• Colors: Purple Color

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পক্ষে সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি কমিটি। পাইকারি দাম বাড়লে ভোক্তা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হবে। এটি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করে ভোক্তা প্রতিনিধিরা বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতের অযৌক্তিক খরচ ভোক্তার ওপর চাপানো যাবে না।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এমন দাবি করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ শুনানির আয়োজন করে বিইআরসি।

গণশুনানিতে বক্তারা বলেন, একের পর এক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প করে খরচ বাড়িয়েছে পিডিবি, যা কাজে লাগছে না। এতে তাদের ঘাটতি বেড়েছে; এ দায় ভোক্তার নয়।

সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কমে সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়। তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে কোম্পানি চালায়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের খুচরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে শুনানির কথা রয়েছে।

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি। এটি মূল্যায়ন করে কারিগরি কমিটি বলেছে, বর্তমান দামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি ইউনিটে পিডিবির ঘাটতি হবে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। এটি মেটাতে হলে ভারিত গড়ে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ দাম বাড়ানো প্রয়োজন। তবে আগের ধারাবাহিকতায় সরকারের ভর্তুকি বিবেচনায় নিয়ে মূল্যহার নির্ধারণ করা যেতে পারে। বর্তমান দামে পিডিবির ঘাটতি হতে পারে প্রায় ৬০ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।

গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এটি পড়ে শোনানো হয় শুনানিতে। এতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া) বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়।

শুনানি শেষে সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকির পরিমাণ জানতে চাইবে বিইআরসি। সরকারের ভর্তুকি জানার পর বাকি ঘাটতি সমন্বয়ে দাম বাড়ানো হতে পারে। আগামী জুন থেকেই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পিডিবি। এ নিয়ে কোনো মত দেয়নি কারিগরি কমিটি।

তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) লাভজনক ২১টি সমিতির জন্য আলাদা পাইকারি দাম নির্ধারণের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে কারিগরি কমিটি। একইভাবে আরইবির বড় গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিমান্ড চার্জ পিডিবিকে দেওয়ার প্রস্তাবেরও যৌক্তিকতা দেখছে না কমিটি। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয় বলে পিডিবির প্রস্তাবিত মাল্টি ইয়ার ট্যারিফ (কয়েক বছরের দাম) নির্ধারণের প্রস্তাব আমলে নেয়নি কমিটি।

দাম বাড়লে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে

গণশুনানিতে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এটি পড়ে শোনানো হয় শুনানিতে। এতে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষতা, সিস্টেম লস, বিলম্বিত প্রকল্প, অতিরিক্ত ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় এবং ক্যাপাসিটি চার্জের (বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া) বোঝা সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো উচিত নয়।

সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে ভোক্তাদের লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শিল্প, কৃষি, পরিবহনে খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে, তাদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে।

[caption id="attachment_274453" align="alignnone" width="782"] বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তন, ঢাকা; ২০ মে ২০২৬[/caption]

দেড় দশক ধরে গণশুনানিতে নিয়মিত হাজির হয়ে ভোক্তাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। বর্তমান কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তিনি শুনানি বর্জন করেছেন। তবে শুনানিতে অধিকাংশ বক্তার কণ্ঠে বারবার এসেছে তাঁর নাম। কমিশনের চেয়ারম্যানও শামসুল আলমের অনুপস্থিতির কথা স্মরণ করেছেন।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, জ্বালানি উপদেষ্টা বর্জন করেছেন। প্রান্তিক মানুষের কথা চিন্তা করে দাম বাড়ানো উচিত নয়। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, সরকার ভর্তুকি দেয় জনগণের টাকা থেকে। সরকারের মুনাফা করার চিন্তা থেকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিইআরসির উচিত দেশের স্বার্থে কাজ করা। ভোক্তাদের পক্ষ থেকে দাম কমানোর শুনানি আয়োজনের দাবি করেন সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, গণশুনানি মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে। জনগণের ওপর দাম বাড়ানোর প্রভাব হবে মূল আলোচনার বিষয়; অথচ প্রস্তাবে এটি নেই। দাম বাড়ানোর এ প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। বিইআরসিও জনস্বার্থ দেখে না। কোনো অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না। বিদ্যুতের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, মানুষের অবস্থা ভয়াবহ হবে।

তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর পরিচালক জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে তৈরি পোশাক। এমনিতেই রপ্তানি কমছে। তাই বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

বিদ্যুৎকেন্দ্র না চলায় সঞ্চালনের আয় কমে

বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিয়ে বিতরণ সংস্থার কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি) পিএলসি। লোকসান ঠেকাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের চার্জ ১৮ পয়সা বাড়ানোর দাবি করেছে তারা। এটি প্রায় ১৪ পয়সা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে বিইআরসির কারিগরি কমিটি। তবে পিজিবি পিএলসির কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভোক্তারা।

পিজিবি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশীদ বলেন, বিতরণ সংস্থার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আর নতুন নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নিতে প্রকল্প তৈরি করা হয়। পায়রা থেকে একটা নতুন লাইন করার চাপ আছে, ১০০ কোটি ডলার খরচ হবে। মাতারবাড়ি থেকে আরেকটা প্রকল্প করার চাপ আছে। পিজিবি নিজ থেকে প্রকল্প করে না। প্রতিনিয়ত পিডিবির থেকে চাহিদা আসতেই থাকে। অথচ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রায়ই বন্ধ থাকে। এতে সঞ্চালন লাইন অব্যবহৃত পড়ে থাকে; আয় কমে পিজিবির।

এর জবাবে ভোক্তা প্রতিনিধি শুভ কিবরিয়া বলেন, পিজিবি হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে কার অনুমতিতে। প্রকল্প অনুমোদনের আগে বিইআরসিকে জানানোর কথা, সেটা জানানো হয়নি। তাহলে কেন এ দায় ভোক্তা নেবে।

প্রথম দিনের শুনানি শেষে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, পাওয়ার গ্রিডের চলমান সব প্রকল্পের ব্যয় হিসাবে নেওয়া হয়নি। যতটুকু খরচ হয়েছে, ততটুকুই হিসাবে নেওয়া হয়েছে। সবার অংশগ্রহণ শুনানিকে ফলপ্রসূ করেছে। কাল খুচরা দামের শুনানি হবে। এরপরও কেউ চাইলে লিখিত মতামত দিতে পারবে। সবার মতামত ও বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার (২১ মে) ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার ক্রয় করা হয়েছে। চলতি মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত মোট ৫৬ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৬২৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

আগামী শনিবার ব্যাংক খোলা থাকবে। সেদিন ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। লেনদেনের সময়ও স্বাভাবিক থাকবে। রোববারও ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। ফলে ঈদের ছুটির আগে আরও দুই দিন ব্যাংক খোলা থাকবে।

এরপর ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক বন্ধ থাকবে থাকবে। ফলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও দেশের সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। এরপর সোমবার থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি শুরু হবে। এর ফলে শনিবার ও রোববার গ্রাহকেরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের লেনদেন করতে পারবেন।

২৮ মে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে। এ উপলক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সাত দিনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকও সরকারি–বেসরকারি ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছুটির নির্দেশনা জারি করেছে।

এদিকে তৈরি পোশাকশিল্প খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ এবং আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে শিল্প–সংশ্লিষ্ট এলাকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে খোলা থাকবে। এসব শাখা সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। তবে গ্রাহকদের লেনদেন চলবে বেলা একটা পর্যন্ত।

বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ আরও বেড়েছে। কয়েক বছর আগে থেকে এই চাপ বাড়তে শুরু করে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই (জুলাই–এপ্রিল) বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানসহ দাতাদের ঋণ শোধের পরিমাণ ৩৮০ কোটি ডলার।

আজ রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জুলাই–এপ্রিলের বিদেশি ঋণ পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখা গেছে, ওই ১০ মাসে বিদেশি ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে এসেছে ৪২৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থাকা প্রকল্পের অনুকূলে দাতাদের কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। এর হিসাব ইআরডি করে থাকে।

কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো চার বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, একই ধারায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হলে এ বছর বিদেশি ঋণ শোধের পরিমাণ সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার পার হতে পারে।

ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই–এপ্রিল) বিদেশি ঋণের আসল ২৪৭ কোটি ডলার ও সুদ ১৩৩ কোটি ডলার শোধ করেছে সরকার। অন্যদিকে ৩৮৪ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে ও ৩৯ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ২৮০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৪২৬ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল। গত এপ্রিলে বিদেশি ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি মেলেনি।

কারা কত দিল

গত ১০ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি দিয়েছে প্রায় ৮৪ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া। দেশটি দিয়েছে প্রায় ৮৩ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭১ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪২ কোটি ডলার।

সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেট সহায়তা হিসেবেও ঋণ নিচ্ছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকেও উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেয়।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয় বেড়েই চলছে। চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

আরিফ হোসেন বলেন, চলতি মে মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২১০ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
 
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ২৩০ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

নগদ লভ্যাংশের ‘নতুন শর্তে’ চাপে অধিকাংশ ব্যাংক, পুঁজিবাজারে প্রভাবের শঙ্কা

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে প্রচুর পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এতেই বাড়ছে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ।

এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

 

এবারের ঈদের ছুটিতে কিছু এটিএম বুথ থেকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক ব্যাংকের বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার থেকে টানা সাত দিনের বন্ধে টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে।

কোরবানির পশু কেনা ও অন্যান্য খরচের কারণে কোরবানির ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা বেশি থাকে। ফলে এই সময় এটিএমের ভোগান্তিতে গ্রাহকদের উৎকণ্ঠা বেড়েছে।

দুটি কারণে এটিএমে টাকার সংকট শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাচ্‌–বাংলা, দি সিটি, ব্র্যাক ও ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, ঈদের ছুটিতে দৈনিক চাহিদা মেটাতে যে পরিমাণ টাকা চাওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক তার পুরোটা দেয়নি। এ ছাড়া এবার নতুন গভর্নরের স্বাক্ষর করা নোট দেওয়া হয়েছে। এসব নোট মেশিনগুলোর কাছে অপরিচিত, তাই অনেক সময় মেশিনে টাকা আটকে যাচ্ছে।

এদিকে একটি ব্যাংকের প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তা জানান, সাধারণত নতুন নোটের সঙ্গে এটিএম যন্ত্র পরিচিত করাতে চার সপ্তাহ সময় লেগে যায়, কিন্তু এবার একদিনও সময় পাওয়া যায়নি। আগের নকশার ওপর শুধু নতুন গভর্নরের স্বাক্ষর থাকায় ধারণা করা হয়েছিল, সমস্যা হবে না। তবে গভর্নরের স্বাক্ষর পরিবর্তনের কারণে যন্ত্রগুলোতে সমস্যা হচ্ছে। ঈদের পর এটা ঠিক হয়ে যাবে।

জানা যায়, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের বুথগুলোয় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। গতকাল সিআরএম যন্ত্রে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা জমা হয়। বাকি টাকার একটা অংশ তারা নিজেরা সংস্থান করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চাহিদামতো টাকা চেয়েও পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, সব ব্যাংকেই একই অবস্থা।

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের বন্ধে এটিএম বুথসহ অনলাইন মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকগুলোর সব এটিএম বুথে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ বুথ থেকে টাকা পাওয়া যাচ্ছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব