• মেসি–ম্যানিয়া: এমএলএসের সবচেয়ে ‘দামি’ দল এখন ইন্টার মায়ামি

    লিওনেল মেসি যখন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন, তখন থেকেই কথাটা বেশ পরিচিত হয়ে ওঠে—‘মেসি-ম্যানিয়া’। তবে এই উন্মাদনা যে কেবল গ্যালারিতে হইহুল্লোড় আর জার্সি বিক্রিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা বোধ হয় খোদ ক্লাবমালিক ডেভিড বেকহামও ভাবেননি।

    মেসির ছোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের খেলার জগৎটাই যেন রাতারাতি বদলে গেছে। গ্যালারিতে সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি হলিউড তারকাদের উপচে পড়া ভিড়ই বলে দিচ্ছিল, ফুটবল এখন আর সেখানে কেবল ‘সকার’ নেই, বরং বিনোদনের বড় অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।

    মাঠ ও মাঠের বাইরে গত আড়াই বছর আমেরিকায় চলেছে মেসির একক রাজত্ব। যে ক্লাব আগে কখনো শিরোপার মুখ দেখেনি, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের হাত ধরে তারা জিতেছে তিনটি ট্রফি।

    এর মধ্যে আছে ২০২৫ সালের এমএলএস কাপও। মাঠের এই সাফল্যের জোয়ার লেগেছে ক্লাবের সিন্দুকেও। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের লিগের ৩০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে সবচেয়ে দামি বা মূল্যবান দলে পরিণত হয়েছে ‘দ্য হেরনস’–খ্যাত ইন্টার মায়ামি।

    ক্রীড়া অর্থনীতিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্পোর্তিকোর হিসাব বলছে, ২০২৬ মৌসুম শুরু করার সময় ইন্টার মায়ামির আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ১৪৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি! মায়ামির এই ঝড়ে শীর্ষ স্থান হারিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি। ১৪০ কোটি ডলার মূল্য নিয়ে তারা এখন তালিকার ২ নম্বরে।

    এমএলএস কাপের ট্রফি নিয়ে মায়ামির উদযাপন
    এমএলএস কাপের ট্রফি নিয়ে মায়ামির উদযাপনএএফপি

    গত এক বছরে ইন্টার মায়ামির বাজারমূল্য বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। মূলত এই ‘লাফ’ দিয়েই তারা ক্যালিফোর্নিয়ার দলটিকে টপকে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। তাই মায়ামির গতিবেগের সঙ্গে তারা কুলিয়ে উঠতে পারেনি।

    মায়ামির এই ফুলেফেঁপে ওঠার পেছনে শুধু মেসির পায়ের জাদু নয়, কাজ করেছে ক্লাবের বড় পরিকল্পনাও। এ বছরই ক্লাবটি তাদের নতুন স্টেডিয়াম উদ্বোধন করতে যাচ্ছে। আধুনিক এই অবকাঠামো ক্লাবের সম্পদে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

    মূল্যমানের বিচারে শীর্ষ পাঁচ দলের বাকিরা হলো লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি (১১৭ কোটি ডলার), আটলান্টা ইউনাইটেড (১১৪ কোটি ডলার) এবং নিউইয়র্ক সিটি এফসি (১১২ কোটি ডলার)।

    সব মিলিয়ে এমএলএসের ৩০টি ক্লাবের গড় মূল্য এখন ৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২০২১ সালে যখন স্পোর্তিকো প্রথম এই মূল্যায়ন শুরু করেছিল, তার চেয়ে বর্তমানে মূল্য বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। সব ক্লাব মিলিয়ে লিগের মোট সম্পদ এখন প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফুটবলের এত রমরমা দশা হলেও দেশটির অন্য জনপ্রিয় লিগগুলোর তুলনায় তা এখনো বেশ কম। এনএফএল বা এনবিএর মতো লিগের দলগুলোর সম্পদের পাহাড়ের কাছে এমএলএস এখনো অনেক পিছিয়ে।

    লিওনেল মেসির জাদুতেই বদলে গেছে মায়ামি
    লিওনেল মেসির জাদুতেই বদলে গেছে মায়ামি, রয়টার্স

    যুক্তরাষ্ট্রের বড় ৫টি লিগের মোট ১৫৪টি দলের তালিকা করলে ইন্টার মায়ামির অবস্থান হয় ১১৬তম। এই তালিকার শীর্ষে থাকা এনএফএলের দল ডালাস কাউবয়েসের মূল্য ১ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। বাস্কেটবল–দুনিয়ার গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সের মূল্য ১ হাজার ১৩৩ কোটি ডলার।

    সব হিসাব-নিকাশ শেষে মাঠের লড়াই শুরুর পালা। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে ২০২৬ এমএলএস মৌসুমের। উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হবে তালিকার সেরা দুই ‘ধনী’ দল। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির মাঠেই আতিথ্য নেবে মেসির ইন্টার মায়ামি।

  • মোংলা বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে চায় সরকার: নৌপরিবহন মন্ত্রী

    দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি এ কথা বলেন।

    নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমকে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা করছে সরকার। বিগত সরকারের সময় মোংলা বন্দর নিয়ে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি বাতিল হবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “চুক্তিগুলো আমরা স্টাডি করব। যদি দেশের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং আমাদের জন্য সহায়ক হয়, তাহলে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে কার্যকর রাখা হবে।”

    জাতীয় অর্থনীতিতে মোংলা বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করলে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সফল সামুদ্রিক বন্দরে পরিণত করা সম্ভব। বর্তমানে রেল ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলেও তা আরও আধুনিক ও গতিশীল করা প্রয়োজন। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কিছু অবকাঠামোগত সুবিধা বাস্তবায়ন করা গেলে মোংলা বন্দরকে সক্ষম ও সফল বন্দরে রূপান্তর করা সম্ভব।

    আগামী ছয় মাসের মধ্যেই বন্দরের ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানান তিনি।

  • মোস্তাফিজকে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় কিনল বার্মিংহাম

    ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেডে দল পেয়েছেন বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। আজ লন্ডনে ২০২৬ আসরের নিলামে তাঁকে ১ লাখ পাউন্ডে কিনেছে বার্মিংহাম ফিনিক্স। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি।

    টি–টুয়েন্টি হিসেবে স্বীকৃত ১০০ বলের খেলার দ্য হানড্রেডে এবারই প্রথম খেলবেন মোস্তাফিজ।

    দ্য হানড্রেড নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় মোস্তাফিজসহ বাংলাদেশের দুই খেলোয়াড় ছিলেন। অন্যজন রিশাদ হোসেন। তবে স্পিনারদের টায়ান ওয়ানে থাকা এই ক্রিকেটার দল পাননি।

    ৩০ বছর বয়সী মোস্তাফিজকে ভিত্তিমূল্যেই পেয়েছে বার্মিংহাম। দ্য হানড্রেডের জন্য খেলোয়াড় কিনতে সেন্ট্রাল লন্ডনের পিকাডিলি লাইটসের নিলামে অংশ নেয় মোট ৮টি ফ্র্যাঞ্চাইজি।

    বার্মিংহাম দলে মোস্তাফিজ খেলবেন ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল, ক্রিস উড, পাকিস্তানের উসমান তারিক ও দক্ষিণ আফ্রিকার ডোনোভান ফেরেইরার সঙ্গে।

    আগামী ২১ জুলাই শুরু হবে দ্য হানড্রেডের পঞ্চম আসর।

  • যারা আমাকে ‘বোরকা’ কিনতে বলেছিল, তাদের জন্যই ‘এই ছবি’

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। পোস্টটিতে তিনি পোশাক পরা নিয়ে ভক্তদের সাথে নিজের চিন্তাধারা শেয়ার করেছেন।

    নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্নের পর পোস্টের প্রথমেই তিনি লেখেন, আমাদের সবার জন্য গর্বের মুহূর্ত। ওয়েল ডান, বাংলাদেশ! নির্ঘুম রাত কাটানোর পর এক শান্তিপূর্ণ সকাল। নিজেকে কৃতজ্ঞ এবং অত্যন্ত গর্বিত মনে হচ্ছে।

    পোস্টে পোশাক পরা নিয়ে  সমালোচনার উত্তরে অভিনেত্রী লেখেন, যারা আমাকে ‘বোরকা’ কিনতে বলেছিলন, তাদের জন্যই এই ছবি। ছোটবেলা থেকেই আমি নিয়মিত বোরকা পরি। আমার কাছে এটি আরেকটি পোশাক। এর থেকে বেশি আর কিছুই নয়। কখনো পায়জামা ঢাকতে, কখনো তেল দেয়া চুল আড়াল করতে, কখনো জনসমাগমে মিশে যেতে এতটাই সহজ পোশাক।

    পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তবে যারা ট্রোল ও সমালোচনা, অপমান কিংবা হেনস্তা করার চেষ্টা করেছেন; এই পোস্টটি তাদের জন্যও।

    নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে অভিনেত্রী বাঁধন বলেন, যারা জিতেছেন তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। আর যারা জিততে পারেননি, তাদের জন্যও অভিজ্ঞতাটাই এক ধরনের বিজয়। শেষে তিনি বলেন, এটাই আমাদের দেশ। সম্মান ও ঐক্য নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে। সেটাই চূড়ান্ত লক্ষ্য।

  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশ্বকাপ ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নিচ্ছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্প সরানোর অনুমোদন পেয়েছে ইরান ফুটবল দল। এমনটাই দাবি করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। খবর, দ্য গার্ডিয়ান'র। 

    শনিবার (২৩ মে) ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ এক বিবৃতিতে জানান, ফিফার অনুমোদনের পর ২০২৬ বিশ্বকাপে দলের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা।

    এর আগে, ইরানের অনুশীলন ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল অ্যারিজোনার কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের আলোচনা চলছিল।

    মেহেদি তাজ বলেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দলের বেস ক্যাম্প ফিফার অনুমোদনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। ইস্তাম্বুলে ফিফা ও বিশ্বকাপ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এবং তেহরানে ফিফা মহাসচিবের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলোচনার পর আমাদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে।

    ফেডারেশনের দাবি, মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহরে ক্যাম্প স্থাপন করলে ভিসা জটিলতা কমবে। কারণ দলটি মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। তাজ আরও জানান, ইরান এয়ারের ফ্লাইট ব্যবহার করেও যাতায়াতের সুযোগ থাকতে পারে।

    ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে টুর্নামেন্ট চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত।

    গ্রুপ ‘জি’-তে থাকা ইরান আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান।

    উল্লেখ্য, এ বছর মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে গত মাসে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচ খেলবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা: বিদেশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেয় যে যে বিশ্ববিদ্যালয়

    উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা বিশ্বের লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। তবে টিউশন ফি, আবাসন, বইপত্র ও যাতায়াত ব্যয়ের কারণে অনেকের কাছেই সে স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। তবু যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উদার আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তির সুযোগ দিয়ে থাকে, যা বিদেশে পড়াশোনাকে তুলনামূলক সহজলভ্য করে তুলেছে।

    ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি–এমআইটি—
    কোয়াকুয়ারেলি সাইমন্ডস (কিউএস) র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, পরপর দুই বছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে এমআইটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্টুডেন্ট ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বিভাগ শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সহায়তার ব্যবস্থা করে। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলারের (প্রায় ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা) কম, তাঁদের জন্য বৃত্তি বা অনুদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এমআইটির প্রায় ৩৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ স্নাতক শিক্ষার্থী এমন বৃত্তি বা অনুদান পেয়েছেন, যার পরিমাণ টিউশন ফির সমান বা তার বেশি।

    হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়—
    হার্ভার্ড কলেজের গ্রিফিন ফাইন্যান্সিয়াল এইড অফিস আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলার বা তার কম হলে শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন। এ সহায়তার আওতায় টিউশন ফি, আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত ব্যয় এবং প্রথম বর্ষে ২ হাজার ডলারের স্টার্ট-আপ অনুদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। এ ছাড়া যেসব পরিবারের আয় ২ লাখ ডলারের কম, তাদের জন্যও টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়।

    ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়—
    ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা না করেই ভর্তিপ্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রদর্শিত আর্থিক চাহিদার শতভাগ পূরণের প্রতিশ্রুতি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

    প্রথম বর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত তিনটি আবেদনমাধ্যমের যেকোনো একটির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন।

    স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়—
    স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত পরিমাণ আর্থিক সহায়তা রয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের ভর্তির আবেদনের সময়ই বিষয়টি উল্লেখ করতে হয়।

    ভর্তি হওয়ার পর পারিবারিক আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়।

    কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়—
    কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তিপ্রক্রিয়া অন্য শিক্ষার্থীদের মতো হলেও আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে ‘নিড-অ্যাওয়ার’ নীতি অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ আবেদনকারীর আর্থিক প্রয়োজনও মূল্যায়নের অংশ হতে পারে।

    বর্তমানে গড় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৭৯ হাজার ৩৭৫ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৬ লাখ টাকার সমান।

    আবেদন শুরু করুন আগে থেকেই
    উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা বা বৃত্তির আবেদন আগেভাগে শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো প্রস্তুতি ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করলে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়াশোনার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার সুযোগ বাড়ে।

    এনডিটিভি

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সোমবার, সশরীর থাকবেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিব

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্কের ওপর বাণিজ্য চুক্তি হবে আগামী সোমবার। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। নির্ধারিত সময়েই অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু হবে অবশ্য আগের দিন ৮ ফেব্রুয়ারি। তবে দুই দিনব্যাপী এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। উপস্থিত থাকছেন না বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানও।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই প্রতিবেদক আলাদাভাবে মুঠোফোনে কথা বলে এই তথ্য জেনেছেন।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি (বাণিজ্য উপদেষ্টা) ও বাণিজ্যসচিব যাচ্ছেন না। তবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি দল যাচ্ছে ওয়াশিংটনে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩ ফেব্রুয়ারি দলের সদস্যদের নামে যে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে, তাতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    চুক্তির জন্য এবারের সফরকারী দলের প্রধান হচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের প্রধান খাদিজা নাজনীন। অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান।

    জিও অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার তাঁদের ঢাকা ছাড়ার কথা। এতে ১০ ফেব্রুয়ারি বা তার কাছাকাছি সময়ের মধ্যে তাঁদের দেশে ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে।

    এদিকে আজ বেলা পৌনে দুইটায় জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিব। জাপানের রাজধানী টোকিওতে কাল বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বিজেইপিএ) সই হওয়ার নির্ধারিত দিন রয়েছে। ৪ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা টোকিও যাচ্ছেন।

    সরকারি আদেশে জানানো হয়, এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য গঠিত দলে বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে আরও চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুবিভাগের প্রধান আয়েশা আক্তার, যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, উপসচিব মাহবুবা খাতুন মিনু এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ হাসিব সরকার। উপদেষ্টা ও সচিব ছাড়া এ চারজন দুই দিন আগে থেকেই টোকিওতে আছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি বা তার কাছাকাছি সময়ে তাঁদের ঢাকায় ফেরার কথা।

    বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ সই করে তাঁরা ঢাকায় ফিরে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে কে স্বাক্ষর করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব বলেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন, যা হবে অনলাইনে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ঢাকায় বসে ইতিমধ্যেই এ চুক্তিতে সই করেছেন। তাঁর সই করা কপি বাংলাদেশের দলটি ওয়াশিংটনে নিয়ে যাবে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সই করবেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিয়েসন গ্রিয়ার।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘কোনো চুক্তিই চূড়ান্ত নয়। প্রতিটি চুক্তিতে সংশোধন ও পুনরায় আলোচনার সুযোগ থাকে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আলোচনা করে বাণিজ্যচুক্তিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব।’

    আজ বুধবার সকালে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, চুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

    সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি হয়।

    আজকের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পৃথক কোনো আলোচনা হয়নি। এই চুক্তি ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি। ফলে এ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই।

    চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষেরই কিছু দাবি থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে থাকে, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। আলোচনার মাধ্যমে একটি উইন-উইন পরিস্থিতিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এই চুক্তিকে এখনই পুরোপুরি নেতিবাচক বা ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এর অনেক ধারা কাজে লাগানো যাবে।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের ট্যারিফসংক্রান্ত রায়ের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো বিকাশমান।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে চুক্তি নিয়ে আলাদা কোনো আলোচনা হয়নি।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও সামরিক বিষয়সংক্রান্ত কিছু বিষয় উল্লেখ থাকলেও, তা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, সামরিক বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়।

    ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন সহজে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো বাধার মুখে না পড়েন।

    নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কিছু নন-ট্যারিফ বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এতে দেশটি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হবে।

    বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো আবদুর রহিম খান, অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সই, পাল্টা শুল্ক কমল ১ শতাংশ

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এই চুক্তির পর বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশটির আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ১ শতাংশ কমানো হয়েছে। তাতে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কহার ২০ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করা হলে তাতে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে না। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালে তৈরি পোশাক দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    আজ রাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও  যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচিত এই বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামীকাল বেলা আড়াইটায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির সার্বিক দিক তুলে ধরা হবে।

    এদিকে চুক্তির ফলে সার্বিকভাবে ১ শতাংশ শুল্ক কমা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কাঁচামালের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পাল্টা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য খুবই আনন্দের ও ইতিবাচক বলে মনে করছেন দেশটিতে পোশাক রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ রপ্তানিকারকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের একটি হা–মীম গ্রুপ।

    চুক্তি ও তার ফলে প্রাপ্ত সুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে হা–মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘খবরটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। চুক্তির ফলে যে সুবিধা আমরা পেয়েছি, তা খুবই ইতিবাচক। আশা করছি, এই সুবিধা আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারব। এমনিতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তুলা আমদানি করি। এখন সেটি আরও বাড়বে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কোনো পাল্টা শুল্ক বসবে না। এ জন্য আশা করছি, সুবিধাটি আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারব। তাতে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে।’

    আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষর হওয়া বাণিজ্যচুক্তি করতে শুরুতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা ওয়াশিংটন যাননি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীও অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

    চুক্তি সই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি দল ওয়াশিংটন গেছে। অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান। পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সশরীর উপস্থিতিতে এই চুক্তি হয়।

    চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে, তা আমরা জানি না। আমি মনে করি, এই ধরনের চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে করা মোটেই উচিত হয়নি। আমরা কিছু নতুন সুবিধা পেয়েছি, সেটিকে আমরা অর্জন হিসেবে মনে করতে পারি। কিন্তু তার বদলে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে বা বাংলাদেশকে কী কী করতে হবে, তা আমরা জানি না। ফলে এই চুক্তিতে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হলো, তা এককথায় বলা মুশকিল। এই চুক্তির দায়ভার এসে পড়বে পরবর্তী সরকারের ওপর। সেই সরকার চুক্তি শর্তগুলো পূরণে কতটুকু প্রস্তুত এবং তাদের এসব বিষয়ে বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কি না, তা–ও বড় প্রশ্ন। তাই আমি মনে করি, চুক্তির লাভ–লোকসানের হিসাব কষতে হবে চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে, তা সার্বিকভাবে পর্যালোচনার ভিত্তিতে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল দেশটিতে পণ্য রপ্তানিকারক ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

    শুরুতে বাংলাদেশের জন্য এই হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আরও দর-কষাকষির পর গত বছরের ২ আগস্ট এ হার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে এই পাল্টা শুল্কহার কার্যকর হয়। পাল্টা শুল্কের বাইরে আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে দেশটিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। পাল্টা শুল্কারোপের পর সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে ৬০০ কোটি ডলারের রপ্তানি করে বাংলাদেশ। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাণিজ্যঘাটতি বাংলাদেশের অনুকূলে। এ ঘাটতি কমাতে এরই মধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য; উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ; তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ইত্যাদি আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ।

  • যুদ্ধবিরতির খবরে তেলের দাম কমেছে, ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে নেমেছে

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানে শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে—এই খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে; এবং শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান হয়েছে। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ব বাজারে আজ বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়, যদিও প্রাক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির তুলনায় তা এখনো বেশি।

    যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তা ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে উঠে যায়। এদিকে যুদ্ধবিরতির খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি হয়তো সাময়িক স্বস্তি দেবে, কিন্তু স্থায়ী শান্তি না এলে জ্বালানি উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলো, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে।

  • যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি পার হতে নোঙর তুলেছে বাংলাদেশি জাহাজ

    চট্টগ্রাম

  • যুদ্ধের কারণে সংকট জরুরিভাবে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ চায় সরকার

    • চার মাস জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সার বাড়তি দামে আমদানিতে দরকার ৩০০ কোটি ডলার।

    • ভর্তুকির জন্য বাড়তি লাগবে ৩৮,৫৪২ কোটি টাকা।

    • ২০২২ সালে এমন সংকটের পর দারিদ্র্য বেড়েছিল ৯ শতাংশের বেশি।

    ঢাকা

  • যে কারণে পিএসএলে ফিরবেন না মোস্তাফিজ-নাহিদ

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আলো ছড়িয়েছেন দুজনেই। ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন নাহিদ রানা। গতকাল শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু তাঁদের কাউকেই রাখা হয়নি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের দলে।

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা খেলতে পিএসএল ছেড়ে দেশে ফেরেন মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা। টি-টুয়েন্টি সিরিজে যেহেতু তাঁরা বাংলাদেশ দলে নেই, তাহলে কি তাঁরা আবার ফিরে যাবেন পিএসএলে? কাল রাতে বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এবার আর ফেরা হচ্ছে না মোস্তাফিজ ও নাহিদের। পিএসএলে বাকি মৌসুমের জন্য তাঁদের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বিসিবি।

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজ
    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজ
     

    দুজনের কারণ অবশ্য ভিন্ন। হাঁটুতে অস্বস্তি বোধ করায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামেননি মোস্তাফিজ, ছিলেন না দ্বিতীয় ম্যাচেও। তৃতীয় ওয়ানডেতে খেলার পর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে মোস্তাফিজের শারীরিক অবস্থা, করা হবে একটি স্ক্যানও। এরপর বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগের তত্ত্বাবধানে একটি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েও যেতে হবে মোস্তাফিজকে।

    শুরুতে ওয়ানডে সিরিজের পর পিএসএলে ফেরার কথা থাকলেও তাই এখন আর যাচ্ছেন না মোস্তাফিজ। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০ মে পর্যন্ত চলবে তাঁর এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। এ কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও এখনো কোনো দলে নাম লেখাননি মোস্তাফিজ।

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হন নাহিদ রানা
    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হন নাহিদ রানা
     

    নাহিদ রানাও বিশ্রামে থাকবেন এ সময়ে। আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ আছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতা এই পেসার আপাতত টেস্টের প্রস্তুতি নেবেন।

    এবারের পিএসএলেই প্রথমবারের মতো দেশের বাইরের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে গিয়েছিলেন নাহিদ রানা। পেশোয়ার জালমির হয়ে ৪ ম্যাচে ওভারপ্রতি ৫.৪২ গড়ে রান দিয়ে ৭ উইকেট নেন নাহিদ। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ৫ ম্যাচ খেলে মোস্তাফিজ পান ৬ উইকেট।

  • যে পথ দিয়ে যাবে ফুটবলারদের ছাদখোলা বাস

    ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় রেনান-সুলিভানদের জন্য ছাদখোলা বাসে বর্ণিল সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ফুটবলারদের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে সাফজয়ী ফুটবলারদের বরণ করে নেবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

    এরপর ছাদখোলা বাসে শুরু হবে ফুটবলারদের শোভাযাত্রা। বাফুফের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এই শোভাযাত্রা বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটার গিয়ে শেষ হবে।

    সেখানে সাড়ে ৭টার দিকে চ্যাম্পিয়ন দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। তাই সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে শোভাযাত্রা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাফুফে।

    এদিকে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন দলকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তবে টাকার অংক এখনও জানানো হয়নি।

    এর আগে গতকাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ানো টানটান উত্তেজনার ম্যাচে বাংলাদেশ ৪-৩ গোলে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রেখেছে। গোলকিপার মাহিন ভাগ্য পরীক্ষার সেই মুহূর্তে একটি শট রুখে দেন। আর শেষ শটে পানেনকা কিকে গোল করে রোনান বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসিয়েছেন।

  • যৌতুকের জন্য হত্যা নাকি আত্মহত্যা: ভারতে মডেল ও অভিনেত্রীর মৃত্যু নিয়ে এখনো রহস্য

    ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ১২ মে তিশা শর্মা নামের এক তরুণীর মৃত্যু নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চলছে। যৌতুকের দাবিতে তিশাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

    ৩৩ বছর বয়সী মডেল ও অভিনেত্রী তিশা শর্মার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আইনজীবী সমর্থ সিংয়ের। এর মাত্র পাঁচ মাস পরই শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এই সময় অনলাইনের খবরে জানা যায়, তিশার হত্যার ঘটনা তদন্তে সিবিআই-'টানেল ভিউ টেকনিক' ব্যবহার করছে । মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে ঠিক কী কী ঘটেছিল তা জানতে সিসিটিভি, মোবাইল ফোন কলের রেকর্ড, ওয়াই-ফাই লগ ইন, ইন্টারনেট সংযোগ, স্মার্ট ডিভাইস ডেটা, ফরেনসিক ম্যাপিং-সহ আরও নানা প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তদন্ত চলছে।

    গত বৃহস্পতিবার তিশার শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিল সিবিআই। বাড়ির ডিজিটাল ম্যাপিং করা হয় সেখানে। তিশার স্বামী সমর্থ সিংকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোপালের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তিশার শাশুড়ি ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংকে।

    আপনাদের মনে রাখা উচিত যে আমার ছেলে তার ভালোবাসার মানুষ হারিয়েছে, সে তার জীবনসঙ্গী হারিয়েছে। আর আমরা এখন শোক পর্যন্ত পালন করতে পারছি না...সবাই আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে।গিরিবালা সিং

    তিশার মা–বাবা ও ভাইবোনদের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে সমর্থ ও তাঁর মা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিং তিশার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন। তাঁরা তিশাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন।

    তবে এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গিরিবালা সিং। তাঁর দাবি, তিশা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি নিজেই নিজের জীবন শেষ করেছেন।

    পুলিশ কর্মকর্তা রজনীশ কাশ্যপ কৌল বিবিসিকে বলেন, সিং পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুকের কারণে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। তিশার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত সমর্থ সিং পলাতক ছিলেন। অবশেষে গত শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় আত্মসমর্পণ করেছেন। এর আগে ভোপালের একটি আদালত গিরিবালা সিংকে আগাম জামিন দিলেও সমর্থের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন এবং তাঁকে ২৩ মের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

    গিরিবালা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখা উচিত যে আমার ছেলে তার ভালোবাসার মানুষ হারিয়েছে, সে তার জীবনসঙ্গী হারিয়েছে। আর আমরা এখন শোক পর্যন্ত পালন করতে পারছি না...সবাই আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে।’

    বিয়ের সাজে তিশা শর্মা ও তাঁর স্বামী সমর্থ সিং
    বিয়ের সাজে তিশা শর্মা ও তাঁর স্বামী সমর্থ সিং, ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

    এদিকে তিশার পরিবার তাঁর মরদেহ দাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি তুলেছে। প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, গলায় ফাঁস দেওয়ার কারণে তিশার মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় শুক্রবার হাইকোর্ট পরিবারের আবেদন মঞ্জুর করে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

    মামলাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এত বেশি আগ্রহের মূল কারণ, তিশার নিজের পরিচিতি এবং তাঁর শ্বশুরের বাড়ির সামাজিক মর্যাদা।

    মডেল ও অভিনেত্রী তিশা ২০১২ সালে ‘মিস পুনে’ খেতাব জেতেন। তিনি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন এবং একটি তেলেগু ভাষার চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপণন (মার্কেটিং) কর্মকর্তা হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে একজন সুখী, উদার ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তিশার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিয়ের সময় পর্যাপ্ত যৌতুক দেওয়ার পরও সিং পরিবার প্রতিনিয়ত তিশাকে খোটা দিত যে এ বিয়ে তাঁদের মর্যাদা অনুযায়ী হয়নি। অবশ্য গিরিবালা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    পরিবার জানায়, ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ভোপালের আইনজীবী সমর্থের সঙ্গে তিশার পরিচয়। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে। বিয়ের দিনের ছবিগুলোতে এ দম্পতিকে বেশ হাসিখুশি দেখাচ্ছিল।

    তবে তিশার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিয়ের সময় পর্যাপ্ত যৌতুক দেওয়ার পরও সিং পরিবার প্রতিনিয়ত তিশাকে খোটা দিত যে এ বিয়ে তাঁদের মর্যাদা অনুযায়ী হয়নি। অবশ্য গিরিবালা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    ভারতে যৌতুক দেওয়া–নেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। তবে বাস্তবে এর ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

    তিশার পরিবার সম্প্রতি তাঁর কিছু হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার ছবি প্রকাশ করে। পরিবারের কাছে পাঠানো সেসব বার্তায় তিশা অভিযোগ করেছিলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে নির্যাতন করেন। একটি বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমার জীবনটা জীবন্ত নরক হয়ে গেছে।’

    এসব বার্তা প্রকাশের পর এ দম্পতির দাম্পত্য জীবন নিয়েও ব্যাপক তদন্ত চলছে।

    তিশার পরিবারের দাবি, গত এপ্রিলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চরমে ওঠে। স্বামী ও শাশুড়ি তাঁর ‘চরিত্র’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অন্য কারও সন্তান গর্ভে ধারণ করার অপবাদ দেন। এরপর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা হয়।

    তবে গিরিবালা সিং এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিশা নিজেই সন্তান চাননি, নিজেই গর্ভপাতের জন্য জোর করেছিলেন।

    তিশার বাবা নবনিধি শর্মা বিবিসিকে বলেন, ১২ মে রাতে মৃত্যুর ঠিক কিছু আগে রাত ৯টা ৪১ মিনিটে তিশা শেষবার তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘তিশা তার মায়ের সঙ্গে কথা বলছিল, হঠাৎ লাইনটি কেটে যায়।’ এরপর ২০ মিনিট ধরে চেষ্টা করলেও কেউ ফোন ধরেননি। পরে গিরিবালা ফোন ধরে বলেন, ‘তিশা আর বেঁচে নেই।’

    তিশার পরিবারই প্রথম পুলিশকে তাঁর মৃত্যুর খবর জানায়। পরিবারটির অভিযোগ, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন কেন পুলিশকে খবর দেননি? নবনিধি শর্মা বলেন, ‘একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নিশ্চয়ই ভালো করে জানেন যে এমন পরিস্থিতিতে কী আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়।’

    অবশ্য গিরিবালা সিংয়ের দাবি, তিশাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণেই পুলিশকে জানাতে দেরি হয়েছিল।

    মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক বিচারক গিরিবালা ইদানীং সংবাদ সম্মেলন করা এবং সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি তিশার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেন এবং তাঁকে ‘উদার’ বলে আখ্যা দেন। পরে এক সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী এ শব্দের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, তিশা উচ্ছৃঙ্খল ও অশ্লীল জীবন যাপন করতেন। গিরিবালার এমন মন্তব্য ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারের দাবি তুলছেন।

    তিশার বাবার অভিযোগ, সাবেক এই বিচারক পরিকল্পিতভাবে তাঁর মৃত মেয়ের নাম ও সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

    পুলিশের তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তিশার পরিবার। তাদের অভিযোগ, তদন্তে শুরু থেকেই অবহেলা করা হয়েছে।

    তিশার বাবা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত—উভয় নিয়েই প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। প্রভাবশালী মহল এ তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
     

    অবশ্য বিবিসির কাছে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ স্বীকার করেছেন ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার। শুরুতেই হত্যাকাণ্ড বা খুনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং এখন পর্যন্ত আমাদের তদন্তের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।’

    তিশার বাবা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত—উভয় নিয়েই প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। প্রভাবশালী মহল এ তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

    পুলিশ কমিশনারের এ মন্তব্যই মামলার শেষ কথা নয়। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ঘোষণা করেছেন, এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত এখন ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি তিশার পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার তাদের ‘পূর্ণ সহযোগিতা’ করবে।

    মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিশার বাবা নবনিধি শর্মা বলেন, ‘আমার মেয়ে বেঁচে থাকতে অন্যায়ের শিকার হয়েছে। এখন মৃত্যুর পরও যাতে সে বিচার না পায়, সে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা বিচার না পাওয়া পর্যন্ত শান্ত হব না।’

    বিবিসি

  • যৌনতা নিয়ে অজ্ঞতা, আলোচিত সিরিজে ‘নিষিদ্ধ’ সময়ের গল্প

    নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ব্রিজারটন’ আবার ফিরেছে নতুন মৌসুম নিয়ে। চতুর্থ মৌসুমে শুধু রোমান্স বা রাজকীয় সাজসজ্জাই নয়, উঠে এসেছে একটি সংবেদনশীল ও দীর্ঘদিনের সামাজিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়—নারীদের যৌন অভিজ্ঞতা ও সে বিষয়ে অজ্ঞতার বাস্তবতা। এ মৌসুমে প্রেম, সম্পর্ক আর সামাজিক কাঠামোর ভেতরে নারীর অবস্থানকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    অজানা জীবন তৃতীয় মৌসুমের শেষে ফ্রান্সেসকা ব্রিজারটন ও জন স্টার্লিংয়ের বিয়ে হয়। নতুন মৌসুমে দেখা যায়, তারা হাইল্যান্ডস থেকে লন্ডনে ফিরে এসেছে দাম্পত্য জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে। কিন্তু তাদের রাজকীয় পোশাক আর সামাজিক আয়োজনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর সংকট—ফ্রান্সেসকার যৌনতা সম্পর্কে প্রায় সম্পূর্ণ অজ্ঞতা।

    রিজেন্সি যুগে অবিবাহিত অভিজাত নারীদের যৌনতা সম্পর্কে কিছুই জানানো হতো না। বিপরীতে, পুরুষেরা ইউরোপ ভ্রমণের সুযোগ পেত এবং সেখানে অভিজ্ঞতা অর্জন করাকে প্রায় স্বাভাবিক হিসেবেই দেখা হতো। এই বৈষম্য নতুন দম্পতির সম্পর্কের ভেতর অস্বস্তি তৈরি করে। ফ্রান্সেসকা বুঝতে পারে যে দাম্পত্য জীবনে তার হয়তো এমন কিছু অনুভব করার কথা, যা সে জানেই না।

     ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স
    ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স

    নারীর সঙ্গে নারীর কথা
    নিজের অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে ফ্রান্সেসকা আশ্রয় নেয় পরিবারের নারীদের কাছে। মা লেডি ব্রিজারটন ও ভাবি পেনেলোপের সঙ্গে সে খোলামেলা আলোচনা শুরু করে। এই অংশ সিরিজে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে দেখানো হয়েছে, পুরুষদের জন্য যা স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা, নারীদের জন্য তা কীভাবে নিষিদ্ধ ও গোপন বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

    ফ্রান্সেসকার চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী হান্না ডডের ভাষায়, নারীরা যদি একে অন্যের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পায়, তাহলে তারা নিজের শরীর বা অনুভূতি সম্পর্কে জানবে কীভাবে? এই প্রশ্নই সিরিজের কেন্দ্রে এসে দাঁড়ায়।
    সম্পর্কের ভেতরের নীরবতার কারণ, ফ্রান্সেসকা ও জন দুজনই স্বভাবে অন্তর্মুখী। তাদের বিয়ে নতুন, একে অপরকে জানার পথ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ফলে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলাটাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সিরিজে দেখানো হয়েছে নীরবতা ভাঙার চেষ্টা। সম্পর্কের ভেতরে সততা আর খোলামেলা আলোচনার গুরুত্ব এখানে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভিন্নতা ও আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান
    এই মৌসুমে ফ্রান্সেসকার চরিত্র ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। সেটা হলো, সমাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার অনুভূতি। সে প্রায়ই ভিড় থেকে সরে নিরিবিলি থাকতে চায়, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। অনেক দর্শক এই চরিত্রের ভেতর নিজেদের আলাদা অনুভব করার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছেন। সিরিজের নির্মাতারা সরাসরি কিছু না বললেও, এই ভিন্নতাকে সম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।

     ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স
    ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স

    বেনেডিক্টের প্রেম আর নতুন জগৎ
    চতুর্থ মৌসুমের মূল গল্প এগিয়ে গেছে বেনেডিক্ট ব্রিজারটনের প্রেমকে কেন্দ্র করে। এক মুখোশ বলের রাতে সে পরিচিত হয় রহস্যময় তরুণী সোফির সঙ্গে। এই গল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ব্রিজারটনের ‘নিচের তলা’ বা গৃহপরিচারকদের জগৎও সামনে এসেছে। অভিজাত সমাজের ঝলমলের আড়ালে যাদের জীবন সংগ্রামে ভরা, সেই বাস্তবতা নতুন করে দেখা যায়।

     

    রানি ও লেডি ড্যানবেরির টানাপোড়েনে পুরোনো চরিত্রদের মধ্যেও সম্পর্কের নতুন রূপ দেখা যায়। রানি শার্লট ও লেডি ড্যানবেরির বন্ধুত্বে তৈরি হয় টানাপোড়েন। রানি চান না যে লেডি ড্যানবেরি ছুটিতে যান, কারণ, তিনি তাকে ছাড়া নিজেকে অসহায় মনে করেন। এখানে ক্ষমতা ও বন্ধুত্বের সীমারেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লেডি ড্যানবেরির আত্মসম্মান ও নিজের জন্য সময় চাওয়ার বিষয়টি নারীর আত্মপরিচয় ও সীমা নির্ধারণের বার্তা দেয়।

    ‘ব্রিজারটন ৪’–এ ইয়ারিন হা ও লুক থম্পসন। নেটফ্লিক্স
    ‘ব্রিজারটন ৪’–এ ইয়ারিন হা ও লুক থম্পসন। নেটফ্লিক্স

    নারীর অভিজ্ঞতা কেন নিষিদ্ধ? এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নারীরা কেন অভিজ্ঞতা পেতে পারবে না? কেন তাদের শরীর ও অনুভূতি সম্পর্কে জানাটাও সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ? ব্রিজারটন এই প্রশ্নগুলোকে রোমান্টিক নাটকের কাঠামোর ভেতর রেখেই সাহসের সঙ্গে সামনে এনেছে।

    ‘ব্রিজারটন’-এর চতুর্থ মৌসুমের প্রথম কিস্তি মুক্তি পেয়েছে। বাকি চার পর্ব মুক্তি পাবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি।

    বিবিসি অবলম্বনে

  • যৌনদৃশ্যসহ ৩৮ সেকেন্ড বাদ দিল সেন্সর বোর্ড, ভারতজুড়ে সমালোচনার ঝড়

    মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় হরর সিনেমা ‘অবসেশন’। ২৯ মে ভারতেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। তবে কিছু দৃশ্যে কাটছাঁটের পর সিনেমাটি পেয়েছেন ‘এ’ বা অ্যাডাল্ট সনদ, যা নিয়ে অন্তর্জালে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

    দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত একটি সিনেমা যদি শেষ পর্যন্ত কাটছাঁট করেই মুক্তি দিতে হয়, তাহলে ‘এ’ সার্টিফিকেট দেওয়ার অর্থ কী?

    কী কী বাদ দেওয়া হয়েছে?
    ভারতের সেন্টাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির চূড়ান্ত অনুমোদিত দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। বোর্ড ছবিটি থেকে মোট ৩৮ সেকেন্ডের ফুটেজ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ সেকেন্ডের ‘চরম সহিংসতা’র দৃশ্য সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ১৪ সেকেন্ডের যৌনদৃশ্য পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। একটি নগ্নতার দৃশ্যও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধূমপান ও মদ্যপানের দৃশ্যে বাধ্যতামূলক সতর্কবার্তা যুক্ত করা হয়েছে।

    ‘অবসেশন’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘অবসেশন’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

    ক্ষুব্ধ হররপ্রেমীরা
    সিনেমাটি মুক্তির পরপরই এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একজন দর্শক লিখেছেন, ‘এ সার্টিফিকেট দিয়ে আবার দৃশ্য কেটে দেওয়ার মানে কী? প্রথমে “সুপারম্যান”, এরপর “ধুরন্ধর”, আর এখন “অবসেশন”। সিবিএফসি কি মনে করে প্রাপ্তবয়স্করাও এসব দৃশ্য দেখার মতো পরিপক্ব নয়?’

    আরেকজনের মন্তব্য, ‘ছবির ক্লাইম্যাক্সে এমন একটি কাট দেওয়া হয়েছে, যেখানে চরিত্রগুলোর অবস্থাই বদলে যায়। দর্শক বুঝতেই পারে না, আসলে কী ঘটল।’
    কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যদি প্রাপ্তবয়স্করাও এসব দৃশ্য দেখতে না পারেন, তাহলে কারা দেখতে পারবেন, ভিনগ্রহবাসী?’

    ‘অবসেশন’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘অবসেশন’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

    অনেক দর্শকের দাবি, বাদ দেওয়া অংশগুলো শুধু সহিংস বা যৌনদৃশ্যই ছিল না; বরং সেগুলো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় বোঝার জন্যও প্রয়োজনীয় ছিল।

    ‘অবসেশন’ আসলে কী নিয়ে?
    পরিচালক কারি বারকারের এই অতিপ্রাকৃত মনস্তাত্ত্বিক হরর ছবিতে অভিনয় করেছেন ইন্ডে নাভারেতে, কুপার টমলিনসন ও মাইকেল জন্সটন।
    গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এক সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর স্বভাবের মিউজিক স্টোরের কর্মী। বহুদিনের ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টায় তিনি এমন এক অন্ধকার পথে হাঁটেন, যা ধীরে ধীরে ভয়ংকর ও অতিপ্রাকৃত রূপ নিতে শুরু করে।

    সমালোচকদের প্রশংসা
    সেন্সর বিতর্কের মধ্যেও ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেকের মতে, এটি কেবল একটি ভূতের গল্প নয়; বরং ভালোবাসা, আসক্তি ও অধিকারবোধের সীমারেখা নিয়ে নির্মিত এক মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।

    সমালোচকদের ভাষায়, ছবিটির মূল প্রশ্ন হলো—ভালোবাসা আর আসক্তির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? যখন কাউকে নিজের করে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই প্রধান হয়ে ওঠে, তখন সেই অনুভূতি কি আর ভালোবাসা থাকে, নাকি তা ভয়ংকর এক আবেশে পরিণত হয়?

    সেই কারণেই মুক্তির পর সিনেমার গল্পের চেয়ে এখন বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ডের সিদ্ধান্ত। দর্শকদের একাংশের মতে, যেসব দৃশ্য কাটা হয়েছে, সেগুলোই হয়তো ছবির মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারত।

    ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

  • যৌনপল্লির যে গল্প পর্দায় এল

    যৌনপল্লির মেয়েদের জীবন একদিকে যেমন রঙিন, তেমন অন্যদিকে রয়েছে শূন্যতার গল্প। এমন মানুষের গল্প খুব একটা সামনে আসে না। আড়ালেই থেকে যায় তাঁদের জীবনের কথা। এমন মানুষের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘রঙবাজার’ এবার প্রকাশ্যে এল।

    কেউ বছরের পর বছর জড়িত এই যৌনকাজে, কেউ সবে এসেছেন। এ ছাড়া দেশের নানা প্রান্ত থেকে অনেক মেয়েকে বিক্রি করা হয় এই যৌনপল্লিতে, যাঁদের সবারই আলাদা আলাদা গল্প। সেগুলো সিনেমায় উঠে এসেছে। একসময় তাঁদের জীবন কঠিন বাস্তবতার মধ্যে পড়ে। সেই সিনেমা এ বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। সিনেমার পরিচালক রাশিদ পলাশ জানান, সিনেমাটি দর্শকদের জন্য এবার লাইভ টেকনোলজিসের ‘সিনেম্যাটিক’ অ্যাপে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

    সিনেমায় যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিকা আমিন, মৌসুমী হামিদসহ অনেকে। ছবি: সংগৃহীত
    সিনেমায় যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিকা আমিন, মৌসুমী হামিদসহ অনেকে। ছবি: সংগৃহীত

    পলাশ বলেন, ‘পৃথিবীর আদিমতম একটি গল্প আমরা বলছি। হাজার বছরের পুরোনো গল্পটি আমরা বলছি। কারণ, পুরো পৃথিবীতে যৌনবৃত্তি শুধু শরীরে নয়, এটা মগজেও; সেটাই আমরা গল্পে দেখিয়েছি। সিনেমাটি দেখে দর্শকদের ভালো লাগবে। এর মধ্যে মানবিকতার ছোঁয়া ও জীবন রয়েছে।’ এটি ওটিটিতে গতকাল রোববার মুক্তি পায়।

    সিনেমার একটি দৃশ্যে মৌসুমী হামিদসহ অন্যরা। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে
    সিনেমার একটি দৃশ্যে মৌসুমী হামিদসহ অন্যরা। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে

    ‘রঙবাজার’ সিনেমায় যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিকা আমিন। তিনি চরিত্রটি নিয়ে এর আগে গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘ব্রোথেলের নারীদের জীবন দেখতে অনেক রঙিন মনে হয়, কিন্তু বাইরে ফাঁকা। ব্রোথেলের নারীদের জীবনের গল্প নিয়েই এই সিনেমা। এখানে আমি নিজেও একজন যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। সিনেমাটি দর্শকদের দেখা উচিত। আমার মনে হচ্ছে দর্শক দেখবে।’

    সিনেমার একটি দৃশ্যে  তানজিকা আমিন। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে
    সিনেমার একটি দৃশ্যে তানজিকা আমিন। ছবি: পরিচালকের সৌজন্যে
     

    ছবিটির নির্মাতা রাশিদ পলাশ জানান, ‘মূলত একটি যৌনপল্লি উচ্ছেদের ঘটনা নিয়েইআমাদের গল্প।’ সিনেমায় একজন নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জান্নাতুল পিয়া।

    বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন শম্পা রেজা, নাজনীন চুমকী, মৌসুমী হামিদ, লুৎফর রহমান জর্জ, বড়দা মিঠু, শাজাহান সম্রাট। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন গোলাম রাব্বানী। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে লাইভ টেকনোলজিস।

  • রকেট হামলায় ইরানে ২০ ভলিবল খেলোয়াড় নিহত

    ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লামের্দে একটি স্পোর্টস হলে রকেট হামলায় অন্তত ২০ জন ভলিবল খেলোয়াড় নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এসএনএন টেলিভিশন। খবরটি প্রকাশ করেছে মডার্ন ডট এজেড।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ফার্স প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট চারটি রকেট আঘাত হানে। এর মধ্যে লামের্দ শহরের একটি স্পোর্টস হল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় সেখানে ভলিবল খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল বলে জানা গেছে। 

    এই ঘটনায় প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    হামলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলও আনুষ্ঠানিক কোনো দায় স্বীকার করেনি।

    ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হামলার উৎস ও প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে।

     

  • রটারড্যামে পুরস্কার জিতল বাংলাদেশের ‘মাস্টার

    নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (আইএফএফআর) থেকে পুরস্কার পেল বাংলাদেশের সিনেমা ‘মাস্টার’। সিনেমাটি উৎসবের ‘বিগ স্ক্রিন কমপিটিশন’ বিভাগের শীর্ষ পুরস্কার জিতেছে। শুক্রবার রাতে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। ‘মাস্টার’ এ বিভাগের ১২টি সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পুরস্কার পেয়েছে।

    পুরস্কার হাতে তিন অভিনয়শিল্পী জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন ও নাসিরউদ্দিন খান
    পুরস্কার হাতে তিন অভিনয়শিল্পী জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন ও নাসিরউদ্দিন খানছবি: ফেসবুক
     

    পুরস্কার জয়ের খবরে উচ্ছ্বসিত সিনেমার টিম। রাতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমরা বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জিতেছি। অভিনন্দন আমাদের পরিচালক ও পুরো টিমকে। বাংলাদেশের জন্য দারুণ একটি দিন।’ এই পুরস্কার পরিচালকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
    অনুভূতি জানাতে গিয়ে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা অনেক বড় সম্মানের। এ অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। আপনি আমাদের এ ক্যাটাগরির ছবিগুলোর তালিকা দেখলে দেখবেন, সেখানে অনেক ভালো ভালো সিনেমা ছিল। এ তালিকায় জায়গা পাওয়াতেই আমরা আনন্দিত ছিলাম। সেখানে পুরস্কার জয়, স্বপ্নের মতোই লাগছে।’

    কী আছে এই ‘মাস্টার’ সিনেমায়? সময়ের প্রয়োজনে একজন শিক্ষকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তৈরি হয় নানা সংকট। নির্বাচনে তাঁর পেছনে যাঁরা সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেন, পরবর্তী সময়ে তাঁদের প্রায় সবাই শিক্ষকের কাছে অন্যায্য সাহায্য প্রত্যাশা করেন। সেই সাহায্যপ্রত্যাশীদের এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব হয় না, আবার নিজের ব্যক্তিত্ব ও বিবেক তাঁকে বাধাগ্রস্তও করে। এই দ্বন্দ্ব তাঁকে পরিণত করে ভিন্ন এক মানুষে—এমন গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি।
    সিনেমাটিকে পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে জুরি সদস্যরা বলেন, ‘“মাস্টার” মূলত একজন মানুষের নিজের নৈতিকতা ধরে রাখার লড়াইয়ের গল্প। ক্ষমতা ও পুঁজিবাদের প্রলোভন কীভাবে ধীরে ধীরে একজন আদর্শবাদী মানুষকে বদলে দেয়—ছবিতে তা সূক্ষ্মভাবে দেখানো হয়েছে। অসাধারণ ভিজ্যুয়াল, প্রাণবন্ত লোকেশন ও বাস্তবসম্মত পার্শ্বচরিত্রের ভিড়ে প্রধান অভিনেতা দক্ষ অভিনয়ে তুলে ধরেছেন চরিত্রটির ভেতরের দ্বন্দ্ব। শেষ পর্যন্ত ছবিটি ক্ষমতার সর্বগ্রাসী প্রভাবকেই উন্মোচিত করে।’

    ‘মাস্টার’ সিনেমার দৃশ্যে নাসির উদ্দিন খান ও শরীফ সিরাজ
    ‘মাস্টার’ সিনেমার দৃশ্যে নাসির উদ্দিন খান ও শরীফ সিরাজ, ছবি: নির্মাতার সৌজন্যে
     

    গত ২ ফেব্রুয়ারি রটারড্যামে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়ায়। নির্মাতা সুমিতের সঙ্গে উৎসবে অংশ নেন তিন অভিনয়শিল্পী অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন ও নাসিরউদ্দিন খান।
    প্রিমিয়ারের আগেই যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কাওয়ানন ফিল্মস’ নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হওয়ায় ছবিটি বাড়তি আলোচনায় আসে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন চার্লি চ্যাপলিনের নাতনি কারমেন চ্যাপলিন ও প্রযোজক আশিম ভাল্লা।
    ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, লুৎফর রহমান জর্জ ও শরীফ সিরাজ। গল্প, চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনায় ছিলেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নিজেই। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব আগামীকাল শেষ হবে। রটারড্যাম উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার হিসেবে ধরা হয় ‘টাইগার অ্যাওয়ার্ড’। এ পুরস্কার জিতেছে সাউথ আফ্রিকার সিনেমা ‘ভ্যারিয়েশনস অন আ থিম’। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ডেভন ডেলমার ও জেসন জেকবস।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব