• Colors: Purple Color

দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশে প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। উৎসবমুখর পরিবেশে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা চলেছে ভোটগ্রহণ। এখন চলছে ভোট গণনা পর্ব।

এরই মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভোট গণনা শেষে আসতে শুরু করেছে ফল। বেসরকারিভাবে বেশ কিছু আসনের ফলাফলও ঘোষণা হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার পাওয়া গেছে পঞ্চগড়-১ আসনে আসনের ফল। আসনটিতে জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা সারজিস আলমকে ঘিরে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

কিন্তু, এনসিপির এ নেতাকে হারিয়ে দিয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির।

প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে নওশাদ জমির পেয়েছেন ২২ হাজার ১৩৪ ভোট। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠন সারজিস আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ১৯৯ ভোট।

ঢাকা-১৩ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।

ঢাকা-১৩ আসনে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৯০ হাজার ৬০১ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮৮৯
ভোট।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই আসনেও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটযুদ্ধ শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে শুরু হয় টানটান উত্তেজনার ভোট গণনা।

 

ঢাকা-১১ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে জয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম। এই আসন থেকে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি মোট ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন৷

নাহিদ ইসলামের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। নাহিদ ইসলাম ২ হাজার ৩৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকাল পৌনে সাতটার দিকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করে জানান, ঢাকা-১১ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। ভোটের হার ছিল ৪৫ শতাংশ।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা-১১ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৫১৭টি। সে হিসেবে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫৩টি।

এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ হাত পাখা প্রতীকে ৪ হাজার ৩৭৫ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আহমেদ ১ হাজার ৪৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তর ফুটবল প্রতীক নিয়ে ৭৯৪ ভোট পেয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

আজ শুক্রবার সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই শুভাচ্ছে জানানো হয়।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানফাইল ছবি

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি এবং তারেক রহমানকে তাঁদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা।’

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ‘আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সাথে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর পর্যন্ত প্রকাশিত কেন্দ্রভিত্তিক বেসরকারি ফলাফলে দলটি দুইশো আসনের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএনপি জয় পেয়েছে ২০৮টি আসনে। অপরদিকে, জামায়াত জোটের প্রাপ্ত আসনের সংখ্যা ৬৮।

এখন পর্যন্তও ভোটগণনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই ২৯৯টি আসনের অফিসিয়াল ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে।

সংসদীয় আসনের নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে দেশজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশ থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সীমিত করা হয়েছিল। চার দিনের জন্য এসব সেবা সীমিত করা হয়। এতে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা প্রতিবার এক হাজার টাকার বেশি পাঠাতে পারেননি।

গত রাত বারোটার পর থেকে এসব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত রোববার রাতে এসব সেবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিন থেকে ওইসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে টাকা পাঠাতে গিয়ে অনেক গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে রোববার রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (পূর্ণ ৯৬ ঘণ্টা) এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ছিল এক হাজার টাকা ও লেনদেনের সর্বোচ্চ সংখ্যা দৈনিক ১০টি। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও পরিষেবা বিলের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত লেনদেনের বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।

এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব