• Colors: Purple Color

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশুহত্যায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে আপাতত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর আশা, উচ্চ আদালতে গেলেও এই রায় বহাল থাকবে।

আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।

ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় আজ রোববার এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার পর দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যেক ধাপ সম্পন্ন করে কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এ রকম বেদনাদায়ক একটি ঘটনার বিচার করা সম্ভব হলো। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিচারে, এই শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি, এটি উচ্চ আদালতে গেলেও এই রায় কাযর্কর থাকবে।’

আট বছর বয়সী শিশুটি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় গত ১৯ মে। সে হিসাবে ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় আজ রায় ঘোষণা হলো।

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি এগিয়ে আনতে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে এ ব্যাপারে অ্যার্টনি জেনারেলের কার্যালয়েরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে বলবেন, এই মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানির ক্রমিক (সিরিয়াল) যেন আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই কিছুটা এগিয়ে আনা যায়, সে জন্য সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে। এই ডেথ রেফারেন্স শুনানির পরে যদি মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, তখন রায় কার্যকর করতে বেশি সময় লাগবে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যখন বিচারিক আদালতে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, সেটা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে শুনানি করতে হয়। হাইকোর্টে এ রকম ডেথ রেফারেন্সের সংখ্যা অনেক আছে। যেগুলোর সময় অনুযায়ী শুনানি হয়। আগেরটা আগে, পরেরটা পরে হিসেবে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে দুই–একটা ঘটনা হয়েছে। সরকার এই শিশু ধর্ষণ–হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানি এগিয়ে আনতে সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনবে।

এই শিশুধর্ষণ–হত্যার আসামি গ্রেপ্তার, দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়াসহ সাম্প্রতিক সময়ে দায়িত্ব পালনে বেশ কিছু সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পুরষ্কৃত করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই মামলাটি চাঞ্চল্যকর। তিনি আজ পুলিশকে পুরস্কৃত করার কথা ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাটে পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। এতে অন্তত ৫০ ব্যক্তির প্রাণ বেঁচে গেছে। গজারিয়াতে একজন কিশোরীকে ধর্ষণ–হত্যার পরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। কোনো ‘ক্লু’ পাওয়া যাচ্ছিল না। সে ক্ষেত্রেও খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশকে যেমন পুরস্কৃত করা হবে, ঠিক তেমনি কোনো গাফিলতি বা অন্যায়ের জন্য তিরস্কার ও বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থাও বহাল থাকবে। পুলিশের ভালো কাজের যেমন মূল্যায়ন করা হবে, তেমনি কোনো সদস্যের নিষ্ক্রিয়তা বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পল্লবীর ঘটনাটি নিয়ে সারা দেশে একটা তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই বিচারকার্য পরিচালনায় সহযোগিতা করা হয়েছে। বিচার করেছেন আদালত। আদালত এই ঈদের ছুটির মধ্যে ছুটি বাতিল করে বা জুডিশিয়াল যে লিভ আছে, সেটা বাতিল করে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাঁরা একটা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এটা করেছেন। তবে যাতে অবিচার না হয়, সেজন্য রাষ্ট্র থেকে আসামিপক্ষের জন্য একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। চিকিৎসক সাক্ষী দিয়েছেন। পুলিশ সাক্ষী দিয়েছে। এখানে যেহেতু আসামি দুজন, যেহেতু ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে এই মামলাটা খুব বেশি কঠিন কিছু ছিল না প্রমাণ করার জন্য। রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন, আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বলা যায় যে, বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এবং পুলিশের গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রমের ইতিহাসে এটা একটা মাইলফলক। এভাবে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী তাঁরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা পাওয়ার আশা করেন তাঁরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে ‘পুশইন’ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি সক্রিয় আছে। ভারতে কাল সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বিজিবি–বিএসএফ মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে বৈঠকে দুই দেশের সীমান্তের সমস্যা সমাধানের বিষয় গুরুত্ব পাবে। এসব সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক পর্যায়েও আলোচনা চলছে।

সুন্দরবনের ভেতর বাংলাদেশ-ভারত নৌপথে পাঁচটি জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে। ভারতগামী জাহাজগুলোর চারটি দ্রুতগতিতে চালিয়ে নিরাপদে যেতে পারলেও আক্রান্ত হয় এমভি আবদুল হাকিম-১ নামের একটি কার্গো জাহাজ। ডাকাতেরা ওই জাহাজে উঠে গুলি চালায় এবং লুটপাট করে।

সুন্দরবনের শিবসা নদী পার হয়ে শিংলেনালা নামক স্থানে শনিবার সন্ধ্যার দিকে ওই ঘটনা ঘটে। ভারত-বাংলাদেশ নৌ প্রেটোকলের অধীনে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর হয়ে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া, বজবজা, আড়ুয়া শিবসা, শিবসা নদী দিয়ে ভারতে যায় নৌযানগুলো।

ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বিষয়টি জানে না থানা–পুলিশ। বক্তব্য পাওয়া যায়নি কোস্টগার্ডেরও। তবে আংটিহারা নৌ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ফারুখ হোসেন বলেন, ‘আমরা শুনেছি। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি আমরা যাচাই–বাছাই করে দেখছি।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রোটকল কমিটির কার্যকরী সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, জাহাজগুলো খালি ছিল। এগুলো ভারতে থেকে ফ্লাইঅ্যাশ (সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল) আনতে যাচ্ছিল। শনিবার বেলা দুইটার দিকে জাহাজগুলো মোংলা দিয়ে ভারতের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। শেখবাড়িয়া থেকে মাত্র আধা ঘণ্টার দূরত্বে থাকার সময় ডাকাতেরা হানা দেয়।

সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, শিবসা নদী পাড়ি দিয়ে শিংয়ের নালাখানের ভেতর ঢোকামাত্র ডাকাত দল ধাওয়া করে। এমভি খারেহেরা, এমভি বয়রাতলা, এমভি আবদুল হাকিম, এমভি আরিয়ান ছালাম এগিয়ে গেলেও সবার পেছনে ছিল এমভি আবদুল হাকিম-১ জাহাজে উঠে পড়ে ডাকাতেরা। তারা জাহাজে উঠেই স্টাফদের মারধর শুরু করে। পরে মাস্টার ব্রিজে গিয়ে অন্তত ১৫টি গুলি করে।

জাহাজের কাঁচে গুলির চিহ্ন
জাহাজের কাঁচে গুলির চিহ্ন, ছবি : সংগৃহীত
 

এমভি আবদুল হাকিম-১ জাহারের ইনচার্জ মাস্টার নুর নবীর বরাত দিয়ে সিরাজুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার দিকে ওই ঘটনা ঘটে। ট্রলারযোগে আসা আনুমানিক ১০-১৫ জন লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ডাকাত বাঁ পাশ দিয়ে জাহাজে উঠে আসে। তারা নিচে থাকা স্টাফদের অস্ত্রের মুখে বেঁধে ফেলে ও মারধর করে। টের পেয়ে তাৎক্ষণিক মাস্টার ব্রিজের সব গেট আটকে দেন। ডাকাতেরা মাস্টার কেবিনে ঢুকতে না পেরে গেটের দরজায় শটগান দিয়ে ১৫-২০টি গুলি করে। তারা প্রায় ১৫ মিনিট ধরে জাহাজে অবস্থান করে। স্টাফদের মুঠোফোন, নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়।

বিষয়টি কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে জানিয়ে নৌযান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মাস্টার বলেন, ‘এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ–ভারত রুটে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে না। আমরা সরকারের কাছে আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা চাই। এমন ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই পথে আর চলতে চাই না।’

আনোয়ার মাস্টার আরও বলেন, ‘আমাদের জাহাজ জোয়ার–ভাটা হিসাব করে চলতে হয়। এতে সকাল–সন্ধ্যা হতে পারে। নদীতে আমাদের নিরাপত্তা দিয়ে হবে। তা না হলে ভারত-বাংলাদেশ এই পথে আমাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে হবে।’
এ বিষয়ে আজ রোববার সন্ধ্যায় খুলনার কয়রা ও দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জাহাজে ডাকাতির বিষয়ে জানা নেই বলে জানান। এ নিয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি কোস্টগার্ডেরও। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

কয়রা প্রতিনিধি জানান, আংটিহারা কাস্টম ঘাটের মাঝি আমঙ্গিল হোসন ওই জাহাজে গিয়ে গুলির চিহ্ন দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জাহাজে উঠে দেখেছি, অনেক গুলির চিহ্ন আছে। সব মালামাল তছনছ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম মঙ্গলবার (৯ জুন) বেইজিং যাচ্ছেন। সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা রোববার রাতে প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্রসচিব বুধবার চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়া চুনইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে ২৩ থেকে ২৬ জুন চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।

সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২১-২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করবেন। এরপর ২৩ জুন তিনি কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাত্রা করবেন, এমন পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকায় প্রস্তুতি চলছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের নানা কর্মসূচি, আলোচ্যসূচি, সম্ভাব্য চুক্তি, সমঝোতাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রসচিব ফিলিপাইন হয়ে বেইজিং যাবেন। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। বৈঠক শেষে ওই দিনই তিনি বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সোমবার ম্যানিলা যাচ্ছেন।

৬ দিন আগেই দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড ছুঁয়েছিলেন হাবিবুর রহমান। এবার তিনিই ভাঙলেন ৫০ ওভার ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। আজ ইউল্যাব মাঠে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে মাত্র ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেছেন লিজেন্ড অব রূপগঞ্জের হাবিবুর।

আজকের আগেও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড যৌথভাবে হাবিবুরেরই ছিল, তাঁর সমান ৪৯ বলে সেঞ্চুরি ছিল মোসাদ্দেক হোসেনেরও। আজ ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করে সেই রেকর্ড একার করে নিয়েছেন হাবিবুর।

গত সপ্তাহে মোহামেডানের বিপক্ষে ১৫ বলে ফিফটি করেছিলেন হাবিবুর। সে ম্যাচে নাহিদ রানার ওভারে ২৬ আর তাসকিন আহমেদের ওভারে নিয়েছিলেন ২৫ রান। আজ অবশ্য শুরুটা এত আক্রমণাত্মক ছিল না। প্রথম ৯ বলে হাবিবুরের রান ছিল মাত্র ৬।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে নিহাদ উজ জামানকে চার মেরে বাউন্ডারির খাতা খোলেন, পরের বলেই মারেন ছক্কা। এক ওভার পর নিহাদ আবার বোলিংয়ে এলে নেন ২২ রান। ২৬ বলে হাবিবুর পেয়ে যান ফিফটি।

পঞ্চাশ পেরোনোর পর আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ১৯ বলে তুলে নেন পরের পঞ্চাশ।

২০২৩ সালের বিসিএলে ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন হাবিবুরের। আর চলতি মৌসুমেই আবাহনীর হয়ে এই সিটি ক্লাবের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন মোসাদ্দেক।

৫৮ বলে ১৩০ রান করে আবদুল্লাহ আল মামুনের বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে ইনিংসে ১৩টি ছক্কা ও ৮টি চার মারেন হাবিবুর। লিস্ট ‘এ’–তে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড এটি। ২০১৯ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সৌম্য সরকারের মারা ১৯ ছক্কা সর্বোচ্চ।

শুধু লিস্ট ‘এ’–তে নয়, বাংলাদেশিদের মধ্যে টি-টুয়েন্টিতেও দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি হাবিবুরেরই। গত বছর রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে হংকং চায়নার বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে। সেটি সব সংস্করণ মিলিয়েই বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুততম।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমানের ফ্রান্স সফরের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন, এমন কর্মকর্তার বিদেশ সফরের কোনো গুরুত্ব নেই। এ ধরনের সফরে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী যেতে পারেন, প্রশাসক নন।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিগনিফাই বাংলাদেশ লিমিটেড–এর আমন্ত্রণে ফ্রান্সে অবস্থিত সিগনিফাই ফ্রান্স–এর আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (এএলএসি) পরিদর্শন এবং স্ট্রিট লাইটিংয়ের নতুন বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইটের ফ্রান্স সফরের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার ওই অনুশাসন দেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী প্রথম আলোকে এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

সূত্র জানিয়েছে, স্ট্রিট লাইটিংয়ের নতুন বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য পাঠানো প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এ ধরনের সফরে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী যেতে পারেন, প্রশাসক নন।

প্রস্তাবের নোটে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘এ বিষয়ে কোনো প্রকৌশলী জ্ঞান আহরণ করলে তা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কাজে লাগবে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক প্রকৌশলী নন, বিধায় তাঁর যাওয়া কোনো গুরুত্ব বহন করে না। এ সফরে শুধু প্রস্তাবিত নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) প্রয়োজনে যেতে পারেন। উল্লেখ্য, ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্ভাবনী কাজে বুয়েট এবং অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা নেওয়া উচিত হবে।’

এর আগে মশকনিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাবও অনুমোদন করেননি প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘মশকনিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই, দেশেই সন্ধ্যার পর কোনো ডোবার পাশে অবস্থান করলে মশকনিধনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব।’

শুধু বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেই নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঈদুল আজহার আগে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে করার প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়নি। উল্টো বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বদলে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে নামকরণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক এসব সিদ্ধান্তে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। প্রথমত, বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও পেশাগতসংশ্লিষ্টতাকে অগ্রাধিকার দিতে চান প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক বিবেচনায় বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠান নির্মাণের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব