• মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ভাবনা, নজর কাড়লেন কাতান ওভারকোটে

    মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৪৮তম আসরে নিজের 'কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস' সিনেমা নিয়ে গিয়েছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। নজর কাড়লেন তন্বী কবিরের ডিজাইন করা কাতান ওভারকোটে।

    অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা যখনই রূপালি পর্দায় আসেন, থাকে বড় চমক। এবার মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৪৮তম আসরে নিজের 'কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস' সিনেমা নিয়ে গিয়েছেন অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। এখানে আর্টকোর সেকশনে অফিসিয়ালি মনোনীত হয়েছে নির্মাতা আসিফ ইসলামের এই সিনেমা।

    মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৪৮তম আসরে অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা
     
    মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৪৮তম আসরে অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা
    'কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস' সিনেমা নিয়ে গিয়েছেন ভাবনা
     
    'কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস' সিনেমা নিয়ে গিয়েছেন ভাবনা
    এখানে বাংলাদেশের ট্র্যাডিশনাল যাত্রাপালার মতো সমৃদ্ধ এক শিল্পমাধ্যমের সূর্য ধীরে ধীরে অস্ত যাওয়ার আখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। যাত্রার প্রিন্সেস হয়ে এক আবেদনময় নৃত্যশিল্পীর ভূমিকায় দেখা যাবে ভাবনাকে এখানে। নাচের মেয়ে ভাবনা এমনিতেই নাচের মুদ্রায় নিজেকে আকর্ষণীয় লুকে তুলে ধরতে অত্যন্ত পারদর্শী। তাই এই সিনেমায় তাঁর চরিত্রায়ণ নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শক ও ভক্তদের মাঝে।

    এদিকে দেশি ফ্যাশনকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সবসময় নিজের সর্বোচ্চটাই দেন ভাবনা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি।

    কাতান ওভারকোটে রীতিমতো আলো ছড়াচ্ছেন ভাবনা
     
    কাতান ওভারকোটে রীতিমতো আলো ছড়াচ্ছেন ভাবনা
     

    ডিজাইনার তন্বী কবিরের নকশা ও নিখুঁত এক্সিকিউশনে তৈরি কাতান ওভারকোটে রীতিমতো আলো ছড়াচ্ছেন ভাবনা মস্কোর এই চলচ্চিত্র উৎসব প্রাঙ্গণে। নজরকাড়া নেকপিস ড্যাজল বাই সোনিয়ার।

    লাল টুকটুকে ট্র্যাডিশনাল এই ওভারকোটের ডিজাইন নিয়ে কথা হলো তন্বীর সঙ্গে। তিনি বললেন, 'আমরা কাতান কে আলমিরায় যত্ন করে রেখে দিতে দেখেছি মা-দাদি-নানিদেরকে।কাতান কে আমরা যত্ন করি, মাঝে মাঝে রোদে দিই আর বিয়ের পোশাক বলেই ভাবি। মজা করে হাসতে হাসতে বললেন, আমি তাই এবার কাতান কে তাই একেবারে বিয়েবাড়ি থেকে বের করে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছি। সিঁদুর লাল রঙের পিওর সিল্ক কাতানকে শাড়ির বাইরে নতুন করে ভেবেছি।'

     
    লাল টুকটুকে ট্র্যাডিশনাল এই ওভারকোটের ডিজাইন ডিটেইলস
     
    লাল টুকটুকে ট্র্যাডিশনাল এই ওভারকোটের ডিজাইন ডিটেইলস
     
    তাঁতে বিশেষভাবে কাপড় বুনে বানানো হয়েছে এই লাল কোট।আর একদম আদি বেনারসি মোটিফে সাজানো হয়েছে
     
    তাঁতে বিশেষভাবে কাপড় বুনে বানানো হয়েছে এই লাল কোট।আর একদম আদি বেনারসি মোটিফে সাজানো হয়েছে
     

    তিনি আরও বলেন, শাড়ি থেকে নয়, বরং তাঁতে বিশেষভাবে কাপড় বুনে বানানো হয়েছে এই লাল কোট। আর একদম আদি বেনারসি মোটিফে সাজানো হয়েছে। তাঁর বয়ানে, 'শাড়ি কেটে আমরা অনেকেই বানাই পোশাক। কিন্তু আমরা যদি ডাইভার্সিফাই করতে চাই আমাদের কাতানের মতো হেরিটেজ টেক্সটাইলগুলো, তাহলে আমাদেরকে এই শাড়িকাটা পোশাকের ধারনা থেকে বের হয়ে আলাদা করে এক্সক্লুসিভভাবে পোশাকের জন্য ম্যাটেরিয়াল বুনতে হবে। আর সেভাবেই ডিজাইন করতে হবে।' এই বিষয়টি আমাদের দেশের ডিজাইনারদেরকে ভাবতে হবে বলে মতামত দেন তন্বী। মিরপুর কাতান নিয়ে তাঁর পুরো কাজ, ডিজাইন ভাবনা ও এক্সিকিউশনে হেরিটেজ টেক্সটাইল এক্সপার্ট ও জ্যেষ্ঠ ফ্যাশন সাংবাদিক শেখ সাইফুর রহমানের এক্সটেনসিভ গাইডেন্স ও পরামর্শের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান ডিজাইনার তন্বী।

    সেই সঙ্গে অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনাকে দেশের বাইরে এমন সম্মানজনক আসরে নিজের গৌরবময় মুহূর্তে দেশিয় ফ্যাশনকে সগর্বে তুলে ধরার জন্য আলাদাভাবে ধন্যবাদ দিতেই হয়। এর আগেও তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে দেশের বিভিন্ন ডিজাইনারদের কাজ ও দেশের হেরিটেজ টেক্সটাইলগুলোকে তুলে ধরে নজর কেড়েছিলেন সবার।

     
    নিজের গৌরবময় মুহূর্তে দেশিয় ফ্যাশনকে সগর্বে তুলে ধরেন ভাবনা
     
    নিজের গৌরবময় মুহূর্তে দেশিয় ফ্যাশনকে সগর্বে তুলে ধরেন ভাবনা
    বেসিক কালো ফিটেড প্যান্ট ও কালো টপ আছে সঙ্গে
     
    বেসিক কালো ফিটেড প্যান্ট ও কালো টপ আছে সঙ্গে
     

    এখানে ক্লিন লাইনের সিলুয়েট দেখা যাচ্ছে ওভারকোটে। আছে মিনিমাল অথচ জমকালো আমেজ। বেসিক কালো ফিটেড প্যান্ট ও কালো টপের কারণে আরও বেশি যেন হাইলাইট হচ্ছে কাতানের জৌলুস।

    ভাবনার স্টাইলিংও দুর্দান্ত হয়েছে বলতেই হয়। ক্যারি করেছেন তিনি এই কাতান কোট যথার্থভাবে।

    ক্যারি করেছেন তিনি এই কাতান কোট যথার্থভাবে
     
    ক্যারি করেছেন তিনি এই কাতান কোট যথার্থভাবে
    ব্রাউন হাইলাইট করা খোলা চুল খুব মানিয়েছে
     
    ব্রাউন হাইলাইট করা খোলা চুল খুব মানিয়েছে
     

    ব্রাউন হাইলাইট করা খোলা চুল, কন্ট্রাস্ট সবুজ স্টেটমেন্ট নেকপিস আর মানানসই ব্যাগ সঙ্গত দিচ্ছে দারুণভাবে।

    সোনায় সোহাগা হয়েছে লাল লিপকালার। সাজে এমনিতে কোনো বাহুল্য নেই। নেকপিসের সঙ্গে হাতে আছে স্টেটমেন্ট আংটিও।

    সোনায় সোহাগা হয়েছে লাল লিপকালার
     
    সোনায় সোহাগা হয়েছে লাল লিপকালার
    হাতে আছে স্টেটমেন্ট আংটিও
     
    হাতে আছে স্টেটমেন্ট আংটিও

    অভিনেত্রী ভাবনা ঠিক এভাবেই দেশের গৌরবময় ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ ও ডিজাইনারদের কাজকে বিশ্বের সবার কাছে সবসময় তুলে ধরুন, এই কামনা রইল।

  • মহাকাশ স্টেশনে কৃত্রিম ভ্রূণ পাঠাল চীন, কেন

    মহাকাশের শূন্যতায় বা ভিনগ্রহের প্রতিকূল পরিবেশে মানুষ কি কখনো নিজেদের বংশবৃদ্ধি করতে পারবে? দীর্ঘমেয়াদি মহাজাগতিক যাত্রার প্রাক্কালে এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার এক অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ নিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের বাইরে মানুষের প্রজনন ও প্রাথমিক বিকাশের রহস্য উদ্‌ঘাটনে প্রথমবারের মতো মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়েছে মানুষের কৃত্রিম ভ্রূণের মডেল। মহাশূন্যের মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা অতিসামান্য মাধ্যাকর্ষণ এবং মহাজাগতিক বিকিরণ মানুষের বিকাশের একেবারে প্রাথমিক স্তরগুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন চীনা গবেষকেরা। এই লক্ষ্যে তাঁরা মানুষের স্টেম সেল বা কোষ থেকে তৈরি বিশেষ কিছু কাঠামো চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়েছেন, যা মানব ইতিহাসের প্রথম মহাকাশভিত্তিক কৃত্রিম ভ্রূণ মডেলের পরীক্ষা। নমুনাগুলো তিয়ানঝৌ-১০ নামক একটি কার্গো মহাকাশযানের মাধ্যমে গত মে মাসের শুরুর দিকে তিয়াংগং স্টেশনে পৌঁছায়। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব জুলজির বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ পরীক্ষা পরিচালনা করছেন।

    মহাকাশে পাঠানো এই ভ্রূণ কিন্তু কোনো পূর্ণাঙ্গ মানবশিশু বা ভ্রূণ তৈরিতে সক্ষম নয়। বিজ্ঞানীরা এগুলোকে বলছেন কৃত্রিম ভ্রূণ মডেল, যা মানুষের স্টেম সেল থেকে ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে বড় করা হয়েছে। এগুলো মূলত নিষিক্তকরণের পর থেকে ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত একটি আসল ভ্রূণ যেভাবে বাড়ে, ঠিক সেই পর্যায়কে অনুকরণ করতে পারে। এই কোষগুলো নিজে নিজেই বিন্যস্ত হতে এবং বিভাজিত হতে পারে, কিন্তু এগুলো কখনোই কোনো পূর্ণাঙ্গ মানুষে পরিণত হবে না। এই সুনির্দিষ্ট পার্থক্যের কারণেই বিজ্ঞানীরা কোনো ধরনের নৈতিক বিধিনিষেধ বা আইনি জটিলতা ছাড়াই আদিম মানববিকাশের ওপর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানোর সুযোগ পেয়েছেন।

    চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব জুলজির বিজ্ঞানী ইউ ল্যচিয়ান বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে মহাকাশ এবং পৃথিবীতে রাখা নমুনার বিকাশের মধ্যে তুলনা করার মাধ্যমে আমরা মহাকাশের পরিবেশে মানুষের প্রাথমিক ভ্রূণের বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলা উপাদানগুলো শনাক্ত করতে পারব। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ বসবাসের সময় মানুষ যেসব ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে, সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে। এটি কোনো আসল মানুষের ভ্রূণ নয় এবং এর কোনো ব্যক্তিতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা নেই। তবে এটি মানুষের প্রাথমিক বিকাশের ধাপগুলো অধ্যয়নের জন্য একটি চমৎকার মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।’

    পৃথিবীর সব প্রাণীর বিবর্তন ঘটেছে এখানকার নির্দিষ্ট মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অধীনে। কিন্তু মহাকাশের কক্ষপথের মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা ওজনহীনতা এবং উচ্চমাত্রার ক্ষতিকর বিকিরণ মানুষের শরীরের কোষের বিন্যাস, জিনের প্রকাশ কিংবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। যেহেতু মানুষ এখন মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘকাল থাকার এবং ভবিষ্যতে দূরবর্তী গ্রহে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, তাই মানবদেহে এই প্রভাবগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্প প্রধান ইউ ল্যচিয়ান জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো একটি অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা, আর তা হলো মানুষ কি মহাকাশে বেঁচে থাকতে এবং প্রজনন বা বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম? মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মানুষের একদম শুরুর দিকের শারীরিক বিকাশের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা বিজ্ঞানীরা একবার পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলে এর যেকোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব বা ক্ষতি প্রতিরোধ করার উপায়গুলোও সহজেই খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • মা আনোয়ারার স্বপ্নপূরণে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত চিত্রনায়িকা মুক্তির

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আগামী আসরের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি। আর এ সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তাঁর মা, অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা। মুক্তি জানিয়েছেন, শিল্পী সমিতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এবার তিনি সরাসরি নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে চান। তবে এ সিদ্ধান্ত এক দিনে নয়, বরং মায়ের স্বপ্ন, শিল্পীদের অনুরোধ এবং দীর্ঘদিনের সংগঠনিক অভিজ্ঞতা মিলেই এসেছে।

    রুমানা ইসলাম মুক্তি
    রুমানা ইসলাম মুক্তি, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

    মুক্তি বলেন, ‘আমার মা সব সময় চাইতেন, আমি যেন শিল্পীদের কল্যাণে আরও বড় দায়িত্বে যাই। তাঁর ইচ্ছা ছিল, আমি যেন শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে থেকে কাজ করি। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ শুধু মায়ের স্বপ্নই নয়, বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তাঁকে উৎসাহিত করেছে বলে জানান মুক্তি। গত দেড় বছরে তিনি সহকর্মী শিল্পীদের সঙ্গে নানা সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

    রুমানা ইসলাম মুক্তি
    রুমানা ইসলাম মুক্তি, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
     

    মুক্তি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে শিল্পীদের উপহার বিতরণ, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন এবং প্রয়াত শিল্পীদের স্মরণে বড় পরিসরে স্মরণসভার মতো উদ্যোগে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদ—যেখানে নেতৃত্বে আছেন মিশা সওদাগর ও ডিপজলের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে ২৪ এপ্রিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। সেই হিসাবে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    অভিনেত্রী মা আনোয়ারা ও চিত্রনায়িকা মেয়ে মুক্তি
    অভিনেত্রী মা আনোয়ারা ও চিত্রনায়িকা মেয়ে মুক্তি সংগৃহীত

    এবারের নির্বাচনে মুক্তির নেতৃত্বে একটি প্যানেল গঠনের আলোচনাও চলছে বলে জানা গেছে। শিল্পীদের একটি অংশ মনে করছেন, তাঁর দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও শিল্পীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।

    ১৯৯২ সালে গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় যাত্রা শুরু করেন রুমানা ইসলাম মুক্তি। এরপর ‘চাঁদের আলো’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘হাছন রাজা’, ‘জগৎ সংসার’সহ একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    রুমানা ইসলাম মুক্তি
    রুমানা ইসলাম মুক্তি, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

    মুক্তির মা আনোয়ারা বেগম দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। মেয়ের এই নতুন সাংগঠনিক যাত্রায় মায়ের ভূমিকা তাই আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। সব মিলিয়ে মায়ের স্বপ্নপূরণ, শিল্পীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নতুন এক যাত্রায় পা রাখছেন মুক্তি। এখন দেখার বিষয়, শিল্পী সমিতির ভোটের মাঠে এই সম্পর্ক ও ঐতিহ্যের প্রভাব কতটা কাজ করে।

  • মা হচ্ছেন অভিনেত্রী পূজা

    সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন দ্বিতীয়বার মা হতে যাচ্ছেন বলে খবর দেন। এরই মধ্যে আরও এক ভারতীয় অভিনেত্রী সুখবর শেয়ার করেছেন। দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়
    পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়,ছবি: ইনস্টাগ্রাম
     

    সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভ্লগে স্বামী কুণাল ভার্মার সঙ্গে এই সুখবর জানান পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানান, তিনি আবার গর্ভবতী। ভ্লগে নিজেই পজিটিভ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট দেখিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি—যেমনটা সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোনও সামাজিক মাধ্যমে করেছিলেন।

    ২০২০ সালের অক্টোবরে পূজা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ভার্মার ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম সন্তান কৃষভ। বিয়ের চার বছর পর এবার আবারও নতুন সদস্য আসছে তাঁদের পরিবারে। বর্তমানে নতুন অতিথিকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। ভ্লগে শুধু আনন্দের কথা নয়, এক সন্তান থাকার পর দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে যে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো আসে, সেগুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই দম্পতি।
    প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর পূজা ও কুণাল ২০২০ সালে আইনি বিয়ে সেরেছিলেন। করোনা মহামারির কারণে সেই সময় বড় অনুষ্ঠান বাতিল করে তাঁরা বিয়ের বাজেট দান করেছিলেন সমাজসেবায়।

    দেবের বিপরীতে ‘চ্যালেঞ্জ ২’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পূজা। তাঁকে আরও দেখা গেছে, ‘রকি’, ‘হইচই আনলিমিটেড’-এর মতো সিনেমায়। ‘পাপ’, ‘ক্যাবারে’ ওয়েব সিরিজেও দেখা গেছে তাঁকে।
    ‘কাহানি হামারে মহাভারত কি’, ‘তুঝ সাং প্রীত লাগাই সাজনা’–এর মতো হিন্দি সিরিয়ালেও দেখা গেছে পূজাকে। ‘বাংলা ড্যান্স বাংলা ড্যান্সে’র বিচারকও ছিলেন পূজা।

  • মা হারালেন শিউলি আজিম

    নেপালের বিপক্ষে আগামীকাল সাফের সেমিফাইনাল সামনে রেখে  আজ সকাল ৭ টায় বাংলাদেশ দলের অনুশীলন হওয়ার কথা ছিল বামবোলিম অ্যাথলেটিক গ্রাউন্ড -এ। মারগাঁও থেকে এই মাঠটি ২৪ কিলোমিটার দূরে।

    সাংবাদিকরা ৬. ৩০ মিনিটে অনুশীলন কভার করতে আসেন। এসেই পেলেন দুঃসংবাদ। বাংলাদেশ দলের সেন্টার ব্যাক শিউলি আজিমের মা মারা গেছেন। ভোর ৫ টায় আসে এ খবর। ফলে অনুশীলন বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ দল অনুশীলন মাঠে আসেনি।

    আজ আর বাংলাদেশ দলের কোনো অন ফিল্ড অনুশীলন সেশন হবে না বলে দল থেকে জানানো হয়েছে।

  • মাংস বিলির দায়িত্ব পড়ত আমার ওপর: গুলশান আরা চম্পা

    শুটিংয়ের কারণে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও কেটেছে ঈদের দিন। তা-ও একাধিকবার। আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের মতো ঈদের আনন্দ পৃথিবীর আর কোথাও নেই। শৈশবের ঈদ, অভিনয়জীবনের ঈদ, আর এবার সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনের মধ্য দিয়ে কাটানো ঈদুল আজহা—সব মিলিয়ে ঈদ আমার কাছে স্মৃতি, ভালোবাসা আর ত্যাগের গল্প।

    ছোটবেলার ঈদ

    পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় কেটেছে আমার শৈশব। তখন ঈদ মানেই ছিল উৎসবের অপেক্ষা। কোরবানির ঈদের (ঈদুল আজহা) চেয়ে রোজার ঈদই (ঈদুল ফিতর) আমাকে বেশি টানত। ঈদের চাঁদ দেখার অপেক্ষা, নতুন জামা পরার আনন্দ—সবকিছু ঘিরে অন্য রকম উচ্ছ্বাস কাজ করত।

    আর কোরবানির ঈদে ছোটবেলায় মন কিছুটা খারাপ থাকত। তবে কোরবানির মাংস বিলি করাটা বেশ উপভোগ করতাম। আনন্দ নিয়েই কাজটা করতাম। বড় হয়ে, বিয়ের পর সেই কাজটা আমি আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে করতাম।

    কোরবানির ঈদে আমাদের বাসায় গরু ও ছাগল দুটোই কোরবানি হতো। হাট থেকে কিনে আনার পর আমি গরু-ছাগল খুব আদর করতাম। আমি তিন বোনের পরিবারে বড় হয়েছি। দুজন আমার বড়। তাই সুচন্দা আপা ও ববিতা আপার আদরের ছিলাম।

    পর্দার তারকা হলেও ঘরের কাজে কখনো ছাড় পাইনি। তিন বোনই সিনেমার কাজের বাইরে ঘরের কাজে সহযোগিতা করতাম। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সংসারের নানা কাজ করতাম। ঈদ এলে আমার ওপর পড়ত মাংস বণ্টনের দায়িত্ব।

    আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী থেকে শুরু করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়ার কাজটি আমাকে করতে হতো। বিয়ের পর নিজের সংসারেও সেই দায়িত্বই পালন করেছি।

    শৈশবের ঈদের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতিগুলোর একটি হলো নতুন পোশাক, মাথার ফিতা, চুড়ি আর জুতা ঘিরে। বাবা নতুন জামা-জুতা কিনে না দিলে ঈদ পূর্ণই হতো না। বলতাম, নতুন জামা, মাথার ফিতা, হাতের চুড়ি আর নতুন জুতা আমার চাই-ই চাই। একদম নাছোড়বান্দা ছিলাম।

    কোরবানির ঈদ আমার জন্য তিন দিন চলত। তাই তিন দিনের জামাকাপড় চাই। রোজার ঈদ অবশ্য আরও বেশি, পাঁচ দিন। ঈদের আগের রাতে জামা বালিশের নিচে আর জুতা পাশে রেখে ঘুমাতাম।

    তারপর একটু পরপর ঘুম থেকে উঠে দেখতাম, সব ঠিক আছে কি না। জামা আছে তো, জুতা আছে তো, ফিতা আছে তো—এসব দেখেই আবার ঘুমাতাম। কখন ভোর হবে, সকাল হচ্ছে না কেন—অস্থির হয়ে থাকতাম।

    নায়িকার ঈদ

    অভিনয়জীবনে ঈদ মানেই ছিল নতুন সিনেমা মুক্তির আনন্দ। ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতাম। কখনো নাজ, কখনো মধুমিতা কিংবা মিরপুরের সনি সিনেমা হল—প্রতিটি হলে আলাদা স্মৃতি আছে আমার।

    অভিনয়জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঈদগুলোর একটি কেটেছিল ভারতের ওডিশায়। সঠিক সময়টা মনে নেই, কিন্তু মনে আছে সেটা নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি। আমি তখন কাজ করছিলাম সন্দীপ রায় পরিচালিত টার্গেট সিনেমায়। ছবিতে আমার সহশিল্পী ছিলেন ওম পুরী। কোরবানির ঈদের দিনও চলছিল শুটিং।

    ইউনিটের সবাই এত আন্তরিক ছিলেন যে আমাকে কখনোই বিদেশে আছি, এমনটা বুঝতে দেননি। শুটিং পেছানোর সুযোগ থাকলেও আমি নিজেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। মনে হয়েছিল, ঈদ তো জীবনে আবার আসবে।

    নায়িকা হওয়ার পর ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতেন চম্পা
    নায়িকা হওয়ার পর ঈদের দিন হলে না গেলেও পরদিন বোরকা পরে দর্শকের ভিড়ে বসে নিজের সিনেমা দেখতেন চম্পা
     

    কিন্তু এত মানুষের শিডিউল একবার নষ্ট হলে সেটি মেলানো কঠিন। তাই কাজটাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। সেবার ঈদের দিনেও কাজ করেছিলাম।

    আমার কাছে কোরবানির ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি জীবনের গভীর এক শিক্ষা। ত্যাগ, ভালোবাসা আর ভাগাভাগির শিক্ষা। এই ঈদ আমাদের শেখায়, মানুষ তার সবচেয়ে প্রিয় ও মূল্যবান জিনিসও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করতে পারে।

    সেই ত্যাগের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আত্মশুদ্ধি, বিনয় ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার এক সুন্দর বার্তা। কোরবানির মাধ্যমে শুধু একটি পশু উৎসর্গ করা হয় না, বরং মানুষের ভেতরের অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতাও ত্যাগের প্রতীকী চর্চাও হয়। সেই ত্যাগের আনন্দই শেষ পর্যন্ত সমাজে সহমর্মিতা, ভাগাভাগি আর মানবিকতার সম্পর্ক আরও সুন্দর করে তোলে।

    এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা আমার জীবনে বিশেষ আনন্দ নিয়ে এসেছে। বহুদিনের স্বপ্ন ছিল হজ পালন করার। নানা কারণে কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও যাওয়া হয়নি। অবশেষে এবার সৌদি আরবে হজ পালন করতে এসেছি।

    পরিবারের সদস্যরাও আমার সঙ্গে আছে। মনে হচ্ছে, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঈদটা এবারই কাটতে যাচ্ছে। পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অন্য রকম এক অনুভূতির মধ্যে আছি।

    অনুলিখন: মনজুর কাদের

  • মাঠের অতন্দ্র প্রহরী থেকে এবার ক্রীড়াঙ্গনের ‘ক্যাপ্টেন’ আমিনুল

    ফুটবল মাঠে একসময় যাঁর বিশ্বস্ত হাত প্রতিপক্ষের গোল রুখে দিত, সেই আমিনুল হক এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ অভিভাবক। দীর্ঘ জল্পনা আর রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে ‘টেকনোক্র্যাট কোটায়’ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। মাঠ থেকে পরে মন্ত্রিসভায় যাওয়ার নজির অবশ্য এ দেশে নতুন নয়। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও আরিফ খান জয়রাও বুট জোড়া তুলে রেখে রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেছিলেন। হয়েছিলেন মন্ত্রীও।

    ভোলার ছেলে আমিনুলের বেড়ে ওঠা ঢাকার মিরপুরে। বড় ভাই মঈনুল হকও ছিলেন মাঠের মানুষ। ভাইয়ের হাত ধরেই ফুটবলের প্রেমে পড়া। কিশোর বয়সে খ্যাপ খেলে পাওয়া প্রথম ১৫০ টাকা যখন মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, সেই তৃপ্তির হাসিই যেন আমিনুলকে বুঝিয়ে দিয়েছিল—তাঁকে অনেক দূর যেতে হবে। পাইওনিয়ার লিগের এমএসপিসি সিটি ক্লাবে যখন হাতেখড়ি হলো, তখনই কোচরা টের পেয়েছিলেন, এই ছেলেটি বিশেষ কিছুর জন্য জন্ম নিয়েছে।

    অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য, নব্বইয়ের দশকে ঢাকার পাইওনিয়ার লিগে নিজের প্রথম ৯ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি আমিনুল। পাইওনিয়ার লিগে নৈপুণ্যের পর আমিনুলকে ঢাকার প্রথম বিভাগ লিগের দল ইস্ট এন্ড ক্লাবে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাই মঈনুল হক এবং মোহামেডানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ইমতিয়াজ সুলতান জনির সহায়তায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তাঁকে দলে ভেড়ায়। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ছাঈদ হাসান কানন ক্লাবে থাকায় মোহামেডানে আমিনুলের সময়টা কেটেছিল তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে।

    ২০০১ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে বাংলাদেশের ফুটবলের তিন তারকা হাসান আল মামুন, আমিনুল হক (মাঝে) ও আলফাজ আহমেদ
    ২০০১ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে বাংলাদেশের ফুটবলের তিন তারকা হাসান আল মামুন, আমিনুল হক (মাঝে) ও আলফাজ আহমেদছবি: ফেসবুক

    মোহামেডানের সঙ্গে দুই বছরের বাইন্ডিংস শেষে আমিনুল ১৯৯৬ সালের প্রিমিয়ার লিগে ফরাশগঞ্জ এসসিতে নাম লেখান। কোচ প্রাণ গোবিন্দ কুণ্ডুর অধীনে আমিনুল দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে খেলেন। আমিনুলের অভিষেক মৌসুমে ফরাশগঞ্জ লিগে ষষ্ঠ হয়ে অবনমন এড়ায়। ১৯৯৬ সালে ফরাশগঞ্জের জার্সি গায়েই আমিনুল বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত তিনি। তাঁর রক্ষণব্যূহের সামনে দেশের সেরা স্ট্রাইকাররা বারবার খেই হারিয়ে ফেলতেন। সেই লিগের দুই পর্বে আবাহনী-মোহামেডানের বিপক্ষে চার ম্যাচে ফরাশগঞ্জ হারেনি। চারটিই হয়েছে ড্র। আবাহনীকে রুখে দিলে মোহামেডান পুরস্কার দিত ১০ হাজার টাকা, আবার মোহামেডানকে রুখলে আবাহনী দিত ১০ হাজার টাকা। এভাবে ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি প্রেরণা পান বড় দলের কাছ থেকে।

    জাতীয় দলে অভিষেক ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। খেলেছেন ২০১১ পর্যন্ত। চোট ছাড়া তাঁকে কখনো বসে থাকতে হয়নি। আমিনুলের জন্যই জাতীয় দলে বেশি খেলার সুযোগ হয়নি বিপ্লব ভট্টাচার্যর।

    আমিনুলের ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে দলটির গোলপোস্টের নিচে ছিলেন। এর মধ্যে ২০০০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত দলটিকে এনে দিয়েছেন অসংখ্য ট্রফি। আবাহনী, মোহামেডান বা শেখ জামালের হয়ে যখনই তিনি মাঠে নেমেছেন, সমর্থকদের মনে নিশ্চিন্ত ভরসা জেগেছে। দলকে এনে দিয়েছেন ট্রফি। ২০০৯ সালে প্রথম সুপার কাপের ফাইনালে মোহামেডানকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন, স্বীকৃতিস্বরূপ টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন।

    ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের গোলকিপার আমিনুল হক
    ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের গোলকিপার আমিনুল হক, ছবি: এএফপি

    জাতীয় দলে অভিষেক ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। খেলেছেন ২০১১ পর্যন্ত। চোট ছাড়া তাঁকে কখনো বসে থাকতে হয়নি। আমিনুলের জন্যই জাতীয় দলে বেশি খেলার সুযোগ হয়নি বিপ্লব ভট্টাচার্যর।

    ২০০৩ সালে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম মেতেছিল সাফ ট্রফি জয়ের আনন্দে। পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল সাফের ফাইনালের দিকে। মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকারে আমিনুল যখন দ্বিতীয় শটটি রুখে দিলেন, তখন পুরো গ্যালারি গর্জে উঠেছিল। সেই মুহূর্তটি আমিনুলকে পরিণত করেছিল জাতীয় নায়কে। বাংলাদেশের ফুটবলে এখনো ২০০৩ সালের সাফ জয়ই শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে গণ্য করা হয়।

     

    ২০১০ সালের এসএ গেমস ছিল আমিনুলের ক্যারিয়ারের আরও এক স্মরণীয় মাইলফলক। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল সোনা জিতেছিল এবং বিস্ময়করভাবে পুরো টুর্নামেন্টে আমিনুলের বিপক্ষে কোনো গোল হয়নি। ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে ভিয়েতনামের সঙ্গে ড্র দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে বড় জয় পায় বাংলাদেশ। তারপর সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হারলেও তাঁর লড়াকু মনোভাব প্রশংসিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলে। দাম্মামের রাস্তায় বেরোলে তাঁকে ঘিরে ধরতেন প্রবাসীরা। কাতার যুব দলের সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রীতি ম্যাচ ড্রয়ের পর দোহার এক প্রবাসীর কাছে পাওয়া ২০০ রিয়াল পুরস্কার আমিনুলের ফুটবল–জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি।

    গোলকিপারের জার্সিতে আমিনুল হক
    গোলকিপারের জার্সিতে আমিনুল হক, ফেসবুক

    বাংলাদেশের সাফ জয়ের নেপথ্য কারিগর প্রয়াত অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের প্রিয় ছাত্র ছিলেন আমিনুল। কোটান থেকে শুরু করে অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞর মতেই আমিনুলের প্রতিভা ছিল ইউরোপের বড় লিগে খেলার মতো। কাতারের আল হিলাল ক্লাব একবার তাঁকে দলভুক্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু ভাগ্য খোলেনি শেষ পর্যন্ত।

    ঢাকার দলবদলে তাঁকে নিয়ে নাটক হয়েছে অনেক। ২০০০ সালে লন্ডনে প্রীতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জাতীয় দল ঢাকায় ফিরলে বিমানবন্দরেই আমিনুলকে নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগে আবাহনী আর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে। ২০০৩ সালে এই দুই ক্লাব আবার যুদ্ধে নামে আমিনুলকে দলে নিতে। তারই জেরে মুন্সিগঞ্জের এক জায়গায় ১২ দিন তাঁকে লুকিয়ে রাখে মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমিনুলের ভাই মঈনুল হক রমনা থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে তিনি আবাহনী লিমিটেড ঢাকার বিরুদ্ধে আমিনুলকে অপহরণের অভিযোগ আনেন। ১২ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশ আমিনুলের সন্ধানে ধানমন্ডির আবাহনী ক্লাবে নজিরবিহীন অভিযান চালায়, কিন্তু সেখানে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    দেশজুড়ে যখন তাঁর খোঁজ চলছিল, তখন ওই দিন বিকেলেই আমিনুল আকস্মিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড অফিসে হাজির। সেখানে তিনি দাবি করেন, বন্দুকের মুখে তাঁকে তুলে নিয়ে আবাহনী ক্লাবে রাখা হয়েছিল এবং পরে মোহাম্মদপুরের একটি বাড়িতে বন্দী করে রাখা হয়। আমিনুল তখন বলেছিলেন, তিনি ওই বাড়ির দোতলার ব্যালকনি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে এসেছেন।

    খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন আমিনুল হক
    খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন আমিনুল হক

    খেলার মাঠ থেকে অবসর নিয়ে আমিনুল বেছে নেন দেশের মূলধারার রাজনীতি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে রাজপথে সক্রিয় হন। কিন্তু এই পথ তাঁর জন্য মসৃণ ছিল না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। দিনের পর দিন কারাগারে কাটাতে হয়েছে, সহ্য করতে হয়েছে হয়রানি।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে অত্যন্ত স্বল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া আমিনুলের জন্য ছিল এক সাময়িক ধাক্কা। তবে তাঁর ক্রীড়া মেধা এবং রাজনৈতিক ত্যাগের কথা বিবেচনা করে তাঁকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নতুন সরকার।

    পোস্টের নিচে যেমন কোনো বলকে জালে ঢুকতে দেননি, তেমনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও আমিনুল কোনো ‘অনিয়মের গোল’ হতে দেবেন না—এমনটাই প্রত্যাশা ক্রীড়াপ্রেমীদের।

  • মাতৃত্বই জীবনের সেরা চরিত্র: দীপিকা পাড়ুকোন

    বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন আবারও মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন। স্বামী রণবীর সিংয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের খবর জানিয়ে ভক্তদের আনন্দে ভাসিয়েছেন তিনি। তবে এই ঘোষণার মাঝেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দীপিকার সেই পুরোনো বক্তব্য; যেখানে তিনি বলেছিলেন মাতৃত্বই তাঁর জীবনের ‘সেরা চরিত্র’।

    আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি—ছোট্ট হাতের মুঠোয় ধরা একটি ‘প্রেগন্যান্সি কিট’। আর সেই ছবিই এখন বলিউডজুড়ে আলোচনার কেন্দ্র। দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন দীপিকা পাড়ুকোন—এই সুখবরটি নিজেই জানালেন তিনি।
    ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, মেয়ে দুয়া পাড়ুকোন সিংয়ের হাতে ধরা রয়েছে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট। কোনো দীর্ঘ ক্যাপশন নয়, খুবই সংযত ভঙ্গিতে এই ছবির মাধ্যমেই সুখবরটি জানান অভিনেত্রী। মুহূর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়, ভক্ত–সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। ছবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া মন্তব্য করেন, ‘কনগ্রেটস!’—যা দ্রুতই নজর কাড়ে।

    মাতৃত্ব নিয়ে দীপিকার ভাবনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে গভীরভাবে বদলে দিয়েছে। আগে নিজেকে ধৈর্যশীল মনে করলেও, সন্তান জন্মের পর সেই ধৈর্য ও সহনশীলতা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

    দীপিকার কথায়, মাতৃত্ব মানুষকে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি থেকে বের করে আনে। দীপিকা স্বীকার করেছিলেন, তিনি স্বভাবতই খুব সামাজিক ছিলেন না। কিন্তু সন্তানের কারণে অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে মেলামেশা, প্লে-স্কুলের পরিবেশ—সব মিলিয়ে তাঁকে নতুনভাবে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে শিখিয়েছে। এই পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচক বলেই দেখেন।

    কন্যা দুয়ার সঙ্গে রণবীর ও দীপিকা। ইনস্টাগ্রামা থেকে
    কন্যা দুয়ার সঙ্গে রণবীর ও দীপিকা। ইনস্টাগ্রামা থেকে

    দীপিকা এই সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘আমি সব সময়ই মা হতে চেয়েছি। আর এখন আমি আমার জীবনের সেরা চরিত্রে অভিনয় করছি।’এই এক বাক্যেই যেন তাঁর অনুভূতির গভীরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অভিনয়ের জগতে অসংখ্য চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করলেও, বাস্তব জীবনের এই ভূমিকাকেই তিনি সবচেয়ে পূর্ণতা দেওয়া বলে মনে করেন।

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দীপিকা ও রণবীরের সংসারে আসে তাঁদের প্রথম সন্তান দুয়া। বেশ কিছু সময় তাঁরা মেয়েকে গণমাধ্যমের আড়ালে রেখেছিলেন। পরে দেওয়ালির সময় প্রথমবারের মতো কন্যার ছবি প্রকাশ করেন, যা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

    সেই সঙ্গে এই দম্পতি জানান, ‘দুয়া’ নামটির অর্থ ‘প্রার্থনা’—যা তাঁদের জীবনে সন্তানের আগমনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আবেগের প্রতীক।

    এদিকে পেশাগত জীবনেও দুজনেই রয়েছেন ব্যস্ততায়। রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বক্স অফিসে সফলতা পেয়েছে। অন্যদিকে দীপিকাকে শিগগিরই দেখা যাবে শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘কিং’ ছবিতে। এ ছাড়া দক্ষিণের তারকা আল্লু অর্জুনের সঙ্গে তাঁর আরেকটি বড় প্রকল্পও রয়েছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • মাদক মামলায় জড়িয়ে থমকে যায় নায়িকার ক্যারিয়ার

    মালয়ালম সিনেমার একসময়ের আলোচিত মুখ প্রজ্ঞা মার্টিন। অল্প বয়সেই বড় তারকার ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের মাঝপথে বিতর্ক, বিশেষ করে একটি মাদক মামলার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ায় তাঁর পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়। তবু শেষ পর্যন্ত সেই মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে আবার নতুনভাবে পথচলার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী।

    বড় তারকার ছবিতে অভিষেক
    প্রজ্ঞা মার্টিন প্রথমবার সিনেমায় অভিনয় করেন কিশোরী বয়সে। তাঁর অভিষেক হয় মালয়ালম তারকা মোহনলালের অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘সাগর অ্যালিয়াস জ্যাকি রিলোডেড’ ছবিতে। এটি মূলত ১৯৮৭ সালের সিনেমা ‘ইরুপাথাম নোত্তানডু’র স্পিন-অফ। যদিও এটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি, তবু ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকের নজর কাড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। বিশেষ করে মোহনলালের সঙ্গে তাঁর কয়েকটি দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিল।

    ধীরে ধীরে পরিচিতি
    অভিষেকের পরপরই প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ার খুব দ্রুত এগোয়নি। কয়েক বছর পরে তিনি ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন জনপ্রিয় মালয়ালম ছবি ‘উস্তাদ হোটেল’-এ। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন দুলকার সালমান, নিত্যা মেনন। সিনেমার পাশাপাশি প্রজ্ঞা তখন মডেলিংয়েও যুক্ত হন। ধীরে ধীরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি।

    তামিল হরর ছবিতে জনপ্রিয়তা
    প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে তামিল হরর সিনেমা ‘পিসাসু’র মাধ্যমে। ভৌতিক আবহে নির্মিত এই সিনেমা মুক্তির পর দ্রুতই দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পায়। ছবিতে প্রজ্ঞার উপস্থিতি তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি তখন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মালয়ালম সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
    পরে প্রজ্ঞা মার্টিন আবার মালয়ালম সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। একপর্যায়ে পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের সঙ্গে একটি ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। ধীরে ধীরে তাঁর ক্যারিয়ার এগোচ্ছিল এবং তিনি মালয়ালম ও তামিল—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করছিলেন।

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    বিতর্কে থমকে যাওয়া ক্যারিয়ার
    ক্যারিয়ারের এই সময়েই হঠাৎ বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। কুখ্যাত এক গ্যাংস্টারের সঙ্গে যুক্ত মাদক মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে। এই ঘটনায় দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয় এবং তাঁর ক্যারিয়ারও হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক প্রযোজক ও পরিচালক তখন তাঁকে নিয়ে কাজ করতে অনাগ্রহ দেখান।

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মামলায় অবশেষে স্বস্তি
    দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে ওই মাদক মামলায় প্রজ্ঞা মার্টিনকে ক্লিন চিট দেওয়া হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে আসে। কারণ, এই মামলার কারণে দীর্ঘদিন তিনি নেতিবাচক প্রচারের মধ্যে ছিলেন।

    মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবার নতুনভাবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন প্রজ্ঞা মার্টিন। যদিও আগের মতো নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না তাঁকে, তবু অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • মার্কিন বন্ড বাজারে অস্থিরতা, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাতেই বিষয়টি বোঝা যায়। সেটা হলো, শেয়ারবাজার বা পণ্যের বাজারে মাঝেমধ্যে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা সহজেই উপেক্ষা করা যায়। কিন্তু বন্ড বাজার যখন অস্থির হয়ে ওঠে, তখন গুরুত্ব দিতেই হয়।

    ২০২৫ সালের এপ্রিলে বন্ড বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে পারস্পরিক শুল্কনীতির গতি কমাতে বাধ্য করেছিল। এখন আবারও বন্ড ব্যবসায়ীরা সতর্কসংকেত দিচ্ছেন। তবে এবার পরিস্থিতি শান্ত করার মতো খুব বেশি কিছু ট্রাম্পের হাতে আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টউড ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ড্যানিয়েল অ্যালপার্ট সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তেলের দাম নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, বন্ড বাজারে তার প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আর (ট্রাম্প) নিজেই যে সমস্যার মধ্যে আমাদের ফেলেছেন, সেখান থেকে কীভাবে বের হতে হবে, তা যেন তিনি বুঝতে পারছেন না।’

    সহজ করে বললে, বন্ড ব্যবসায়ীরা এখন মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়েছে, তা ট্রাম্প যেভাবে ‘স্বল্পমেয়াদি’ বলে দাবি করছেন, বাস্তবে বিষয়টি হয়তো তেমন নয়। এ ধারণা শক্তিশালী হলে বন্ডের দাম আরও কমতে পারে।

    এটি শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। সিএনএনের সাংবাদিক ডেভিড গোল্ডম্যান বন্ড বাজারকে পুরোনো দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাল্লার এক পাশে থাকে বন্ডের দাম, অন্য পাশে থাকে সুদের হার।

    এখন নানাবিধ অর্থনৈতিক শঙ্কার কারণে সেকেন্ডারি বাজারে বন্ডের দাম কমছে। এর মধ্যে আছে—

    • ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি।
    • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় দ্রুত বর্ধনশীল জাতীয় ঋণ।
    • ভোক্তা ঋণের চাপ।
    • ইরান যুদ্ধের ব্যয়।
    • সুদের হার আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা।
    • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে অর্থায়নের ব্যয়।

    বন্ডের দাম যত কমে, সুদের হার তত বাড়ে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা সরকারকে মূলত বলছেন, ‘আমাদের অর্থ ধরে রাখতে চাইলে আরও বেশি সুদ দিতে হবে।’

    এর অর্থ হলো, জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বাড়বে। যে কারণে শেষমেশ করদাতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সেবা খাতে ব্যয়ের সুযোগও কমে যাবে। আবার যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ঋণের ব্যয়ও বাড়বে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাবে। এমনকি মন্দার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে, যদিও সেই পরিস্থিতি এখনো খুব কাছাকাছি নয়।

    গতকাল মঙ্গলবার বন্ড বাজারের উদ্বেগ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও তা দূর হয়নি। ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার উঠে যায় ৫ দশমিক ২ শতাংশে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। একই দিনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে।

    শেয়ার ও পণ্যের বাজারে সাধারণত ট্রাম্প বা অন্য বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া হয়, কিন্তু বন্ড বাজার ভিন্ন ধরনের।

    ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত প্রায় তিন মাসে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, যুদ্ধ ‘শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি’। তাঁর এমন মন্তব্যে প্রায় প্রতিবারই শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে এবং তেলের দাম কমেছে।

    গত সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’র স্বার্থে তিনি ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করছেন। এতে শেয়ারবাজার ক্ষতি অনেকটা কাটিয়ে ওঠে এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়। কিন্তু বন্ড বাজারে তার প্রভাব পড়েনি; বরং বিশ্বজুড়ে বন্ড বিক্রি চলতেই থাকে।

    বিষয়টি হলো, বিনিয়োগকারীরা শুধু যুদ্ধ বা তেলজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তাঁদের দৃষ্টিতে এখন একসঙ্গে একাধিক সংকট।

    বার্কলেজের গবেষণা বিভাগের বৈশ্বিক চেয়ারম্যান অজয় রাজাধ্যক্ষ সোমবার এক নোটে লেখেন, ‘গল্পটি খুবই সহজ, কিন্তু অস্বস্তিকর—উন্নত বিশ্বে ঋণ অনেক বেশি, আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গুর। এ দুটি সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও নেই...জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি যেন বোঝার ওপর শাকের আঁটি’।

    সিএনএন

  • মার্কিন শুল্কচুক্তি থেকে সরে আসার পরামর্শ সিপিডির

    অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা শুল্কচুক্তি চরমভাবে বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘চুক্তির শর্ত দেখে আমরা হতভম্ব, স্তম্ভিত। তাই সরকারের উচিত এই চুক্তি থেকে সরে আসা।’

    আজ শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: ১৮০ দিনও তারপর’ শীর্ষক এ মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে সিপিডি।

    অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যখন শুল্কসংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে শুধু শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। পাল্টা শুল্কের হার কীভাবে ৩৫ থেকে ২০ শতাংশে কমিয়ে আনা যাবে, সেটি। এ জন্য কিছু কেনাকাটার (প্রকিউরমেন্ট) চুক্তি করলেই নাকি হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে চুক্তি হয়েছে, তা দেখে আমরা হতভম্ব, স্তম্ভিত। এই ধরনের চুক্তি কীভাবে একটি অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারল বা এই দায় কীভাবে একটি নির্বাচিত সরকারের কাঁধে দিয়ে যেতে পারল, তা বোধগম্য নয়। কোনো একটি বিষয়ে যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে নিন্দা জানানোর থাকে, তাহলে আমি এই একটি চুক্তির জন্য নিন্দা জানাতে চাই।’

    ব্রিফিংয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সরকার গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি দুর্বল পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ ছিল। সরকার রাজনৈতিক বিবেচনাতেও গভর্নর নিয়োগ দিতে চাইলে এর চেয়ে আরও ভালো নিয়োগ দিতে পারত। নবনিযুক্ত গভর্নরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। সরকার এ ধরনের সমালোচনাগুলো এড়িয়ে আরও ভালো নিয়োগ দিতে পারত। সে ধরনের যোগ্য লোক সরকারের হাতে ছিল।

    বড় সমস্যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির

    দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন সরকারের অগ্রাধিকার বিষয়ে বিভিন্ন খাতভিত্তিক পর্যালোচনা তুলে ধরে সিপিডি। সংস্থাটি বলেছে, সরকারি কাঠামোর বড় সমস্যা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দুর্বলতা ও দক্ষতার সংকট। নতুন সরকারকে এটি মোকাবিলা করতে হবে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দুর্বলতা। ব্যবসার পরিবেশের ক্ষেত্রে অবকাঠামো, মানবসম্পদ, অর্থায়ন, দুর্নীতি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আস্থা পান না।

    সিপিডি জানিয়েছে, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু তৈরির মতো কিছু বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কথা বলেছে। তবে এ মুহূর্তে সেই আর্থিক সক্ষমতা সরকারের নেই। তাই সরকারের উচিত হবে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করা। ইশতেহারে বিএনপি মোট দেশজ আয়ের (জিডিপি) তুলনায় রাজস্ব আহরণ ৭ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করবে। এটি যৌক্তিক। তবে এ ক্ষেত্রে কর ন্যায্যতা নিশ্চিত ও করব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করতে হবে।

    কয়লা উত্তোলন নয়

    অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশে বর্তমানে একাধিক সমস্যা রয়েছে। যার মধ্যে অতিমূল্যায়িত চাহিদা প্রক্ষেপণ ও প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের সংকট অন্যতম। বিএনপির নির্বাচনী পথনকশায় নতুন করে দেশের কয়লা উত্তোলনের একধরনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কয়লা উত্তোলন দেশের জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। সরকারের উচিত হবে এমন উদ্যোগ থেকে সরে আসা। আর গ্যাস–সংকট সমাধানে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি কোনো সমাধান হতে পারে না।

    সরকারকে দুই পায়ে চলার পরামর্শ

    সরকারি কার্যক্রমের তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সংসদের ভূমিকা বাড়ানোর পরামর্শ দেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, সরকার যদি দুই পায়ে কাজ করে, তাহলে এক পা হলো নির্বাহী বিভাগ, আরেক পা সংসদ। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, বিশেষ করে আর্থিক–সংক্রান্ত কমিটিগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে তা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতের বড় সুযোগ তৈরি করবে।

    সিপিডি মনে করে, নতুন সরকারকে সমান্তরালভাবে ১৮০ দিন এবং পরবর্তী ৫ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে সরকারি উদ্যোগ যেন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, এটি যেন স্থানীয় সরকার প্রশাসন তথা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়েও বাস্তবায়িত হয়।

  • মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ

    সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত ও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) নেপালের কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই ম্যাচ। গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।  

    এই দাপুটে জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি টানা তৃতীয়বার দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জেতার  অভিযানে দারুণ এক শুভ সূচনা করল বাংলাদেশ।

    ম্যাচের শুরু থেকেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। শক্তিশালী আক্রমণভাগের তোপে ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সাবিনা-প্রীতিরা। চমৎকার পাসিং ও মাঝমাঠের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে ম্যাচের পুরোটা সময় মালদ্বীপের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা।

    তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের কিছুটা ভুলের সুযোগ নিয়ে মালদ্বীপ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় এবং আকস্মিক স্কোরলাইন ২-২ সমতায় নিয়ে আসে। অবশ্য সমতায় ফেরার সেই আনন্দ মালদ্বীপের জন্য বেশি দীর্ঘ হতে দেয়নি বাংলাদেশ। কৌশলের দ্রুত পরিবর্তন এনে মাঠের নিয়ন্ত্রণ আবারও নিজেদের হাতে তুলে নেয় লাল-সবুজের মেয়েরা। ম্যাচের শেষভাগে সুরভী আক্তার প্রীতির দুর্দান্ত ফিনিশিং এবং উমেলার আকর্ষণীয় স্ট্রাইকে আরও দুটি গোল করে বড় ব্যবধান নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়ার সুবাদে টুর্নামেন্টের শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, গত দুই আসরের (২০২২ এবং ২০২৪) চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য এবার টানা তৃতীয় শিরোপার হ্যাটট্রিক ঘরে তোলা।

     
  • মায়ামির নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচেই গোল করলেন মেসি

    ইন্টার মায়ামির নতুন স্টেডিয়াম। উদ্বোধনী ম্যাচ। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল করতে সময় নিলেন মাত্র ১০ মিনিট। নিজের নামাঙ্কিত ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’–এর সামনেই ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রথম গোলটি করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

    যদিও জয়ের হাসি নিয়ে ম্যাচটি শেষ করতে পারেনি তাঁর দল। ঘরের মাঠে অস্টিন এফসির বিপক্ষে এমএলএসের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়।

    মায়ামির প্রথম গোলটা মেসির পা থেকে এলেও ন্যু স্টেডিয়ামের ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেছেন অস্টিন ডিফেন্ডার গুইলহার্মে বিরোর। ৬ মিনিটেই সফরকারীদের এগিয়ে দেন তিনি। এর চার মিনিট পরই দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ৯০৩ নম্বর গোল।

    সমতায় ফেরার পর মায়ামি বল দখলে আধিপত্য দেখালেও অস্টিনের রক্ষণভাগ ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছিল। উল্টো ৫৩ মিনিটে পাল্টা–আক্রমণে জেইডেন নেলসনের গোলে আবারও লিড নেয় অস্টিন।

    ম্যাচ যখন হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন ৭৩ মিনিটে অভিজ্ঞ লুইস সুয়ারেজকে মাঠে নামান কোচ হাভিয়ের মাচেরানো। মাঠে নামার ৮ মিনিট পরে গোল করে দলের হার বাঁচান এই উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে জর্মান বার্টারেম হেড করার পর খুব কাছ থেকে বল জালে জড়ান সুয়ারেজ।

    গোল পেলেও ম্যাচ জেতেনি মায়ামি
    গোল পেলেও ম্যাচ জেতেনি মায়ামি, এএফপি

    ভাগ্য সহায় হলে ম্যাচের শেষ দিকে মেসি দারুণ একটা সমাপ্তি টানতে পারতেন। কিন্তু ৯০ মিনিটে তাঁর ট্রেডমার্ক ফ্রি-কিকটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে সুয়ারেজ জালে বলে জড়িয়েছিলেন ঠিকই, তবে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে সেটি। এই ড্রয়ের ফলে এমএলএসে টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত রইল ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে চার ম্যাচ জয়হীন থাকল অস্টিন।

    গত মৌসুমে এমএলএস কাপ জেতার পর এটিই ছিল মায়ামির প্রথম হোম ম্যাচ। এ ছাড়া দীর্ঘ ছয় বছর ফোর্ট লডারডেলকে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহারের পর এবারই প্রথম নিজেদের শহরের নামে গড়া স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পেল তারা।

    ২৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করেন ক্লাবের সহমালিক ডেভিড বেকহাম ও জর্জ মাস। খেলা শুরুর আগে আবেগপ্রবণ হয়ে বেকহাম বলেন, ‘মায়ামিতে এই স্টেডিয়াম চালু করার জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা করার পর আজ এটি বাস্তবে রূপ নিতে দেখাটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। ২০ বছর আগে এমএলএসে আসার সময় অনেক কথা দিয়েছিলাম। ১৩ বছর আগে মায়ামিতে আসার সময়ও সেই প্রতিশ্রুতির কথা শুনিয়েছিলাম। আজ আমাদের সেই স্বপ্ন সত্যি হলো।’

    গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ও বেকহামের রিয়াল মাদ্রিদ–সতীর্থ রোনালদো নাজারিও।

    ম্যাচ শেষে মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাচেরানো স্টেডিয়াম নিয়ে বলেন, ‘এটি দর্শনীয় স্টেডিয়াম, নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। দর্শকদের উপস্থিতি ছিল অবিশ্বাস্য; পুরো গ্যালারি একদম ঠাসা ছিল।’

    আগামী সপ্তাহে নিজেদের এই নতুন মাঠে নিউইয়র্ক রেড বুলসের মুখোমুখি হবে মায়ামি।

  • মিনহাজুল ও আতহারের জন্য এবার বিসিবি চালানোর চ্যালেঞ্জ

    একজন এখন ধারাভাষ্যকার, অন্যজন চাকরি করেন বিসিবিতেই। তবে আতহার আলী ও মিনহাজুল আবেদীনের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁরা জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার। আরেকটি জায়গায়ও মিল আছে দুজনের—একসময় তাঁরা ছিলেন জাতীয় দলের নির্বাচক। এবার আতহার ও মিনহাজুল বিসিবিতে এসেছেন অ্যাডহক কমিটির সদস্য হয়ে।

    টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার আগের বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মিনহাজুল আবেদীন। অবসরের পর ২০০৫ সালে বিসিবিতে যোগ দেন কোচ হিসেবে। একসময় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলের ব্যাটিং কোচও ছিলেন তিনি, বিসিবির বিভিন্ন প্রোগ্রামেও কোচের ভূমিকায় ছিলেন।

    মিনহাজুল ওই দায়িত্ব ছেড়ে চলে আসেন নির্বাচক প্যানেলে। সদস্য ও প্রধান নির্বাচক হিসেবে এক দশকের বেশি সময় কাজ করেন। ২০২৪ সালে তাঁকে সরিয়ে গাজী আশরাফ হোসেনকে প্রধান নির্বাচক করে বিসিবি। এর পর থেকে মিনহাজুল বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো–অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

     অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল
    অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল
     

    প্রায় দুই দশক যে বোর্ডের সঙ্গে জড়িয়ে, সেটিই এখন চালানোর দায়িত্ব পাওয়ার পর মিনহাজুল বলেন, ‘২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করেছি। সবকিছু ভেতর থেকে দেখেছি। আশা করি, এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। আর আমাদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠভাবে একটা নির্বাচন আয়োজন করা।’

    বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব পেয়েছে ৩ মাসের জন্য। এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে তাদের। সেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান মিনহাজুল আবেদীন। পরিচালক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তিনি কাজে লাগাতে চান লম্বা সময়ের জন্য। এ জন্য বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে তাঁর।

    জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে সবার সঙ্গেই আমার একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আছে। সেটা কাজে লাগিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এমন কিছু কাজ করতে চাই, যেন ছাপ থেকে যায়।’

    অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালও জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি ছাড়া তাঁর কমিটিতে ক্রিকেটার হিসেবে আছেন শুধু আতহার ও মিনহাজুল আবেদীনই। আতহার অবশ্য এখন ধারাভাষ্যকার হিসেবেই বেশি পরিচিত।

    বাংলাদেশের যেকোনো খেলাতেই শোনা যায় তাঁর কণ্ঠস্বর। অ্যাডহক কমিটি গঠনের দিনও তিনি পিএসএলে ধারাভাষ্য দিতে ছিলেন পাকিস্তানে। সেখান থেকে অনলাইনেই বোর্ড সভায় যোগ দেন গতকাল।

    এখন ধারাভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত হলেও জাতীয় দলের হয়ে ১৯ ওয়ানডেতে তিন ফিফটি করা আতহার একসময় বিসিবিতে নির্বাচক ছিলেন। ২০০৪ সালে প্রথমে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে নির্বাচক প্যানেলের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৬–১৭ সালে আতহারকে মেয়েদের নির্বাচক করা হয়। সেই দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই আতহার সব মনোযোগ দেন ধারাভাষ্যে।

    এবার মিনহাজুলের সঙ্গে আতহারও বিসিবিতে এলেন ভিন্ন ভূমিকায়। ক্রিকেট বোর্ড চালানোর এই চ্যালেঞ্জ তাঁরা কতটা নিতে পারবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

  • মিমের ব্যাগটির দাম ৬ লাখ টাকার বেশি, দেখুন তাঁর মালয়েশিয়া সফরের ১২টি ছবি

    অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম সপরিবার ঘুরছেন মালয়েশিয়ায়। সফরের ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন নিয়মিত। সমুদ্রসৈকত, সুইমিংপুল, স্কাই ব্রিজসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর হাসিখুশি ছবিগুলো দেখতে দেখতে জেনে নিন তাঁর ফ্যাশনের ফিরিস্তি।

    বিদ্যা সিনহা সাহা মিম পরেছেন আকাশি রঙের স্ট্রাইপড কো-অর্ড সেট
    বিদ্যা সিনহা সাহা মিম পরেছেন আকাশি রঙের স্ট্রাইপড কো-অর্ড সেটছবি: ফেসবুক থেকে
     
    কো-অর্ডের টপ পরেছেন সাদা রঙের টি-শার্টের ওপর
    কো-অর্ডের টপ পরেছেন সাদা রঙের টি-শার্টের ওপর, ছবি: ফেসবুক থেকে
     
    কাঁধে শ্যানেলের পার্ল ক্রাশ মিনি ফ্ল্যাপ ব্যাগ। ব্যাগটির দাম পাঁচ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা
    কাঁধে শ্যানেলের পার্ল ক্রাশ মিনি ফ্ল্যাপ ব্যাগ। ব্যাগটির দাম পাঁচ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৬ লাখ ১৩ হাজার টাকাছবি: ফেসবুক থেকে
     
    হাতে স্মার্ট ওয়াচ আর পায়ে লুই ভুতোঁর স্নিকার্স
    হাতে স্মার্ট ওয়াচ আর পায়ে লুই ভুতোঁর স্নিকার্সছবি: ফেসবুক থেকে
     
    এবারের ভ্রমণে নো-মেকআপ লুকে দেখা যাচ্ছে এই অভিনেত্রীকে। ঠোঁটে ওয়ার্ম পিঙ্ক রঙের লিপস্টিক
    এবারের ভ্রমণে নো-মেকআপ লুকে দেখা যাচ্ছে এই অভিনেত্রীকে। ঠোঁটে ওয়ার্ম পিঙ্ক রঙের লিপস্টিকছবি: ফেসবুক থেকে
     
    মেরুন রঙের পোশাকটিতে প্রাণবন্ত লাগছে বিদ্যা সিনহা মিমকে
    মেরুন রঙের পোশাকটিতে প্রাণবন্ত লাগছে বিদ্যা সিনহা মিমকেছবি: ফেসবুক থেকে
     
    সুইটহার্ট গলা ও হাফ হাতার পোশাকটিতে পাতার নকশা, হাতে প্রিয় স্মার্ট ওয়াচ
    সুইটহার্ট গলা ও হাফ হাতার পোশাকটিতে পাতার নকশা, হাতে প্রিয় স্মার্ট ওয়াচছবি: ফেসবুক থেকে
     
    ৮. পোশাকের সঙ্গে মিনিমাল চেইন ও ব্রেসলেট পরেছেন এই অভিনেত্রী
    ৮. পোশাকের সঙ্গে মিনিমাল চেইন ও ব্রেসলেট পরেছেন এই অভিনেত্রীছবি: ফেসবুক থেকে
     
    লাল–সাদা ফ্লোরাল সুইমস্যুটে সুইমিংপুলে মিম
    লাল–সাদা ফ্লোরাল সুইমস্যুটে সুইমিংপুলে মিমছবি: ফেসবুক থেকে
     
    ভি-নেক সুইমস্যুটের সঙ্গে মিম পরেছেন শ্যানেলের সানগ্লাস
    ভি-নেক সুইমস্যুটের সঙ্গে মিম পরেছেন শ্যানেলের সানগ্লাসছবি: ফেসবুক থেকে
     
    মালয়েশিয়া সফর বেশ উপভোগ করছেন মিম
    মালয়েশিয়া সফর বেশ উপভোগ করছেন মিমছবি: ফেসবুক থেকে
     
    সেলফিতে মিম
    সেলফিতে মিম, ছবি: ফেসবুক থেকে
  • মিলিকে এলভিস প্রিসলির সঙ্গে তুলনা করলেন বাটলার

    তরুণ গোলকিপার মিলি আক্তার অনেকটাই মার্কিন কিংবদন্তি গায়ক এলভিস প্রিসলির মতো! সিডনিতে নারী এশিয়ান কাপের আবহে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার এমন মন্তব্যই করেছেন। গোলপোস্টের নিচে মিলির স্টাইলে এতটাই মুগ্ধ বাটলার যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিং অব রক অ্যান্ড রোল’–এর সঙ্গে মিলির তুলনা টানলেন তিনি।

    নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে অভিষেকে প্রথম ম্যাচে চমক দিয়েছে বাংলাদেশ, আর তার নেপথ্যে রয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। প্রথম ম্যাচে নয়বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ২–০ গোলে হারের ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে বাটলার নামিয়ে দিয়েছিলেন তরুণ গোলকিপার মিলি আক্তারকে।

    কোরিয়া ম্যাচ সামনে রেখে আজ সকালে ম্যাচের ভেন্যু সিডনি ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাটলার। সেখানেই মিলিকে চীনের বিপক্ষে ম্যাচে কেমন দেখলেন—এমন প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। উত্তরে মিলির প্রশংসায় বাটলার বলেন, ‘গোলকিপার মিলি অনেকটা এলভিস প্রিসলির মতো, তার দারুণ একটা স্টাইল আছে। এই টুর্নামেন্টে তার চুলের স্টাইলই সেরা। আজ সকালেও আমরা এটা নিয়ে কথা বলছিলাম। সে অনেক দিন ধরেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল এবং সে যে আগে খেলেনি, তার একমাত্র কারণ হলো আমাদের কোনো ম্যাচ ছিল না।’
    তরুণ মিলি আক্তার চীনের বিপক্ষে দারুণ সব সেইভ করেছেন
    তরুণ মিলি আক্তার চীনের বিপক্ষে দারুণ সব সেইভ করেছেনবাফুফে

    বাটলার মনে করেন, বাংলাদেশে সাহসী গোলকিপার আছে, কিন্তু পরিচর্চার অভাবে তাঁরা আলোয় আসতে পারেন না, তাই তাঁদের সুযোগ করে দেওয়াটাই জরুরি।

    সংবাদ সম্মেলনে বাটলার যোগ করেন, ‘চীন ম্যাচের আগে ৯০ থেকে ১০০ দিন আমাদের কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল না, যা দুর্ভাগ্যজনক। আমাকে এই সিদ্ধান্তের কোনো কৈফিয়ত দিতে হবে না (মিলিকে একাদশে নেওয়া)। আমার মনে হয় বাংলাদেশের ফুটবলে গোলকিপিংয়ে বড় সমস্যা আছে, যা নিয়ে কাজ করা দরকার। এটা করা আমার কাজ নয়; আমি যা করতে পারি, তা হলো নতুনদের খুঁজে বের করা এবং মিলির মতো তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার মতো সাহসী হওয়া।’

    এলভিস প্রিসলি
    এলভিস প্রিসলিএক্স

    মিলির সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে বাটলার আরও বলেন, ‘সে এই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিল, কারণ তার উচ্চতা আছে (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি), হাত ভালো এবং দারুণ একটা চরিত্র। সবচেয়ে বড় কথা, সে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ থেকে এসেছে; কারণ, সে একজন সৈনিক এবং অনেকেই এই বিষয়টি জানে না।’

    সিডনির মাঠে কালকের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে এই ‘এলভিস প্রিসলি’র গ্লাভসজোড়া কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

  • মুক্তি পেলো ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং

    বিশ্বকাপ ফুটবলের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে মুক্তি পেল প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী শাকিরা ও নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বুর্না বয়ের কণ্ঠে গাওয়া ‘দাই দাই’ গানটি। সপ্তাহখানেক আগে এক মিনিট ৭ সেকেন্ডের টিজারে ঝলক দেখান কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা।

    গানটি মুক্তির ঘোষণা দিয়ে শুক্রবার (১৫ মে) ফিফা জানিয়েছে, এর থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটি জমা হবে তাদের গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে। বিশ্বজুড়ে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা ও ফুটবলে সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এই অর্থ ব্যয় করা হবে, আর টুর্নামেন্ট শেষে প্রায় ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির।

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। ফিফা জানিয়েছে, নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালের হাফ টাইমে ম্যাডোনা, শাকিরা ও কোরিয়ান পপ গ্রুপ বিটিএস ভক্ত-সমর্থকদের আনন্দে মাতাবেন। তার আগ পর্যন্ত তাদের হৃদয়ে ঢেউ তুলবে ৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের ‘দাই দাই’।

    বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা অবশ্য নতুন মুখ নন। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ থিম সং দিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। এছাড়া ২০০৬ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালেও তার পারফরম্যান্স মাতিয়েছিল দর্শকদের।

     

  • মুক্তি পেয়েই বক্স অফিসে ঝড় তুলল তৃষার ছবি, ৫ দিনে কত আয় করল

    অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া তামিল তারকা বিজয়ের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই আলোচনায় ছিলেন তৃষা কৃষ্ণান। তাঁর নতুন সিনেমা নিয়েও আগ্রহ ছিল সিনেমাপ্রেমীদের। আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছেন অভিনেত্রী। কারণ, মুক্তির পরেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে সিনেমাটি।
    দীর্ঘ প্রতীক্ষা, মুক্তি-জট আর ব্যক্তিজীবনের গুঞ্জন—সবকিছু ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে এসেছে ‘কারুপ্পু’। আর মুক্তির পর থেকেই তামিল সিনেমাপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ছবিটি।

    মাত্র পাঁচ দিনেই বক্স অফিসে দারুণ দাপট দেখাচ্ছে সুরিয়া ও তৃষা অভিনীত তামিল সিনেমা ‘কারুপ্পু’। আরজে বালাজি পরিচালিত আদালতভিত্তিক এই নাটকীয় চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
    ১৫ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ছবিটি প্রথম দিনেই আয় করে প্রায় ১৫ কোটি রুপি। এরপর সপ্তাহান্তে আয় আরও বেড়ে যায়। শনিবার ও রোববার মিলিয়ে ছবিটির সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৫০ কোটি রুপি। কর্মদিবস সোমবারেও ছবিটির গতি কমেনি। স্যাকনিল্কের তথ্যমতে, সেদিনও ছবিটি আয় করেছে প্রায় ১৪ দশমিক ৩০ কোটি রুপি।

    ‘কারুপ্পু’ সিনেমার পোস্টারে সুরিয়া ও তৃষা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ‘কারুপ্পু’ সিনেমার পোস্টারে সুরিয়া ও তৃষা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    চার দিনে ভারতের ঘরোয়া বাজারে ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৩০ কোটি রুপি। পঞ্চম দিনের চলতি হিসাব অনুযায়ী, ছবিটি ভারতের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ১ হাজার ৬৩৬টি শোতে চলছে। এখন পর্যন্ত পঞ্চম দিনে আয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৩৭ কোটি রুপি। ফলে ভারতের মোট আয় পৌঁছেছে ৯৬ দশমিক ৯১ কোটি রুপিতে।
    বিদেশের বাজারেও ছবিটি বেশ সফল। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ৪৭ কোটি রুপি আয় করেছে ‘কারুপ্পু’। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় এখন প্রায় ১৪২ দশমিক ৩০ কোটি রুপি। বিশ্লেষকদের ধারণা, খুব দ্রুতই ছবিটি ১৫০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করবে।

    ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি ও তাঁর নাতনিকে ঘিরে, যারা বছরের পর বছর আদালতে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করে। তৃষা এখানে একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি তাঁদের মামলা হাতে নেন। পরে গল্পে যোগ দেন সুরিয়া—যিনি আদালতের ভেতরে ও বাইরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

    সমালোচকদের মতে, ২০২৬ সালে বড় সাফল্যের অভাবে কিছুটা ধুঁকছিল কোলিউড ইন্ডাস্ট্রি। সেই জায়গায় নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে ‘কারুরপু’। বিশেষ করে সামনে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বিজয়ের ‘জন নায়গন’ ও রজনীকান্তর ‘জেলার ২’-এর মুক্তির আগে এই সাফল্য তামিল সিনেমা অঙ্গনের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
    পরিচালক আরজে বালাজি পরিচালিত ‘কারুপ্পু’ মুক্তির আগেই একাধিকবার পিছিয়েছে। প্রথমে ২০২৫ সালের দীপাবলিতে মুক্তির কথা থাকলেও পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। পরে তামিলনাড়ুয় নির্বাচনের কারণে আবারও মুক্তি স্থগিত করা হয়।

    তৃষা কৃষ্ণান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    তৃষা কৃষ্ণান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    এরপর মুক্তির সপ্তাহেও তৈরি হয় নতুন সংকট। প্রযোজক ও অর্থলগ্নিকারীদের আর্থিক জটিলতায় ছবিটির সকাল ও দুপুরের বেশ কিছু শো বাতিল হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দর্শকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিযোগ করেন, টিকিট বুকিং খুললেও পরে শো বাতিল করা হয়েছিল। তবে মুক্তির পর এসব কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি; দর্শক থেকে সমালোচক সবারই প্রশংসা পাচ্ছে ‘কারুপ্পু’।

    ইন্ডিয়াটুডে অবলম্বনে

  • মেসিকে নিয়েই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল

    বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপেও খেলবেন লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার রাতে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেই দলেই জায়গা পেয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

    ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় শিরোপা এনে দিয়েছিলেন মেসি। এবার খেলতে নামলে এটি হবে তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এর মধ্য দিয়ে পুরুষ ফুটবলে বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে খেলা একমাত্র ফুটবলারদের তালিকায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে নাম লেখাবেন তিনি।

    বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এখন মেসির দখলে। এখন পর্যন্ত তিনি খেলেছেন ২৬টি ম্যাচ। ২০২২ বিশ্বকাপে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতা এমিলিয়ানো মার্তিনেজও আছেন দলে। ইংলিশ ক্লাব ফুটবলে খেলা লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনসো ফার্নান্দেজও জায়গা পেয়েছেন স্কোয়াডে। দলে আছেন এই সময়ের আলোচিত তরুণ নিকো পাজও।

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় বসবে এবারের বিশ্বকাপ। ‘জে’ গ্রুপে থাকা আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে, কানসাস সিটিতে। এরপর ডালাসে ২২ জুন অস্ট্রিয়া ও ২৮ জুন জর্ডানের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    কদিন আগে ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএস ম্যাচে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। সে সময় তাঁর চোটে পড়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্লাব জানায়, মেসি চোটে পড়েননি। তিনি বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে পেশিতে ক্লান্তি অনুভব করছিলেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১৯৮ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। বিশ্বকাপের আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচে খেললে ২০০ ম্যাচের মাইলফলকও ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি।

    আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল:

    গোলরক্ষক: হুয়ান মুসো (আতলেতিকো মাদ্রিদ), গেরোনিমো রুই (মার্সেই), এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা)।

    ডিফেন্ডার: লেওনার্দো বালের্দি (মার্সেই), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (লিঁও), গনসালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (টটেনহাম), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), ফাকুন্দো মেদিনা (মার্সেই), নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ)।

    মিডফিল্ডার: লিয়ান্দ্রো পারেদেস (রিভার প্লেট), রদ্রিগো দি পল (ইন্টার মায়ামি), ভালেন্তিন বার্কো (স্ট্রাসবুর্গ), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেতিস), এজেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন), আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি)।

    ফরোয়ার্ড: হুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), নিকোলাস গনসালেস (আতলেতিকো মাদ্রিদ), তিয়াগো আলমাদা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), জুলিয়ানো সিমিওনে (আতলেতিকো মাদ্রিদ), নিকো পাজ (কোমো), হোসে ম্যানুয়েল লোপেস (পালমেইরাস), লাওতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান)।

  • মেসির জাদুতে ঘুরে দাঁড়িয়ে মায়ামির দুর্দান্ত জয়

    মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) মৌসুমের প্রথম ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির কাছে ২–০ গোলে হেরেছিল ইন্টার মায়ামি। আজ সোমবার সকালে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষেও ২৪ মিনিটের মধ্যে ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল লিওনেল মেসির দল। এই স্কোরলাইনে শেষ হয়েছে ম্যাচের প্রথমার্ধও। অর্থাৎ নতুন মৌসুমের প্রথম ১৩৫ মিনিটে ৫–০ গোলে পিছিয়ে ছিল মায়ামি।

    বিরতিতে যাওয়ার সময় মেসি ও তাঁর সতীর্থদের চোখে মুখে হতাশা ও অসহায়ত্বের ছাপ ছিল স্পষ্ট। কিন্তু পরের ৪৫ মিনিটেই ঘটল দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। মেসির নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর দাপট দেখিয়ে মায়ামি করে এক এক করে মোট চার গোল, দুটিই মেসির। প্রথমে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া ইন্টার মায়ামি শেষ পর্যন্ত পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে ৪–২ গোলের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে।

    চলতি মৌসুম নতুন খেলোয়াড় ভেড়ানোর পর মায়ামিকে আগের চেয়ে শক্তিশালী মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই পরিবর্তনের ছাপ দেখা যাচ্ছিল না। লস অ্যাঞ্জেলেস ম্যাচের পর আজও শুরুতে বেশ ভুগেছে তারা। যার সুযোগ নিয়েই মার্কো পাসালিক ১৮ মিনিটে এগিয়ে দেন অরল্যান্ডোকে। ২৪ মিনিটে মার্টিন ওজেডা ব্যবধান দ্বিগুণ করলে বিপদ আরও বাড়ে মায়ামির। দলকে ম্যাচে ফেরাতে বিরতির পরপর দলে পরিবর্তন আনেন হাভিয়ের মাচেরানো।

    লেফটব্যাক নোয়া অ্যালেনের জায়গায় নামান আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মাতেও সিলভেত্তিকে। এই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের দৃশ্যপট। ৪৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ২০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তরুণ সিলভেত্তির অসাধারণ এক শটে ব্যবধান কমায় মায়ামি। এরপরই দেখা মেলে মেসি জাদুর। ৫৭ মিনিটে গোছানো এক আক্রমণে অরল্যান্ডো বক্সের কাছাকাছি পৌঁছে যান মেসি। এ সময় তাঁর সামনে তৈরি হয় ছয় ফুটবলারের দেয়াল।

    সতীর্থদের সঙ্গে মেসির গোল উদ্‌যাপন
    সতীর্থদের সঙ্গে মেসির গোল উদ্‌যাপনএএফপি

    আর সেই দেয়ালকে ফাঁকি দিয়েই বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে বছরের প্রথম গোলটি করেন মেসি। ম্যাচে আসে ২–২ সমতা। এরপর ইন্টার মায়ামি যেন আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৮৫ মিনিটে মেসির সহায়তায় বল পেয়ে গোল করেন তালিসকো সেগোভিয়া। এরপর ৯০ মিনিটে আবারও মেসি জাদু।

    বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি–কিকে দারুণ এক শটে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ৪–২ গোলে, ফ্রি–কিকে এটি তাঁর ৭০তম গোল। এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে প্রথম ৫৫ ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা এখন ৫২। এর মধ্যে শেষ ৪৯ ম্যাচেই মেসি করেছেন ৫১ গোল। সব মিলিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার গোল এখন ৮৯৮। যার অর্থ, ৯০০ গোলের জাদুকরী সংখ্যা থেকে আর মাত্র ২ গোল দূরে মেসি।

    ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইন্টার মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো অ্যাপল টিভিকে বলেন, ‘গত মৌসুমে অরল্যান্ডো আমাদের জন্য খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। দলটি শক্তিশালী, তাদের কোচও দারুণ। এখানে জিততে হলে আমাদের নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হতো। (আমরা জানতাম) তারা আমাদের ওপর চাপ তৈরি করবে। খেলোয়াড় হিসেবে আমি এমন ম্যাচ উপভোগ করতাম।'

    আগামী শনিবার ওয়াশিংটনের অডি ফিল্ডে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে মায়ামি।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব