• Colors: Purple Color

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বুধবার (২৭ মে) বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।   

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদুল আজহা শুধু মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয় এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে কোরবানি করার এক মহিমান্বিত ও সর্বজনীন আহ্বান।

মহান আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ, অবিচল আনুগত্য এবং সামাজিক সাম্যের অনুপম মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা আবারও আমাদের সামনে সমাগত বলে উল্লেখ করে তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হজরত ইবরাহিম (আ:) তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ:)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য, বিশ্বাস ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন আদর্শ হয়ে রয়েছে। এই মহান ঘটনা আমাদের আল্লাহর প্রতি ভক্তি ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়।’

কোরবানির হিস্যা আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে অংশীদারিত্ব, বৈষম্য হ্রাস, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কোরবানির ঈদ গরিব মানুষের সারা বছরের আমিষ জোগানে সাহায্য করে। সার্বিক অর্থে দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে চাঙ্গা করে। 

নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করা এবং কোরবানির বর্জ্য ফেলা, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। 

পবিত্র ঈদুল আজহার মহান শিক্ষাকে ধারণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ত্যাগের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভেদ নয়, সম্প্রীতি; হিংসা নয়, সৌহার্দ্য; স্বার্থপরতা নয়, উদারতা-এই চেতনা লালন করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাঁধে কাঁধ রেখে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলের কোরবানি কবুল করুন, দেশ ও জাতির ওপর তাঁর অশেষ রহমত বর্ষণ করুন। ঈদুল আজহা সমগ্র বিশ্বে বয়ে আনুক শান্তি, স্থিতি, সম্প্রীতি ও অশেষ কল্যাণ।’

মুষলধারে বৃষ্টি, কাদাপানি আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন হাজার হাজার মুসল্লি। রেওয়াজ অনুযায়ী, বন্দুকের ফাঁকা গুলির শব্দে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শুরু হয় জামাত।

এবার শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। নামাজে ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।

আজ ভোর থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। এর মধ্যেই দলে দলে মুসল্লি মাঠে আসতে থাকেন। কেউ ছাতা, কেউ পলিথিন, আবার কেউ জায়নামাজ মাথায় দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে অবস্থান নেন।

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা। কাদামাখা মাঠেও তাঁদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশপথে প্রত্যেক মুসল্লির দেহতল্লাশি করা হয়। নামাজ চলাকালে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে অনেকে পলিথিন বিছিয়ে, কেউ আবার কাদাপানিতেই সেজদা দিয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বৃষ্টিতে ভিজেই মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন।

ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় সাধারণত শোলাকিয়ায় মুসল্লির সংখ্যা কিছুটা কম হয়। কারণ, এ ঈদে পশু কোরবানির প্রস্তুতি ও ব্যস্ততা থাকে। এরপরও দীর্ঘদিন ধরে শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করে আসছেন এমন অনেক মুসল্লি এবারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা
বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির মধ্যেও মাঠ ছাড়েননি মুসল্লিরা

করিমগঞ্জ উপজেলার সাঁতারপুর এলাকার রইছ উদ্দিন বলেন, তিনি টানা ৫৫ বছর শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করছেন। এবারের ঈদে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও নামাজ আদায় করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তবে ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আজহায় মুসল্লির সংখ্যা কম হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশপাশের এলাকার মানুষকে শোলাকিয়ায় নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করা গেলে মাঠ আরও বেশি মুসল্লিতে পূর্ণ হবে।

জামাতে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনেরা। পরে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ ময়দান।

ঈদগাহ ময়দানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকাল থেকেই মাঠে বিজিবি, র‍্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, সাদাপোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ও বোমা ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পুরো মাঠ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধায় চালু করা হয় দুটি বিশেষ ট্রেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায় করেছেন। এ জন্য তিনি আগত মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান।

জনশ্রুতি আছে, ১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই ‘সোয়া লাখিয়া’ শব্দ থেকেই পরবর্তী সময়ে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। তবে এ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। আরেকটি মতে, মোগল আমলে এ অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ‘শ লাখ’ বা এক কোটি টাকা। সেখান থেকেই কালের পরিক্রমায় ‘শোলাকিয়া’ নামের প্রচলন।

রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। পবিত্র ঈদুল আজহার দিন আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এই চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ঈদের দিন জাতীয় চিড়িয়াখানা অনেকটাই ফাঁকা। এরপরও যাঁরা চিড়িয়াখানায় এসেছেন, একবারের জন্য হলেও ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে ‘এল-০৭’ খাঁচার সামনে আসছেন। ফলে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যান্য খাঁচার সামনে দর্শনার্থী কম থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ভিড় লেগেই থাকছে।

খাঁচার সামনে এই মহিষের একটি পরিচয়ও ঝুলিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তাতে লেখা, ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’। সেখানে ইংরেজিতে ‘অ্যালবিনো বাফেলো’ও লেখা আছে।

বাবা, মা ও বোনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখছিলেন শিক্ষার্থী আজমিরা আক্তার। রূপনগর থেকে আসা আজমিরা বলেন, খবরে জেনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখার জন্যই তাঁরা এসেছেন। আজমিরা বলেন, ‘মোবাইলে যেমন দেখেছি, বাস্তবেও মহিষটি তেমন। ট্রাম্পের মতো লাগে তো।’

রাজধানীর মিরপুর ২ নম্বর এলাকা থেকে স্ত্রী, ছেলে ও ভাগনেকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষটি দেখছিলেন মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে তাঁরা চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন। তাঁরা আগে থেকেই জানেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষটিকে চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করার পর মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করে করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বের করেছেন। তিনিও মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে অ্যালবিনো মহিষটির কিছুটা মিল আছে।

অ্যালবিনো মহিষটির খাঁচার সামনে একদল ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যকেও পাওয়া গেল। সেখানে ছিলেন ঢাকা অঞ্চলের ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু ব্রত মল্লিক। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের মহিষের খাঁচার সামনে দর্শনার্থী যেহেতু বেশি, তাঁদের নিরাপত্তার স্বার্থে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. আতিকুর রহমান বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গতকাল রাত ১১টার সময় আনা হয়েছে। আজ সকাল থেকে মহিষটির খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড়। এটা একটা নতুন প্রাণী, এ কারণে ভিড়।

যখন গাড়ি থেকে নামানো হয়, তখন দেখা যায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ গায়ে সম্ভবত আঁচড় লেগেছে উল্লেখ করে কিউরেটর বলেন, সেই আঁচড় খুব ছোট। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে।

অ্যালবিনো জাতের এ মহিষের চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। মহিষটি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় জিয়াউদ্দিন মৃধার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে লালন–পালন করা হচ্ছিল। জিয়া উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মহিষটির ‘অসাধারণ চুল’ দেখে তাঁর ভাই এর নাম রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামানুসারে।

চিড়িয়াখানায় যাওয়া দর্শনার্থীরা আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’–এর খাঁচার সামনে ঢুঁ মারছেন। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় চিড়িয়াখানা, মিরপুর, ঢাকা
চিড়িয়াখানায় যাওয়া দর্শনার্থীরা আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’–এর খাঁচার সামনে ঢুঁ মারছেন। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় চিড়িয়াখানা, মিরপুর, ঢাকা, ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ
 

মে মাসজুড়ে ঢাকার কাছের মানুষ ট্রাম্পকে দেখতে দলে দলে ছুটে যান জিয়া উদ্দিনের খামারে। মহিষটি নিয়ে ১২ মে খবর প্রকাশ করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর মাথায় ঢেউখেলানো গোলাপি রঙের চুলের মহিষটি নিয়ে দেশীয় সংবাদমাধ্যম ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট এবং বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন ছাপা হয়। মহিষের ভিডিও প্রচার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম।

জিয়া উদ্দিন মহিষটি বিক্রি করেছিলেন কেরানীগঞ্জের জিনজিরার মনিরুজ্জামানের কাছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গত সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের খামার থেকে মহিষটি কেরানীগঞ্জে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন মনিরুজ্জামান। সে সময় খামারে লালগালিচা বিছিয়ে, রঙিন ধোঁয়া উড়িয়ে ও রাজকীয় সাজে মহিষটিকে বিদায় জানানো হয়।

ঈদের আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে মহিষটিকে মনিরুজ্জামানের বাড়ি থেকে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়।

ঈদের দিন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে পড়ে আছে চার চাকার লেগুনাটি। সামনের অংশ ভেঙে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কাচের টুকরা। আহতদের লেগুনার ভেতর থেকে বের করে আনছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় লোকজন জানান, পটিয়াগামী একটি লেগুনার সঙ্গে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী ঈগল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

ঘটনাস্থলে থাকা কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পরিতোষ দাশ বলেন, দুর্ঘটনার পর বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। তবে দুই গাড়ির চালকই পালিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও পশু কোরবানি করছেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে কোরবানি দিতে দেখা যায়।

দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়া কয়েকজন বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই প্রধান লক্ষ্য।  গরিব-দুঃখীদের সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে চান তারা। মূলত, ঈদুল আজহার প্রথমদিন সময় ও সুযোগের অভাবে যে-সব পশু কোরবানি করা যায়নি, আজ শুক্রবার সেসব কোরবানি করা হচ্ছে। অনেকেই সন্তানের আকিকার জন্য নির্ধারিত পশুটিও আজ কোরবানি করবেন। 

এদিকে, কোরবানির পর নিজ উদ্যোগেই বর্জ্য অপসারণ করছেন সবাই। ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত জায়গার পাশাপাশি রাজধানীর অলিগলি-রাজপথ, বাড়ির গ্যারেজ কিংবা ফুটপাতেও পশু কোরবানি হয়েছে। 

 

ঢাকা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব