• Colors: Purple Color

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে হাজিরা দিতে আসা বিএনপির এক নেতাকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। এ সময় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। হামলায় বিএনপি নেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর সহযোগী মাইনুদ্দীন (৩৭) নামের একজন গুলিবিদ্ধ হন। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীকে লক্ষ্য করে গুলি করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। তিনি একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। এ ঘটনায় জিয়াউল হক জিয়া (৩৪) নামের একজনকে আটক করে লিয়াকতে সঙ্গে থাকা লোকজন। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে সাবেক ইউপি সদস্য লিয়াকত আলীর ওপর হামলা চালিয়েছে তাঁর প্রতিপক্ষরা। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ার (বিসিক এলাকা) নিজ বাড়িতে গিয়ে লিয়াকত আলীকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করেছিল দুর্বৃত্তরা। আজ সকালে লিয়াকত আলীসহ কয়েকজন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এসেছিলেন একটি মামলার হাজিরা দিতে। হাজিরা শেষে বেলা ১১টার দিকে লিয়াকত বাড়িতে ফেরার গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন অস্ত্রধারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

কক্সবাজার আদালতে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক এক ব্যক্তি
কক্সবাজার আদালতে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক এক ব্যক্তি, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জানান, লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে লিয়াকত আলী আদালত থেকে বেরিয়ে ফটকে এসে দাঁড়ালে খালেদ নামের একজন প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। লিয়াকত আলী দ্রুত সরে যাওয়ায় গুলি লাগে তাঁর চাচাতো ভাই মইনুদ্দীনের পায়ে। এ সময় লিয়াকত আলীর লোকজন গুলি করতে আসা জিয়াউল হককে ধরে ফেললে অস্ত্রধারীদের আরেকজন গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে অস্ত্রধারীরা আদালতের ভেতরের রাস্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দিকে পালিয়ে যান। আটক জিয়াউল হকের বাড়ি ঈদগাঁওয়ে।

বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী
বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী, ছবি সংগৃহীত
 

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে গুলি করে পালানোর সময় জিয়াউল হককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অপর অস্ত্রধারীদের কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার পর লিয়াকত আলীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। লিয়াকত আলী বলেন, ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ায় গুলি করে ও কুপিয়ে তাঁকে হত্যাচেষ্টা করেছিল স্থানীয় একটি বাহিনী। আজ আদালত প্রাঙ্গণে ওই বাহিনীর সন্ত্রাসী খালেদ, শাহাবুদ্দীন, কুতুবউদ্দিনসহ কয়েকজন তাঁকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল।

মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় শাকিল হোসেন (২৪) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। জরিমানার অর্থ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নেওয়া হয়।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনীতে ৯ বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণ করেন শাকিল। পরে শিশুটি তার বাবাকে গিয়ে ঘটনাটি জানায়। তিনি বিষয়টি গ্রামে জানালে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিলকে আটকে মারধর করেন। খবর পেয়ে গাংনী থানার পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং চিকিৎসার জন্য গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

ভুক্তভোগী শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আতাউর রহমান গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলায় অভিযোগপত্র দেন। ওই বছরের ১৩ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল অভিযোগ গঠন করলে বিচারকাজ শুরু হয়। সশরীর ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সশরীর ও ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমের সমন্বয়ে সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত। ভুক্তভোগীর পরিবার এতে ন্যায়বিচার পেয়েছে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মারুফ আহমেদ বলেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে এক এলাকায় তিনটি স্থল মাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছেন। সীমান্ত এলাকায় বাগানের কাজ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক জাফর ইকবাল জানিয়েছেন।

মাইন বিস্ফোরণে মারা যাওয়া তিনজন হলেন অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিংক্ষ্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) ও চপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে লেরাইয়া (৩৫)। তাঁদের সবার বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ায়। বিস্ফোরণে মৃতদের কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশ উড়ে গেছে।

ঘুমধুমের স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফলের বাগানে কাজ করার সময় তিনটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিস্ফোরণে শুরুতে এক বাগানচাষি গুরুতর আহত হন। সঙ্গীরা দৌড়ে তাঁকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে আরেকজন গুরুতর আহত হন। আহত ওই দুজনকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনায় আরেকজন আহত হন। উপর্যুপরি তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় কাজ করতে যাওয়া লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পাড়ায় এসে সংবাদ দেয়। পাড়াবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বাবুল কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, ভালুকিয়াপাড়াসহ সীমান্তের কাছাকাছি মানুষ সবাই শূন্যরেখা বজায় রেখে ফলের বাগানসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করেন। এটি তাঁদের জীবন-জীবিকা একমাত্র উপায়। গত বছরও বাগানের কাজ করতে গিয়ে দুজন নিখোঁজ হয়েছেন। এখনো তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বনে সবজি খুঁজতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে একজন নারী দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আগের দুজনের নিখোঁজ, পা হারানো ঘটনাসহ আজকের তিনজনের মৃত্যুতে সীমান্তের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে বলে বাবুল কান্তি জানিয়েছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ির দফাদার সৈয়দ আলম ও ঘুমধুমের গ্রাম পুলিশ রূপম বড়ুয়া জানিয়েছেন, ঘটনা ৪১ সীমান্ত পিলার এলাকায় হলেও যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটি শূন্যরেখার ভেতরে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে এত শক্তিশালী স্থলমাইল কারা স্থাপন করেছে, তা তদন্ত হওয়া দরকার মনে করেন দফাদার সৈয়দ আলম। মৃতরা সবাই বাগানচাষি।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুম পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল মাইন বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, লাশ তিনটি উদ্ধার করে রেজুপাড়া বিজিবির সীমান্তচৌকিতে আনা হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে থানায় হস্তান্তর করা হবে।

ঝিনাইদহে ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শহরের কবি সুকান্ত সড়কের একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঝিনাইদহ সদর থানার পুলিশ।

জেলা এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদল নেতার মামলায় জাতীয় যুবশক্তির নেতা অয়ন রহমানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শহরের ফ্যামিলি জোন কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল এনসিপি। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন তারেক রেজা। সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শকব (এসআই) খাইরুল ইসলাম গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপকে কেন্দ্র ছাত্রদল ও এনসিপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ২২ মে রাতেই এনসিপি নেতা তারেক রেজা বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সভাপতি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়কসহ আটজনের নাম উল্লেখসহ মোট ১২৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় ২৩ মে সকালে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এনামুল কবির বাদী হয়ে এনসিপি নেতা তারেক রেজাসহ ২২ এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৬০ জনের নামে পালটা মামলা করেন। এই মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অয়ন রহমান খানকে গ্রেপ্তারের পর তারেক রেজাকেও গ্রেপ্তার করল।

প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেট্রোরেল ও ট্রেন ভ্রমণে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক মন্ত্রণালয়। আগামীকাল সোমবার থেকে এ সুবিধা কার্যকর হবে।

আজ রোববার রেলপথ মন্ত্রণালয় ও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আগামীকাল দুপুরে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে বিশেষ এই সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত চলমান মেট্রোরেলে ৬৫ বছর বা এর বেশি বয়সী যাত্রী এবং প্রতিবন্ধী/বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় পাবেন। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী যাত্রীদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখতে হবে। স্টেশনের কাউন্টারে এনআইডি দেখালে বয়স যাচাই করে ছাড়ে টিকিট বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে প্রতিবন্ধী/বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এই সুবিধা পেতে হলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্র থাকতে হবে এবং তা কাউন্টারে প্রদর্শন করতে হবে।

রেলে ছাড়ে টিকিট

রেলের পক্ষ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রবীণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যাত্রীর বয়স অবশ্যই ৬৫ বছর বা এর বেশি হতে হবে। অনলাইনে টিকিট কেনার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বয়স স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে। শুধু ভাড়ার ভিত্তিমূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় প্রযোজ্য হবে। তবে সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ বিদ্যমান হারে পরিশোধ করতে হবে।

প্রতিবন্ধী/বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের এই সুবিধা পেতে হলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্র থাকতে হবে এবং তা কাউন্টারে প্রদর্শন করতে হবে।
 

এই সুবিধা অনলাইন ও কাউন্টার উভয় মাধ্যমেই পাওয়া যাবে। এ জন্য যাত্রীকে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘রেলসেবা’ অ্যাপে নিবন্ধিত হতে হবে ।

একজন সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুবার এ ছাড়ের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। সপ্তাহ গণনা করা হবে যাত্রার তারিখ অনুযায়ী। ছাড় করা টিকিট ফেরত দিলে সেই সাপ্তাহিক হিসাব থেকে তা বাদ যাবে এবং যাত্রী একই সপ্তাহে আবার ছাড় পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন।

কোনো সিনিয়র সিটিজেন সহযাত্রী নিয়ে ভ্রমণ করলে সহযাত্রীর ক্ষেত্রে নিয়মিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে। তবে সহযাত্রীও প্রবীণ হলে প্রতি বুকিংয়ে সর্বোচ্চ একজন অতিরিক্ত প্রবীণ সহযাত্রী ছাড়-সুবিধা পাবেন। এ জন্য তাঁকে নিজস্ব নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে আলাদাভাবে ভেরিফায়েড হতে হবে।

রেলে প্রতিবন্ধীরা পাচ্ছেন যে সুবিধা

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্রধারীরা এ সুবিধার আওতায় থাকবেন। আন্তনগর ট্রেনের সুলভ বা শোভন শ্রেণিতে এবং যেসব ট্রেনে এ শ্রেণি নেই, সেসব ট্রেনে শোভন চেয়ার শ্রেণির মোট ভাড়ার ওপর বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী ৫০ শতাংশ ছাড় বহাল থাকবে। পাশাপাশি নতুন করে সব শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শ্রেণিতে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রেও সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ বিদ্যমান হারে প্রযোজ্য হবে।

৬৫ বছরের বেশি বয়সী যাত্রীদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখতে হবে। স্টেশনের কাউন্টারে এনআইডি দেখালে বয়স যাচাই করে ছাড়ে টিকিট বিক্রি করা হবে।

তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আপাতত শুধু স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট ইস্যুর ক্ষেত্রে এ সুবিধা কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অনলাইন টিকিটিং সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিচয়পত্রধারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহযাত্রীর ক্ষেত্রে নিয়মিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে।

এদিকে স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে শিক্ষার্থীদের ইউনিফায়েড পরিচয়পত্র চালুর পর টিকিটের মূল্যে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছে, রেল পরিবহনব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সরকার গঠনের পর নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত রেলপথসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে গত ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিবন্ধী, শিক্ষার্থী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ট্রেনে ২৫ শতাংশ ছাড়ে ভ্রমণের সুযোগ চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ফরিদপুরে আজ শনিবার মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়া বিআরটিসির বাস ও অ্যাম্বুলেন্স দুটির কোনোটিরও ফিটনেস সনদ হালনাগাদ ছিল না। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া আছে সরকারি করও।

আজ রোববার ফরিদপুরের নগরকান্দায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাসের সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। নিহত হন এতে থাকা একই পরিবারের চারজন এবং চালক।

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে ঘটনার বিবরণ, হতাহতের তথ্য এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের হালনাগাদ তথ্য থাকে। এই প্রতিবেদনেই দুটি যানের হালনাগাদ ফিটনেস সনদ এবং কর পরিশোধ না করার তথ্য পাওয়া গেছে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বেসরকারি পরিবহনের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করার লক্ষ্যেই সরকারের পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির জন্ম। এ জন্য সরকার নানা সময় ভর্তুকি দেয়। কিন্তু সরকারি সংস্থারই বাসের ফিটনেস সনদ হালনাগাদ না থাকা দৃষ্টিকটু।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ বিআরটিসির বাসটি ফরিদপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্সটি মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরে আসছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর থেকে চালকসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনায় বাসের কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন। তবে বাসটির বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, বিআরটিসির বাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৬৪৩৬। বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ২০২৪ সালের অক্টোবরেই শেষ হয়েছে। এরপর আর ফিটনেস নবায়ন করা হয়নি। ২০২৩ সালের পর ট্যাক্স-টোকেনের সরকারি ফিও পরিশোধ করা হয়নি। ফলে বাসটি চলাচলের উপযোগী আছে কি না, সেটা নিশ্চিত নয় বিআরটিএ।

অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঠ-১১-১২২৯। ২০০৯ সালের পর আর কোনো দিন ফিটনেস সনদের জন্য বিআরটিএতে যায়নি।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব