• সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ গ্রুপ সেরা হয়েই সেমিতে নেপাল

    মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম যেন নেপালের সমর্থকদের উল্লাসে জেগে উঠেছিল! গ্যালারি মাতানো গোয়ায় বসবাসকারী একঝাঁক নেপালি সমর্থক ভুভুজেলা বাজিয়ে ম্যাচজুড়ে সুরের ঝড় তুললেন, আর সেই চাঙা শক্তিতে মাঠ মাতাল তাদের মেয়েরা।

    নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া লিগে সর্বশেষ খেলা নিজেদের সেরা তারকা সাবিত্রা ভান্ডারি এই টুর্নামেন্টে আসেননি চোটের কারণে। তাঁকে ছাড়াই প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল তারা।

    আজ দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে নেপাল। ফলে টানা দুই জয়ে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েই অষ্টম নারী সাফের সেমিফাইনালে পা রাখল হিমালয়ের দেশটি।

    অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে নেপালের কাছে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভুটান। শ্রীলঙ্কাকে ৪-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে এক জয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে তারা। আর টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল শ্রীলঙ্কা।

    এদিকে টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে আজই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে সেরা কারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে আজ রাত আটটায় মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও ভারত। সমীকরণের হিসাবে, ম্যাচটি ড্র হলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ভারত হবে গ্রুপ সেরা, আর রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছাড়বে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশ রানার্সআপ হলে সেমিফাইনালেই মুখোমুখি হতে হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল নেপালের। সাফের গত ৭ আসরের মধ্যে ৬ বারই ফাইনাল খেলা নেপাল এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার।

    অবশ্য সাফের গত দুই আসরে এই নেপালকে তাদেরই ঘরের মাঠে স্তব্ধ করে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্মৃতি আছে বাংলাদেশের!

  • সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ–ভারত: পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল পেল ভারত

    এবার মালাভিকার গোল

    মালাবিকা গোল করে ভারতকে ৩–০ তে এগিয়ে দিলেন।

    ডান প্রান্ত থেকে একটি চমৎকার পাস দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁতভাবে জালের ভেতরে পাঠিয়েছেন মালাভিকা।

    আবার ভারতের গোল

    পেনাল্টি থেকে ভারতকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেন লিন্ডা। ২১ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের এটি ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক গোল।

    ডি বক্সে সুরমা জান্নাত মালবিকাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ভারত।

    মিলির দারুণ সেভ

    বদলি হিসেবে নেমেছেন লিন্ডা। মাঠে নেমেই ২১ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় একটি থ্রু বল পেয়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন, কিন্তু মিলি দারুণভাবে বলটি সেভ করেছেন।

    আবার সুযোগ নষ্ট

    ৫৭ মিনিটে ঋতুপর্ণা পিয়ারিকে কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে একটি ক্রস বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়ই এর সুবিধা নিতে পারেননি।

  • সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ভুল শুধরে নেপাল ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা

    ভারতের কাছে ৩-০ গোলের হারে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়েরা। গত দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে ৩-০ ও ৩-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। গতকালের হারটি তাই সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য বড় ধাক্কা। ভারতকে হারাতে না পারায় গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে ৩ জুন সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।

    গোয়ায় আজ অনুশীলন ছিল না ফুটবলারদের। তবে ছিল রিকভারি সেশন, যা সাধারণত সব ম্যাচের পরদিনই হয়ে থাকে। দলের কেউ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেননি। তবে বাফুফের মিডিয়া বিভাগ থেকে সাংবাদিকদের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাঠানো হয়েছে। তাতে দলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন গোলকিপার কোচ মাসুদ আহমেদ।

    গতকালের ভুলত্রুটি অকপটে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘গতকালের ম্যাচটা আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগতভাবে যে পরিকল্পনা দিয়েছিলাম, অনেকে ভালো করেছে, আবার অনেকে সফলভাবে করতে পারেনি। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে সব বিভাগ একসঙ্গে পরফর্ম করতে না পারলে আসলে এর শাস্তি আপনাকে পেতেই হবে, যেটা আমরা পেয়েছি।’

    তবে এই বিপর্যয় কাটিয়ে ৩ জুনের সেমিফাইনাল নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করেছে দল। নেপাল ম্যাচকে সামনে রেখে দলের বর্তমান প্রস্তুতি ও ফুটবলারদের মানসিক অবস্থা নিয়ে মাসুদ আহমেদের কথা, ‘আমরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছি। সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, ওটা নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, নেপাল ম্যাচে মেয়েরা ঘুরে দাঁড়াবে।’

    ভারতের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি বাংলাদেশ
    ভারতের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি বাংলাদেশ, বাফুফে

    মানসিক জড়তা কাটিয়ে মেয়েদের চেনা ছন্দে ফেরানোটাই এখন টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান লক্ষ্য। এ বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা বড় ভুলগুলো দেখানোর চেষ্টা করব মেয়েদের। সেসব থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায়, এ নিয়েও আলোচনা হবে। আমরা প্রতিটি খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে চাঙা করার চেষ্টা করছি, যাতে তারা তাদের স্বাভাবিক খেলাটাতে ফিরে আসতে পারে।’

    গত ম্যাচে গোলকিপার মিলি আক্তার মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন, যা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে চোটের বিষয়টি গুরুতর নয় বলে আশ্বস্ত করেছেন গোলকিপার কোচ, ‘আশা করি, মিলি পরের ম্যাচ খেলার জন্য তৈরি হয়ে যাবে।’
    সব মিলিয়ে গোয়ার ক্যাম্পে এখন ভারত ম্যাচের বিপর্যয় সামলে এবং ভুল শুধরে সেমিফাইনালে নেপাল–বাধা পেরোনোর ছক কষতেই ব্যস্ত বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।

  • সাফ নারী ফুটবল ‘ঋতু আমার কাছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা উইঙ্গার’—বাটলারের প্রশংসা

    বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের সবচেয়ে বড় তারকা এখন ঋতুপর্ণা চাকমা। বাংলাদেশকে গত সাফ জেতাতে রেখেছেন বড় ভূমিকা। ফাইনালে তাঁর জয়সূচক গোল স্তব্ধ করে দেয় নেপালিদের। এরপর গত বছর জুলাইয়ে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে স্বাগতিক মিয়ানমারের বিপক্ষে তাঁর বাঁ পায়ের জোড়া গোলে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। প্রথমবার বাংলাদেশ ওঠে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে।

    সেই ঋতুপর্ণা এবার গোয়ায় চলমান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক মিশনে প্রথম ম্যাচে ঠিক আগের মতো আলো কাড়তে পারেননি। তবে মাঠে তাঁর চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। মালদ্বীপ ম্যাচে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ২২-২৩টি ক্রস করেছেন।

    [caption id="attachment_275270" align="alignnone" width="935"] বাংলাদেশের নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা[/caption]

    কিন্তু ক্রসগুলো ঠিকঠাক হচ্ছিল না। কোনোটি হয়তো এক পা ভেতরে ঢুকে করতে পারতেন, কোনটি আরেকটু আগেই। সময়ের গরমিল হওয়ায় ক্রস থেকে ভালো ফল আসেনি। যদিও ম্যাচের মাত্র ১১ সেকেন্ডে করা আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী যে গোলটি করেছেন, সেটি তাঁরই পাস থেকেই এসেছে।

    আজ সকালে মারগাঁওয়ের ডন বস্কো কলেজ মাঠে অনুশীলন শেষে কোচ পিটার বাটলার নিজেই টেনে আনেন ঋতুপর্ণার প্রসঙ্গ। বলেন, ‘ঋতুর জন্য ওই দিনটি খারাপ ছিল এবং এমনটা হতেই পারে।’

    এরপর ঋতুকে দেন দরাজ সার্টিফিকেট, ‘ঋতু আমার কাছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা উইঙ্গার। সে তরুণ এবং দারুণ প্রতিভাবান; সে দলের জন্য একপশলা টাটকা বাতাসের মতো, তা ছাড়া মনিকা ফিরে আসায় আমি খুশি।’ কোচ প্রশংসা করেছেন আনিকারও। বলেছেন, ‘আনিকা দলের খেলায় সম্পূর্ণ নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে।’

    বাটলারের উত্তর, ‘আমরা এখন একটি সম্পূর্ণ আলাদা দল এবং অনেক ভালো ফুটবল খেলছি। আমাদের দলে কিছু প্রকৃত ‘ম্যাচ উইনার’ আছে। বিশেষ করে ভারতের আক্রমণ করার মানসিকতা থাকলে আমাদেরও তা আছে। আমরা যেমন প্রয়োজনবোধে রক্ষণভাগ সামলাতে জানি, তেমনি গোল করার সুযোগও তৈরি করতে পারি।’

  • সাফ ফুটবলজয়ী দুই বোন বললেন, ‘এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না’

    খাগড়াছড়ির দরিদ্র পরিবার থেকে ফুটবলে এসেছিলেন দুই যমজ বোন আনাই মগিনি ও আনুচিং মগিনি। সংসারে দুই বেলা খাবার জোগাড় হতো না। কিন্তু অদম্য দুই বোন থেমে থাকেননি। ২০১৬ সালে বয়সভিত্তিক ফুটবলে যোগ দেন তাঁরা। ২০২১ সালে সাফ অনূর্ধ্ব ১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন দুই বোনই। একমাত্র জয়সূচক গোল করেন আনাই মগিনি। অভিমান নিয়ে জাতীয় দল ছেড়েছেন দুই বোনই। আর আনাই মগিনি ফুটবলই ছেড়ে দিয়েছেন পুরোপুরি। ১০ হাজার টাকা বেতনে জেলা পরিষদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি করছেন তিনি। বোন আনুচিং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

    খাগড়াছড়ি

  • সাফজয়ী সুলিভানদের ছাদখোলা বাসে হাতিরঝিলে সংবর্ধনা দেবে বাফুফে

    মালদ্বীপে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রেখে আবারও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই সাফল্য উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বিজয়ীদের বরণ করে নেবে বাফুফে। আজ সন্ধ্যায় চ্যাম্পিয়ন দলকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাতিরঝিলে এনে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

    বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে একটি বিশেষ ছাদখোলা বাসে করে শহরে নিয়ে আসা হবে। দেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম এই অর্জনকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে।

    শোভাযাত্রাটি বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে গিয়ে শেষ হবে।

    বাফুফে জানিয়েছে, আজ রাত ৭টা ৩০ মিনিটে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে চ্যাম্পিয়ন দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সেখানে বাফুফে কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের অভিনন্দন জানাবেন।
    দেশের ফুটবলে সাফল্য উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে শোভাযাত্রা নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাফুফে।

    বাংলাদেশে ছাদখোলা বাসে ফুটবলারদের বরণ করে নেওয়া এখন জনপ্রিয় প্রথায় পরিণত হয়েছে। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমার থেকে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট কেটে ফেরার পর নারী ফুটবল দলকে একইভাবে ভোররাতে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল।

    গত জানুয়ারিতে থাইল্যান্ড থেকে সাফ নারী ফুটসালের শিরোপা জিতে ফেরার পর সাবিনা-কৃষ্ণাদেরও বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে হাতিরঝিলে নিয়ে এসে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • সাফজয়ীদের সংবর্ধনায় কোচ কক্সের ডাক, ‘২০৩৪ বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখুক বাংলাদেশ’

    সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ট্রফি ধরে রাখা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে শোভাযাত্রার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নিয়ে আসা হয় রাজধানীর হাতিরঝিলে। বিমানবন্দর থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে এসে শেষ হয়।

    বিলম্বিত বরণ

    পূর্বঘোষণা অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, চ্যাম্পিয়ন দলটি সেখানে পৌঁছায় রাত পৌনে ১০টায়। খেলোয়াড়েরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে বাফুফে সদস্যরা তাঁদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। চোটের কারণে ক্র্যাচে ভর দিয়ে মঞ্চে আসেন এক খেলোয়াড়, এরপর আসেন সাফের সেরা গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। একে একে সব খেলোয়াড়কে মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয়। ডেকলান সুলিভানের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সবার শেষে মঞ্চে আসেন রোনান সুলিভান। উপস্থাপক ট্রফির কথা জিজ্ঞেস করতেই সেটি এনে মঞ্চের সামনে রাখা হয়। এ সময় ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগান ওঠে।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণা

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক, যিনি বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আমিনুল খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানান। সাফের ফাইনালে গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিনের টাইব্রেকারে একটা শট সেভের কথা বলতে গিয়ে তিনি ফিরে যান ২০০৩ সালে। যখন ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনিও একটি শট আটকান।

    জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ে খেলোয়াড়েরা
    জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ে খেলোয়াড়েরা
     

    অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বিশাল পর্দায় বাংলাদেশের সাফ জয়ের রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো প্রদর্শিত হয়। পরপর দুবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনের পর অধিনায়ক মিঠুকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। স্পনসর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁদের বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই দলই বাংলাদেশকে এশিয়ান কাপে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

    ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়েছে, এই ছেলেরাও ইতিহাস গড়েছে। আমাদের এখন ২০৩৪ সৌদি আরবের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে।

    মার্ক কক্স , কোচ, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবল দল

    কোচের লক্ষ্য ও বিশ্বকাপের স্বপ্ন

    আইরিশ কোচ মার্ক কক্স সালাম দিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমার হৃদয়ে বাংলাদেশ। ছেলেরা চেষ্টা না করলে এই ট্রফি আসত না। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়েছে, এই ছেলেরাও ইতিহাস গড়েছে। আমাদের এখন ২০৩৪ সৌদি আরবের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতে হবে।’ মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি এই ট্রফি সমর্থকদের উৎসর্গ করেন।

    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কথা বলছেন কোচ মার্ক কক্স
    সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কথা বলছেন কোচ মার্ক কক্সশামসুল হক

    আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা

    শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমির প্রধান ও বাফুফের সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদিকে খেলোয়াড়েরা সম্মান জানান। বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে তিনি বলেন, ‘কোচ যেভাবে ২০৩৪ বিশ্বকাপের স্বপ্নের কথা বলেছেন, আমাদের সেভাবেই এগোতে হবে এবং পাইপলাইন তৈরির কাজ করতে হবে।’

    নাসের শাহরিয়ার জাহেদি রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে ২৩ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা এবং দলের অন্য সদস্যদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন, যা আজ রাতেই সবার হাতে পৌঁছানোর কথা। এ ছাড়া সমর্থকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম  খান প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যদিও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল আলাদা কোনো পুরস্কারের ঘোষণা দেননি। এর আগেও হাতিরঝিলে হওয়া মেয়েদের দুটি সংবর্ধনায় কোনো পুরস্কার ঘোষণা করেনি বাফুফে।

    সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা

    যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। ৬ এপ্রিল সরকারের পক্ষ থেকে সাফজয়ী দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দেন।

    জমজ ভাই ডেকলানের সঙ্গে রোনান সুলিভান (বাঁয়ে)
    জমজ ভাই ডেকলানের সঙ্গে রোনান সুলিভান (বাঁয়ে)শামসুল হক

    অনুষ্ঠানের পরিবেশ ও জনসমাগম

    এই সাফল্য উদ্‌যাপনে জনসাধারণের ব্যাপক অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ থাকলেও আমজনতার উপস্থিতি ছিল প্রত্যাশার তুলনায় কম; গ্যালারির তিন ভাগের এক ভাগও পূর্ণ হয়নি। তবে আয়োজন ছিল বেশ জাঁকজমকপূর্ণ। প্রবেশপথে ট্রফি জয়ের বড় বিলবোর্ড ও খেলোয়াড়দের ছবিসংবলিত বোর্ড ছিল। মঞ্চের পেছনে পর্দায় ছেলেদের সাফ জয়ের পাশাপাশি গত জানুয়ারিতে নারী ফুটসাল জয়ের ছবিও দেখানো হয়, যা অনেকের কাছে কিছুটা অসংলগ্ন মনে হয়েছে। মঞ্চের সামনে বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘CHAMPIONS’। অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং ৩৪টি চেয়ারে সজ্জিত আলোকোজ্জ্বল মঞ্চ থেকে ছড়িয়ে পড়া আলোর বিচ্ছুরণ পুরো পরিবেশকে বর্ণিল করে তুলেছিল।

    বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘চেষ্টা, দেশপ্রেম আর ঐক্য থাকলে কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে পরাজিত করতে পারবে না। আমরা এখন বলতে পারি—উই আর দ্য চ্যাম্পিয়ন। তবে এটাই শেষ নয়, কোচ মার্ক কক্সের কথামতো ২০৩৬ (আসলে হবে ২০৩৪) সালে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।’

  • সাফে কেন পারল না বাংলাদেশ, একটি ময়নাতদন্ত

    গোয়া থেকে

  • সাফের আগে নাটকীয় বদল, আফঈদাকে সরিয়ে নতুন অধিনায়ক মারিয়া মান্দা

    আগামীকাল ভারতের গোয়ায় পর্দা উঠছে অষ্টম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে বাংলাদেশ শিবিরে বড় চমক! হ্যাটট্রিক মিশনের নামার আগে অধিনায়কত্বে পরিবর্তন এনেছেন কোচ পিটার বাটলার। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকারকে সরিয়ে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড দেওয়া হয়েছে গত দুটি সাফজয়ী দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সদস্য, মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দাকে।

    ভারতের গোয়ায় আজ টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে মারিয়া মান্দাই কোচের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। অথচ বাংলাদেশ থেকে রওনা হওয়ার সময় সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আফঈদা। গোয়ায় গিয়েই মূলত এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বদলে যায়।

    অধিনায়ক বদলের ব্যাপারে বাফুফে ও দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সাফের প্রস্তুতি হিসেবে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বাংলাদেশ দল দুই সপ্তাহের একটি নিবিড় ক্যাম্প করেছিল। সেখানে দুই তিন দিন কাটার পরই আফঈদাকে নিয়ে বসেন বাটলার। কোচ আফঈদাকে বলেন ‘দেখ, তুমি দলের অংশ। তবে তোমার ওপর চাপ সামলাতে অধিনায়ক বদল করছি।’

    সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের অন্য পাঁচ দলের অধিনায়কের সঙ্গে মারিয়া মান্দা (ডান থেকে দ্বিতীয়)
    সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের অন্য পাঁচ দলের অধিনায়কের সঙ্গে মারিয়া মান্দা (ডান থেকে দ্বিতীয়)সাফ

    থাইল্যান্ডে স্থানীয় দুটি ক্লাবের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেন ঋতুপর্ণারা। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স ও অনুশীলন ঘাটতি বিশ্লেষণ করে কোচের মনে হয়েছে অধিনায়কত্বের বাড়তি চাপে আফঈদা নিজের স্বাভাবিক ও সেরা খেলাটা খেলতে পারছিলেন না।

    নতুন অধিনায়ক হিসেবে ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের নামও বিবেচনায় এসেছিল। তবে সাবিনার সময় থেকেই যেহেতু মারিয়া সহঅধিনায়ক তাই তাঁকে অধিনায়ক করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের ম্যাচ দুটিতেও অধিনায়ক ছিলেন মারিয়া।

    সাবিনা খাতুনের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ টানা দুই বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তবে ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার সাফ জয়ের পর সাবিনাসহ ১৮ জন ফুটবলার কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সেই দ্বন্দ্বের জেরে সাবিনারা দল থেকে বাদ পড়েন। সাবিনা-পরবর্তী যুগে অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের সফল অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারকে সিনিয়র জাতীয় দলের অধিনায়ক করা হয়।

    আফঈদা খন্দকার এখন আর বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নন
    আফঈদা খন্দকার এখন আর বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নন
     

    পরবর্তী সময়ে মারিয়া মান্দা ও ঋতুপর্ণা চাকমারা দলে ফিরে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও বাটলার আফঈদার ওপরই আস্থা রেখেছিলেন। আফঈদার পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ও সিনিয়রিটির ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়া কাপের ম্যাচ পর্যন্ত তাঁকে অধিনায়কের দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছিল। তবে এত দিনের আস্থাভাজন আফঈদার সাফ টুর্নামেন্টের আগমুহূর্তে এসে দায়িত্ব হারালেন।

    আগামীকাল ভুটান–নেপাল এবং ভারত–মালদ্বীপ ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াবে অষ্টম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ঈদের দিন ২৮ মে মালদ্বীপের বিপক্ষে। গ্রুপের শেষ ম্যাচ ৩১ মে স্বাগতিক ভারতের সঙ্গে। ৩ জুন সেমিফাইনাল। ৬ জুন ফাইনাল।

  • সাবিন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: টিকার লড়াইয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি

    ২০২৬ সালের সাবিন অ্যাওয়ার্ডসে তিন বিজ্ঞানীকে সম্মাননা জানানো হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা।

    টিকার মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই বিজ্ঞানীরা। করোনা মহামারি মোকাবিলা থেকে শুরু করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ—সব ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁদের অসামান্য ভূমিকা।

    কোভিড-১৯ মহামারির গতিপথ বদলে দেওয়া ও বিশ্বজুড়ে নতুন ধরনের ওষুধের প্রাপ্যতা বৃদ্ধিতে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য ‘অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন অধ্যাপক উগুর শাহিন ও অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজি।

    জিনতত্ত্বভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচির বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন সেঁজুতি সাহা। এটি লাখো শিশুকে সুরক্ষায় সহায়তা দিচ্ছে।

    বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা পাচ্ছেন ‘২০২৬ রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’। জিনতত্ত্বভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচির বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন তিনি, যা লাখো শিশুকে সুরক্ষায় সহায়তা দিচ্ছে।

    আগামী ১২ মে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই তিন বিজ্ঞানীর কাছে পদক তুলে দেওয়া হবে।

    গত সোমবার সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল ১৯৯৩ সাল থেকে এবং রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২০ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। এবারের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি সরাসরি অনলাইনে সম্প্রচার করা হবে।

    উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজির অবদান

    ব্যবসায়িক ও জীবনসঙ্গী অধ্যাপক উগুর শাহিন এবং অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজিকে তাঁদের যুগান্তকারী কোভিড-১৯ টিকা উদ্ভাবন এবং কয়েক দশকের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার জন্য এই গোল্ড মেডেল দেওয়া হচ্ছে।

    কোভিড মহামারির শুরুতে এই দুই বিজ্ঞানী এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করেন, যা মূলত ক্যানসার চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। রেকর্ড সময়ে তাঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বদলে ফেলেন এবং একটি কার্যকর কোভিড-১৯ টিকা তৈরি করেন। এটি কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়তা করেছে।

    বর্তমানে এই দুই বিজ্ঞানী ওই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে যক্ষ্মা, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের বিরুদ্ধে আরও নতুন টিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের এই নিষ্ঠা শুধু গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ নয়। আফ্রিকায় একটি টেকসই ও শক্তিশালী টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।

    এক যৌথ বিবৃতিতে উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজি বলেন, ‘২০২৬ সালের সাবিন গোল্ড মেডেল পেয়ে আমরা গভীরভাবে সম্মানিত। বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট সাবিনের বিশ্বাস—‘‘বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার তখনই সার্থক হয়, যখন তা মানুষের কাজে আসে’’, আমাদের দীর্ঘদিনের অনুপ্রেরণা। আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আধুনিক ওষুধ তাঁদের কাছে পৌঁছানো উচিত, যাঁদের এটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

    বিবৃতিতে দুই বিজ্ঞানী আরও বলেন, ‘এ পুরস্কার একটি যৌথ প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। সারা বিশ্বে আমাদের দল ও অংশীদারদের নিষ্ঠাকে সম্মান জানাচ্ছে এটি। তারা আমাদের সঙ্গে এ পথচলায় আছে এবং স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অঙ্গীকার ভাগাভাগি করে নিচ্ছে।’

    সাবিনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যামি ফিনান বলেন, ‘অধ্যাপক শাহিন ও ত্যুরেজি মিলে টিকার ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছেন। তাঁরা দেখিয়েছেন, কীভাবে গবেষণাগারের নতুন আবিষ্কারকে সাহসের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়। জীবন রক্ষাকারী টিকা দ্রুত তৈরি করা ও তা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁদের যে লড়াই, সাবিন গোল্ড মেডেল তাঁদেরই সম্মান জানাচ্ছে।’

    সেঁজুতি সাহার সাফল্য

    বাংলাদেশি অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা
    বাংলাদেশি অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা

    এ বছর ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া সেঁজুতি সাহা জাতীয় পর্যায়ের বড় টিকাদান উদ্যোগগুলোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণ তৈরি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ২০২৫ সালের টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) কর্মসূচি। এটি ইতিমধ্যে ৪ কোটির বেশি শিশুর কাছে পৌঁছেছে।

    চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) উপনির্বাহী পরিচালক হিসেবে সেঁজুতি সাহা দেশে একটি উন্নত জিনোম গবেষণাগার গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। এ গবেষণাগারে হাজার হাজার রোগ-জীবাণুর জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে, যা দ্রুত রোগ শনাক্ত করতে এবং ক্লেবসিয়েলা ও আরএসভির মতো রোগের টিকা তৈরিতে সাহায্য করছে।

    সেঁজুতি সাহার কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দেশে বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা ও নতুন প্রজন্মের গবেষকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া।

    পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে সেঁজুতি সাহা বলেন, ‘এ পুরস্কার আমার কাছে অত্যন্ত অর্থবহ। এটি বাংলাদেশে একটি অসাধারণ কমিউনিটির বহু বছরের পরিশ্রমের প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে, মানুষ যখন একসঙ্গে সমস্যা সমাধানের প্রতিজ্ঞা করে, তখন যেকোনো জায়গাতেই উন্নত মানের বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব হয়।’

    সাবিনের অ্যামি ফিনান বলেন, সেঁজুতি সাহা নতুন প্রজন্মের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি বোঝেন যে তাঁর কাজ শুধু গবেষণাগার বা গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তিনি শক্তিশালী টিকানীতি তৈরিতে কাজ করছেন।

  • সাবেক অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেনস্ কার্ড’ তুলে দিলেন তামিম, কী আছে তাতে

    ছবির ফ্রেমটা বাঁধাই করে রাখার মতোই। একসঙ্গে জাতীয় দলের এত অধিনায়ক কি এর আগে দেখা গেছে কোথাও? উত্তরটা খুঁজে পাওয়া কঠিনই হবে বোধ হয়। আজ এমনই একটা উপলক্ষ এসেছিল বিসিবির এক আয়োজনের কারণে।

    সোনারগাঁ হোটেলে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেনস্ কার্ড’ তুলে দিয়েছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। আজীবন মেয়াদের এই কার্ড দিয়ে এখন বিসিবির যেকোনো ধরনের ইভেন্টেই ঢুকতে পারবেন তারা। সাবেক অধিনায়কদের জন্য স্বাস্থ্য বিমারও ব্যবস্থা করবে বিসিবি।

    এই কার্ডের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করে তামিম বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত এখানে যাঁরা যাঁরা আছেন অধিনায়ক, সবার মধ্যেই একটা ইনসিকিউরিটি কাজ করত যে যদি আমি মাঠে যাই, যদি আমাকে না চেনে, যদি আমাকে থামায়, ইজ্জত–সম্মান থাকবে কি না। এটা আমারও হয়েছে কোনো না কোনো সময়।’

    এই দ্বিধাটুকু কাটাতেই এবার অধিনায়কদের জন্য ক্যাপ্টেনস কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তামিম। তিনি নিজেও সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কার্ড নিয়েছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরার হাত থেকে।

    এই কার্ড দিয়ে এখন থেকে জাতীয় দলের বর্তমান ক্রিকেটারদের মতোই বিসিবির মেডিকেল বিভাগের চিকিৎসা পাবেন সাবেক অধিনায়করা। প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার জন্যও সাহায্য করবে বিসিবি।

    আকরাম খানের ক্যাপ্টেনস কার্ড
    আকরাম খানের ক্যাপ্টেনস কার্ড
     

    ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের অধিনায়ক শামীম কবির মারা গেছেন। এর বাইরে এখন পর্যন্ত পুরুষ দলে তিন সংস্করণ মিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ২৬ জন। নারী ক্রিকেটে সবমিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ৬ জন, তাদের মধ্যে শুধু রুমানা আহমেদই উপস্থিত ছিলেন আজ।বাংলাদেশ নারী দলে তিনি ছাড়াও অধিনায়ক ছিলেন তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা ও ফাহিমা খাতুন।

    পুরুষ ক্রিকেটারদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান, সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা ছিলেন না আজকের অনুষ্ঠানে। গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি হয়েছে। আগের বোর্ডে থাকা তিন অধিনায়ক আমিনুল, ফারুক আহমেদ ও খালেদ মাসুদও আসেননি আজ।

    ছেলেদের দলের বাকি ২০ অধিনায়ক রকিবুল হাসান, শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন, মিনহাজুল আবেদীন, আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ, হাবিবুল বাশার, রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, লিটন দাস, নুরুল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, নাজমুল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলী ক্যাপ্টেনস কার্ড নিয়েছেন।

    তিন অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা, রকিবুল হক ও হাবিবুল বাশার
    তিন অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা, রকিবুল হক ও হাবিবুল বাশার
     

    তবে সাবেক অধিনায়কদের সবাইকেই এই অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তামিম। সবাইকে অবশ্য নয়, সাবেক সভাপতি আমিনুলকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েও পারেননি, ‘আমি বুলবুল ভাইকে কল করেছি, ওনাকে মেসেজ পাঠিয়েছি, তারপর বুঝতে পারলাম আমিও ব্লকড্।’

    তবে যাঁরা এখনও কার্ড নেননি, তাঁরা চাইলে যেকোনো সময় এসেই তা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তামিম, ‘যখনই আপনারা পারেন, যখনই আপনারা দেশে আসবেন, প্লিজ কার্ডটা গ্রহণ করবেন। এটা সবসময় আপনাদের জন্য বিসিবিতে থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আপনাদের অবদান অনেক। আমি রাজনীতি বা বিসিবিতে সম্প্রতি যা হয়েছে, তা নিয়ে বলতে চাই না। আমরা সবাই ক্রিকেটার এবং একে–অন্যকে সম্মান করি।’

  • সাভার চামড়াশিল্প নগরীতে ঢুকেছে সোয়া ৫ লাখের বেশি কাঁচা চামড়া

    ঈদের তৃতীয় দিনেও রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে চামড়া আসছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাভারের ট্যানারিগুলোতে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৫টি কাঁচা চামড়া এসেছে।

    বিসিক চামড়াশিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহরাজুল মাঈয়ান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চামড়া আসার প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতে বিসিকের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।

    বিসিকের তথ্য অনুসারে, ঈদের দিন বিকেল থেকে শুরু করে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১ হাজার ৭১৩টি চামড়াবাহী ট্রাক চামড়াশিল্প নগরীতে ঢুকেছে। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা ছাড়াও কিছুটা দূর থেকেও অনেক ট্রাক আসার খবর পাওয়া গেছে।

    শিল্পনগরীতে আসা চামড়ার মধ্যে গরু ও মহিষের চামড়ার সংখ্যা বেশি। বিসিকের হিসাবে, আজ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিল্পনগরীতে গরু ও মহিষের চামড়া এসেছে ৫ লাখ ১১ হাজার ৭০০টি। অন্যদিকে ১৬ হাজার ১৭৫টি ছাগল ও ভেড়ার চামড়া এসেছে।

    গত বৃহস্পতিবার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর থেকেই মৌসুমি ব্যবসায়ী, মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধি, আড়তদার ও ট্যানারিপ্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে থাকে। এসব চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। পরে এগুলো কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াজাত করে চামড়া ও চামড়াজাত বিভিন্ন পণ্য হিসেবে বিক্রি ও রপ্তানি করা হয়।

    কোরবানির গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের চেয়ে এবার ২ টাকা বাড়িয়েছিল সরকার। তবে রাজধানীতে ঈদের দিনে সেই দরে চামড়া বিক্রি হয়নি। গত বছরের চেয়েও প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দাম কমে চামড়া বেচাকেনা হয়। অবশ্য গতকাল কাঁচা চামড়ার দাম ঈদের দিনের চেয়ে ১০০ টাকা বেড়েছিল।

  • সামান্থা ও নাগাকে নিয়ে আপত্তিকর ও অশ্লীল কনটেন্ট! আদালতে নায়ক

    দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নাগা চৈতন্য এবার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব ও অনলাইন কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। সাবেক স্ত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রায় পাঁচ বছর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ নিয়ে নানা জল্পনা–কল্পনা চলছে। এসবের মধ্যে কিছু কনটেন্টে নাগা চৈতন্যকে ‘প্রতারক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে, তিনি সামান্থার ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন। এমন অভিযোগকে ‘অন্যায্য ট্রলিং’ আখ্যা দিয়ে তিনি দিল্লি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন।

    কী অভিযোগ নাগা চৈতন্যের?
    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নাগা চৈতন্য দিল্লি হাইকোর্টে একটি মামলা করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর নাম, ছবি, পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। শুধু বিচ্ছেদ–সংক্রান্ত গুজবই নয়, তাঁর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও, আপত্তিকর ও অশ্লীল কনটেন্টে তাঁর নাম বা চেহারার ব্যবহার, অনুমোদনহীন পণ্য বা মার্চেন্ডাইজ বিক্রি, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিথ্যা গল্প ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়ানো।
    বিশেষ করে সামান্থার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে ‘তিনি প্রতারণা করেছেন’ কিংবা ‘সামান্থার ক্যারিয়ার নষ্ট করেছেন’—এ ধরনের বক্তব্যকে তাঁর আইনজীবীরা ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন।

     ২০১৭ সালে বিয়ে করেন নাগা ও সামান্থা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ২০১৭ সালে বিয়ে করেন নাগা ও সামান্থা। ইনস্টাগ্রাম থেকে

    আদালতে কী বলা হয়েছে
    মামলার শুনানিতে নাগা চৈতন্যের পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, তা কোনোভাবেই ‘ন্যায্য সমালোচনা’ নয়।

    তাঁর ভাষায়, ‘এটি সমালোচনা নয়, এটি ট্রলিং। একজন ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা।’
    আইনজীবী আরও যুক্তি দেন, নাগা চৈতন্য এক দশকের বেশি সময় ধরে তেলেগু চলচ্চিত্রজগতের পরিচিত মুখ। তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তেলেগুভাষী দর্শকদের মধ্যেও রয়েছে। ফলে এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    নাগা চৈতন্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    নাগা চৈতন্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    আদালতের পর্যবেক্ষণ
    মামলাটি শুনেছেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি জ্যোতি সিং। শুনানিতে বিচারপতি বলেন, পরিচিত ব্যক্তিদের সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি সমালোচনা ও জন–আলোচনার মুখোমুখি হতে হয়। তবে সেই স্বাধীনতারও সীমা আছে।
    এই পর্যবেক্ষণের পর আদালত–সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সমন জারি করেন এবং নাগা চৈতন্যের ‘পারসোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বগত অধিকার সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর।

    সামান্থা–নাগা বিচ্ছেদ: কেন এখনো আলোচনায়
    ভারতীয় তারকাজগতের অন্যতম আলোচিত সম্পর্ক ছিল নাগা চৈতন্য ও সামান্থার প্রেম ও বিয়ে।
    ২০১০ সালে ‘ইয়ে মায়া চেসেভ’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কয়েক বছরের প্রেমের পর ২০১৭ সালে ধুমধাম করে বিয়ে করেন তাঁরা। দক্ষিণ ভারতের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন দুজন।
    কিন্তু ২০২১ সালে হঠাৎ করেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তাঁরা। যৌথ বিবৃতিতে দুজনই জানিয়েছিলেন, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
    তবে বিচ্ছেদের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়ায়। কখনো সামান্থাকে দায়ী করা হয়েছে, কখনো নাগা চৈতন্যকে। আবার কিছু ইউটিউব চ্যানেল ও গসিপ পোর্টাল সম্পর্ক ভাঙার কারণ হিসেবে পরকীয়ার অভিযোগও তুলেছে।
    কিন্তু এসব অভিযোগের কোনোটি কখনোই প্রমাণিত হয়নি।

    সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সামান্থা রুথ প্রভু। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    ‘আমাদের সিদ্ধান্ত, অন্য কারও ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই’
    বিচ্ছেদ নিয়ে এর আগেও মুখ খুলেছিলেন নাগা চৈতন্য। এক পডকাস্টে তিনি বলেছিলেন, তিনি ও সামান্থা দুজনেই জীবনে ভিন্নপথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা দুজনই আমাদের নিজস্ব কারণে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখনো আমরা একে অপরকে সম্মান করি। এর বাইরে আর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন আমি দেখি না।’
    এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনা–কল্পনায় নাগা বিরক্ত ছিলেন।

    নতুন জীবনে নাগা ও সামান্থা
    বিচ্ছেদের পর দুজনই নতুন জীবন শুরু করেছেন। নাগা চৈতন্য ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অভিনেত্রী সবিতা ধুলিপালাকে বিয়ে করেন। অন্যদিকে সামান্থাও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরিচালক রাজ নিধিমুরুকে বিয়ে করেন।
    তবে নতুন সম্পর্কে জড়ালেও পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ কমেনি। আর সেই আগ্রহই বহু সময় গুজব, ট্রলিং ও ভুয়া তথ্যের জন্ম দিয়েছে।

    এনডিটিভি অবলম্বনে

  • সারা দেশের ৮টি ক্রিকেট হাবে ১৩৭ উইকেট তৈরি করবে বিসিবি

    ঘোষণাটা আগেই দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। এবার বিস্তারিতভাবে তা জানালেন গ্রাউন্ডস বিভাগের প্রধান খালেদ মাসুদ। আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, সারা দেশে মোট ১১টি ক্রিকেট হাব করছে বিসিবি।

    এর মধ্যে প্রথম ধাপে চালু হওয়া ৮টি হাবে মোট ১৩৭টি উইকেট তৈরি করার পরিকল্পনা আজ তুলে ধরেছেন খালেদ মাসুদ। হাবগুলো হলো খুলনা, বরিশাল, ফতুল্লা, কক্সবাজার, বগুড়া, রাজশাহী বিকেএসপি ও পূর্বাচল।

    উইকেটগুলো স্থানীয় কিউরেটররাই তৈরি করবেন জানিয়ে খালেদ মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিউরেটরদের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করেছি। সবাইকে শেয়ার করেছি (কীভাবে করতে চাই)। আমরা শুধু বিসিবি থেকে তাঁদের সাপোর্ট দেব—হয়তো মাটি দিলাম বা এমন। বাকি কাজটা স্থানীয় কিউরেটররাই করবেন। সব দায়িত্ব তাঁদের কাছে থাকবে।’

    বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী খুলনায় ১৫টি, বরিশালে ২৩টি, কক্সবাজারে ৮টি, বগুড়ায় ১০টি, রাজশাহীতে ১২টি, ফতুল্লায় ১৩টি, বিকেএসপির ৩ ও ৪ নম্বর মাঠে ১৯টি, পূর্বাচলে ১৩টি উইকেট হবে। অনুশীলন, মূল ম্যাচ ও আউটার মাঠে এ উইকেটগুলো আগামী মে–জুন মাসের মধ্যেই তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন খালেদ মাসুদ।

    এ উইকেটগুলো তৈরি হলে খেলার আরও ভালো পরিবেশ, খেলার মান বৃদ্ধি, ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা ও খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি বাড়বে বলে মনে করে বিসিবি। প্রাথমিকভাবে চালু হওয়া হাবগুলোতে রোলার, ঘাস কাটার মেশিন, পিচ কাভার, উইকেটের জন্য মাটি ও কংক্রিটের উইকেট দেবে বিসিবি। এগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় ক্রিকেট একাডেমি, স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ, উপজেলা ও জেলার মাঠগুলোকে বিসিবির পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে দেওয়া হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে খালেদ মাসুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবি পরিচালক আবদুর রাজ্জাক। খালেদ মাসুদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী মৌসুমে জেলাভিত্তিক লিগগুলো আয়োজন সহজ হবে বলে মনে করেন তিনিও। আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘ক্রিকেটীয় দিক থেকে দেখলে এটা একটা বিশাল উদ্যোগ। এটাতে আমরা সফল হতে পারলে প্রথম ধাপটা সফলভাবে সম্পন্ন হবে। যদি আমরা জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারি, পরের মৌসুম থেকে হয়তো (ঢাকার বাইরের) লিগগুলো খুব ভালোভাবে শুরু করা যাবে।’

  • সারাদেশে পরীক্ষা সুন্দর হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

    সারাদেশে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের প্রথম পরীক্ষা সুন্দর হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আন্তজার্তিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রশ্ন আউটের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং হয়নি। এবং এই ধরনের কোনো আলোচনাও নেই। আমি সর্বপ্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো সাংবাদিকদের, আপনারা সবাই সহযোগিতা করেছেন। এই পরীক্ষা সুস্থ স্বাভাবিক হোক। এজন্য আপনারা পূর্ব থেকেই বিভিন্নভাবে যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছি এগুলো আপনারা বারবার টেলিভিশনে নিউজপেপারে প্রচারিত করেছেন বিধায়। সারা জাতি জেনেছে যে পরীক্ষা এবার সুন্দর হবে এবং নকলমুক্ত হবে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না।

    তিনি বলেন, আনন্দ উদ্দীপনা নিয়ে আমাদের এই জেনজিরা পরীক্ষা দিচ্ছে এটি সত্যিই অভাবনীয় এবং তাদের যে আনন্দ উৎফুল্লতা আমি যাওয়ার পরে এতে সত্যিই সমাদৃত হয়েছি। আপনারা আগামী পরীক্ষাগুলোকে এভাবেই সহযোগিতা করবেন। পরের পরীক্ষাগুলো আমি যতটা সম্ভব মনিটরিং করব এবং আমার টিম মনিটরিং করবে এবং আপনারাও করবেন। এর মাঝে যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ আপনার পেয়ে থাকেন তাহলে আমাকে জানাবেন।

    তিনি আরও বলেন, একটি বাচ্চা যদি ট্রাফিকে দেরি হয়ে যায়, কীভাবে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে তার অস্থিরতা কমিয়ে তাকে কীভাবে নিয়ে যাবে এটা প্রত্যেকটা অভিভাবকের এবং টিচারদের এই ধরনের ট্রেনিং রয়েছে। আমার মনে হয় এটা অ্যাড্রেস করবে সবাই। ডিএমপির কমিশনার গতকাল আমাকে বিশেষভাবে রিকোয়েস্ট করেছিলেন যে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো যেন সকাল আটটা থেকে খোলা থাকে। যারা আগে আসতে চায়, দূর দূরান্ত থেকে সেই ব্যবস্থা আমরা রেখেছি। তবুও যারা খানিকটা দেরি হয়েছে তাদের নিয়ে নিশ্চয়ই আমি আশা করব তারা যেন বিভ্রান্ত না হয় ভয় না পায়। তাদেরকে সহযোগিতা করাটাই হচ্ছে আমাদের প্রথম কাজ।

     

  • সিঙ্গাপুরের সঙ্গে হেরে বাছাইপর্ব শেষ বাংলাদেশের

    সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে এএফসি এশিয়া কাপের বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সিঙ্গাপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে লড়াই করেও শেষ রক্ষা হয়নি লাল-সবুজদের।

    ম্যাচের চিত্র:

    খেলার ৩১ মিনিটে সিঙ্গাপুরের হরিশ স্টুয়ার্ট গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন। গোল হজম করার পর বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণভাগ দারুণভাবে নিজেদের গোলবার আগলে রাখলেও, প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ হন হামজা-জামালরা। ফলে ১-০ ব্যবধানে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যদের।

    এবারের বাছাইপর্বে ছয়টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে। বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুটিতে ড্র এবং তিনটিতে হার জুটেছে কপালে। সব মিলিয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের টেবিলের তিন নম্বরে থেকে মিশন শেষ করল বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আগেই মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে সিঙ্গাপুর। এই গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও হংকং ও ভারত মূল পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে।

    অন্যান্য ম্যাচের খবর:

    গ্রুপের অন্য একটি ম্যাচে আজ ভারত ও হংকং মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

    সাফ অঞ্চলের আরেক দল শ্রীলঙ্কা দারুণভাবে তাদের মিশন শেষ করেছে। আজ তারা চায়নিজ তাইপেকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। ৬ ম্যাচ থেকে লঙ্কানদের ঝুলিতে জমা হয়েছে ৩টি জয়।

     

  • সুইডেনপ্রবাসী আনিকাকে নিয়ে এশিয়ান কাপের স্কোয়াড, আছেন আলপিও

    আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় উইমেন্স এশিয়ান কাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে আছেন সুইডেনপ্রবাসী ফরোয়ার্ড আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। ‎‎প্রথম প্রবাসী নারী ফুটবলার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন জাপানে জন্ম নেওয়া মাতসুশিমা সুমাইয়া। এবার আনিকাও এ তালিকায় নাম লেখানোর অপেক্ষায়। সুইডেনের ক্লাব ব্রোমপোজকর্নের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন তিনি। গত মাসে সুইডিশ কাপ দিয়ে ক্লাবটির সিনিয়র দলে অভিষেক। ইউরোপের ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা এবার বাংলাদেশের ফুটবলে কাজে লাগাতে চাইবেন ২০ বছর বয়সী আনিকা।

    আনিকা ছাড়া এশিয়ান কাপের স্কোয়াডে আরও দুই নতুন মুখ আলপি আক্তার ও সৌরভী আফরিন। এই দুজন প্রথমবার জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। দলে ফিরেছেন আইরিন খাতুন ও সৌরভী আকন্দও। ‎১ থেকে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ ভেন্যুতে হবে এশিয়ান কাপের ২১তম আসর। বাংলাদেশের গ্রুপে আছে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন ও ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। আরেক প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান।

    মেয়েদের এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল দল চীন। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৪ বার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন তারা। ৩ মার্চ প্রথম ম্যাচেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে খেলতে হবে পিটার বাটলারের দলকে।

    ২০২৬ সাফ অ–১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় আলপি আক্তার সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলে
    ২০২৬ সাফ অ–১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড় আলপি আক্তার সুযোগ পেয়েছেন জাতীয় দলেবাফুফে

    ৬ মার্চ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ র‍্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দল উত্তর কোরিয়া। ১৯৮৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০ বার এশিয়ান কাপ খেলা দেশটি ২০০১, ২০০৩ ও ২০০৮ সালে শিরোপা জিতেছে। আর পাঁচবার এই টুর্নামেন্টে খেলা উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ দৌড় গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত। ৯ মার্চ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হবেন বাংলাদেশের মেয়েরা।‎

    ১২ দলের টুর্নামেন্টে ৩ গ্রুপে থাকা চারটি করে দল লড়বে নকআউটের জন্য। তিন গ্রুপের সেরা দুটি করে মোট ছয় দল সরাসরি যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হওয়া তিন দলের সেরা দুই দলও পাবে শেষ আটে খেলার সুযোগ।

    কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের সুযোগ থাকবে ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার।

    নারী এশিয়ান কাপের বাংলাদেশ দল

    গোলরক্ষক: রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী। ডিফেন্ডার: আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), কোহাতি কিসকু, নবীরন খাতুন, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা খাতুন, সৌরভী আফরিন। মিডফিল্ডার: স্বপ্না রানী, মুনকি আক্তার, আইরিন খাতুন, শাহেদা আক্তার, উমহেলা মারমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, উন্নতি খাতুন। ফরোয়ার্ড: আলপি আক্তার, সৌরভী আকন্দ, মোসাম্মত সুলতানা, তহুরা খাতুন, মোসাম্মত সাগরিকা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। ‎স্ট্যান্ডবাই: অর্পিতা বিশ্বাস, সিনহা জাহান, শান্তি মার্ডি, তনিমা বিশ্বাস।
  • সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় অভিনেত্রীকে উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু

    ফরাসি-মরোক্কান অভিনেত্রী নাদিয়া ফারেস আর নেই। ১৭ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। জনপ্রিয় পুলিশি থ্রিলার ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রজগতে।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। এর আগে প্যারিসের একটি ব্যক্তিগত ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিংপুলে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে কৃত্রিমভাবে কোমায় রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ১৭ এপ্রিল তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়।

    ‘মার্সেই’ সিরিজে নাদিয়া। আইএমডিবি
    ‘মার্সেই’ সিরিজে নাদিয়া। আইএমডিবি

    নাদিয়ার দুই মেয়ে সিলিয়া ও শানা এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ফ্রান্স এক মহান শিল্পীকে হারাল, আর আমরা হারালাম আমাদের মাকে।’ ব্যক্তিগত এই ক্ষতির কথা তুলে ধরে তাঁরা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকেশে জন্ম নেওয়া নাদিয়া শৈশব কাটান ফ্রান্সের নিস শহরে। পরে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে প্যারিসে পাড়ি জমান। ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও ২০০০ সালে ‘দ্য ক্রিমসন রিভার্স’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।

    পরবর্তী সময়ে হলিউডেও কাজ করেন নাদিয়া। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়ার’-এ ‘এজেন্ট জেড কিনলার’ চরিত্রে এবং একই বছরে ‘স্টর্ম ওয়ার্নিং’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে আরও পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি।

    ২০০৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক প্রযোজক স্টিভ চ্যাসম্যানকে বিয়ে করে কিছু সময়ের জন্য অভিনয় থেকে দূরে সরে যান নাদিয়া। পরে ২০১৬ সালে ‘মার্সেই’ সিরিজের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তনের পর ২০২২ সালে ফ্রান্সে ফিরে আসেন।

    নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে ফিগারো। প্রাথমিকভাবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • সুজয় চৌধুরী চট্টগ্রাম

    শহরে সবে সন্ধ্যা নেমেছে। বাইরে আলো-আঁধারির মিতালি, ভেতরে প্রস্তুত অন্য আলোয় ভেসে যাওয়ার আয়োজন। হঠাৎ মঞ্চের আলোকচ্ছটা বদলে গেল। ভেসে এল সুরের মূর্ছনা। শুরু হলো রং, নকশা আর তারুণ্যের এক বর্ণিল উপস্থাপনা।

    এই উপস্থাপনা দেখা গেল গতকাল সোমবার। চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে বসেছিল ‘আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল-প্রথম আলো ঈদ ফ্যাশন’ আয়োজন। দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে সুর, নৃত্য ও ফ্যাশন মিলে তৈরি করে উৎসবের আবহ। ঈদ সামনে রেখে নতুন পোশাকের ধারা দেখতে সেখানে ভিড় করেন বন্দরনগরের ফ্যাশনপ্রেমীরা।

    চট্টগ্রামে এ আয়োজন নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে শুরুর পর থেকে নিয়মিতভাবেই ঈদকে ঘিরে এই ফ্যাশন আসর বসছে। এবার ছিল ২৫তম আয়োজন। অংশ নেন সাতজন নির্বাচিত ডিজাইনার। তাঁরা হলেন ফারজানা মালিক, সুলতানা নুরজাহান রোজী, সায়মা সুলতানা, এইচ এম ইলিয়াছ, আইভি হাসান, নূজহাত নূয়েরী কৃষ্টি ও নাসরিন সরওয়ার মেঘলা।

    তাঁদের নকশায় ফুটে ওঠে আসন্ন ঈদের আবহ, সময়ের ধারা আর ঐতিহ্যের ছোঁয়া। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সমাজে ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই প্রথম আলো নানা আয়োজন করে থাকে। কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, শিক্ষক সম্মাননাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ তার উদাহরণ। ঈদ ফ্যাশনও সেই ধারার একটি আয়োজন। প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের জন্য চট্টগ্রামের ফ্যাশনপ্রেমীরা অপেক্ষা করেন। এই মঞ্চ থেকেই অনেক ডিজাইনারের পথচলা শুরু হয়েছে। নতুনদের অনুপ্রেরণা জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

    নকশায় বৈচিত্র্য

    অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ ছিল ডিজাইনারদের একক কিউ। নির্বাচিত সাত ডিজাইনার একে একে তাঁদের সংগ্রহ নিয়ে মঞ্চে হাজির হন। শুরুতেই ডিজাইনার ফারজানা মালিকের নকশায় বোনা পোশাক পরে হাজির হন আট মডেল।

    দুটি শাড়ি, চারটি নজরকাড়া সালোয়ার–কামিজ আর দুটি পাঞ্জাবি—একটির পর একটি র‍্যাম্পে উঠতেই আবহ বদলে যায়। পেছনে ভেসে আসে কাজী নজরুল ইসলামের গানের সুর। পোশাকের রং, আলো আর সুরের মেলবন্ধনে মুহূর্তেই মিলনায়তন ডুবে যায় এক উচ্ছ্বসিত আবেশে; দর্শকেরা যেন হাততালি আর মুগ্ধতায় সাড়া দেন প্রতিটি পদচারণে।

    এভাবে প্রতিটি কিউ যেন আলাদা গল্প তুলে ধরে। কারও নকশায় ঐতিহ্যের পুনঃপাঠ, কারও কাজে আধুনিকতার সাহসী ছাপ। বসন্ত, মহান একুশে ফেব্রুয়ারি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; নানা থিম নিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি পোশাক।

    ক্যাটওয়াকে এক মডেল। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে
    ক্যাটওয়াকে এক মডেল। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মেজবান হলে
     

    মডেলরা শাড়ি, সালোয়ার–কামিজ, পাঞ্জাবি, শার্ট, লেহেঙ্গা ও গাউন পরে র‍্যাম্পে হাঁটেন। একই ডিজাইনারের কিউতেই দেখা যায় বৈচিত্র্য। কখনো পরিমিত কারুকাজ, কখনো জমকালো অলংকরণ; কোথাও নরম রঙের ব্যবহার, কোথাও গাঢ় আভা। ফলে পুরো আয়োজনজুড়ে প্রতিটি কিউ হয়ে ওঠে স্বতন্ত্র। আবার সম্মিলিতভাবে তৈরি করে ঈদ ফ্যাশনের সামগ্রিক ছবি।

    ডিজাইনাররা জানান, ঈদের পোশাক নকশায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আরামদায়ক কাপড় ও আবহাওয়ার উপযোগিতায়। রঙের প্যালেটে রাখা হয়েছে উজ্জ্বলতা ও নরম টোনের ভারসাম্য। ঐতিহ্যবাহী মোটিফকে আধুনিক কাট ও মিনিমাল ধারায় উপস্থাপন করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—উৎসবের আনন্দের সঙ্গে পরিধানকারীর স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরা।

    অনুষ্ঠানে অন্যতম আকর্ষণ ছিল আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলালের ফ্যাশন কিউ। জমকালো শাড়ি ও পাঞ্জাবি মাতোয়ারা করে দেয় দর্শকদের।

    মঞ্চে হঠাৎ মেহজাবীন

    অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এবং চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্মাতা রেদওয়ান রনি। দেশের অন্যতম ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’তে এবারে ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মেহজাবীন চৌধুরী ও প্রীতম হাসান অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ক্যাকটাস। পাশাপাশি রেদওয়ান রনির নতুন চলচ্চিত্র দম মুক্তি পাচ্ছে বড় পর্দায়।

    তাঁরা অভিজ্ঞতার কথা, কাজের নেপথ্য গল্প আর দর্শকের সাড়া—এসব নিয়েই কথা বলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে মিলনায়তনে তৈরি হয় বাড়তি উচ্ছ্বাস।

    ফ্যাশন কিউর ফাঁকে গান শোনান তরুণ শিল্পী আরিয়ান চৌধুরী। নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পী প্রমা অবন্তি ও স্বপন বড়ুয়া। সুর ও নৃত্যের এই সংযোজন পুরো আয়োজনে এনে দেয় বৈচিত্র্য।

    অনুষ্ঠানের সহযোগী ছিল বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ ও ফ্যাশন হাউস মেঘরোদ্দুর। সার্বিক সহযোগিতায় ছিল প্রথম আলো চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। রূপচর্চার সহযোগী ছিল পারসোনা।

    সমাপনী পর্বে আদি মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল বাংলাদেশের কর্ণধার শিবলি মাহমুদ সুমন বলেন, প্রতিটি পোশাকেই নকশা, রং বাছাই ও ভাবনায় তারুণ্য ধরা পড়েছে। পাশাপাশি ছিল ঐতিহ্য। এমন আয়োজনে যুক্ত থাকতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।

    বার্জার পেইন্টসের হেড অব ওয়ার্কস কাউসার হাসান বলেন, ‘ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের রং ও বুনন যেন এই সন্ধ্যায় ছুঁয়ে গেল চট্টগ্রামের ফ্যাশনপ্রেমীদের মন। এই আয়োজন শুধু পোশাক প্রদর্শনী নয়, বরং সময় ও রুচির এক জীবন্ত দলিল হয়ে থাকল। বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আমরা আশা করি।’

  • সুলিভানের জোড়া গোলে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

    মালদ্বীপে চলমান সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

    অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক হন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। তার নৈপুণ্যে কোচ মার্ক কক্সের দল সেমিফাইনালের পথে বড় ধাপ এগিয়ে গেল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে আধিপত্য দেখায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ গড়েও গোলের দেখা পায়নি দলটি। ফলে বিরতিতে যেতে হয় গোলশূন্য সমতায়।

    দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। ৫৪তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোনান।

    এরপর ৬৭তম মিনিটে শেখ সংগ্রামের লং পাস থেকে দারুণ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি, যা দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করে।

    ম্যাচে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তান একটি গোল করলেও গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়।

    দ্বিতীয় গোলের পর পুরো ম্যাচেই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

    এই জয়ে ‘বি’ গ্রুপে সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। গ্রুপে তাদের আরেক প্রতিপক্ষ ভারত। আগামী ২৮ মার্চ ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।

    উল্লেখ্য, বয়সভিত্তিক এই আসরে বাংলাদেশ এর আগে ২০২৪ সালে একবার শিরোপা জিতেছে। দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। আর ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান রয়েছে। এবারের টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ এপ্রিল।

     

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব