিনি দেখছেন না। ‘আমাকে সাহায্য করুন, দয়া করে বাঁচান’, লিখেছেন তিনি।

    শুধু সোনাল নন, এই পরিস্থিতিতে আরও কয়েকজন ভারতীয় তারকাও উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সান্ধ, দক্ষিণি তারকা অজিত দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া দোহায় থাকা ভারতীয় বাস্কেটবল দলও যাত্রা স্থগিতের কারণে এগোতে পারছে না।

    রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ইসরায়েল ও বাহরাইনের আকাশসীমা কার্যত ফাঁকা হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইরানে হামলার কথা নিশ্চিত করার পর যুক্তরাষ্ট্রও দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এর জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কাতারের দোহা, আবুধাবি ও দুবাইয়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • ‘নাটকের ছেলেমেয়েদের’ আম্মা চুমু খাচ্ছেন, দেখলে মন খারাপ হয়

    পর্দায় নানা সময় নানাজনের ‘মা’ হয়েছেন অভিনেত্রী দিলারা জামান। বাস্তবে মা হিসেবে তিনি কেমন? পড়ুন তাঁর সন্তান জুবায়রা জামান চৌধুরীর লেখা।

    ২৬ বছর হলো দেশের বাইরে আছি। এর মধ্যেই ২০১৪ সালে আব্বা মারা গেলেন। শেষ সময়ে আব্বা আমার এখানেই ছিলেন। তিনি বারবার বলতেন, ‘তোর মায়ের দায়িত্ব আমি তোকে দিয়ে যেতে চাই।’ আব্বা মারা যাওয়ার পর আম্মা সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি আমেরিকা থাকবেন না। গ্রিন কার্ড ছেড়ে দিলেন। তাঁকে রাজি করাতে পারলাম না। তখন নিজেকে খুব ব্যর্থ মনে হচ্ছিল। ভাবছিলাম আব্বাকে দেওয়া কথা রাখতে পারলাম না।

    আম্মাকে আমার মনে হয় ভীষণ একগুঁয়ে। কথা শুনতে চান না। সবার কাছে তিনি অভিনেত্রী দিলারা জামান, একজন সেলিব্রিটি; কিন্তু আমার কাছে তো তিনি মা। সম্পর্কটা রক্তের, এখানে কোনো স্বার্থ নেই। মেয়ে হিসেবে মন খুলে সব বলতে পারি। ফলে রাগ-অভিমানটাও বেশিই হয়। 

    আম্মার সঙ্গে একটা বড় অভিমানের জায়গা তাঁর পর্দার ছেলেমেয়েরা। নাটকে দেখি তিনি ছেলেমেয়েদের জড়িয়ে ধরছেন, চুমু খাচ্ছেন। এ রকম অনেক ভিডিও ভাইরালও হয়। দেখলে আমার মন খারাপ হয়। আম্মার একটা জড়তা আছে। এই জিনিসগুলো তিনি আমাদের সঙ্গে করেননি। অনেকে বোঝানোর চেষ্টা করে, পর্দায় যেটা দেখা যায়, সেটা অভিনয়। তারপরও মনে হয়, তিনি তো আমাদের সঙ্গেও ওই ঘনিষ্ঠতাটুকু দেখাতে পারেন। এখন আমি নিজেও মা। মেয়েদের কাছে আমি ভালোবাসা প্রকাশ করি। আম্মার কথা যখন ভাবি, মনে হয়, তাঁদের প্রজন্ম হয়তো ভালোবাসার প্রকাশটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি। তাঁরা এটার সঙ্গে অভ্যস্ত নয়।

    সম্পর্কটা রক্তের, এখানে কোনো স্বার্থ নেই
    সম্পর্কটা রক্তের, এখানে কোনো স্বার্থ নেইছবি: কবির হোসেন

    ছিলেন খুব ‘স্ট্রিক্ট’

    আম্মা খুব ‘স্ট্রিক্ট’ ছিলেন। আমরা দুই বোন, আমি আর বড় আপা তানিরা, আমাদের দুজনকেই অনেক শাসনের মধ্যে বড় করেছেন। সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বাড়ি ফিরতে হতো। বন্ধুরা একসঙ্গে মিলে দুপুর বা রাতের খাবার খাওয়া, আড্ডা দেওয়া—এটা পারতাম না। বাসায় ছেলে বন্ধু আনা নিষেধ ছিল, এলেও ড্রয়িংরুমে বসা পর্যন্তই অনুমতি ছিল। এ ক্ষেত্রে আব্বাও ছিলেন সমান কঠোর।

    আম্মা শিক্ষকতা করতেন। তিনি যে স্কুলে যেতেন, আমাদেরও একই স্কুলে ভর্তি করাতেন। সব সময় চোখে চোখে রাখতেন। আমরা কখনোই ক্লাস ফাঁকি দিতে পারিনি। তবে এই কঠোরতার মধ্য দিয়ে একটি জিনিস তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—সততা। আব্বা বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) ছিলেন। তাঁদের দুজনই কোনো কিছুতে লোভ লালসা করেননি। ফলে আমরা খুব প্রাচুর্যের মধ্যে বড় হইনি। এ বিষয়টা আমাদের মধ্যেও এসেছে। চেষ্টা করি সব পরিস্থিতিতে সৎ থাকার। সব সময় মনে রাখি ওপরে একজন আছেন, যিনি দেখছেন।

    শিক্ষক দিলারা জামান ছেলেমেয়েদের কড়া শাসনে বড় করেছেন
    শিক্ষক দিলারা জামান ছেলেমেয়েদের কড়া শাসনে বড় করেছেনছবি: কবির হোসেন

    আম্মার ‘স্যাক্রিফাইস’

    চট্টগ্রামে আম্মা থিয়েটার করতেন, অরিন্দমে ছিলেন। তারপর যখন ঢাকায় এলেন, থিয়েটার পুরোপুরি ছেড়ে দিলেন। আম্মা জানতেন থিয়েটারে অনেক সময় দিতে হবে। তখন স্কুল আর বাসা—এই দুইয়ের মধ্যে বন্দী হয়ে যান। আমাদের স্কুলে আনা–নেওয়া করতেন। রিকশায় আমাকে কোলে নিতেন, বড় আপা পাশে বসত। আম্মা সব সময় নিজ হাতে রান্না করতেন। আমরা কখনো গৃহপরিচারিকার রান্না খাইনি। বাজারটাও নিজে করতেন। এই সময়টায় অভিনয় থেকে তিনি লম্বা বিরতিতে চলে যান।

    এরপর হুমায়ূন আহমেদের এইসব দিনরাত্রি নাটক দিয়ে তাঁর অভিনয়ে ফেরা। তখন তাঁর মধ্য বয়স, মা চরিত্রে তখনই হয়তো অভিনয় করার কথা না। কিন্তু আম্মা সেই চরিত্র করলেন। তার পর থেকে একই ধরনের রাগী, খিটখিটে মায়ের চরিত্র আসতে থাকল। তখন তিনি কেবল ওই ধরনের চরিত্রের জন্যই বিবেচিত হতেন। এই ‘স্যাক্রিফাইস’ তিনি আমাদের জন্য করেছেন।

    মায়েদের প্রতি আলাদা দরদ

    মা হতে আম্মার অনেক সময় লেগেছিল। বিয়ের ১০ বছর পর তিনি মা হন। আমার মনে হয় এ জন্য মায়েদের প্রতি তাঁর আলাদা দরদ আছে। ছোটবেলা থেকেই দেখতাম, কারও মা হওয়ার খবর শুনলে তিনি ব্যস্ত হয়ে যেতেন। হয়তো হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে আসতেন। টিফিন বক্স ভরে খাবার রান্না করে নিয়ে যেতেন।

    আম্মার মাতৃত্বের অনুভূতি অনেক গভীর। আমাদের একটা ছোট ভাই আছে। ওর নাম আশিক। আশিক ওর আড়াই বছর থেকে আমাদের পরিবারের সঙ্গে আছে। আমরা একসঙ্গেই বড় হয়েছি। আম্মা ওকে নিজের ছেলের মতো আদর করেন। ২০১৪ সাল থেকে আশিক আম্মার সঙ্গেই থাকে।

    আম্মাকে দেখেছি প্রচণ্ড উদার। তাঁর কাছে ১০ টাকা থাকলে পাঁচ টাকা তিনি অন্যদের জন্য রেখে দেন। কারও হয়তো চোখের অপারেশন, কারও ছেলের পড়ালেখার খরচ—যেটুকু পারেন সাহায্য করেন। অনেক সময় জমানো টাকাও এসব কাজে খরচ করে ফেলেন। অনেকে তাঁর এই উদারতার সুযোগ নেয়। তিনি সেটা বুঝতে চান না। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আবার আমার কথা-কাটাকাটি হয়। তবে তিনি সন্তুষ্টি নিয়ে ঘুমাতে যান, এটা আমি অনুভব করতে পারি।

    মা ও মেয়ে
    মা ও মেয়ে
     
    তিনি একা নন

    আমার বিদেশে আসার একটা কারণ ছিল, আমি আম্মা-আব্বাকে বিদেশে নিতে চাইতাম। কিন্তু সেটা পারিনি। আমরা দুই বোনই দেশের বাইরে থাকি। দেশে আম্মার সঙ্গে আশিক থাকে। আর তাঁর একজন সহকারী আছে। তবে আম্মার সবচেয়ে বড় সঙ্গী কাজ। এই বয়সেও তিনি তাঁর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এটা একদিকে আমাকে কিছুটা স্বস্তি দেয়। তাঁর ডায়াবেটিস আছে, কিডনির সমস্যা আছে, কানে শুনতেও সমস্যা হয়। আমার মনে হয় কাজ তাঁকে একাকিত্ব থেকে দূরে রাখে।

    আম্মার পুরো জীবনটা ত্যাগের মধ্য দিয়ে গেছে। আমি চেষ্টা করি প্রতিবছর ১০-১৫ দিনের জন্য হলেও ঘুরে আসার। আমার দুই মেয়ে আমাইরা আর আরিসা জানে, ওদের নানি বাংলাদেশের একজন সেলিব্রিটি। মুঠোফোনে নানির সঙ্গে ওদের কথা হয়।

    দূর থেকে আম্মার কথা সব সময় মনে পড়ে। আর মাঝে মাঝে মিস করি তাঁর হাতের রান্না। আম্মা মাছ খুব ভালো রাঁধেন। মসলা বেশি দেন না, হালকা ঝোল ঝোল রাখেন। আম্মার হাতের মাছ খুব মিস করি।

    অনুলিখিত

  • ‘প্রতিভা নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নেয়’

    অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি সম্প্রতি নির্বাক চলচ্চিত্র ‘গান্ধী টকস’-এ অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায়। ছবিতে তাঁর বিপরীতে রয়েছেন বিজয় সেতুপতি। ভারতীয় দৈনিক অমর উজালাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অদিতি জানিয়েছেন, কেন এই নির্বাক ছবি তাঁর কাছে এতটা বিশেষ। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে হিন্দি ছবিতে তুলনামূলক কম কাজ করার কারণ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

    নির্বাক ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অদিতি বলেন, ‘আমার সব সময়ই ইচ্ছা ছিল কোনো নির্বাক ছবিতে কাজ করার। যখন এই সিনেমার প্রস্তাব আসে, সত্যিই খুব খুশি হয়েছিলাম। পরিচালক কিশোর পাণ্ডুরং বেলেকর যেভাবে ছবির কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন, এ আর রাহমান যেভাবে সংগীত দিয়েছেন, সেটা দারুণ। তা ছাড়া বিজয় সেতুপতি, অরবিন্দ স্বামী ও সিদ্ধার্থ যাদবের মতো শিল্পীরা যুক্ত হয়েছেন—সব মিলিয়ে ছবিটা আমার কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমার চরিত্রটি শুধু প্রেমের আকর্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; গল্পের আবেগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

    নির্বাক ছবির চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন অদিতি। তাঁর ভাষায়, ‘একজন অভিনেতার কাছে প্রতিটি ছবিই চ্যালেঞ্জিং। তবে নির্বাক ছবির চ্যালেঞ্জ আলাদা। এখানে সংলাপ নেই, তাই শরীরী ভাষা, চোখের অভিব্যক্তি আর ভেতরের অনুভূতির প্রকাশই হয়ে ওঠে প্রধান মাধ্যম। কিছু না বলেও অনুভূতি প্রকাশ করার প্রক্রিয়াটা আমি ভীষণ উপভোগ করেছি।’

    ‘গান্ধী টকস’–এ বিজয় ও অদিতি। এক্স থেকে
    ‘গান্ধী টকস’–এ বিজয় ও অদিতি। এক্স থেকে

    নিরীক্ষাধর্মী ছবি নিয়ে দর্শকের মনোভাব প্রসঙ্গে অদিতি বলেন, ‘নির্বাক ছবি অনেক দর্শকের কাছেই নতুন অভিজ্ঞতা, তাই এর গতি কিছুটা ধীর মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা প্রায়ই শুক্রবার মুক্তির পরই একটি ছবির ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলি। সত্যিটা হলো, এ ধরনের ছবির জন্য সময় দরকার। মন দিয়ে অনুভব করে দেখতে হয়।’
    গত চার বছরে হিন্দি ছবিতে তাঁকে তুলনামূলক কম দেখা যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অদিতি বলেন, ‘বিষয়টা খুব সহজ। ভালো কাজ পেলে তবেই আমি হিন্দি ছবি করি। যারা বাইরে থেকে বলিউডে আসে, তাদের প্রতিটি ছবিতে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করতে হয়। এটা কোনো অভিযোগ নয়, বাস্তবতা। আমাদের একসঙ্গে পাঁচটি ছবির চুক্তি হয় না। প্রতিটি নতুন কাজেই নিজেকে আবার প্রতিষ্ঠা করতে হয়। ২০১১ সাল থেকে কাজ করছি। আমার বিশ্বাস, প্রতিভা শেষ পর্যন্ত নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নেয়।’

    ভারতে বিনোদন–দুনিয়ায় কাজের সময়সীমা ও দীর্ঘ শিফট নিয়ে চলমান বিতর্কেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অদিতি। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই যন্ত্র নই। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় কাজ করা মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করা স্বাভাবিক, কিন্তু তারপর কাজের মানও প্রভাবিত হয়। শিল্পীরা মন আর শরীর—দুটো দিয়েই কাজ করেন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া টানা কাজ করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।’

    অদিতির মতে, সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে সময়ের ভারসাম্য অত্যন্ত জরুরি। ‘কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। ইন্ডাস্ট্রিতে এ বিষয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া দরকার,’ বলেন তিনি।

    অদিতি রাও হায়দারি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    অদিতি রাও হায়দারি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    নির্বাক ছবির মতো ভিন্ন ঘরানায় কাজের মাধ্যমে অদিতি আবারও জানিয়ে দিলেন, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই তিনি স্বচ্ছন্দ। এখন দেখার, দর্শক ‘গান্ধী টকস’কে কতটা সময় ও মনোযোগ দেন।

  • ‘ফল যা–ই হোক, আমরা আমাদের সেরাটাই দেব’—চীনের মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রত্যয়ী মনিকা

    সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে আগামী মঙ্গলবার ঐতিহাসিক এক ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ।

    নয়বারের এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন চীনের মুখোমুখি হওয়ার আগে সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে আজ সকালে নিবিড় অনুশীলন করেছেন মারিয়া-মনিকারা। অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা জানিয়েছেন, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন তাঁরা।

    অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন নিয়ে বাংলাদেশের দুবারের সাফজয়ী দলের সদস্য মনিকা বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি অনেক দিন হয়েছে। এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। এখানে ভালো অনুশীলন হচ্ছে। প্রতিদিনই আমাদের উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছে।’

    এশিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ চীন কতটা শক্তিশালী, তা নিয়ে দলের ভেতর কাটাছেঁড়া চলছে নিয়মিত। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রতিপক্ষকে আটকানোর কৌশল সাজাচ্ছেন কোচ পিটার বাটলার। এ প্রসঙ্গে মনিকা বলেন, ‘যেহেতু ওরা এশিয়ার মধ্যে সেরা, এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও, তো ওদের নিয়ে আমাদের প্রত্যেক দিন মিটিং হয়। ভিডিও দেখানো হয়। ওরা কোন পজিশনে কীভাবে খেলে, আমাদের কীভাবে দৌড়াতে হবে বা মাঠে কীভাবে খেলতে হবে, এগুলো মিটিংয়েও বলা হচ্ছে। আর আমরা মাঠেও সেটা নিয়ে কাজ করতেছি।’

    সিডনিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মনিকা চাকমা
    সিডনিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মনিকা চাকমা

    চীনের বিপক্ষে লড়াই করতে হলে রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগ—সব বিভাগেই সমান সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন এই মিডফিল্ডার। চীনের শক্তি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘গোলকিপার থেকে স্ট্রাইকার—সবদিক দিয়ে ওরা স্ট্রং। আমাদেরও রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগ পর্যন্ত সবদিক নিয়ে কাজ করা লাগছে।’

    বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে চীনের কাছে হারের ব্যবধান যত কম রাখা যায় সেই চেষ্টা করা। এক সাংবাদিক ড্র বা জয়ের লক্ষ্য থাকবে কি না, জিজ্ঞেস করলে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি মনিকা, ‘আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ফল যা–ই হোক, আমরা আমাদের সেরাটা দেব।’

    মনিকা আরও যোগ করেন, ‘আমরা আমাদের নিজেদের নিয়ে বেশি ভাবছি, কারণ, আমাদের এখানে পারফরম্যান্স করতে হবে। দেশের জন্য হোক, নিজের জন্য হোক বা ফ্যামিলির জন্য, সবার জন্যই আমরা এখানে খেলতে এসেছি। আমরা আমাদের দেশের জন্যই ভাবছি।’

    সিডনিতে চলছে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন
    সিডনিতে চলছে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন, বাফুফে
     

    মাঝমাঠ, আক্রমণভাগ আর রক্ষণভাগের ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে মনিকা জানান, বল পেলে তাঁরা অবশ্যই আক্রমণে যাবেন, আর বল হারালে দ্রুত পজিশন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন। মূল ভেন্যুতে অনুশীলনের সুযোগ না পেলেও রাগবি ও ফুটবলের ভেন্যু জুবুলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট বলে জানান।

    মঙ্গলবার সিডনির মাঠে লাল-সবুজের মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।

  • ‘বনলতা সেন’ আসছে ঈদে, প্রকাশ হলো পোস্টার

    ‘না এ কোন যন্তরমন্তর ঘর নয়। যে ঘরের চাবি আছে, তবুও তালা খোলার কোন পথ নেই! কে থাকে সেই ঘরে?’ ‘বনলতা সেন’ আসছে এই ঈদে, আপনারই নিকটস্থ প্রেক্ষাগৃহে—এভাবেই পোস্টার প্রকাশ ও ছবি মুক্তির খবরটি একযোগে জানিয়েছেন ছবিটির পরিচালক থেকে অভিনয়শিল্পীরা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মুক্তিপ্রতীক্ষিত ‘বনলতা সেন’ ছবির পোস্টার প্রকাশ করা হয়। এটি পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র।

    নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে হাত পাকানো উজ্জ্বলের প্রথম চলচ্চিত্র ‘উনপঞ্চাশ বাতাস’। ছবিটি ২০২০ সালের শেষ দিকে মুক্তি পায়। ‘বনলতা সেন’ প্রসঙ্গে পরিচালক বললেন, ‘শুটিংয়ে যা প্রয়োজন, তা-ই করেছি। গল্পে কোনো আপস করিনি। তাই শুটিং শেষ করতে আট মাসের মতো সময় লেগেছে।’

    ‘বনলতা সেন’ ছবির পোস্টার
    ‘বনলতা সেন’ ছবির পোস্টার

    ‘বনলতা সেন’ ছবির অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। তবে শুরুতে তাঁকে অন্য একটি চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। উপস্থাপিকা নাবিলার এটি চতুর্থ চলচ্চিত্র। শাকিব খানের বিপরীতে ‘তুফান’ ছবিতে অভিনয় করেছেন সর্বশেষ।

    নাবিলা বললেন, ‘শুরুতে আমাকে শুধুই চরিত্রের সারসংক্ষেপ দেওয়া হয়। বলেছিলাম, পুরো স্ক্রিপ্ট দেওয়া যায় কি না। তাহলে বুঝতাম, আমার চরিত্রের উপস্থাপনটা কী রকম বা কী। পুরো চিত্রনাট্য পড়ে তো আমি মুগ্ধ। পুরো গল্পটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। যা-ই হোক, আমাকে যে চরিত্রের কথা বলেছে, ওই ধরনের চরিত্র চাইছিলাম না। ওনাকে সুন্দর করে বললাম, এই চরিত্রটা আমি এখন করতে চাইছি না। তবে আপনি যদি আমাকে বনলতা সেন বলতেন, তাহলে এককথায় রাজি হয়ে যেতাম (হাসি)। অনেক দিন পর তিনি আমাকে ডাকলেন। অডিশন নিলেন তিনবার। শুটিং হলো। এখন মুক্তি পাচ্ছে। অভিনয়শিল্পী হিসেবে আনন্দের সংবাদ।’

    মাসুমা রহমান নাবিলা
    মাসুমা রহমান নাবিলা
     

    শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা দারুণ জানিয়ে নাবিলা বলেন, ‘উজ্জ্বল ভাই তো অনেক বড় ক্যানভাসে কাজ করেন। তাঁর সিনেমা হচ্ছে কবিতার মতো। এত সুন্দর করে বানিয়েছেন, দেখার পর মানুষ বুঝতে পারবে।’

    ২০২১-২২ সালের সরকারি অনুদানের এই ছবি গত ১২ এপ্রিল সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে মুক্তির অনুমতিপত্র পেয়েছে। জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবিটি বানিয়েছেন পরিচালক।

    মাসুদ হাসান উজ্জ্বল
    মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, ছবি : সংগৃহীত
     

    উজ্জ্বল বলেন, ‘দুই বাংলার কবি হিসেবে জীবনানন্দ দাশ সমাদৃত। আমার মতে, উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ, এডগার অ্যালান পো কিংবা টি এস এলিয়টের থেকে জীবনানন্দ দাশ কোনো অংশে কম নন। এত দিনে গোটা বিশ্বের তাঁকে জানা উচিত ছিল। আমি এই জীবনে প্রথম এমন বিস্ময়কর এক কবিকে ‘বনলতা সেন’ ছবির মাধ্যমে ট্রিবিউট করার সুযোগ পেয়েছি।’

    নাবিলা ছাড়া ‘বনলতা সেন’ ছবির প্রধান চরিত্রের অন্য অভিনয়শিল্পীরা হলেন খায়রুল বাসার, সোহেল মণ্ডল, প্রিয়ন্তি ঊর্বী, রূপন্তি আকিদ, ময়মুনা মম, শরিফ সিরাজ প্রমুখ।

  • ‘বলেছে ১ কোটি টাকা দিলে কেস থেকে নাম উঠিয়ে দেবে’

    না থেকেও প্রতিমুহূর্তে তিনি আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে। কবে তিনি দেশে ফিরবেন, আবার কি খেলবেন বাংলাদেশের হয়ে? বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর খেলা মানেই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের সেই টুর্নামেন্টের খোঁজখবর রাখতে শুরু করা। তবু দেশের ক্রিকেটে ব্রাত্য হয়ে আছেন সাকিব আল হাসান। কেমন কাটছে তাঁর এই সময়টা, সত্যিই কি ভাবেন আবার দেশের হয়ে খেলবেন, তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোরই-বা কী অবস্থা? যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুঠোফোনে তারেক মাহমুদকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সব বিষয়েই খোলামেলা কথা বলেছেন সাকিব—

  • ‘বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়ার পূজার রেকর্ড নাই’

    ঢালিউডে প্রেম ও গুঞ্জন নতুন নয়, কিন্তু পূজা চেরীকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যে মন্তব্য সব নজর কেড়েছে, তা দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে হাস্য ও আলোচনার এক মিশ্রণ তৈরি করেছে। গত বুধবার ‘দম’ ছবিটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে আফরান নিশো মজার ছলে বলেন, ‘বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়ার পূজার রেকর্ড নাই।’ এ মন্তব্য শুধু উপস্থিত সাংবাদিকদেরই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও চমকে দিয়েছে।

    প্রদর্শনীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, পূজা চেরী থেকে ‘দম’ সিনেমার নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল
    প্রদর্শনীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, পূজা চেরী থেকে ‘দম’ সিনেমার নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, ছবি: চরকি
     

    রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ ছবিতে পূজা চেরী অভিনয় করেছেন আফরান নিশোর বিপরীতে। ছবির গল্পে শাহজাহান ইসলাম নূরের চরিত্রে একজন সাধারণ মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম ফুটে উঠেছে। এই সিনেমার শুটিংয়ের কাজ বাংলাদেশের পাশাপাশি কাজাখস্তানের হাড়কাঁপানো শীতে হয়েছে। মুক্তির পর থেকে ছবিটি দর্শক ও সমালোচকের মধ্যে সমান আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন ঢালিউডের বিভিন্ন তারকা ও কলাকুশলী। প্রদর্শনীর পর সংবাদ সম্মেলনে আফরান নিশো তাঁর মজার মন্তব্য করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। এ মন্তব্যের পর পূজা চেরী অকপটভাবে বলেন, ‘জোকস অ্যাপার্ট এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমি এনগেজড। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’ তাঁদের এই খুনসুটি ও স্বীকারোক্তি দর্শক ও অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

    আফরান নিশো ও পূজা চেরী
    আফরান নিশো ও পূজা চেরী, ছবি : সংগৃহীত
     

    ঢালিউডে শোনা যায়, পূজা চেরীর নাম নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এই তারকা কখনোই তা স্বীকার করেননি। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তিনি প্রেমের সম্পর্কে আছেন, তবে সেটি বিনোদন অঙ্গনের কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়।

    পূজা চেরী, আফরান নিশো ও রেদওয়ান রনি
    পূজা চেরী, আফরান নিশো ও রেদওয়ান রনি, ছবি : চরকির সৌজন্যে
     

    সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই মন্তব্যকে ছবির প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখছেন, কেউবা পূজা চেরীর এনগেজমেন্ট সংবাদকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণের খোঁজ করছেন। তবে সবাই একমত, আফরান নিশো ও পূজা চেরীর এই স্বাভাবিক খুনসুটি তাঁদের জনপ্রিয়তা ও দর্শকের কাছে সখ্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    ‘দম’ সিনেমার গল্প, অভিনয় ও দর্শক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে এই ধরনের পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবনকে মজার ছলে মিলিয়ে দেওয়া বক্তব্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের মুক্তি–পরবর্তী তৃতীয় সপ্তাহে এসে ছবিটি এখনো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এবং পূজা–নিশোর এই খুনসুটি আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • ‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য চোখের জল ফেলেছেন...’, বিয়ের ছবি দিয়ে দীপ্তি চৌধুরীর বার্তা

    বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীকে নিয়ে আবেগঘন একটি বার্তা শেয়ার করেছেন আলোচিত উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী । বিয়ের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছেন, তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব!’ তাঁর এ পোস্ট ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

    চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’, ‘স্ট্রেইট কাট’সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিতি পাওয়া দীপ্তি চৌধুরীর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা আজ শুক্রবার সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার বাংলামোটরের একটি রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে দীপ্তি চৌধুরীর আক্দ অনুষ্ঠিত হয়। পারিবারিক আয়োজনে সম্পন্ন হওয়া এ অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।

    দীপ্তি চৌধুরীর স্বামীর নাম মুশতাক ইবনে আইয়ুব। পেশায় তিনি শিক্ষক ও গবেষক। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন তিনি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন একাডেমিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত।

    বরের সঙ্গে দীপ্তি চৌধুরী
    বরের সঙ্গে দীপ্তি চৌধুরীফেসবুক থেকে

    বিয়ের খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে দীপ্তি চৌধুরীর পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘আজ আক্দ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বড় আয়োজনে বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হবে। সবার কাছে দীপ্তির নতুন জীবনের জন্য দোয়া চাই।’
    এরপর সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিয়ের আরও কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন দীপ্তি। ছবিগুলোতে নবদম্পতিকে হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত মুহূর্তে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে স্বামীকে ‘মাস্টার সাহেব’ সম্বোধন করে লেখা তাঁর আবেগঘন বার্তাটি দ্রুতই নজর কাড়ে নেটিজেনদের।

    কনের সাজে দীপ্তি চৌধুরী
    কনের সাজে দীপ্তি চৌধুরীফেসবুক থেকে

    পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বন্যা বইছে। সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
    বিয়ের খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীপ্তি চৌধুরীকে ঘিরে আলোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়ে পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। নতুন এ অধ্যায়ে পা রাখা দীপ্তি ও মুশতাক ইবনে আইয়ুবের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তাঁদের ভক্ত-অনুরাগীরাও।

    পারিবারিক আয়োজনে সম্পন্ন হওয়া এ অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন
    পারিবারিক আয়োজনে সম্পন্ন হওয়া এ অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেনফেসবুক থেকে

    প্রসঙ্গত, দীপ্তির ব্যবহৃত বাক্যটি মূলত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় উপন্যাসের সংলাপের অনুকরণে লেখা। মূল লেখায় হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন, ‘ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ! তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।’ সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে বহুল পরিচিত এ সংলাপকে নিজের বাস্তব জীবনের আবেগের সঙ্গে মিলিয়ে ‘ডাক্তার সাহেব’-এর জায়গায় ‘মাস্টার সাহেব’ ব্যবহার করেছেন দীপ্তি। ফলে তাঁর বিয়ের ছবির সঙ্গে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বার্তাটি শুধু ভালোবাসার প্রকাশই নয়, হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যজগতের প্রতি একধরনের নস্টালজিক ইঙ্গিত বললে বাড়াবাড়ি হবে না।

    ছবিগুলোতে নবদম্পতিকে হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত মুহূর্তে দেখা যায়
    ছবিগুলোতে নবদম্পতিকে হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত মুহূর্তে দেখা যায়ফেসবুক থেকে
  • ‘শাকিবের পরী’, নায়িকার নতুন ছবি দেখে লিখলেন ভক্ত

    ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ দিয়ে বাংলাদেশের সিনেমায় অভিষেক হয়েছে কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব এই অভিনেত্রী। ছবিতে ছবিতে জেনে নেওয়া যাক তাঁর সম্পর্কে কিছু তথ্য—

    গোলাপি শাড়িতে একগুচ্ছ নতুন ছবি পোস্ট করেছেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    গোলাপি শাড়িতে একগুচ্ছ নতুন ছবি পোস্ট করেছেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     
    ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন ভক্তরা। একজন লিখেছেন, ‘শাকিবের পরী।’ অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন ভক্তরা। একজন লিখেছেন, ‘শাকিবের পরী।’ অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ‘প্রিন্স’ ছবিতে শাকিবের দুই নায়িকার একজন ছিলেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। ছবির একটি গান ছিল ‘পরী’। মন্তব্যে সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন ভক্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ‘প্রিন্স’ ছবিতে শাকিবের দুই নায়িকার একজন ছিলেন জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। ছবির একটি গান ছিল ‘পরী’। মন্তব্যে সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন ভক্ত। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     
    ২০২৪ সালে ‘বঁধুয়া’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশনে প্রথম অভিনয় করেন জ্যোতির্ময়ী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ২০২৪ সালে ‘বঁধুয়া’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশনে প্রথম অভিনয় করেন জ্যোতির্ময়ী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     
    তারপর ২০২৫ সালে দেবের বিপরীতে ‘প্রজাপতি ২’ সিনেমায় বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    তারপর ২০২৫ সালে দেবের বিপরীতে ‘প্রজাপতি ২’ সিনেমায় বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     
     
    সামনে নতুন বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে দেখা যাবে জ্যোতির্ময়ীকে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সামনে নতুন বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে দেখা যাবে জ্যোতির্ময়ীকে। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • ‘হুট করে এমন দলের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব নয়’

    প্রশ্ন:এই প্রথম এশিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

    ‎তহুরা খাতুন: সত্যি বলতে অনেক ভালো লাগছে। চীন–কোরিয়ার মতো দলগুলো এশিয়ান কাপে অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের বিপক্ষে খেলতে পারাটাও কম কী! এমন টুর্নামেন্টে প্রথমবার আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি, এটা ভেবে আরও ভালো লাগছে। এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতেও পারব। আমাদের মূল লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলা, সবার সঙ্গে লড়াই করা। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলে হারলেও অনেক কিছু শেখা যায়।

    প্রশ্ন:টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আপনার দৃষ্টিতে প্রস্তুতি কেমন হলো?

    ‎তহুরা: মোটামুটি হয়েছে, তবে আরও ভালো হতে পারত। এশিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে সবাই একসঙ্গে থাকতে পারলে ভালো হতো। ঘরোয়া লিগ চলায় সেটা আর হয়নি। পুরো দল যদি আগে থেকে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় অনুশীলন করতে পারত, দলের কম্বিনেশন আরও ভালো হতো।

    এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
    এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
     
    প্রশ্ন:আপনি তাহলে বলছেন, এ সময় লিগ আয়োজন করাটা ঠিক হয়নি?

    ‎তহুরা: লিগের কারণে হয়তো ফিটনেসে ঘাটতি পড়েনি, তবু এ সময়ে লিগ আয়োজন করা একদম ঠিক হয়নি। বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশ-পাতাল তফাত। লিগ হতে হবে এমন একটা সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ব্যস্ততা কম থাকবে। আমাদের উচিত ছিল, এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে পড়ে থাকা। কিন্তু সবাইকে লিগ খেলতে হয়েছে। এত বড় টুর্নামেন্টের আগে লিগ কেন করা হলো, এ বিষয়টা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না।

    প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতিটা কোথায় দেখছেন?

    তহুরা: দেখুন, ভারত অনেকগুলো ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছে। তারা তুরস্কেও ক্যাম্প করেছে। বড় কোনো টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে ভালো দলের বিপক্ষে বেশি বেশি ম্যাচ খেলা উচিত। আমরা যদি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে খেলতাম, হয়তো গোল খেতাম, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা মূল টুর্নামেন্টে অনেক কাজে লাগত।

    প্রশ্ন:চীন–উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর প্রতিপক্ষ নিয়ে কী পরিকল্পনা?

    তহুরা: চীন, কোরিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে, তারা প্রতি ম্যাচেই প্রচুর গোল দেয়। যাঁরা ফুটবল সম্পর্কে জানেন, তাঁরা বুঝবেন, হুট করে এমন দলের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব নয়। আমাদের চেষ্টা থাকবে মাঠে সর্বোচ্চ লড়াই করা। হার–জিত যা–ই হোক, লক্ষ্য থাকবে সম্মানজনক স্কোর করা এবং যতটা কম সম্ভব গোল খাওয়া। দু-একটা গোল পেলে সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি। আসলে তাদের বিপক্ষে তেমন কোনো আশা দেখছি না।

    বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
    বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
    প্রশ্ন:গোল আটকানোর জন্য রুপনা-শিউলিরা কতটা প্রস্তুত?

    তহুরা: গোল আটকানোর কাজটা সহজ হবে না। চীন-কোরিয়ার সঙ্গে আমরা আগে কখনো খেলিনি। তারপরও রুপনা আমাদের সেরা গোলকিপার। অবশ্যই সে সেরা চেষ্টাটাই করবে। ডিফেন্ডাররাও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    প্রশ্ন:‘অচেনা’ চীন-কোরিয়া সম্পর্কে কীভাবে ধারণা নিচ্ছেন?

    ‎তহুরা: কোচ চীন-কোরিয়ার শক্তিমত্তা ও দুর্বলতাগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। তারা কোথায় ভালো, কোন দলের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হবে—এসব নিয়ে কোচ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। এভাবে কিছুটা ধারণা পাচ্ছি।

    প্রশ্ন:ভিডিওতে তাদের খেলা দেখেননি? তাহলেও তো কিছু ধারণা পেতেন...

    ‎তহুরা: না, তাদের খেলার ভিডিও দেখার সুযোগ হয়নি, কোচও দেখাননি। হয়তো অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর দেখাবেন।

    প্রশ্ন:এই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোচের কী বার্তা?

    তহুরা: সেটা না-ই বলি। অনুশীলনে সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। কোচ আমাদের যেভাবে খেলার নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেভাবেই মাঠে তা কার্যকর করার চেষ্টা করব। সবাই মিলে একটা দল হিসেবে খেলতে চাই।

    প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতুন
    প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতু
    প্রশ্ন:উজবেকিস্তানকে নিয়ে নিশ্চয়ই ভিন্ন ভাবনা আছে...

    তহুরা: তারাও কিন্তু সবাইকে হারিয়েই এই টুর্নামেন্টে এসেছে। তবে বড় দুই দলের তুলনায় তাদের সঙ্গে লড়াই একটু ভালো হতে পারে। যদি আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু মাঠে দিতে পারি, তাদের বিপক্ষে ভালো কিছুর সম্ভাবনা আছে।

    প্রশ্ন:এই সফরে সুইডেনপ্রবাসী আনিকাও আছেন। তাঁকে নিয়ে কতটা আশাবাদী?

    ‎তহুরা: ভালো, সে আমাদের সঙ্গে অনুশীলন করছে। ধীরে ধীরে সবকিছু মানিয়ে নিচ্ছে। এখন মাঠে কেমন করে, সেটা তো আর আমি বলতে পারব না।

    প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন কোনো বাধা হবে?

    তহুরা: মনে হয় না। আমরা সেখানে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় পাব। আমাদের সঙ্গে একজন অস্ট্রেলিয়ান ফিটনেস কোচ আছেন, যিনি ট্রেনিং ও খাবারদাবার সবকিছু তদারক করছেন। এই সুবিধা আরও আগে থেকে পেলে ভালো হতো।

  • ‘হেরিনকে আরও পরিণত লাগছে’

    সংগীতশিল্পী হেরিনের জন্মদিন ১৫ মে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে নিউজিনসের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যাডর। অ্যাডর লিখেছে, ‘হ্যাপি হেরিন ডে।’ সঙ্গে হেরিনের ছবি জুড়ে দেওয়া হয়।

    সমুদ্রসৈকতে হাতে ফুল নিয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় হেরিনকে। লম্বা চুলে স্নিগ্ধ সাজে দেখা গেছে তাঁকে। ইউরোপীয় ধাঁচের বিভিন্ন লোকেশনে ক্রপটপ ও অফ–শোল্ডার পোশাকে তোলা ছবিগুলো হেরিনকে আরও পরিণত করে তুলেছে।

    পোস্টটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৬ লাখ ৮০ হাজারের বেশি লাইক পায়। ভক্তদের মন্তব্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। কেউ লিখেছেন, ‘তারা কি ফিরছে?’ আবার কেউ বলেছেন, ‘হেরিনকে আরও পরিণত লাগছে।’

    হেরিন
    হেরিন, ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    অনুরাগীদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে তোলা হতে পারে। অ্যাডর জানিয়েছে, সদস্য হেইন, হেরিন ও হানি সংগীত প্রযোজনার কাজে কোপেনহেগেনে গিয়েছিলেন।

    পাঁচ সদস্যের নিউজিনস দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ক্রিয়। এর পেছনে রয়েছে এজেন্সির সঙ্গে দীর্ঘ আইনি বিরোধ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সদস্যরা অ্যাডরকে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেন এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন।

    পরে চুক্তির বৈধতা নিশ্চিত করতে অ্যাডর মামলা করলে প্রথম ধাপের রায় সদস্যদের বিপক্ষে যায়। এতে দীর্ঘ সময়ের জন্য দলীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

    গত বছরের নভেম্বরে অ্যাডর হেইন, হেরিন ও হানির ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে ড্যানিয়েলের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের কথাও জানায়। মিনজির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

  • ‘১৭ বছরে তিন বিয়ে জীবনটাই ধ্বংস করে দিয়েছে’

    তিনটি ব্যর্থ বিয়ে নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বললেন মালয়ালম অভিনেত্রী মীরা বাসুদেবান। ৪৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, জীবনের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ বছর তিনি ‘তিনটি বিয়ের পেছনে নষ্ট’ করেছেন। এই তিন বিয়ে জীবনটাই ধ্বংস করে দিয়েছে। তাঁর কথায়, সেই সময়টুকু যদি নিজের ক্যারিয়ার, পরিবার বা ব্যক্তিগত উন্নয়নে ব্যয় করতেন, তাহলে জীবন অন্য রকম হতে পারত।

    ২০০৩ সালে ‘রুলস: পেয়ার কা সুপারহিট ফরমুল’ মিলিন্দ সুমনের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান মীরা। পরে মালয়ালম সিনেমায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন তিনি। বিশেষ করে ‘থানমাথরা’ ছবিতে মোহনলালের সঙ্গে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

    সম্প্রতি ধন্যা বর্মাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্ষেপের সুরে মীরা বলেন, ‘আমি প্রায়ই আমার ছেলেকে বলি, আমি জীবনের ১৭টি বছর তিনটি বাজে বিয়েতে নষ্ট করেছি। ওই সময়টায় আমি আরও অনেক কিছু অর্জন করতে পারতাম, যদি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করতাম। সিনেমা, ফিটনেস বা নিজের জন্য একটা ভালো সামাজিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলার দিকে মন দিতে পারতাম।’
    মীরা আরও বলেন, ‘আমি জীবনে আরও অনেক কিছু করতে পারতাম, কিন্তু পারিনি। বাবা, মা আর বোনের সঙ্গে অনেক সময় কাটাতে পারতাম। কিন্তু তার বদলে আমি সেই সময় অন্যদের জন্য নষ্ট করেছি। এমন কিছু সম্পর্কের পেছনে সময় দিয়েছি, যেখানে আমাকে কখনোই গুরুত্ব বা সম্মান দেওয়া হয়নি।’

    মালয়ালম অভিনেত্রী মীরা বাসুদেবান। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    মালয়ালম অভিনেত্রী মীরা বাসুদেবান। ইনস্টাগ্রাম থেকে

    এটাই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার নিজের ব্যর্থ দাম্পত্য জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন মীরা। চলতি বছরের শুরুতে মুভি ওয়ার্ল্ড মিডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আগেই মেনে নিয়েছিলাম যে এসব ঘটনা ঘটবে। আমি ভুল করেছি, আর সেটা লুকানোর কিছু নেই। এখন আমাকে নিজের জীবন নিয়ে সামনে এগোতে হবে। বর্তমানে আমি ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ব্যস্ত এবং জীবনে খুব সুখী। এখন আমি জীবনের খুব সুন্দর একটা পর্যায়ে আছি।’

    মীরার প্রথম বিয়ে হয়েছিল ২০০৫ সালে চিত্রগ্রাহক অশোক কুমারের ছেলে বিশাল আগারওয়ালের সঙ্গে। তবে সেই সম্পর্ক টেকেনি, ২০১০ সালের জুলাইয়ে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০১২ সালে মালয়ালম অভিনেতা জন কোক্কেনকে বিয়ে করেন তিনি। এই দম্পতির একটি ছেলেসন্তানও রয়েছে। কিন্তু ২০১৬ সালে তাঁদের সম্পর্কেরও ইতি ঘটে।

    এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে চিত্রগ্রাহক ভিপিন পুথিয়ানকমের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মীরা। কিন্তু সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২৫ সালের আগস্টে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

    অভিনয়জীবনে মীরা কাজ করেছেন একাধিক আলোচিত ছবিতে। এর মধ্যে রয়েছে ‘উরুভান’, ‘একানথাম’, ‘কুট্টামামা’, ‘থাক্কল’ ইত্যাদি।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব