• রদ্রিগেজ–দিয়াজদের নিয়েই কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ দল

    অসুস্থতা নিয়ে হতাশাজনক এক মৌসুম কাটানোর পরও কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন অভিজ্ঞ হামেস রদ্রিগেজ। সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা চলতি মৌসুমে মিনোসোটা ইউনাইটেডের হয়ে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) প্রথম ১৫ ম্যাচের মধ্যে শুরুর একাদশে খেলেছেন মাত্র ২টিতে। সব মিলিয়ে মাঠে ছিলেন ১৯৪ মিনিট। এরপরও তাঁর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন কোচ নেস্তর লরেনৎজো।

    গত মার্চে ফ্রান্সের কাছে কলম্বিয়ার ৩-১ গোলে হারের ম্যাচে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে রদ্রিগেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মারাত্মক পানিশূন্যতায় ভোগায় তাঁকে তিন দিন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়েছিল।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গণমাধ্যমে তখন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তিনি হয়তো র‍্যাবডোমায়োলাইসিস রোগে ভুগছেন। এটি পেশি ক্ষয়জনিত রোগ, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে। তবে তাঁর ক্লাব জোর দিয়ে সেই দাবি নাকচ করে। ২০১৪ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জেতা রদ্রিগেজ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিনোসোটা ইউনাইটেডে যোগ দেন।

    ৩৪ বছর বয়সী রদ্রিগেজের সঙ্গে কলম্বিয়ার দলে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো লুইস দিয়াজ। জার্মান ক্লাবটির হয়ে ঘরোয়া ডাবল জেতার পথে ৫১ ম্যাচে ২৬ গোল ও ২৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন দিয়াজ। অন্যদের মধ্যে কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছে ক্রিস্টাল প্যালেসের দানিয়েল মুনিওস ও জেফারসন লারমা। আছেন আর্সেনালের সাবেক গোলরক্ষক ডেভিড অসপিনাও।

    লুইস দিয়াজ
    লুইস দিয়াজরয়টার্স

    ২০২২ বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব পেরোতে না পারায় দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছিল কলম্বিয়াকে। তবে এবার কনমেবল অঞ্চলের বাছাইপর্বে সরাসরি তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে দলটি।

    কলম্বিয়া আগামী ১৮ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। ২৪ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো। আর ২৮ জুন গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার প্রতিপক্ষ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। আগামী ১১ জুন শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল শেষ হবে ১৯ জুলাই।

    কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ দল

    গোলরক্ষক: কামিলো ভার্গাস, আলভারো মনতেরো, দাভিদ অসপিনা

    ডিফেন্ডার: দাভিনসন সানচেজ, জন লুকুমি, ইয়েরি মিনা, উইলের দিত্তা, দানিয়েল মুনিওস, সান্তিয়াগো আরিয়াস, ইয়োহান মোহিকা, দেইভার মাচাদো।

    মিডফিল্ডার: রিচার্ড রিওস, জেফারসন লেরমা, কেভিন কাস্তানিও, হুয়ান কামিলো পোর্তিয়া, গুস্তাভো পুয়ের্তা, জন আরিয়াস, হোর্হে কারাসকাল, হুয়ান ফের্নান্দো কুইন্তেরো, হামেস রদ্রিগেজ, হামিন্তন কাম্পাজ।

    আক্রমণভাগ: হুয়ান কামিলো হার্নান্দেস, লুইস দিয়াজ, লুইস সুয়ারেজ, কার্লোস আন্দ্রেস গোমেস, জন কর্দোবা।

  • রমজানে ১০ লাখ পরিবারকে স্বল্পমূল্যে দুধ-ডিম ও মাংস দেবে সরকার

    রমজানে নিম্ন আয়ের ১০ লাখ পরিবারকে সরকার সুলভ মূল্যে প্রোটিনের চাহিদা পূরণের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীতে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার ১০ লাখ পরিবার কম দামে দুধ, ডিম ও মাংস কিনতে পারবেন। এ লক্ষ্যে উত্তরা, আজিমপুর, মিরপুরসহ রাজধানীর ২৫টি স্পটে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। চলবে পুরো রমজান মাস জুড়ে।

    দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, এতে ডিমের ডজন মিলছে ৯৬ টাকায়, ১ কেজি দুধ ৮০ টাকা ও ১ কেজি মাংস ৬৫০ টাকায়। এই উদ্যোগের ফলে বাজারেও জিনিস পত্রের দাম কমে আসবে।

  • রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে চান না সিডনি

    অভিনেত্রী সিডনি সুইনি রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। ‘হোয়াইট লোটাস’ ও ‘দ্য হাউসমেইড’ তারকা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে মত দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই তাঁর নেই—এ নিয়ে যত চাপই থাকুক না কেন।
    কসমোপলিটন সাময়িকীতে প্রচ্ছদ হয়েছেন সিডনি। সেখানেই দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিডনি সুইনি বলেন, ‘আমি শিল্পের মানুষ। আমি রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে এখানে আসিনি। এটা এমন কোনো ক্ষেত্র নয়, যেখানে আমি কখনো নিজেকে কল্পনাও করেছি। আমি যে মানুষটি হয়েছি, তার কারণও এটা নয়।’

    ২৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, তাঁর পুরো মনোযোগ তাঁর কাজের ওপরই। তিনি বলেন,‘আমি অভিনেতা হয়েছি কারণ আমি গল্প বলতে ভালোবাসি।’ নিজের মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরে যোগ করেন, ‘আমি কোনো ধরনের ঘৃণায় বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সবাইকে একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, সম্মান ও বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি করতে হবে।’

    সিডনি স্বীকার করেন, রাজনীতিতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই উল্টো তিনি আরও বেশি সমালোচনার মুখে পড়ছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি সব সময় শিল্প তৈরি করতেই এখানে এসেছি, তাই এটা এমন কোনো আলোচনা নয়, যেখানে আমি সামনে থাকতে চাই। আর মনে হয়, সেই কারণেই মানুষ বিষয়টা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং আমাকে তাদের নিজেদের “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু অন্য কেউ আমার ওপর কিছু আরোপ করছে—সেটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।’

    ‘দ্য হাউসমেইড’ সিনেমার প্রিমিয়ারে সিডনি সুইনি। এএফপি
    ‘দ্য হাউসমেইড’ সিনেমার প্রিমিয়ারে সিডনি সুইনি। এএফপি

    মনে করা হচ্ছে, গত বছরের আমেরিকান ঈগল ব্র্যান্ডের একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর আর কাজের বাইরে কথা বলতে চাচ্ছেন না তিনি। কসমোপলিটনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিডনি আরও বলেন, অন্যের বিশ্বাস বা মতামত তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। ‘মানুষ যখন বলে দেয় আপনি কী বিশ্বাস করেন বা কী ভাবেন—বিশেষ করে যখন সেটা আপনার সঙ্গে মেলে না—তখন সেটা খুবই অস্বস্তিকর। এটা আমার জন্য অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা। কারণ, এটা আমি নই। এর কোনোটাই আমি নই,’ বলেন তিনি।

    এর আগে গত ডিসেম্বরে পিপল সাময়িকীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি যে বিষয়টিকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলেছিলেন, সেই বিতর্ক তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি অনলাইনে থাকি, সব দেখি। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছি। বিষয়টা এমন পর্যায়ে গেছে, যেখানে সবকিছু হজম করা আমার জন্য আর স্বাস্থ্যকর নয়।’

  • রাজনৈতিক ট্যাগ নিয়ে মুখ খুললেন ইয়ামি

    ভারতের বৈশ্বিক উপস্থিতি আজ শুধু কূটনীতি বা অর্থনীতির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়; সিনেমা ও সংস্কৃতিও সমানভাবে সেই পরিচয় নির্মাণ করছে। ফলে চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা এখন কেবল অভিনয় বা বক্স অফিস ঘিরে নয়; বরং ছবির ভাবনা, বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গিকেও কেন্দ্র করে। এ পটভূমিতেই নিউজ১৮ রাইজিং ভারত সামিট ২০২৬-এর মঞ্চে উঠে খোলামেলা কথা বললেন ইয়ামি গৌতম। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্ট্রেংথ উইদিন’। সেখানে তিনি এমন এক প্রশ্নের জবাব দিলেন, যা অনেক অভিনেতাই এড়িয়ে যান।

    আলোচনায় ইয়ামিকে জিজ্ঞেস করা হয়, এমন কি কখনো হয়েছে যে কোনো নির্মাতা বলেছেন, ‘তোমাকে নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি ওই ছবি করার পর আর নিতে চাই না?’ প্রশ্নটি ছিল স্পর্শকাতর। তবে ইয়ামি জবাব দিলেন ভাবনাচিন্তা করে, কোনো রক্ষণাত্মক ভঙ্গি ছাড়াই। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এমন অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি। হয়তো তিন-চার বছর আগে এমন আশঙ্কা বা দ্বিধা কারও মনে থাকতে পারে। কিন্তু এখন তিনি যে ধরনের ছবি করছেন এবং পরিচালকরা তাঁকে যে ধরনের চরিত্রে ভাবছেন, সেখানে এমন মানসিকতা আর দেখছেন না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সময় বদলেছে, বদলেছে শিল্পের দৃষ্টিভঙ্গিও।

    ‘হক’ সিনেমায় ইয়ামি গৌতম। আইএমডিবি
    ‘হক’ সিনেমায় ইয়ামি গৌতম। আইএমডিবি

    ইয়ামি গৌতম এমন কয়েকটি ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যেগুলো রাজনৈতিক পটভূমিতে নির্মিত। এর মধ্যে রয়েছে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ও ‘হক’। এই ছবিগুলো ঘিরে নানা বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে। তবে ইয়ামির মতে, শেষ পর্যন্ত একটি ছবির মান নির্ধারিত হয় তার নির্মাণশৈলী দিয়ে, কেবল রাজনৈতিক অবস্থান দিয়ে নয়।
    ইয়ামি বলেন, অনেকেই তাঁকে বার্তা পাঠিয়ে লিখেছেন, রাজনৈতিক মত যা–ই হোক, ছবিটি যে ভালোভাবে নির্মিত, তা অস্বীকার করা যায় না। বরং এমন ছবি দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে—আমরা যা বিশ্বাস করি, তা কি একমাত্র সত্য? নাকি বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যায়?

    ইয়ামির মতে, সিনেমার শক্তি এখানেই। এটি কোনো এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যম নয়; বরং প্রশ্ন তোলার এবং আলোচনার দুয়ার খুলে দেওয়ার শিল্পমাধ্যম।
    আলোচনায় ইয়ামি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন, সত্য লুকিয়ে রাখা যায় না। কারণ, ক্যামেরা অত্যন্ত স্বচ্ছ। তাঁর ভাষায়, ক্যামেরা শুধু একজন অভিনয়শিল্পীর অভিব্যক্তি নয়, লেখকের মনোভাব ও পরিচালকের অভিপ্রায়ও ধরতে পারে।

    অর্থাৎ অভিনয় কৃত্রিম হলে বা উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হলে তা পর্দায় ধরা পড়বেই। তাই ইয়ামি বিশ্বাস করেন, সততা নিয়েই কাজ করতে হয়। কারণ, দর্শক শেষ পর্যন্ত আন্তরিকতাই অনুভব করেন।

    ভারতের পরিবর্তিত বাস্তবতা নিয়েও কথা বলেন ইয়ামি। তাঁর মতে, এটি এক নতুন ভারত, যেখানে আধুনিক সিনেমাও নতুন ভাষা খুঁজে নিচ্ছে। পরিবর্তন শুধু সমাজে নয়, চলচ্চিত্রেও জরুরি। আর সেই পরিবর্তন দৃশ্যমানও হচ্ছে।

    ইয়ামি গৌতম
    ইয়ামি গৌতম, এএফপি

    এ পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই ইয়ামি দেখছেন নিজের যাত্রাকে। একসময় যেখানে শিল্পীরা ‘তকমা’ নিয়ে সতর্ক থাকতেন, এখন দর্শক ছবিকে তার গুণমান দিয়ে বিচার করছেন। বিষয়বস্তুর গভীরতা, নির্মাণশৈলী ও অভিনয়ের সততা—এসবই হয়ে উঠছে আসল মানদণ্ড।

    ইয়ামি গৌতমের বক্তব্য থেকে যে বিষয় স্পষ্ট হয়, তা হলো আত্মবিশ্বাস। তিনি মনে করেন, শিল্পী হিসেবে নিজের সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হোক বা না হোক, যদি গল্পে বিশ্বাস থাকে, চরিত্রে সত্যতা থাকে, তবে কাজের মূল্যায়ন হবেই।

    নিউজ ১৮ অবলম্বনে

  • রাতে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা, উপস্থিত থাকবেন ৭০০ সাংবাদিক

    শেষ হচ্ছে অপেক্ষা, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কার্লো আনচেলত্তি। যেখানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হতে যাচ্ছে নেইমার ইস্যু। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, শুধু বিশ্বকাপ দল ঘোষণা কাভার করতে ১৩টি দেশের প্রায় ৭০০ সাংবাদিক ব্রাজিলের পাড়ি জমিয়েছেন।

    বাংলাদেশ সময় সোমবার (১৮ মে) দিবাগত রাত ২টায় রিও ডি জেনেইরোর বিখ্যাত মিউজিয়াম অব টমোরোতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন কোচ আনচেলত্তি।

    সেলেসাওদের বিশ্বকাপে দল ঘোষণা কাভার করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০০ সাংবাদিক উপস্থিত থাকবেন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) বরাতে এমনটাই জানিয়েছে দেশটির জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ও’গ্লোবো। 

    সিবিএফ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি দুই ভাগে আয়োজন করা হবে। মূল মঞ্চে প্রায় এক হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিকদের পাশাপাশি অতিথি ও পৃষ্ঠপোষকরাও থাকবেন। এ ছাড়া আলাদা একটি অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন আনচেলত্তি।

    ৩৪০ আসনের ওই অডিটোরিয়ামে থাকছে বিশেষ কিছু নিয়মও। ক্যামেরাপারসন ও সাউন্ড টেকনিশিয়ানদের নির্ধারিত স্থানে সরঞ্জাম বসাতে হবে। ফটোগ্রাফারের সংখ্যাও সীমিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি টিভি চ্যানেলকে মাত্র একটি ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ব্রাজিলের বিশ্বকাপে দল ঘোষণা কাভার করতে ব্রাজিলের বাইরে আরও ১৩টি দেশের সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন। তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, চিলি, যুক্তরাষ্ট্র, এল সালভাদর, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, রাশিয়া, ইতালি, স্পেন, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাংলাদেশ ও জাপান।

     

  • রাশমিকা–বিজয়ের বিয়ের অদেখা ছবি প্রকাশ্যে

    গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে স্বপ্নের বিয়ে সেরেছেন বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মন্দানা। বিয়ের সন্ধ্যাতেই প্রকাশ্যে এসেছে তাঁদের চারহাত এক হওয়ার ছবি, যা দেখে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাঁদের দর্শক-অনুরাগীরা। প্রায় আট বছরের সম্পর্কের মধুরেণ সমাপয়েৎ হয়েছে উদয়পুরে। তবে গতকাল রাতে প্রকাশ্যে এসেছে বিয়ের আরও কিছু অদেখা ছবি, যা অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে ছবিতে জেনে নেওয়া যাক দুই তারকা সম্পর্কে কিছু তথ্য—

    খাঁটি দক্ষিণি নিয়ম মেনে বিয়ে সেরেছেন তারকা যুগল। তেলেগু ও কোডাভা নিয়মে বিয়ে সারেন তাঁরা। ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে তাঁদের দুজনের সাজপোশাক। এককথায় রাজবেশে বিয়ে সেরেছেন বিজয়। প্রথা মেনে সঙ্গে অসি নিয়ে বিয়ের মণ্ডপে এসেছিলেন অভিনেতা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    খাঁটি দক্ষিণি নিয়ম মেনে বিয়ে সেরেছেন তারকা যুগল। তেলেগু ও কোডাভা নিয়মে বিয়ে সারেন তাঁরা। ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে তাঁদের দুজনের সাজপোশাক। এককথায় রাজবেশে বিয়ে সেরেছেন বিজয়। প্রথা মেনে সঙ্গে অসি নিয়ে বিয়ের মণ্ডপে এসেছিলেন অভিনেতা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    তারকা জুটির বিয়ের মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই ছিল আদ্যোপান্ত দক্ষিণ ভারতীয় ছোঁয়া। তাঁদের বিয়ের মণ্ডপ সেজেছিল তামিলনাড়ু সংস্কৃতির ধাঁচে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    তারকা জুটির বিয়ের মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই ছিল আদ্যোপান্ত দক্ষিণ ভারতীয় ছোঁয়া। তাঁদের বিয়ের মণ্ডপ সেজেছিল তামিলনাড়ু সংস্কৃতির ধাঁচে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    কলকাতার মেয়ে অনামিকা খান্নার ডিজাইন করা পোশাকে সেজেছিলেন রাশমিকা ও বিজয়। পুরোনো রীতি মেনে পালকি চড়ে লাজে রাঙা বউ হয়ে বিয়ের মণ্ডপে আসেন রাশমিকা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    কলকাতার মেয়ে অনামিকা খান্নার ডিজাইন করা পোশাকে সেজেছিলেন রাশমিকা ও বিজয়। পুরোনো রীতি মেনে পালকি চড়ে লাজে রাঙা বউ হয়ে বিয়ের মণ্ডপে আসেন রাশমিকা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    বিয়েতে ভারী গয়না থেকে শাড়ি, হেয়ারস্টাইলে নজর কেড়েছেন রাশমিকা। এমনকি বিয়ের মণ্ডপের অন্দরসজ্জায় একই সঙ্গে জায়গা পেয়েছে পিতলের নানা মূর্তি। সঙ্গে নজর কেড়েছে লাল বস্ত্রে সংক্ষেপে উল্লিখিত জুটির নামের আদ্যাক্ষর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    বিয়েতে ভারী গয়না থেকে শাড়ি, হেয়ারস্টাইলে নজর কেড়েছেন রাশমিকা। এমনকি বিয়ের মণ্ডপের অন্দরসজ্জায় একই সঙ্গে জায়গা পেয়েছে পিতলের নানা মূর্তি। সঙ্গে নজর কেড়েছে লাল বস্ত্রে সংক্ষেপে উল্লিখিত জুটির নামের আদ্যাক্ষর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    আতিশয্য নয়, বরং শিকড় আঁকড়েই বিয়ের সমগ্র নিয়ম পালন করেছেন বিজয় ও রাশমিকা। তাঁদের বিয়ের দিনের অদেখা ছবিতে ফুটে উঠেছে তাঁদের বিয়ের ভেন্যুর ঐতিহ্যপূর্ণ সাজসজ্জা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    আতিশয্য নয়, বরং শিকড় আঁকড়েই বিয়ের সমগ্র নিয়ম পালন করেছেন বিজয় ও রাশমিকা। তাঁদের বিয়ের দিনের অদেখা ছবিতে ফুটে উঠেছে তাঁদের বিয়ের ভেন্যুর ঐতিহ্যপূর্ণ সাজসজ্জা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ঠিক যেমনভাবে চেয়েছিলেন সেভাবেই সেজেছিল বিজয়-রাশমিকা ছাঁদনাতলা। তাঁদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছিল উদয়পুরের বিবাহবাসর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ঠিক যেমনভাবে চেয়েছিলেন সেভাবেই সেজেছিল বিজয়-রাশমিকা ছাঁদনাতলা। তাঁদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছিল উদয়পুরের বিবাহবাসর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    তবে উদয়পুরের পাঁচতারা হোটেলের নিজস্ব সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সাজানো হয়েছিল ছাঁদনাতলা। বিজয়ের পছন্দ অনুযায়ী টেরাকোটার একাধিক জিনিস দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিয়ের ভেন্যুর আনাচকানাচ। যেখানে জায়গা করে নিয়েছিল অ্যাস্থেটিক লুকের ডমরু, ঘুঙুরের মতো নানা সামগ্রী। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    তবে উদয়পুরের পাঁচতারা হোটেলের নিজস্ব সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সাজানো হয়েছিল ছাঁদনাতলা। বিজয়ের পছন্দ অনুযায়ী টেরাকোটার একাধিক জিনিস দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিয়ের ভেন্যুর আনাচকানাচ। যেখানে জায়গা করে নিয়েছিল অ্যাস্থেটিক লুকের ডমরু, ঘুঙুরের মতো নানা সামগ্রী। ইনস্টাগ্রাম থেকে
     এমনকি দক্ষিণ ভারতীয় বিয়েতে পাত্র-পাত্রীর মাঝে একটি বিশেষ ধরনের কাপড় ধরা হয়, যা ‘আদ্দুত্তেরা’ নামে পরিচিত। বিরোশ-এর বিয়েতে সেই বিশেষ কাপড়েও বিশেষ কারুকার্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বিভিন্ন মন্ত্র। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    এমনকি দক্ষিণ ভারতীয় বিয়েতে পাত্র-পাত্রীর মাঝে একটি বিশেষ ধরনের কাপড় ধরা হয়, যা ‘আদ্দুত্তেরা’ নামে পরিচিত। বিরোশ-এর বিয়েতে সেই বিশেষ কাপড়েও বিশেষ কারুকার্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বিভিন্ন মন্ত্র। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    অনাড়ম্বরভাবে, নিজেদের সংস্কৃতির যথাযথ মর্যাদা রেখেই বিয়ের সব পরিকল্পনা করেছিলেন বিজয় ও রাশমিকা। মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই তাই নিজেদের শিকড়কে বরাবর আঁকড়ে ছিলেন তাঁরা, যা তাঁদের বিয়েকে রূপকথার গল্পে পরিণত করেছে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    অনাড়ম্বরভাবে, নিজেদের সংস্কৃতির যথাযথ মর্যাদা রেখেই বিয়ের সব পরিকল্পনা করেছিলেন বিজয় ও রাশমিকা। মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই তাই নিজেদের শিকড়কে বরাবর আঁকড়ে ছিলেন তাঁরা, যা তাঁদের বিয়েকে রূপকথার গল্পে পরিণত করেছে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ‘গীতা গোবিন্দাম’ সিনেমা দিয়ে জুটি হিসেবে যাত্রা শুরু করেন দুই তারকা, বিয়ের মাধ্যমে রাশমিকা ও বিজয়ের আট বছরের সম্পর্ক পূর্ণতা পেল। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ‘গীতা গোবিন্দাম’ সিনেমা দিয়ে জুটি হিসেবে যাত্রা শুরু করেন দুই তারকা, বিয়ের মাধ্যমে রাশমিকা ও বিজয়ের আট বছরের সম্পর্ক পূর্ণতা পেল। ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • রাহুলের মৃত্যুতে প্রশ্ন: ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় যা মিলল

    পশ্চিমবাংলার দিঘার তালসারি সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? শুটিং চলাকালেই, নাকি শেষ হওয়ার পর? নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

    গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। রাতেই রাহুলের মরদেহ তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আজ সোমবার সেখানে ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সে প্রতিবেদন থেকেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণচিত্র বের করার চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থা।

    ঘটনাস্থলের ভিডিও ও বর্ণনায় যা মিলছে
    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময়ের ভিডিও ফুটেজ তাদের হাতে এসেছে। তালসারির সৈকতে শুটিং সেটে একাধিক ক্যামেরা বসানো ছিল, সেগুলোর ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের একটি দৃশ্যের শুটিং চলছিল। সেখানে রাহুল ও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার একটি নাচের দৃশ্য ধারণ করা হচ্ছিল। দৃশ্য অনুযায়ী, গোড়ালিসমান পানিতে দাঁড়িয়ে অভিনয় করার কথা ছিল।

    ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মিলিয়ে জানা গেছে, শুটিংয়ের সময় দুজন ধীরে ধীরে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। কিছুটা এগোনোর পর শ্বেতা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তাঁকে বাঁচাতে বা ধরে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে রাহুলও পড়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় সমুদ্রে জোয়ার শুরু হচ্ছিল। পানির স্রোতের ধাক্কায় রাহুল কিছুটা দূরে ভেসে যান। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত শ্বেতাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রাহুলক সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করা যায়নি। প্রায় দুই ঘণ্টার তল্লাশি শেষে টেকনিশিয়ানরাই তাঁকে উদ্ধার করেন বলে জানা গেছে।

    রাহুল অরুণোদয়। ফেসবুক থেকে
    রাহুল অরুণোদয়। ফেসবুক থেকে

    পরিচালকের বক্তব্য
    পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল জানান, বিকেল প্রায় পাঁচটার দিকে শুটিং চলছিল। দৃশ্য অনুযায়ী, সাগরপাড়ে অল্প পানিতেই অভিনয়ের কথা ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাহুল হঠাৎ নির্ধারিত সীমার বাইরে সমুদ্রের দিকে এগোতে শুরু করেন। ইউনিটের পক্ষ থেকে বারবার থামতে বলা হলেও তিনি এগোতেই থাকেন। একপর্যায়ে কোমরসমান পানিতে পৌঁছে যান তিনি। পরিচালক জানান, সেই সময়েও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতার হাত ধরে ছিলেন রাহুল। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ বুঝে ইউনিটের কয়েকজন সদস্য ও আশপাশের নৌকার লোকজন সতর্ক হয়ে এগিয়ে আসেন। এ সময় আচমকাই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন রাহুল। তিনি ঢেউয়ে ডুবে যেতে থাকেন এবং কিছু পরিমাণ পানি গিলে ফেলেন। দ্রুত তাঁকে টেনে তোলা হলেও পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে পড়ে।

    একটি ঢেউয়ের ধাক্কা
    ধারাবাহিকটির নির্বাহী প্রযোজক শান্তনু নন্দী ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, শুটিং প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। একটি ড্রোন শট নেওয়ার কথা ছিল, যা গোড়ালিসমান পানিতে হওয়ার কথা। তাঁর দাবি, সেখান থেকে কিছুটা এগিয়ে যান রাহুল। ইউনিট থেকে সতর্ক করা হলেও তিনি এগোতে থাকেন। পরে একটি ঢেউয়ের ধাক্কায় তাঁর পা হড়কে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যেই ঘটে যায়। ইউনিটের সদস্যরা এবং কাছাকাছি থাকা নৌকার লোকজন দ্রুত পানিতে নেমে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

    উদ্ধার ও তদন্তে নতুন প্রশ্ন
    উদ্ধারের পর দ্রুত রাহুলকে দিঘা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, গাড়িতে তোলার সময় তাঁর জ্ঞান ছিল। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    রাহুল অরুণোদয়। ফেসবুক থেকে
    রাহুল অরুণোদয়। ফেসবুক থেকে

    অন্যদিকে কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে, শ্বেতাকে বাঁচাতে গিয়েই রাহুল পানিতে পড়ে যান। তবে এ তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। এ ঘটনায় দিঘা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে ওডিশা পুলিশও তদন্তে যুক্ত হয়েছে। শুটিংয়ের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি আগে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
    এখন নজর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকে। আজ তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যম।

  • রাহুলের মৃত্যুর পর অভিনয়ে ফেরা, কঠিন সময় নিয়ে বললেন প্রিয়াঙ্কা

    গত ২৯ মার্চ মারা যান পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শোক সামলে কাজে ফিরেছেন তাঁর স্ত্রী ও অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এই সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী কথা বলেছেন, রাহুলের মৃত্যু থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে।

    প্রিয়াঙ্কা বলেন, রাহুলের মৃত্যুর পর দ্রুতই কাজে ফিরেছেন তিনি। কাজ অনেকটা থেরাপির মতো কাজ করেছে। অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘নিজেও জানি না কেমন আছি এই মুহূর্তে। নানা সময়ে নানা রকম আছি। কখনো খুব দুর্বল লাগছে। আবার কখনো নিজেকে খুব স্ট্রং মনে হচ্ছে। কাছের মানুষ, কাজের জায়গা থেকে স্ট্রেংথ খুঁজে নিতে হচ্ছে। অনেকেই জানতে চাইছেন কেমন আছি! এ প্রশ্নের সত্যিই কোনো উত্তর এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। কাজই আমার থেরাপি। কোনো চরিত্র হয়ে ক্যামেরার সামনে এসে যখন দাঁড়াই, সেটা হলো প্রিয়াঙ্কার সবচেয়ে অথেনটিক সত্তা। তখন আমি বাকি সবকিছু সুইচ অফ করে দিই। সে কারণেই কাজটা করতে ভীষণ এনজয় করি। আর আমি তো একা কাজ করি না। অনেকে থাকেন, কাজের একটা আলাদা পরিবেশ থাকে। সব মিলিয়ে আমি কিছুক্ষণের জন্য হলেও সবকিছু থেকে দূরে থাকতে পারি। ঠিক সে জন্য কাজটা করতে আমি ভীষণ এনজয় করি। কাজের চেয়ে ভালো থেরাপি সত্যিই আর অন্য কিছু নেই।’

    সন্তান সহজের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল। ফেসবুক থেকে
    সন্তান সহজের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল। ফেসবুক থেকে

    কঠিন সময় সমালে নেওয়া, বিশেষ করে সন্তান সহজকে সামলানো প্রিয়াঙ্কার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে সামলে ওঠার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয় সেই স্পেসটা দেওয়া সবচেয়ে জরুরি। আমিও কাজে ফিরেছি। সহজও স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। পড়াশোনা নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। আমি সত্যিই জানি না সহজ কেমন আছে। কারণ, আমি যেটাই বলব, সেটা অনুমান করে বলা হবে। সেটা উচিত হবে না। আমি সহজকে সময় দিয়েছি। ওর নিজের ভাবনাগুলোকে একটু গোছাতে শিখুক। সহজের যদি মনে হয় এই সময়টা ও কী ভাবে ডিল করল সেটা বলতে চায়, তখন নিজেই বলুক। তার আগে নয়। আমরা শুধু চেষ্টা করছি একে-অন্যের সঙ্গে বন্ধুর মতো থাকতে। সেটা শুধু সহজ নয়। গোটা পরিবার, কাছের মানুষদের ক্ষেত্রেও সেটা জরুরি। যে যার নিজের মতো করে ফিগার আউট করার চেষ্টা করছি।’

    রাহুলের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’ আলোচিত হয়েছিল। অনেক ভক্ত অনুরোধ করেছেন প্রিয়াঙ্কা যেন পডকাস্টটি চালিয়ে নিয়ে যান। এ প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘প্রত্যেককে ধন্যবাদ “সহজ কথা”কে এতটা ভালোবাসা দেওয়ার জন্য। এখনো ভালোবাসা পাচ্ছে। আমি ব্যক্তিগত জায়গা থেকে বলছি, এই অনুষ্ঠানে রাহুলের যে ক্রিয়েটিভ কন্ট্রিবিউশন, ওর তৈরি করা বন্ধুত্ব, রাহুলের হিউমার, লেখা, পড়াশোনা এগুলোই থেকে যাক। সহজ কথার সাফল্যের নেপথ্যে রাহুলের অনেক রিসার্চ, পড়াশোনা রয়েছে। যেটা একেবারেই সহজ ছিল না। সেটা আলাদা সম্মান ডিজার্ভ করে। তাই আমি আর সেখানে হাত দেব না।’

  • রিভিউ বাংলাদেশে তৈরি অনার এক্স৯ডি ৫জি মডেলের স্মার্টফোনটি কেমন

    তুলনামূলক কম খরচে উন্নত ক্যামেরা, দ্রুতগতির প্রসেসর ও শক্তিশালী ব্যাটারিযুক্ত স্মার্টফোন কিনতে চান অনেকেই। আর তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও মিড রেঞ্জের স্মার্টফোনের বাজার বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ। বিষয়টি মাথায় রেখে গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশে তৈরি ‘এক্স৯ডি’ মডেলের স্মার্টফোন উন্মুক্ত করেছে চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনার। প্রায় এক সপ্তাহ ব্যবহার করে স্মার্টফোনটির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরা হলো—

    নকশা

    হাতে নেওয়ার পর প্রথমেই মনে হলো, ফোনটি বেশ টেকসই। ম্যাট ফিনিশ ব্যাক প্যানেল থাকায় খুব বেশি হাতের ছাপ পড়ে না ফোনটিতে। আইপি৬৮ ও আইপি৬৯কে রেটিং থাকায় ধুলাবালি, পানি এমনকি উচ্চচাপের পানির স্প্রে থেকেও নিরাপদ থাকে ফোনটি। শুধু তা–ই নয়, ফোনটিতে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর সাইড-মাউন্টেড বেশ দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে।

    পর্দা

    ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দার ফোনটি ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ফলে স্ক্রল ও অ্যানিমেশন স্বচ্ছন্দে করা যায়। বেজেল এতটাই কম যে স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ফোনটিকে একটি ফ্ল্যাগশিপ লুক দিয়েছে। পর্দার উজ্জ্বলতা বেশি হওয়ায় সরাসরি রোদেও ভিডিও কনটেন্ট দেখতে অসুবিধা হয় না ফোনটিতে।

    সক্ষমতা

    অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ম্যাজিক ওএসে চলা ফোনটিতে ৪ ন্যানোমিটারের স্ন্যাপড্রাগন ৬ জেন ৪ মডেলের প্রসেসর থাকায় একসঙ্গে একাধিক কাজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছন্দে গেম খেলা যায়। তবে দীর্ঘ সময় আকারে বড় গেম খেলার ক্ষেত্রে সামান্য ফ্রেম ড্রপ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে ফোনটিতে। অর্থাৎ ফোনটি সাধারণ ও মাঝারি পর্যায়ের গেম খেলার জন্য উপযোগী হলেও হার্ডকোর গেমের জন্য তেমন উপযুক্ত নয়।

    ক্যামেরা

    ফোনটির পেছনে থাকা ১০৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়ে স্বাভাবিক রঙে ভালো মানের ছবি তোলা যায়। রাতে বা কম আলোতে ছবি তোলার জন্য রয়েছে উন্নত ‘নাইট মোড’, যা ছবির নয়েজ কমিয়ে স্বচ্ছতা বাড়ায়। সেলফিপ্রেমীদের জন্য সামনে আছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যা ভালো মানের ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট। তবে অনেক মিড-রেঞ্জ ফোনে টেলিফটো লেন্স থাকলেও অনার এক্স৯ডি মডেলে লেন্সটি যুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া ভিডিও রেকর্ডিং স্থিতিশীল হলেও ফ্ল্যাগশিপ মানের মতো নয়।

    ব্যাটারি

    ১২ গিগাবাইট র‍্যাম ও ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে ৮ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফলে একবার পুরো চার্জ করলে ফোনটি অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু তা–ই নয়, ৬৬ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি থাকায় দ্রুত চার্জও করা যায় ফোনটি।

    পড়লেও ভাঙ্গে না

    অনারের তথ্য মতে, ‘হাইয়েস্ট স্মার্টফোন ড্রপ’ বিভাগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানো ফোনটি ৬.১৩৩ মিটার বা ২০ ফুটের বেশি উচ্চতা থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না। বিষয়টি পরখ করার জন্য ১৬ ফুট উচ্চতা থেকে ফোনটি ফেলে দেখা গেছে, পর্দায় ফাটল বা দাগ পড়েনি।

    কানেকটিভিটি ও অডিও

    ফোনটির ৫জি কানেকটিভিটি বেশ উন্নত। ওয়াই–ফাই ও ব্লুটুথ সংযোগেও তেমন সমস্যা দেখা যায়নি। স্পিকার আউটপুট ভালো, তবে বেজ ততটা শক্তিশালী নয়। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৯৯ টাকা।

    সোহানুর রহমান

  • রিয়ালে বিরোধের নতুন আগুন, ‘চতুর্থ পছন্দের স্ট্রাইকার’ বিতর্কে মুখোমুখি এমবাপ্পে–আরবেলোয়া

    বেঞ্চ থেকে ৬৯ মিনিটে মাঠে নামেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ঊরুর চোট কাটিয়ে ফেরা এই স্ট্রাইকারকে মোটেও ভালোভাবে নিতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকেরা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনেক ফাঁকা আসনের মধ্যে যাঁরা ছিলেন, বেশির ভাগই দুয়ো দেন এমবাপ্পেকে।

    মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ৪১ গোল করা কোনো খেলোয়াড় সমর্থকদের দুয়োর শিকার হলে বুঝতে হবে, সমস্যা মাঠের বাইরের। এমবাপ্পের ক্ষেত্রেও তা মিথ্যা নয়। তবে গতকাল রাতে লা লিগায় ওভিয়েদোর বিপক্ষে রিয়ালের ২-০ গোলে জয়ের পর সমর্থকদের দুয়ো নিয়ে ফরাসি তারকার মধ্যে তেমন হেলদোল দেখা গেল না।

    ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের এমবাপ্পে বলেন, ‘দুয়ো...এটাই জীবন। মানুষ ক্ষুব্ধ থাকলে তাদের মতামত পাল্টানো কঠিন। রিয়াল মাদ্রিদ এবং আমার মতো বিখ্যাত খেলোয়াড়ের জীবনে এটা মেনে নিতেই হবে।’

    গঞ্জালো গার্সিয়া ও জুড বেলিংহামের দুই অর্ধের গোলে রিয়াল জিতলেও ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়নি। বরং নতুন এক বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন এমবাপ্পে। ওভিয়েদোর বিপক্ষে রিয়ালের একাদশে সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর ভাষ্য বেশ চমকে দেওয়ার মতো। এমবাপ্পের দাবি, রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া তাঁকে বলেছেন, তিনি বর্তমানে রিয়ালে পছন্দের তালিকায় চতুর্থ স্ট্রাইকার!

    বেঞ্চে বসেছিলেন এমবাপ্পে
    বেঞ্চে বসেছিলেন এমবাপ্পেএএফপি

    শুনুন এমবাপ্পের মুখেই, ‘ভালো আছি, শতভাগ প্রস্তুত। (একাদশে) খেলতে পারিনি; কারণ, কোচ আমাকে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে আমি দলের চতুর্থ পছন্দের স্ট্রাইকার। আমি মাস্তানতুয়োনো, ভিনিসিয়ুস ও গঞ্জালো থেকে পিছিয়ে। আমি এটা মেনে নিয়েছি এবং যতটুকু খেলার সময় পেয়েছি খেলেছি। সম্ভবত ভালোই খেলেছি।’

    ভিনিসিয়ুস, মাস্তানতুয়েনো ও গার্সিয়াকে রিয়ালের একাদশের হয়ে মাঠে নামান আরবেলোয়া। বেঞ্চ থেকে মাঠে নামা বেলিংহামের গোলের উৎস ছিল এমবাপ্পের পাস। ফরাসি তারকা রিয়ালের একাদশে ফেরার লক্ষ্যে বলেন, ‘একাদশের হয়ে নামার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। তবে আমি কোচের ওপর রাগান্বিত নই। সব সময় কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হয়। আমি একাদশে ফেরার চেষ্টা করব।’

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রিয়াল সমর্থকদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে। সমর্থকদের অভিযোগ, ক্লাবের প্রতি এমবাপ্পের নিবেদনে ঘাটতি আছে। বিশেষ করে চোটের কারণে গত সপ্তাহে ‘এল ক্লাসিকো’তে তাঁর খেলতে না পারা এবং ম্যাচটি জিতে বার্সেলোনা লিগ শিরোপা নিশ্চিত করায় ভক্তদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি চোট থেকে সেরে ওঠার সময়ে এমবাপ্পের সারদিনিয়ায় ছুটি কাটাতে যাওয়ার বিষয়টিও ভালোভাবে নেননি রিয়ালের সমর্থকেরা। যদিও এমবাপ্পের দাবি, ‘ক্লাবের অনুমতি নিয়েছিলাম। লোকে কী বলছে, বুঝতে পারছি না। তবে আমাকে এটা মেতে নিতে হবে।’

    ম্যাচ–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিস্ময় প্রকাশ করেন আরবেলোয়া। রিয়ালের কোচ বলেন, ‘আমার যদি চারজন ফরোয়ার্ড থাকত! আমার তো চারজন ফরোয়ার্ডই নেই। আর আমি এমবাপ্পেকে এমন কিছু কখনোই বলিনি। হতে পারে সে আমার কথা ভুল বুঝেছে। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই। কোনো অবস্থাতেই আমি তাকে “চতুর্থ পছন্দের” ফরোয়ার্ড বলতে পারি না।’

    রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়া
    রিয়াল কোচ আলভারো আরবেলোয়াএএফপি

    আরবেলোয়া এরপর দলে নিজের কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আমি কোচ, কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমার। ম্যাচের আগে তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। সে সেটা কীভাবে নিয়েছে, আমি জানি না। যে খেলোয়াড় চার দিন আগেও বেঞ্চে বসার মতো অবস্থায় ছিল না, আজ (কাল রাতে) তার একাদশে থাকা উচিত নয়। এটা ফাইনাল বা বাঁচা-মরার লড়াই ছিল না যে তাকে নামাতেই হবে। কারও সঙ্গেই আমার কোনো বিরোধ নেই।’

    আরবেলোয়া আরও বলেন, ‘এমবাপ্পে খেলতে না পেরে অখুশি, তা আমি বুঝতে পারছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিই ছিল সবচেয়ে যৌক্তিক ও স্বাভাবিক কাজ।’

    এমবাপ্পের অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি আরবেলোয়া, ‘আপনারা চাইলে “মিক্সড জোনে” কিলিয়ানের দেওয়া বক্তব্য আমাকে দেখাতে পারেন, তখন আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করতে পারি। সে ঠিক কী বলেছে, তা না শোনা পর্যন্ত আমি তার বাক্য ধরে মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমি যতক্ষণ দায়িত্বে আছি, কে খেলবে আর কে খেলবে না, সেই সিদ্ধান্ত আমিই নেব। তাদের নামে (কতটা বড়) আমার কিছু যায়–আসে না।’

    রিয়ালে বেশ কিছুদিন ধরেই গৃহদাহ চলছে। এর আগে ফেদে ভালভের্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির মধ্যে মারামারির খবর চাউর হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। বড় কোনো শিরোপা জয় ছাড়া এবার টানা দ্বিতীয় মৌসুম শেষ করবে রিয়াল। মৌসুমে মাঝপথে জাবি আলোনসোকে সরিয়ে আরবেলোয়াকে কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমবাপ্পে এ মৌসুমের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, ‘আমাদের শুরুটা ভালো ছিল। কিন্তু মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে সব হারিয়ে ফেলেছি...জাবির সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। সবাই জানে আমি তাকে কেমন মনে করি। কিন্তু আমাদের সামনে তাকাতে হবে এবং উন্নতি করতে হবে।’

    আরবেলোয়ার সঙ্গে বিরোধ অস্বীকার করেছেন এমবাপ্পে
    আরবেলোয়ার সঙ্গে বিরোধ অস্বীকার করেছেন এমবাপ্পে, এএফপি
     

    মৌসুম শেষে আরবেলোয়ার জায়গায় রিয়াল যে নতুন কোচ আনবে, সেটা মোটামুটি পরিষ্কার। গুঞ্জন আছে, রিয়ালের ড্রেসিংরুমের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন আরবেলোয়া। তবে আরবেলোয়ার সঙ্গে কোনো সমস্যা না হওয়ার দাবি করেছেন এমবাপ্পে, ‘আরবেলোয়ার সঙ্গে সমস্যা নেই। সবারই নিজস্ব চিন্তাভাবনা আছে। খেলার সময় বের করতে আমাকে মাস্তানতুয়োনো, ভিনি ও গঞ্জালোর চেয়ে ভালো হতে পরিশ্রম করতে হবে।’

    লা লিগার চলতি মৌসুমে আর দুই ম্যাচ খেলবে রিয়াল। ৩৬ ম্যাচে ৯১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আরবেলোয়ার দল।

  • রুনা লায়লার গানে ‘বর্ণমালা’ চিনেছে ভারতের বিলুপ্তপ্রায় জাতি, খবরটি শোনার পর যা বললেন শিল্পী

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভুটান সীমান্তবর্তী একটি ছোট্ট গ্রাম টোটোপাড়া। সেখানে বসবাস ভারতের অন্যতম প্রাচীন, ক্ষুদ্র ও বিপন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী টোটো সম্প্রদায়ের। বহুদিন ধরেই তাদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও ছিল না কোনো লিখিত বর্ণমালা। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল ভাষাটি। অদ্ভুত হলেও সত্য—এই ভাষার জন্য বর্ণমালা তৈরির প্রেরণা এসেছে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার গাওয়া একটি গান থেকে। প্রায় চার দশক আগে গাওয়া তাঁর ‘তুমি আমি লিখি প্রাণের বর্ণমালা’ গানটির একটি লাইনই নাকি বদলে দেয় এক আদিবাসী মানুষের ভাবনা। সেই খবর জানার পর নিজের অনুভূতির কথাও জানিয়েছেন দেশবরেণ্যে এই শিল্পী।

    সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা
    সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা

    পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার টোটোপাড়া গ্রামে বসবাসকারী টোটো সম্প্রদায়ের ভাষা দীর্ঘদিন ধরে শুধু কথ্য রূপেই প্রচলিত ছিল। লিখিত কোনো লিপি না থাকায় ভাষাটি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে কয়েক বছর আগে টোটো ভাষার জন্য একটি স্বতন্ত্র বর্ণমালা তৈরি করে আলোচনায় আসেন ধনীরাম টোটো।

    ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় ধনীরাম টোটোর এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে। তবে খুব কম মানুষই জানেন, এই উদ্যোগের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে একটি গান। ধনীরাম টোটো এক সাক্ষাৎকারে জানান, একদিন রেডিওতে তিনি শুনছিলেন রুনা লায়লার গাওয়া গান—‘তুমি আমি লিখি প্রাণের বর্ণমালা’। গানের এই লাইন তাঁর মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। তখনই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—যদি অন্য ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা থাকতে পারে, তবে টোটো ভাষার কেন থাকবে না?

    ঢাকার পাঁচতারা হোটেলে প্রথম আলোর ক্যামেরায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা
     উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা
     

    সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ গবেষণা ও প্রচেষ্টা। পরে তিনি টোটো ভাষার জন্য একটি স্বতন্ত্র লিপি তৈরি করেন, যা এখন ‘টোটো-হরফ’ বা ‘তোত্বিকো আল্লাবেত’ নামে পরিচিত। টোটো ভাষা সংরক্ষণের আরেকটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন ভক্ত টোটো। তিনি বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করে এই লুপ্তপ্রায় ভাষাকে নথিভুক্ত করার চেষ্টা শুরু করেন।

    স্থানীয়ভাবে টোটো ভাষার শব্দ সংগ্রহ, গল্প লেখা ও প্রাথমিক শিক্ষায় ভাষাটি ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জ এখনো কম নয়। আলিপুরদুয়ার জেলার তোর্সা নদীর তীরে বসবাসকারী এই ছোট্ট জনগোষ্ঠীর সামনে ভাষা টিকিয়ে রাখার লড়াই এখনো চলছে। আধুনিক শিক্ষা, বহিরাগত সংস্কৃতির প্রভাব ও সীমিত জনসংখ্যার কারণে ভাষাটি সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে উঠেছে। তবু নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে টোটো সম্প্রদায়।
    রুনা লায়লা
    রুনা লায়লা
     

    দেড় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ে ও নাতি–নাতনির সঙ্গে সময় কাটিয়ে ৫ মার্চ দেশে ফিরেছেন রুনা লায়লা। তাঁকে যখন এ ঘটনা জানানো হয় এবং এ নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনের ইউটিউব লিংক পাঠানো হয়, তখন তিনি জানান—বিষয়টি তিনি দেখেছেন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কয়েকজনও তাঁকে সেই প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। আলাপচারিতায় তিনি বলেন, একটি গান শুধু বিনোদন নয়, অনেক সময় তা মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

    রুনা লায়লার ভাষায়, ‘একটা গান যখন মানুষের মনের ভেতরে ঢোকে, তখন তা নানাভাবে প্রভাব ফেলে। সংগীত দিয়ে অসুস্থ মানুষকেও সুস্থ করে তোলা যায়—এ কথাও তো বলা হয়। প্রত্যেকটা গানই কিন্তু একধরনের বার্তা দেয়।’ কথা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এই গানের বার্তা যে একটি বিপন্ন জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছেছে এবং তাদের উদ্বুদ্ধ করেছে—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এতে আবারও মনে হলো, ভালো গানের শক্তি কত বড়।’

     রুনা লায়লা
    রুনা লায়লা
     

    গানটির পেছনের গল্প বলতে গিয়ে রুনা লায়লা ফিরে গেলেন সত্তরের দশকের শেষ দিকে। জানালেন, ‘তুমি আমি লিখি প্রাণের বর্ণমালা’ গানের কথা লিখেছিলেন কবি শামসুর রাহমান, আর সুর করেছিলেন খন্দকার নূরুল আলম। বাংলাদেশ বেতারের ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসের জন্য শাহবাগের বেতার ভবনে গিয়ে গানটি রেকর্ড করেছিলেন তিনি। পরে বাংলাদেশ টেলিভিশনেও এটি পরিবেশন করেছিলেন।

    গানটি গাওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার স্মৃতি মনে করে রুনা লায়লা বলেন, ‘একদিন খন্দকার নূরুল আলম ভাই বাসায় ফোন করে বললেন—একটা দেশাত্মবোধক গান করতে চান এবং আমি যেন গাই। আমি বলেছিলাম, অবশ্যই গাইব। কেন গাইব না? এরপর বেতারে গিয়ে গানটি রেকর্ড করা হয়।’
    নানান সময়ে রুনা লায়লা
    নানান সময়ে রুনা লায়লা
     

    চার দশকের বেশি পুরোনো একটি গান যে একটি বিলুপ্তপ্রায় আদিবাসী ভাষাকে নতুন করে ভাবতে অনুপ্রাণিত করবে—এ কথা কখনো ভাবেননি রুনা লায়লা। তিনি বলেন, ‘৪৫ বছর আগের একটি গান শুনে তারা নিজেদের ভাষার জন্য বর্ণমালা তৈরি করেছে—এটা সত্যিই অদ্ভূত। আমার গাওয়া গান, সুর আর কথাগুলো একটি বিপন্ন আদিবাসী জাতির জীবনে নতুন ভাবনা তৈরি করেছে—এটা অবশ্যই আনন্দের বিষয়।’

  • রেকর্ডের ম্যাচে খেলতে নেমে রেকর্ড গড়লেন কোহলি

    আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি থেকে অবসরে গেছেন ২০২৪ সালে। আইপিএল ছাড়া অন্য লিগেও খেলেন না। গত বছরের জুন মাসে আইপিএল ফাইনালের পর তাই কালই প্রথমবার টি-টুয়েন্টি খেলতে নেমেছিলেন বিরাট কোহলি।

    এত দিন বিরতিও কোহলির টি–টুয়েন্টি ব্যাটিংয়ের ধার কমাতে পারেনি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে এবারের প্রথম ম্যাচেই খেলেছেন ৩৮ বলে ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস। তাঁর ৬৪তম ফিফটিতে হায়দরাবাদের ২০২ রানের লক্ষ্য রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ২৬ বল হাতে রেখেই তাড়া করে জিতেছে।

    টি–টুয়েন্টিতে এত দিন পর ফেরা কোহলির জন্য কি বাড়তি চ্যালেঞ্জ ছিল? ম্যাচ শেষে কোহলি বলেন, ‘দেখুন, গত ১৫ বছরে আমাদের যে ধরনের সূচি ছিল এবং আমি যতটুকু ক্রিকেট খেলেছি, তাতে আমার জন্য প্রস্তুতির অভাব হওয়ার চেয়ে বরং ক্লান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি সব সময় বেশি ছিল। তাই এই বিরতিগুলো আমাকে দারুণ সাহায্য করেছে। এমন বিরতি আমাকে সতেজ ও রোমাঞ্চিত রাখে। যখনই আমি খেলায় ফিরি, সেটা ১২০ শতাংশ শক্তি নিয়েই ফিরি। আমার প্রস্তুতির ঘাটতি নেই।’

    জয় দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করেছেন কোহলি
    জয় দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করেছেন কোহলি,এএফপি
     

    ১০ মাস বিরতির পর খেলা কোহলির জন্য ম্যাচটি ছিল রেকর্ডের। আইপিএলে তিনি প্রথম ক্রিকেটার, যিনি ২০০৮ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত হওয়া ১৯টি আসরেই খেললেন। আর খেলার রেকর্ডের এই ম্যাচেই ব্যাটে আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন কোহলি।

    ফিফটির পথে রানতাড়ায় ৪০০০ রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন। আইপিএলে রানতাড়ায় চার হাজারের মাইলফলকে তিনিই প্রথম। সব মিলিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি–টুয়েন্টি টুর্নামেন্টটিতে তাঁর মোট রান ৮৭৩০, এটিই সর্বোচ্চ।

    টি–টুয়েন্টি ও টেস্ট থেকে অবসর নেওয়া কোহলি গত জানুয়ারিতে ভারতের হয়ে ওয়ানডে খেলেছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ওয়ানডেতে ৯৩, ২৩ ও ১২৪ রান করেন তিনি। ওই সিরিজে ভারতের সর্বোচ্চ রান এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে। তার আগে ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও ৩০২ রান (দুই সেঞ্চুরিসহ) করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। গত বছর খেলেছেন ১৩টি ওয়ানডে। মানে খেলার মধ্যেই আছেন তিনি।

    আর প্রশ্নটা যখন রানতাড়ার, তখন কোহলিই সবার ওপরে মনে করেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পতিদার, ‘বিরাট কোহলি আমাদের ১ নম্বর রানতাড়ার মাস্টার। তিনি যেভাবে খেলেন, যে শটগুলো বেছে নেন এবং যেভাবে পরিস্থিতি বুঝতে পারেন, তা আমি সব সময় ডাগআউট থেকে উপভোগ করি। আমার মনে হয়, তিনি নিজের সেরা ছন্দে আছেন। নেটে আমি যা দেখেছি, পারফর্ম করার এবং দাপট দেখানোর সেই একই শক্তি ও আগ্রহ এখনো ওনার মধ্যে আছে।’

  • রোনালদোকে ছাড়াই খেলবে পর্তুগাল

    হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে না ওঠায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। গতকাল রোনালদোকে ছাড়াই বিশ্বকাপের আগে পর্তুগালের শেষ দুটি ম্যাচের দল ঘোষণা করেছেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে খেলতে নেমে মাংশপেশিতে চোট পান রোনালদো। এখনো সেই চোটের সঙ্গে লড়ছেন তিনি। দুই সপ্তাহ ধরে মাদ্রিদে চিকিৎসা নিলেও সময়সমতো সেরে উঠতে পারেননি এই পর্তুগিজ কিংবদন্তি। ২৮ মার্চ আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। ৩ দিন পর জর্জিয়ার আটলান্টা স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে মার্তিনেজের দল।

    ৪১ বছর বয়সী রোনালদো আগামী বিশ্বকাপে খেলতে চান। পর্তুগাল কোচ মার্তিনেজ জানিয়েছেন, এই চোটে তাঁর বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ঝুঁকিতে পড়েনি। তাঁর ভাষায় ‘এটা ছোটখাটো চোট।’ রোনালদো আগামী ‘এক থেকে দুই সপ্তাহের’ মধ্যে মাঠে ফিরতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ বলেন, ‘রোনালদো এ মৌসুমে যা করেছে, তাতে বোঝা যায় সে দারুণ এক সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে এবং কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। বিশ্বকাপে (পর্তুগালের) সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও গনসালো রামোসের জন্য থাকবে। তাদের বাইরে আমরা একজন তৃতীয় স্ট্রাইকার খুঁজছি।’

    পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ
    পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ, এএফপি
     

    দুটি প্রীতি ম্যাচেও যে সেই খোঁজ চলবে, সেটির ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি, ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষার এটাই শেষ সুযোগ। কারণ, বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে এটাই শেষ ক্যাম্প।’

    আল নাসরের ম্যাচে চোট পান রোনালদো
    আল নাসরের ম্যাচে চোট পান রোনালদো,এএফপি
     

    আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর গোলসংখ্যাই সর্বোচ্চ। ২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে সেই সংখ্যাটা তো বাড়াতে চাইবেন, রোনালদো নিশ্চিতভাবেই চাইবেন আরাধ্য বিশ্বকাপটাও জিততে।

    বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে থাকা পর্তুগাল আগামী ১৭ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে পর্তুগাল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্বকাপ।

  • রোনালদোর চোট যতটা ভাবা হয়েছিল তার চেয়েও ‘মারাত্মক’

    সৌদি প্রো লিগে গত শনিবার আল ফায়হার বিপক্ষে আল নাসরের ৩-১ গোলে জয়ের ম্যাচে ৮১ মিনিটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠে ছাড়েন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডাগআউটে বসে এরপর ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে আইসপ্যাক লাগাতে দেখা যায় তাঁকে। তখনই অনেকের মনে ভ্রুকুটি জেগেছিল—রোনালদো কি চোটে পড়েছেন?

    শঙ্কা সত্যি হয় গত মঙ্গলবার। আল নাসর জানায়, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েছেন রোনালদো। তবে সেরে উঠতে ঠিক কত দিন লাগতে পারে, সেটা তখন জানা যায়নি। তবে কাল আল নাসর কোচ জর্জ জেসুস জানালেন আরও শঙ্কার খবর। রোনালদোর চোট প্রথমে দেখে যতটা হালকা মনে হয়েছিল, আসলে তা নয়। জেসুসের ভাষায়, এই চোট নাকি ‘আরও মারাত্মক।’

    আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে চোট পান রোনালদো
    আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে চোট পান রোনালদো, এএফপি

    জেসুস এরপর বলেন, ‘ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে তাকে চিকিৎসা নিতে হবে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই সে ফিরে এসে দলকে সাহায্য করতে পারবে।’
    সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, রোনালদো সৌদি আরব ছেড়ে স্পেনে গেছেন এবং মাদ্রিদে ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্টের দ্বারস্থ হবেন। আজ রাতে এবং আগামী ১৪ মার্চ আল নাসরের ম্যাচে রোনালদো খেলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জেসুস। তবে এরপর থেকে যে তাঁকে পাওয়া যাবে, সেই নিশ্চয়তাও নেই।

    🚨 Jorge Jesus: “After tests, we see the injury suffered by Cristiano Ronaldo was more serious than expected”.

    “Cristiano will now travel to Spain, like other players who went for treatment when they were injured. His injury required treatment in Madrid with his personal… pic.twitter.com/uCb70kgiGg

    — Fabrizio Romano (@FabrizioRomano) March 6, 2026

    তবে রোনালদোর চোট নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে পর্তুগালেরও। বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী ২৯ মার্চ মেক্সিকো এবং ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ দুটি ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর খেলা নিশ্চিত নয়।

  • রোজায় বাড়ল মাছ, মাংস ও সবজির দাম, এক হালি লেবু এখন ১০০ টাকার বেশি

    রাজধানী ঢাকার বাজারে ভালো মানের এক হালি লেবুর দাম এখন ১০০-১২০ টাকা। আর ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের এক ডজন (১২টি) ডিমের দাম ১১০ টাকা। অর্থাৎ এক হালি লেবুর দামে এখন এক ডজন ডিম কেনা যাচ্ছে।

    আজ বৃহস্পতিবার শুরু হলো পবিত্র রমজান মাস। এর আগেই বাজারে লেবুসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা মরিচ, খেজুর, ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছ।

    গতকাল বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    রোজার সময় ইফতারিতে অনেকেই লেবুর শরবত খান। কিন্তু গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, রোজার শুরুর দিকে বেশ কিছু পণ্যের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। অবশ্য এই সুযোগে কেউ কেউ অতিরিক্ত দামও রাখছেন। তবে সপ্তাহখানেক পর অধিকাংশ পণ্যের দাম কমে আসতে পারে বলে জানান তাঁরা।

    রোজার সময় ইফতারিতে অনেকেই লেবুর শরবত খান। কিন্তু গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় কেনা যেত। সেই লেবু এখন ৬০ টাকার নিচে কেনা যায় না। আর একটু ভালো মানের ও বড় আকারের এক হালি লেবু কিনতে লাগছে ১২০ টাকা। অর্থাৎ একটি লেবুর দামই পড়ছে প্রায় ৩০ টাকা। গত বছর রোজা শুরুর আগে এক হালি লেবুর দাম ছিল ৪০-৫০ টাকা।

    রোজার সময় ইফতারিতে অনেকেই লেবুর শরবত খান। কিন্তু গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় কেনা যেত। সেই লেবু এখন ৬০ টাকার নিচে কেনা যায় না।

    ইফতারির বিভিন্ন উপকরণ তৈরির জন্য ভোক্তারা শসা, টমেটো, গাজর, বেগুন কেনেন। বাজারে বেগুন ও শসার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে।

    গতকাল ধরনভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের বেগুনের দাম আরও বেশি। আর প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

    এ ছাড়া টমেটো ও গাজরের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। গত বছরের এ সময়ের তুলনায় বেগুন, শসা, টমেটোর দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি রয়েছে।

    বাজারে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচের মতো নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ বলেন, ‘মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে লেবুর সরবরাহ কম। হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় লেবুর দাম বেড়েছে। আর শসা, টমেটোসহ অন্যান্য সবজির দাম বাড়ার তেমন কারণ নেই। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় আড়তে (পাইকারি) দাম বেড়ে গেছে। পাইকারি দামের চেয়ে আমরা ১০-২০ টাকা লাভ রাখি।’

    সপ্তাহ দুই আগে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকায়।

    ব্রয়লারের কেজি ২০০ টাকা ছাড়াল

    নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা আমিষের উৎস হিসেবে গরু, খাসি বা দামি মাছ তুলনামূলক কম খান। এর পরিবর্তে তাঁদের কাছে সহজলভ্য হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। কিন্তু রোজা শুরুর আগেই বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে।

    সপ্তাহ দুই আগে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকায়। এই সময়ে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এক ডজন ডিমের দাম এখন ১০৫-১১০ টাকা।

    মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে লেবুর সরবরাহ কম। হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় লেবুর দাম বেড়েছে। আর শসা, টমেটোসহ অন্যান্য সবজির দাম বাড়ার তেমন কারণ নেই। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় আড়তে (পাইকারি) দাম বেড়ে গেছে। পাইকারি দামের চেয়ে আমরা ১০-২০ টাকা লাভ রাখি।সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ

    বিক্রেতারা জানান, মুরগির বাচ্চার দাম বেড়েছে। আর শীতে খামারে মুরগির মৃত্যুর কারণেও দামে প্রভাব পড়েছে। আর প্রতিবছর রোজার শুরুতে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বাড়ে। এটিও মূল্যবৃদ্ধির আর আরেকটি কারণ।

    এবার মাছবাজারের খোঁজ নেওয়া যাক। চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, কই, শিং, রুই, কাতলের দাম আগের চেয়ে কেজিতে ২০-৫০ টাকা বেড়েছে। যেমন গতকাল প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে ২২০-২৫০ টাকায়। কয়েক দিন আগে ছিল ২০০-২২০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই বা কাতলা মাছ ৪০০ টাকার কমে কেনা যায় না। রোজা শুরুর আগে এভাবে মাছ-মুরগির দাম বাড়ায় কষ্ট বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের।

    দেশীয় ফলের মধ্যে ধরনভেদে কলার দাম ডজনে ৩০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া পেঁপে, পেয়ারা, বরই প্রভৃতি ফল আগের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    রাজধানীর পল্লবী এলাকার বাসিন্দা ও একটি পোশাক কারখানার কর্মী শামসুল ইসলাম বলেন, রোজার মধ্যে যেসব জিনিসের চাহিদা বেশি, সব কটির দাম বেড়েছে। এটা তো অস্বাভাবিক। রোজা এলে যেখানে দাম কমার কথা, সেখানে উল্টো দাম বেড়েছে।

    কয়েক দিন ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

    ফলের দামও চড়া

    রোজা শুরুর আগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। বিদেশি ফলের মধ্যে রোজায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে খেজুর, মাল্টা ও আপেলের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মাল্টা ও আপেলের। গতকাল এক কেজি মাল্টা ৩১০-৩৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর আপেল বিক্রি হয়েছে ৩৩০-৪০০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে মাল্টা ও আপেলের দাম কেজিতে ৫০-৮০ টাকা কম ছিল। দেশীয় ফলের মধ্যে ধরনভেদে কলার দাম ডজনে ৩০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া পেঁপে, পেয়ারা, বরই প্রভৃতি ফল আগের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    রোজায় প্রয়োজনীয় ছোলা, অ্যাংকর ডাল, চিনির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়েছে। আর কয়েক দিন ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

  • রোজায় হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

    পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

    সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন।

    আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারিয়া তানজিমা।

    এর আগে রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

    বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।

    তার আগে রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি।

    নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

    নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।

  • রোনান সুলিভান: বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন আশার আলো

    সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে রাজত্ব ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও জিতল শিরোপা। গত রাতে মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। মাঠের এই সাফল্যে একক কোনো বীরত্বের চেয়ে দলীয় সংহতি বড় হয়ে উঠলেও পুরো টুর্নামেন্টে আলো কেড়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান। ১২ নম্বর জার্সি গায়ে জড়ালেও মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি ছিলেন খাঁটি ‘নাম্বার নাইন’ এবং খেলেছেনও সেই পজিশনেই।

    বাংলাদেশের সাফল্যের এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। গত ২৮ জানুয়ারি যশোরের শামসুল হক একাডেমিতে শুরু হওয়া প্রাথমিক ক্যাম্প চলে ১৪ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত। এরপর প্রিমিয়ার লিগের ব্যস্ততায় মাঝপথে এক মাসের বিরতি পড়ে। দলের বেশির ভাগ ফুটবলারই ঘরোয়া লিগের শীর্ষ দলগুলোতে খেলছেন। গোলকিপার মাহিন, মিডফিল্ডার কামাল ঢাকা মোহামেডানে, সেন্টার ব্যাক ইউসুফ, মিডফিল্ডার চন্দন বসুন্ধরা কিংসে। সেন্টার ব্যাক ও অধিনায়ক মিঠু ও লেফট উইঙ্গার মোর্শেদ ফর্টিস এফসিতে, মিডফিল্ডার ফয়সাল আর ফরোয়ার্ড মানিক পিডব্লুউডিতে। সেন্টার ব্যাক রিয়াদ ঢাকা আবাহনীতে খেলেন।

    ভারতের বিপক্ষে গতকাল সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফাইনালে জয়ের পর রোনানের দৌড়। টাইব্রেকারে তাঁর লক্ষ্যভেদেই জিতেছে বাংলাদেশ
    ভারতের বিপক্ষে গতকাল সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফাইনালে জয়ের পর রোনানের দৌড়। টাইব্রেকারে তাঁর লক্ষ্যভেদেই জিতেছে বাংলাদেশ, সাফ ফুটবল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল
     

    গত ১৬ মার্চ আবার শুরু হয় ক্যাম্প। ঢাকা আবাহনীর বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের পর ১৮ মার্চ ক্যাম্পে যোগ দেন সুলিভান ভাইয়েরা। মাত্র কয়েক দিনের অনুশীলনে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে রোনান বুঝিয়ে দেন, তিনি বিশেষ কিছুর জন্যই এসেছেন।

    মালের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয়ের নায়ক ছিলেন রোনান। দলের ২-০ গোলের জয়ে দুটি গোলই তাঁর। একটি দর্শনীয় ফ্রি-কিকে এবং অন্যটি নিখুঁত হেডে। ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচেও অবদান ছিল তাঁর। রোনানের নেওয়া কর্নার থেকে সেন্টার ব্যাক রিয়াদ গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও সুলিভানের বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবল নজর কেড়েছে দর্শকদের।

    দলের কোচিং স্টাফদের মতে, রোনানের বড় শক্তি হলো তাঁর ‘গেম সেন্স’ ও দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। নানি বাংলাদেশি হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পাওয়া এই তরুণের মধ্যে দেশের প্রতি টান চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি গোলের পর লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে তাঁর উল্লাস ছিল অকৃত্রিম। ফুটবল বোদ্ধাদের বিশ্বাস, রোনানকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ‘নাম্বার নাইন’ বা স্ট্রাইকার সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান মিলতে পারে।

    সহকারী কোচ আকবর হোসেন রিদন মালে থেকে ফোনে বলেন, ‘পরিচর্যা করতে পারলে বাংলাদেশের নাম্বার নাইন সংকট সে দূর করতে পারবে। একটা দেশে প্রথম এসেই ওর মধ্যে যে দেশাত্মবোধ দেখেছি তা অসাধারণ। গেম সেন্স খুব ভালো। সহজেই সবকিছু বুঝতে পারে। সত্যি বলতে, কারও মধ্যে দেশাত্মবোধ থাকলে খুব বেশি কোচিং লাগে না। মনে বাংলাদেশ আর মাথায় ফুটবল থাকলে আর কিছু লাগে না।’

    বাংলাদেশের ফুটবলে আশার আলো হয়ে এসেছেন রোনান
    বাংলাদেশের ফুটবলে আশার আলো হয়ে এসেছেন রোনানসাফ ফুটবল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল
     

    শুধু রোনান নন, ইংল্যান্ড প্রবাসী ইব্রাহিম নেওয়াজও সম্ভাবনাময় ফুটবলার। সাফ অনূর্ধ্ব–২০ টুর্নামেন্টে শুধু প্রথম ম্যাচটা খেলেন। ফিটনেস সমস্যা ছিল তাঁর কিছুটা। টেকনিক্যালি খুব ভালো। রিদন বলেন, ‘ইব্রাহিম নেওয়াজের গেম নলেজ অত্যন্ত উঁচু মানের। বয়সভিত্তিক ক্যাম্পে তাদের আরও আগে আনা গেলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।’

    সুলিভানের ভাই ডেকলান ফাইনালসহ দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশা, আগামীতে এসব প্রবাসী ফুটবলারকে আরও আগে থেকে ক্যাম্পে যুক্ত করতে পারলে দল আরও শক্তিশালী হবে।

    বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের সাফে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে চাবিকাঠি ছিল দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া। বাফুফে এলিট একাডেমির এই দলটির ফুটবলাররা অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায় থেকেই একসঙ্গে খেলে আসছেন, যার ফল পাচ্ছে বাংলাদেশ।

    ট্রফি হাতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সহকারী কোচ আকবর হোসেন রিদন
    ট্রফি হাতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের সহকারী কোচ আকবর হোসেন রিদন, বাফুফে
     

    আইরিশ কোচ মার্ক কক্স গত ১২ মার্চ ঢাকায় আসেন। এরপর তাঁর হাতে দেওয়া হয় দলের দায়িত্ব। তবে মাঠের কৌশলে দেশীয় কোচ আকবর হোসেন রিদন ও আতিকুর রহমানের ওপর আস্থা রেখেছিলেন তিনি। এ ছাড়া গোলকিপার কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্যের অধীনে গোলরক্ষকদের আত্মবিশ্বাস এবং বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সরাসরি তত্ত্বাবধান দলটিকে একটি পরিবারে পরিণত করেছে, এমনটাই বলছেন কোচিং স্টাফের সদস্যরা।

    সাফের এই ট্রফি শুধুই একটি শিরোপা নয়, বরং রোনান সুলিভানের মতো উদীয়মান তারকাদের হাত ধরে বাংলাদেশের ফুটবলের আগামীর  ইঙ্গিত। হৃদয়ে বাংলাদেশ আর মাথায় ফুটবল ম্যাচ জয়ের জেদ থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব, অনূর্ধ্ব-২০ দল আরও একবার তা প্রমাণ করল।

    বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–২০ দল আজ সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ঢাকায় ফিরবে।

  • র‌্যানকন অটোর ২৫% শেয়ার কিনল জাপানের মিতসুবিশি

    দেশে গাড়ি তৈরিতে এবার সরাসরি বিনিয়োগ করছে জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি করপোরেশন। তারা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় কৌশলগত বিনিয়োগ করবে। এরই অংশ হিসেবে র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনে নিচ্ছে জাপানি এই প্রতিষ্ঠান।

    এত দিন র‌্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ নিজেদের কারখানায় জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন থেকে গাড়ি এনে সংযোজন করত। এখন র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হলো মিতসুবিশি করপোরেশন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের চার চাকার পরিবহন খাতে এটি এখন পর্যন্ত জাপানের সবচেয়ে বড় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই।

    নতুন বিনিয়োগ উপলক্ষে আজ বুধবার রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মিতসুবিশির সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করে র‌্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোয়ুকি এগামি, র‍্যানকন হোল্ডিংসের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরীসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার দিয়ে শুরু

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১৭ সালে দেশে যানবাহন সংযোজন শুরু করে। স্থানীয়ভাবে তারা প্রথম সংযোজন করে মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার। এরপর একে একে ফুসো বিএম১১৭ বাস, মার্সিডিজ ওএফ১৬২৩ বাস, প্রোটন এক্স৭০, জ্যাক ও জিএমসি ট্রাক ও পিকআপ ট্রাক সংযোজন করা হয়। গাজীপুরের গাড়ির এই কারখানা সম্প্রসারণে গত বছর প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি।

    র‌্যানকন জানায়, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ দেশের ভোক্তাদের জন্য বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের যানবাহন উৎপাদন ও সংযোজন করে আসছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটি দেশে মিতসুবিশির জনপ্রিয় এক্সপ্যান্ডার মডেলের গাড়ি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু করে। জাপানের মিতসুবিশির আউটল্যান্ডার মডেলের গাড়ি সংযোজনের মধ্য দিয়ে র‌্যানকন অটোর যাত্রা শুরু হয় ওই বছর। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে এই মডেল উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায় র‌্যানকন অটো। বর্তমানে ৯৮ হাজার বর্গফুটের এ কারখানায় চার ধরনের গাড়ি সংযোজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে মিতসুবিশির এক্সপ্যান্ডার মডেল ও প্রোটনের এক্স-৭০ মডেলের ব্যক্তিগত সংযোজন ও গাড়ি রং করা হয়।

    অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাপানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মোটর গাড়ি উৎপাদন করতে যাচ্ছে। মিতসুবিশির মতো একটি বৈশ্বিক অটোমোবাইল কোম্পানি যখন বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ করে, তখন এটি একটি বার্তা দেয়। আশা করছি এই বিনিয়োগ অন্যান্য বড় কোম্পানিকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলবে।’

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘চলতি বছর বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই সম্ভবত দেশে প্রথম এফডিআই। আমরা আশা করি, এই যৌথ উদ্যোগ অন্যান্য দেশ থেকে অনেক নতুন সুযোগ নিয়ে আসবে। আগামী মাস থেকে আমরা টোকিওগামী ফ্লাইট শুরু করছি, যা আগে বন্ধ ছিল। এতে দুই দেশের যোগাযোগ ও ব্যবসা–বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াবে।’

    বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য ভালো বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরিতে সাহায্য করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।

    মিতসুবিশি করপোরেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিরোয়ুকি এগামি বলেন, ‘৫০ বছর ধরে র‍্যানকন গ্রুপ বাংলাদেশে মিতসুবিশি মোটরস গাড়ির বিক্রয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশে অটোমোবাইল ভ্যালু চেইন ব্যবসায় অংশগ্রহণ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত।’

    র‍্যানকন হোল্ডিংসের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরী বলেন, ‘মিতসুবিশি করপোরেশন সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের ২৫ শতাংশ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। এটি সম্ভবত বাংলাদেশে চার চাকার গাড়ি উৎপাদনে প্রথম সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ। আশা করি এই যৌথ উদ্যোগ অন্যান্য বৈশ্বিক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।’

  • র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের কাছে তিন গোলে হার বাংলাদেশের

    র‍্যাঙ্কিংয়েই ব্যবধান ছিল স্পষ্ট, যার ছাপ ফুটে উঠল মাঠেও।

    ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচে আজ ভিয়েতনামের কাছে ৩–০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ভিয়েতনামের অবস্থান ১০৩–এ, বাংলাদেশ ১৮১। বাংলাদেশ তিনটি গোল হজম করেছে প্রথমার্ধে। ‎হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে দ্বিতীয়ার্ধের ৪৫ মিনিটই স্বাগতিকদের আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ।

    শক্তিতে পার্থক্যের কারণে এমন হার অপ্রত্যাশিত না হলেও দুশ্চিন্তার জায়গা অবশ্য মিলিয়ে যায়নি। হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের জার্সি গায়ে চাপানোর এক বছর পেরিয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ খেলেছে আটটি ম্যাচ। হার–জিতের দিকটা বাদ দিলে মাঠে অন্তত লড়াইটা দেখা গেছে বেশির ভাগ সময়ই। তবে আজ ভিয়েতনামের বিপক্ষে তেমন কিছু দেখা মেলেনি।

    প্রথমার্ধে তিন গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ খানিকটা সতর্ক ফুটবল খেললেও গোলের সুযোগ খুব একটা তৈরি করতে পারেননি কেউ। হাভিয়ের কাবরেরাও তাঁর হাতে থাকা ফুটবলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করেছেন। তবু হারের তিক্ততা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে।

    হামজা–শমিতদেরও রক্ষণে বেশি খেলতে হয়েছে
    হামজা–শমিতদেরও রক্ষণে বেশি খেলতে হয়েছে, বাফুফে

    ‎‎দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে দুই পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। মিরাজুল ইসলামের জায়গায় শেখ মোরছালিন আর ফাহামিদুল ইসলামের জায়গায় শাহরিয়ার ইমনকে নামান। তবু আক্রমণেও গতি ফেরেনি৷ মাঝেমধ্যে মাঝমাঠ থেকে বলের জোগান দিয়েছেন হামজা-শমিত সোমরা। কিন্তু সে সবের সদ্ব্যবহার করতে পারেননি বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা। বিপরীতে ভিয়েতনাম নিয়মিতই আক্রমণ করে গেছে। ৫৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের ফ্রি–কিক বাংলাদেশের রক্ষণ দেয়ালে আটকা পড়ে। ৬৫ মিনিটে স্বাগতিকদের আরেকটি গোছানো আক্রমণ অফসাইডে কাটা পড়ে।

    ‎৬৯ মিনিটে আরও দুই পরিবর্তন আনেন কাবরেরা। নামানো হয় বিশ্বনাথ ঘোষ ও সুমন রেজাকে। মাঠ ছাড়েন সাদ উদ্দিন এবং ফয়সাল আহমেদ। এর তিন মিনিট পরই ভিয়েতনামের চমৎকার একটি আক্রমণ পোস্ট ছেড়ে এসেই প্রতিহত করেন গোলকিপার মেহেদী হাসান। ৭৮ মিনিটে বাংলাদেশ আরও দুই পরিবর্তন আনে। জামাল ভূঁইয়া, রহমত মিয়াদের জায়গা করে  দিতে তুলে নেওয়া হয় জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানাকে। ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য সম্ভবত সবচেয়ে ভালো মুহূর্ত ৮৬ মিনিটে হামজার প্রচেষ্টা। সুমন রেজার ক্রসে শূন্যে লাফিয়ে ব্যাক হিলে লক্ষ্য খোঁজার চেষ্টা করলেও তা অবশ্য কাজে লাগেনি।

    এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে অষ্টম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ভিয়েতনামের ডিফেন্ডার শুয়ং তিয়েন আইনের কর্নার থেকে আসা বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে জায়ান উল্টো নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন। ১৮ মিনিটে ভিয়েতনাম ব্যবধান দ্বিগুণ করে প্যাম চুন মানের গোলে। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল হেডে জালে জড়ান তিনি। আর ৩৮ মিনিটে স্কোরলাইন ৩–০ করেন মিডফিল্ডার হাই লং।
    শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইনেই বেজেছে ম্যাচের শেষ বাঁশি।

    বাংলাদেশ দল: মেহেদী হাসান (গোলকিপার), শাকিল আহাদ, তারিক কাজী, জায়ান আহমেদ (রহমত মিয়া, ৭৮’), সাদ উদ্দিন (বিশ্বনাথ ঘোষ, ৬৯’), হামজা চৌধুরী, সোহেল রানা (জামাল ভূঁইয়া, ৭৮’), শমিত সোম, মিরাজুল ইসলাম (শেখ মোরছালিন, ৪৬’), ফয়সাল আহমেদ (সুমন রেজা, ৬৯’) ও ফাহামিদুল ইসলাম (শাহরিয়ার ইমন, ৪৬’)।
  • লঙ্কা বধে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জিম্বাবুয়ে, বিশ্বকাপ যেন রোডেশিয়ান রূপকথা

    আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর এবার স্বাগতিক লঙ্কানদের হারিয়ে নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে রোডেশিয়ানরা। ১৭৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে আফ্রিকার দলটি।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা।

    আগে ব্যাট করতে নেমে ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় শ্রীলঙ্কা। মুজারাবানির পেসে ২২ রানে কুশাল পেরেরা ফিরলে ভাঙ্গে পার্টনারশিপ। দলীয় ১০০ রানের মাথায় ২য় উইকেট হারায় লঙ্কানরা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান আসে পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাট থেকে। ৪৪ রান করে ক্যাচ আউটের ফাঁদে পড়েন পাভান রত্নায়েকে।

    নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লে দুনিথ ভেল্লালাগের ১৫ রানে ১৭৮ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবুয়ের পক্ষে মুজারাবানি, ইভান্স ও ক্রেমার তুলে নেন ২টি করে উইকেট।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৬৯ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় জিম্বাবুয়ে। ৩৪ রান করে আউট হোন মারুমানি। আর ১২ বলে ২৩ রান করে আউট হয়েছেন রায়ান বার্ল।

    ৪৫ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন সিকান্দার রাজা। তবে বেনেটের অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংসে ৬ উইকেটের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জিম্বাবুয়ে।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব