• Colors: Purple Color

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ হয়ে গেলেও তিনটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আসনগুলো হচ্ছে— শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবলায়য়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত তিনটি পৃথক চিঠি জারি করেছে ইসি।

চট্টগ্রাম-৪ আসনের জন্য জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ (হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৭৪/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনী এলাকা ২৮১, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যথারীতি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে ওই মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় কমিশন ফলাফল স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।

চট্টগ্রাম-২ আসনের জন্য জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪০/২০২৬ (হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১০৫৩/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনী এলাকা ২৭৯ চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যথারীতি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় সরোয়ার আলমগীরের ফলাফল স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।

শেরপুর-২ আসনের জন্য জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪২/২০২৬ (হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৮৬/২০২৬ হতে উদ্বৃত) এর ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশের আলোকে নির্বাচনী এলাকা ১৪৪ শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যথারীতি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে আপিল বিভাগে দায়েরকৃত সিপিএলএ নং ৪৪২/২০২৬-এর চূড়ান্ত আদেশের ওপর মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভরশীল হবে মর্মে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নিরঙ্কুশ বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিনন্দনবার্তা পাঠান।

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমি বাংলাদেশের জনগণকেও অভিনন্দন জানাই। আমাদের ঐতিহাসিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি আরও লিখেছেন, দক্ষিণ এশিয়া এবং তার বাইরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে যৌথ লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।

সিডনি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ২৯৭টি আসনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি দুই আসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে কমিশন সিদ্ধান্ত জানাবে।

এর আগে, শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল স্থগিত রাখবে বলে তিনটি পৃথক চিঠি জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ইতোমধ্যে শেরপুর-২ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আপাতত এই আসনের গেজেট না প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন ওই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. আমিনুল হক। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত এবং বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোতে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

আবেদনপত্রে আমিনুল হক অভিযোগ করেন যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এবং নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের আগের রাতে অর্থ বিতরণের ভিডিও প্রমাণ রয়েছে এবং পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ৪০টিরও বেশি কেন্দ্রে এজেন্টদের স্বাক্ষর ছাড়াই ফলাফল শিট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভোট গণনার আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান এবং নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই সীল মারা ব্যালট বই পাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও আবেদনে উঠে এসেছে।

আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১ থেকে ২৯ নম্বর কেন্দ্র পর্যন্ত ঘোষিত মোট ভোটের সাথে প্রিজাইডিং অফিসারদের সরবরাহকৃত ফলাফলে এবং পোস্টাল ভোটের পরিসংখ্যানে ব্যাপক গরমিল পরিলক্ষিত হয়েছে। সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা কমিশনের দায়িত্ব হলেও এক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। 

এর আগে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি এখন আরপিও-এর ৯১এ ধারা অনুযায়ী ফলাফল স্থগিত করে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব