• Colors: Purple Color

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নোয়াখালী-৬ আসনের হাতিয়া উপজেলায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রতিবেদক মিরাজ উদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চর ঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলায় মিরাজকে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালক মো. সাকিবও গুরুতর আহত হন।

এ ছাড়া গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত পাল্টাপাল্টি হামলায় বিএনপি ও এনসিপির প্রায় অর্ধশত কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে ভর্তি রেখে অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. ওয়াহিদুল হক। তিনি বলেন, আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগেরই আঘাত গুরুতর ছিল না। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ দুপুর ১২টার দিকে বাংলা বাজার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে বিটিভির প্রতিবেদক মিরাজ উদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার শিকার হন মিরাজকে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালক সাকিবও। হামলাকারীরা দুজনকেই কুপিয়ে আহত করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। এ ছাড়া ওচখালী বাজার, বুড়িরচর, জাহাজমারা, নিঝুম দ্বীপ ও সোনাদিয়া ইউনিয়নেও ধানের শীষ ও শাপলা কলির সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশত কর্মী সমর্থক আহত হন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা বলেন, গতকাল বুধবার রাত থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত সোনাদিয়া, জাহাজমারা, নিঝুম দ্বীপ, চর ঈশ্বর ও চানন্দী ইউনিয়নে তাঁদের প্রায় অর্ধশত কর্মী সমর্থক বিএনপির কর্মীদের হামলায় আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আজ ভোট গ্রহণ শুরুর পরপরই জাহাজমারা ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্র থেকে তাঁদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ফজলুল হক খোকন বলেন, এনসিপির শাপলা কলির কর্মী–সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁরা নির্বাচনে নিজেদের ভরাডুবি বুঝতে পেরে নানা গুজব ছড়াচ্ছেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি জায়গায় বিচ্ছিন্ন কিছু হামলার ঘটনা তিনি শুনেছেন। যেখানেই কোনো ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, তাৎক্ষণিক পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বেলা ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ বলে জানিয়েছেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

আজ বিকেল সোয়া চারটার দিকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সহিংসতা ও অনিয়মের কিছু অভিযোগ এসেছে। এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ভোটের হার ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বলে জানিয়েছিলেন ইসি সচিব।

র‍্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেছেন, জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হচ্ছে। আর প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা ঠিক থাকলে বাকি সময়ও শান্তিপূর্ণ ভোট হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশান মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

 ভোট দেওয়ার পর র‍্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, ব্যালটবাক্স ছিনতাই হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। কেউ চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা।

 এ নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি আছে আমাদের। ফলাফলের পর কেউ ঝামেলা করার চেষ্টা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হয়েছে গণনা।

দুটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ। নির্বাচন চলাকালে পৃথক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চার ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিক থেকে কিছু অভিযোগ এসেছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে।

তবে যদি কোনো কেন্দ্রে অপেক্ষমাণ ভোটারের দীর্ঘ সারি থাকে, তাহলে বিকেল সাড়ে চারটার পরও তাঁদের ভোট নেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হবে ভোট গণনা। এখন ফলাফলের অপেক্ষা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছেন।

নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান উপদেেষ্টা বলেন, ‘ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পেশাদারত্ব—এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।’

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই—চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে—জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এই নির্বাচন আমাদের জন‍্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ‍্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে। তিনি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

ফ্রান্সের উড়োজাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান দাসো এভিয়েশনের কাছ থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার একটি প্রাথমিক প্রস্তাবে আজ বৃহস্পতিবার অনুমোদন দিয়েছে ভারতের ‘ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল’।

ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য প্রকাশ করে বলেছে, প্রস্তাবিত চুক্তির মূল্য ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন রুপি (২৮ হাজার ৪০ কোটি ডলার)।

ভারতের বিমানবাহিনীর ফাইটার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা গত কয়েক মাসে কমে ২৯-এ নেমে এসেছে; যা অনুমোদিত সংখ্যা ৪২-এর তুলনায় বেশ কম।

এদিকে ভারতের বিমানবাহিনীর সর্বোচ্চ ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান মিগ–২১ গত সেপ্টেম্বরে অবসরে গেছে। আগামী কয়েক বছরে তাদের মিগ-২৯ এর কিছু প্রাথমিক সংস্করণ, অ্যাংলো-ফরাসি জাগুয়ার ও ফরাসি মিরাজ–২০০০ যুদ্ধবিমানও ধাপে ধাপে অবসরের পথে রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের সশস্ত্র বাহিনী আমদানিনির্ভর। ভারত বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার কয়েক বছর ধরে দেশেই সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।

ভারত সোভিয়েত যুগের মিগ–২১ এর বিকল্প হিসেবে সম্প্রতি বিমানবাহিনীতে দেশে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমান যুক্ত করেছে।

হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকসের কাছে দেশীয় বাজারে উন্নত এমকে-১ সংস্করণের প্রায় ১৮০টি উড়োজাহাজের অর্ডার আছে। তবে জিই অ্যারোস্পেসের ইঞ্জিন সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে এখনো সরবরাহ শুরু করা যায়নি।

আজ অনুমোদিত প্রস্তাবটি ফ্রান্স ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক এবং প্রযুক্তিগত চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে।

রয়টার্স

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব