• Colors: Purple Color

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের প্রতি বৈষম্য দূর, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাঁদের অধিকার ও ক্ষমতায়ন জোরদারে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক জাতীয় টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনুকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয়, ক্রীড়াঙ্গনে নারী প্রতিভার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নারীর অংশগ্রহণ, বিকাশ ও উন্নয়নকল্পে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাঁচ সদস্যের এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সারওয়াত সিরাজ (শুক্লা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব উম্মে ইসরাত।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, কমিটি নারী ক্রীড়াবিদদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা, অংশগ্রহণ ও বিকাশে কৌশল প্রণয়ন করবে। পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, তৃণমূলের সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা, স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিতকরণ এবং নারী ক্রীড়ায় বিনিয়োগের ঘাটতি দূর করতে সুপারিশ দেবে।

এ ছাড়া নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য সম-আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ক্রীড়াঙ্গনে বৈষম্য দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও কাজ করবে কমিটি।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কমিটি প্রতি দুই মাস অন্তর তাদের কার্যক্রম ও অগ্রগতির প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেবে। প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এই কমিটি।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, বিদ্যুতেও যে পরিমাণ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, তারপরও আগামী বাজেটে ৪১ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি দিতে হবে। 

শনিবার (৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিইআরসি প্রাথমিকভাবে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ায়। তবে সরকার আপিল করার পর আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহক (০-৫০ ইউনিট) এবং প্রথম ধাপের গ্রাহক (৫১-৭৫ ইউনিট) শ্রেণির বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি কার্যকর হয়নি। ফলে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহক আগের হারেই বিদ্যুৎ পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে সরকার পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়ালেও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। কারণ গণপরিবহন, পণ্যবাহী ট্রাক ও কৃষিখাতে ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি চাপ কমাতে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি।

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই কর্মচারীদের জন্য একটি বড় সুখবরের আভাস মিলেছে। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার একটি প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দের চাপটি বিবেচনায় নিয়ে এই কাঠামো একবারে নয়, বরং মোট তিন ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক সংস্থানের পরিকল্পনা রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহের পাশাপাশি একধরনের তীব্র প্রচ্ছন্ন উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

কর্মচারীদের একাংশের দাবি, নতুন বেতন কাঠামো সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশিরভাগই গণমাধ্যমনির্ভর। অর্থ মন্ত্রণালয়, পে কমিশন কিংবা নীতিনির্ধারণী মহলের শীর্ষ স্তর থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি।

প্রস্তাবিত মহা-পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মচারীদের মূল বেতনের একটি বিশাল অংশ, যা সম্ভাব্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, তা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি মূল বেতনটুকু সমন্বয় করা হবে। আর শেষ বা তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য সব ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় এনে পূর্ণতা দেওয়া হবে।

নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান বর্তমানের ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার জোরালো প্রস্তাব করা হয়েছে। 

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ এসেছে। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেডভেদে কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন করে যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টি এখন টেবিলের মূল আলোচনায় রয়েছে।

নতুন পে-স্কেলের এই সুফল শুধু বর্তমানের সক্রিয় চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী প্রবীণ মানুষও এর আওতাভুক্ত হতে যাচ্ছেন। এর ফলে বিশেষ করে যারা অত্যন্ত স্বল্প পরিমাণ পেনশন পান, তাদের আর্থিক নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

এদিকে বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে এবং কতটুকু যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের একটি বিশেষ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি এখন নিরলস কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও নীতি বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী, প্রবীণ পেনশনভোগী এবং মাঠপর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক ও জীবনযাত্রার মানের একটি দৃশ্যমান উন্নতি ঘটতে যাচ্ছে।

 

  • বর্তমানে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে।
  • সাড়ে তিন মিনিট পরপর একটি ট্রেন চালানোর সক্ষমতা আছে ডিএমটিসিএলের।

আগামীকাল রোববার থেকে মেট্রোরেলের চলাচল রাতে উভয় দিক থেকে ২০ মিনিট করে বাড়বে। এ সিদ্ধান্তের ফলে রাতে মতিঝিল থেকে উত্তরার পথে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে সাড়ে ১০টায়। এখন মতিঝিল থেকে শেষ ট্রেন ছাড়ে ১০টা ১০ মিনিটে। আর উত্তরা থেকে রাতে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে ৯টা ৫০মিনিটে। এখন ছাড়ে রাত সাড়ে ৯টায়।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতে সময় বাড়ানোর লক্ষ্যে গত এক মাস পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। আগামীকাল যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। তবে শুরুতে বাড়তি ২০ মিনিটে মেট্রোরেল একটি ট্রিপ দেবে। অর্থাৎ একটি ট্রেন মতিঝিলমুখী এবং অন্যটি উত্তরামুখী চলাচল করবে। ফলে এক ট্রেনের সঙ্গে অন্য ট্রেনের মাঝখানে বিরতি থাকবে ১০ মিনিটের।

ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির সূত্র বলছে, রাতে মতিঝিল থেকে ১১টায় সর্বশেষ ট্রেন চালানোর একটা পরিকল্পনা ছিল। অন্যদিকে উত্তরা থেকে শেষ ট্রেন ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল ১০টার পরে। কিন্তু একসঙ্গে এত সময় বাড়ালে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তাই আগামীকাল থেকে উভয় দিকে ২০ মিনিট করে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে উভয় দিক থেকে রাতে আরও আধা ঘণ্টা মেট্রোরেলের চলাচল বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

বর্তমানে প্রতিদিন সকালে সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে। আর মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। সকালে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মতিঝিল থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত সাড়ে ১০টায়। আর উত্তরা থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে ৯টা ৫০ মিনিটে।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে দুই দিক থেকেই মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামীকাল থেকে রাতে উভয় দিক থেকে ২০ মিনিট বাড়তি চলাচল করবে। আরও সময় বাড়ানো হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে।

গত বছরের অক্টোবরে মেট্রোরেল চলাচলের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় সকালে মেট্রোরেল আধা ঘণ্টা আগে চালু করা হয়। রাতে শেষ ট্রেনের সময় আধঘণ্টা বাড়ানো হয়। বর্তমানে সারা দিনে ২৯৭ বার (ট্রিপ) মেট্রোরেল চলাচল করে। এখন রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়লে ট্রিপের সংখ্যাও বাড়বে।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে চালানোর জন্য এখন ২৪ সেট ট্রেন আছে। প্রতি সেটে ছয়টি কোচ। বর্তমানে পিক আওয়ারে ১২ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক চলাচল করে। ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, বাড়তি সময়ে চালালে এবং ট্রিপের সংখ্যা বাড়ালে ১৪ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক ব্যবহার করা হবে।

ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা বলছেন, সাড়ে তিন মিনিট পরপর একটি ট্রেন চালানোর সক্ষমতা আছে। এ ছাড়া সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চলবে বলে প্রকল্প নেওয়ার সময় প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল। কিন্তু লোকবলের অভাবে পর্যায়ক্রমে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহন করার কথা। বর্তমানে মেট্রোরেলে দিনে গড়ে সোয়া চার লাখের মতো যাত্রী যাতায়াত করেন। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বর্ধিত অংশ আগামী বছর চালু হতে পারে। তখন প্রতিদিনের যাত্রীসংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে উন্নীত হওয়ার কথা।

ঢাকায় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। শুরুতে চলাচল করত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। পর্যায়ক্রমে স্টেশনের সংখ্যা বাড়ে। মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয় ২০২৩ সালের শেষ দিনে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) সংসদীয় সভা চলছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে এ সভা শুরু হয়। 

সংসদীয় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সভায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন বলে জানা যায়।

রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং আসন্ন অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। বিকেল ৩টায় এই অধিবেশন শুরু হবে। 

এদিকে বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে শনিবার থেকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ জানান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। হাকান ফিদানও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

তিনি বলেন, তার এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রথম পদক্ষেপ।

এ লক্ষ্যে উভয়পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বার্ষিক ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়া, দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অংশগ্রহণে একটি পরামর্শ কাঠামো বা কমিটি গঠন করা হবে।

দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি যৌথ সমন্বয় কাঠামো গঠনের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। এতে উভয় দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সম্পৃক্ত থাকবেন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যু, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বিনিয়োগ, যৌথ উত্পাদন এবং সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব