• Colors: Purple Color

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হয়। আজ ৮ জুন মামলাটির তারিখ ধার্য ছিল বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম। তবে এদিন আদালতে হাজির করা হলেও হাফিজুর রহমানের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।

এর আগে ২২ এপ্রিল মো. মুমিনুল হকের আদালতে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম হাফিজুরকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত শুনানি শেষে ওই সেনাসদস্যের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর তাঁকে পিবিআইয়ের রাজধানীর কল্যাণপুরে বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সর্বশেষ ২৫ এপ্রিল তাঁকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পর থেকে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারেই আছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, আজকে মামলাটির তারিখ ধার্য ছিল। এ জন্য অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে হাজির করা হয়েছে। পরে আদালত তাঁকে ফের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটা মামলার নিয়মিত কার্যক্রমের প্রক্রিয়া। আর হাফিজুরের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। সেটি পেলে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অপর আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তাঁর লাশ পাওয়া যায়।

  • ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বিজিবি–বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন।

  • চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে আগামী বৃহস্পতিবার।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিএসএফ সদর দপ্তরে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে আগামী বৃহস্পতিবার।

গত মে মাস থেকে সীমান্তের বিভিন্ন অংশ দিয়ে বিএসএফের অব্যাহতভাবে লোকজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা চলছে, এমন পরিস্থিতিতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংগত কারণেই এবারের সম্মেলনে ‘অবৈধ পুশ ইন’ বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, এ ছাড়া সীমান্তে বিএসএফ, ভারতীয় নাগরিক বা দুষ্কৃতকারীদের হাতে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা, আহত ও নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হবে। ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ বিভিন্ন অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধসহ আরও কিছু বিষয় আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর এটিই দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানদের নেতৃত্বে প্রথম বৈঠক। গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিজেপি রাজ্য সরকার গঠন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকারের ঘোষিত ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (শনাক্ত, মুছে ফেলা ও বহিষ্কার) অভিযান চলছে। ওই ‘থ্রি-ডি’ মূলত নথিপত্র ছাড়া ‘তথাকথিত বাংলাদেশি’দের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী এরই মধ্যে গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, অন্তত ৪ হাজার ৮৮০ জন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সংগত কারণেই এবারের সম্মেলনে ‘অবৈধ পুশ ইন’ বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, এ ছাড়া সীমান্তে বিএসএফ, ভারতীয় নাগরিক বা দুষ্কৃতকারীদের হাতে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা, আহত ও নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হবে।

বিজিবি ও বিএসএফের এ বৈঠক চলতি বছরের শুরুতে হওয়ার কথা ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। অন্যদিকে ১২ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীন কুমার।

‘আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও বিশেষ করে অবৈধ পুশ ইনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে।’ গত রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘সেখানে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। সরকার সব ধরনের অবৈধ পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। তবে এসব সমস্যা প্রাথমিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মনে করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সম্পর্ক উত্তরণের যে চেষ্টা করছে, চলমান ‘অবৈধ পুশ ইন’ তাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে না। তিনি বলেছেন, ভারতের পুশ ইনের চেষ্টা বিজিবি শক্তভাবে প্রতিহত করছে। নিয়ম না মেনে পুশ ইনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

পুশ ইন বন্ধে ভারতকে ১২-১৩টা চিঠি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইললিগ্যাল (অবৈধভাবে) যারা থাকে, তাদের ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আছে। সেটা মেনেই ভারতকে কাজ করতে হবে।

ভারত থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়াসহ বিভিন্ন অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধসহ আরও কিছু বিষয় আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

শনাক্ত আর বহিষ্কারে দৃষ্টি বিজেপির

ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ বছরের মার্চে করা একটি নতুন ‘বহিষ্কার নীতি’ প্রণয়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নীতির আওতায় সব রাজ্যকে প্রতিটি জেলায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব টাস্কফোর্সের কাজ হবে ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানো।’ পাশাপাশি নিখোঁজ বিদেশি নাগরিক বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রতি মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এর আগে ২০২০ সালের ৩ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লোকসভায় এক লিখিত বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘কিছু অনুপ্রবেশকারী গোপন ও কৌশলী উপায়ে ভারতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এর প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশ সীমান্তের কিছু অংশে জটিল নদীবেষ্টিত ভূপ্রকৃতি রয়েছে, যেখানে সীমান্ত বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়।’

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশকে হঠাৎ তালিকা দিয়ে পুশ ইনের উদ্যোগের কথা জানানো হয়। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন এ নিয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের প্রসঙ্গ টানে। ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশকে ২ হাজার ৩৬৯ জনের তালিকা দিয়ে তা যাচাইয়ের জন্য বলে। এরই মধ্যে পুশ ইন শুরু করে ভারত। বাংলাদেশ ওই তালিকার ভিত্তিতে পরিচয় শনাক্তকরণসহ প্রয়োজনীয় কাজ করতে থাকে। অবশ্য চলতি বছরের এপ্রিলে আগের তালিকা হালনাগাদ করে ভারত এখন ২ হাজার ৮৬২ জনের কথা বলছে।

বিএসএফ পুশ ইন অব্যাহত রাখার পরিপ্রেক্ষিতে মে মাসের শেষ দিকে পুশ ইনের তালিকার বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানিয়ে ভারতকে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ। এতে উল্লেখ করা হয়, তালিকায় থাকা ৬৩৪ জনের জন্য ট্রাভেল পারমিট (টিপি) দেওয়া হয়েছে। ৩৬১ জনের বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় তাঁদেরও টিপি দেওয়া হবে ভারতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে। তালিকার ৮৭৯ ব্যক্তির শুধু নাম আছে। ৩৫৮ জনের নাম তালিকায় দুবার এসেছে। ২৫২ জনের জাতীয়তা শনাক্তকরণের কাজ অব্যাহত আছে।

২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশকে ২ হাজার ৩৬৯ জনের তালিকা দিয়ে তা যাচাইয়ের জন্য বলে। এরই মধ্যে পুশ ইন শুরু করে ভারত। বাংলাদেশ ওই তালিকার ভিত্তিতে পরিচয় শনাক্তকরণসহ প্রয়োজনীয় কাজ করতে থাকে। অবশ্য চলতি বছরের এপ্রিলে আগের তালিকা হালনাগাদ করে ভারত এখন ২ হাজার ৮৬২ জনের কথা বলছে।

‘পুশ ইনে তিন সিদ্ধান্তের ব্যত্যয়’

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো চিঠিতে পুশ ইনের পদক্ষেপগুলোকে অতীতের তিন সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো হলো—১৯৭৫ সালের সীমান্ত কর্তৃপক্ষের জন্য যৌথ ভারত-বাংলাদেশ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (সিবিএমপি)-২০১১ এবং বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনায় দুই পক্ষের পারস্পরিক সম্মত সিদ্ধান্ত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে অতীতে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, ভারত থেকে এভাবে একের পর এক পুশ ইনের নজির সাম্প্রতিক অতীতে নেই। তা ছাড়া পুশ ইন করলে সব সময় পুশ ব্যাক (ফেরত পাঠানো) করা হতো। ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে লালমনিরহাট সীমান্তে দুই শর বেশি মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করেছিল ভারত। কিন্তু ঢাকার অনমনীয় অবস্থানের কারণে সীমান্তের শূন্যরেখায় তাঁদের থাকতে হয়েছিল প্রায় দুই মাস। সে সময়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খান এ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশোবন্ত সিনহার সঙ্গে আলোচনার জন্য দিল্লি গিয়েছিলেন। দিল্লির সঙ্গে আলোচনার ঠিক আগেই দেখা যায়, সীমান্তের শূন্যরেখায় প্রায় দুই মাস ধরে থাকা ওই লোকজন আর নেই।

সীমান্তে মোতায়েন হচ্ছে আনসারও

বিএসএফের পুশ ইন ঠেকাতে এরই মধ্যে বাংলাদেশের ২৬ জেলার সীমান্তে ৬০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে একসঙ্গে এত বিজিবি সদস্য এসব সীমান্তে দায়িত্ব পালন করতেন না। বিজিবির পাশাপাশি এখন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীও সতর্কতামূলক অবস্থানে রয়েছে। পুশ ইনসহ অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে কিছু সীমান্ত এলাকায় মাইকিংসহ জনসচেতনতামূলক সভাও করা হচ্ছে।

গতকাল বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়বে, আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন সহজ হবে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি সমন্বিত ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিজিবির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে সীমান্তবর্তী ১১টি জেলায় উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আনসার ও ভিডিপি/টিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর ও খাগড়াছড়ি।

দেশের যেসব জেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেসব সীমান্ত এলাকার প্রায় সব কটিতেই টহল জোরদার করেছে বিজিবি।

পুশ ইনের চেষ্টা চলছে, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

নওগাঁর পোরশা, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে নওগাঁর পোরশা উপজেলার নীতপুর সীমান্তচৌকি-সংলগ্ন (বিওপি) এলাকায় বিএসএফের তৎপরতার তথ্য পাওয়া যায়। বিএসএফের সদস্যরা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালান। সম্ভাব্য পুশ ইন ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ায় বিজিবি। এ ছাড়া আনসার সদস্যরাও ওই এলাকায় অবস্থান নেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবি ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা ও লাইট হাতে নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেন। বিজিবি, আনসার ও এলাকাবাসীর অনড় অবস্থানের মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের ঝাউবাড়ি ও খেয়ারচর এলাকায় বিএসএফের তৎপরতার তথ্য পাওয়া যায়। বিএসএফের সদস্যরা কয়েকজন বাংলাভাষী ভারতীয় নাগরিককে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নিয়ে আসেন। সম্ভাব্য পুশ ইন ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ায় বিজিবি। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেন।

রোববার গভীর রাতে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের রহিমপুর সীমান্তের ওপারে কয়েকটি ভারতীয় গাড়ি ও বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ সময় গ্রামবাসীর মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। রাতভর বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে গ্রামবাসী লাঠি নিয়ে অবস্থান নেন।

বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে বিএসএফ মোট ২ হাজার ৪৭৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছিল। এর মধ্যে ১২০ জন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। এর পর থেকে দেশে পুশ ইনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি বিজিবির।

শূন্যরেখা থেকে লোকজন সরিয়ে নিল বিএসএফ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা ১১ জনকে ভারতের ভেতরে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে মশালগাঁও সীমান্তের কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশুকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। সে সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এর পর থেকে ওই ১১ জন শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান করছিলেন। এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, তবে এরপরও কোনো সমঝোতা হয়নি। বিজিবি জানায়, রোববার রাত সাড়ে তিনটার পর শূন্যরেখায় অবস্থান করা ওই ১১ জনকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তের শূন্যরোখা থেকে নারী, শিশুসহ ১০ জনকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। বিজিবি জানিয়েছে, রোববার দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে সীমান্তের নিরাপত্তা বাতি বন্ধ করে ওই ১০ জনকে নিজেদের ভূখণ্ডের দিকে সরিয়ে নেয় বিএসএফ। এর আগে গত শুক্রবার ভোরে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। এর পর থেকে তাঁরা শূন্যরেখার তাঁরা অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে রোববার রাত ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ৬৯ ঘণ্টার বেশি সময় চরম দুর্ভোগ ছিলেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনটি শিশু।

বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। আজ মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

১১ জুন পর্দা উঠছে বৈশ্বিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের। বাংলাদেশে এবারের বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব পেয়েছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাছ থেকে স্বত্ব কিনে বাংলাদেশে খেলা সম্প্রচার করার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি হয়নি।

এদিকে বিক্রি করতে না পারায় স্বত্ব ছেড়ে দিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠান।

এরপর বাংলাদেশ সরকার বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। গত মঙ্গলবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বিনা মূল্যে সম্প্রচারস্বত্ব পেতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ফিফার সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে।

ফিফটির পরই ফিরলেন তানজিদ

ফিফটি করার সময়ই ধারাভাষ্যকাররা আলোচনা করছিলেন— ৭ ফিফটির সঙ্গে তানজিদের সেঞ্চুরি কেবল একটি। সেটি নিশ্চয়ই বদলাতে চাইবেন এই ওপেনার। কিন্তু আজ তিনি তা পারেননি। ফিফটি পেরোনোর পর আউট হয়ে গেছেন। সাইফের মতো তাঁর উইকেটও নিয়েছেন নাথান এলিস— তাঁর স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে তানজিদ ক্যাচ দিয়েছেন। ৪৪ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫৪ রান করেছেন।

তানজিদের ফিফটি

মাঝে টেস্ট অভিষেক হয়েছে, সেখানে দুই ইনিংসে আহামরি কিছু করতে পারেননি। তবে সাদা বলের ক্রিকেটে রান করার ধারাবাহিকতা হারাননি। আজ ফিফটি করলেন ৪১ বলে। এ বছর খেলা ৭ ওয়ানডেতে তানজিদের ব্যাটে চতুর্থ পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংস, এর মধ্যে একটিতে করেছেন সেঞ্চুরিও। সবমিলিয়ে ওয়ানডেতে সপ্তম ফিফটি তানজিদের।

তানজিদ পঞ্চাশ পেরোনোর পর বাংলাদেশও ১০০ পেরিয়ে গেছে। ১৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে এখন তাদের রান ১০২। আবহাওয়াতেও সুখবর আছে, মেঘ কেটে আকাশ এখন রোদ ঝলমলে।

নির্বাচনসংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করতে পারলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে সমস্যা নেই, বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

জাহেদ উর রহমানের মতে, নির্বাচনসংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করলে ব্যক্তি হিসেবে যে কেউ আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন; এ বিষয়ে সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

সরকারের কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরতে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা এ কথাগুলো বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে, সেখানে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) যাঁরা বাংলাদেশে আছেন, তাঁদের অনেকেই নির্বাচনে ইচ্ছুক বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সরকার সেই স্পেস (সুযোগ) দেবে কি না? যেহেতু নির্দলীয় নির্বাচন হতে যাবে; এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানটা কী হবে?

এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কোনো রকম কোনো সমস্যা নেই। মানে একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের....কারণ, এটা নির্দলীয়। কেউ দলের কথা বলবেন না এবং তিনি যদি তাঁর প্রচারে...এটা হতে পারে। একজন নির্দলীয় ব্যক্তি এলেন, কিন্তু প্রচারে আওয়ামী লীগ বা তাঁদের যা যা বলার সেটা বলেন, সেটা সমস্যা হবে। এর বাইরে নির্দলীয় ব্যক্তি, তাঁর যে ক্রাইটেরিয়া আছে নির্বাচনটি করার জন্য, সেটা যদি পূরণ করতে পারেন, তিনি নির্বাচন করতে পারেন, নিশ্চয়ই পারেন।’

তখন আরেকজন সাংবাদিক জানতে চান, যদি পদপদবি থাকে, সে ক্ষেত্রে? জবাবে উপদেষ্টা জাহের উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পদপদবি, আসলে যেটা হয় আরকি, যেহেতু সংগঠনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ আছে, সংগঠন নিষিদ্ধ নেই। কর্মসূচি যেহেতু নিষিদ্ধ আছে, এই পদপদবি তিনি আসলে ব্যবহার করছেন না, করতে পারেন না। ব্যক্তি হিসেবে যে কেউ, যদি ক্রাইটেরিয়া (শর্তাবলি) যা আছে, সেটা যদি পূরণ করতে পারেন, তিনি যদি মনে করেন নির্বাচন করবেন, তিনি নির্বাচন করতে পারেন, সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সমসাময়িক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন উপদেষ্টা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি দিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট করার অভিযোগে বাগেরহাটে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার রাতে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাঁধাল এলাকা থেকে শেখ রসুল ওরফে রফিকুল (২৪) নামের ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রসুল ওই উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে। কচুয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ দুপুরে শেখ রসুলকে আদালতে তোলে পুলিশ।

বাগেরহাট আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আসামিকে বাগেরহাট আমলি আদালত-৯–এর বিচারক জেবুন্নেছার আদালতে তোলা হয়। প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সকালে বলেন, ঢাকার মিরপুরে রামিসা হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর শেখ রসুল ওরফে রফিকুল তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে জাইমা রহমানের একটি ছবি আপত্তিকর শিরোনামসহ পোস্ট করেন। অপর একটি ফেসবুক আইডি থেকে পাওয়া ওই পোস্ট ডাউনলোড করে নিজের আইডিতে প্রচার করে ছিলেন রফিকুল।

এ ঘটনায় কচুয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আবদুস সালাম নামের এক ব্যক্তি মামলা করেন। এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব