• Colors: Purple Color

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রংপুর ৫১ বিজিবির তীব্র আপত্তি ও কঠোর অবস্থানের মুখে খুঁটি তুলে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের কলসির মুখ সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে জিরো লাইনে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করে বিএসএফ। 

বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা বিজিবিকে অবহিত করেন। পরে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে অবিলম্বে খুঁটি অপসারণ করতে বলা হয় এবং সীমান্ত আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। বিজিবির কড়া অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা তাদের স্থাপন করা খুঁটি দ্রুত সরিয়ে নেয়।

রংপুর ৫১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, সীমান্তের ১৫০ গজের বাইরে খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হলে বিএসএফ খুঁটি অপসারণ করে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

 

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত মনির হোসেন। আর ভুক্তভোগীর শিশুর ডিএনএ সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) গ্রেফতার আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত।

এর আগে, ধর্ষণের অভিযোগে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলা করে। পুলিশের কাজে বাধার ঘটনায় আটক সাতজনের বিরুদ্ধেও চলছে মামলার প্রস্তুতি। 

এদিকে, ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেলের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি এখন শঙ্কামুক্ত।

চমেকের পরিচালক ব্রি. জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে তখন বোঝা যাবে, এটা রেইপ কেস কিনা। তবে ফলাফল আসতে এখনও প্রায় ১ মাসের মতো অপেক্ষা করতে হবে।

অন্যদিকে, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হোসাইন মো. কবির ভূইয়া বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিকভাবে দায় স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় বাকুলিয়া থানায় মামলা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মনিরকে আটক করে নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয়দের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়িতে আগুনও দেওয়া হয়। রাতভর পুলিশের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষের পর আজ সকালে অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল এলাকার পরিবেশ। তবে নিপীড়কের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয়রা।

সিলেটে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেছে এক র‍্যাব সদস্যের। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে কোতোয়ালি থানার সামনে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ইমন আচার্য র‍্যাব-৯ এর সদস্য ছিলেন।

পুলিশ জানায়, দুপুরে বাপ্পি নামের এক ছিনতাইকারীকে নগরীর কীন ব্রিজ এলাকা থেকে ধাওয়া দেন তাঁরা। বাপ্পি ধাওয়া খেয়ে থানা রোড হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় সাদা পোশাকে থাকা র‍্যাব সদস্য কনস্টেবল ইমন আচার্য তাকে ধরার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে বাপ্পি তাকে ছুরিকাঘাত করে।

তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেলের আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে অভিযুক্ত বাপ্পিকে আটক করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদক কারবার, ছিনতাইসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পৃথকভাবে মাদক সেবন ও জুয়া খেলার দায়ে ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে আটকের পর তাঁদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানী আকন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে রাতে শীলকূপ ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুলিশের সহায়তায় মাদক সেবনের সময় ৬ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়া খেলার সময় আটক করা হয় ৭ জনকে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আটক ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মাদক সেবনের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন মো. আবদুল কাদের (৪২), মো. আবুল বশর (২৯), নুরুল আমিন (৪৪), মো. আজিজ (২০), মো. ছাবের আহমেদ (৩৪) ও মো. আলাউদ্দিন (৪৫)। তাঁদের মধ্যে কাদের, আজিজ ও ছাবেরকে তিন মাস এবং অন্যদের ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জুয়া খেলার দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে মো. দিদারুল আলম (২২), আজগর হোসেন (৩২), সাহাব উদ্দিন (৩০), আব্দুল জব্বার (৫৫), আবদুল গফুর (৩০), মনছুরুল হক (৪০) ও মো. মোজাফফর আহমদকে (৪২)। তাঁদের মধ্যে দিদারুলকে ছয় মাস, আজগরকে তিন মাস এবং অন্যদের দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানী আকন বিভিন্ন মেয়াদে ১৩ জনকে কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, উপজেলাকে মাদক ও জুয়ার থাবা থেকে মুক্ত করতে ইউনিয়নভিত্তিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে!’

গতকাল শুক্রবার দেওয়া এ বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশে শিশুদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম সহিংসতার খবরে ইউনিসেফ গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত। এর মধ্যে রয়েছে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা। অথচ যেসব জায়গায় তাদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল, সেখানেই এসব সহিংসতার শিকার হয়েছে তারা।

ইউনিসেফ ভুক্তভোগী সব পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।

চলতি বছর এ পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর নির্মম ও যৌন সহিংসতার খবর যেভাবে বাড়ছে, তা দেশব্যাপী শিশু ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছর এ পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী এবং শিশুদের ওপর নির্মম ও যৌন সহিংসতার খবর যেভাবে বাড়ছে, তা দেশব্যাপী শিশু ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিরোধ, অভিযোগ দায়ের, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা এবং সামাজিক সেবার ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে।

নারী ও শিশুদের জন্য মানসিক সহায়তার পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা ও শিশুযত্ন কেন্দ্রে জবাবদিহি আরও বাড়াতে হবে।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা যেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখান এবং এ ধরনের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকেন। এর বদলে অপরাধীদের শাস্তি থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার অবসান ঘটানো ও মানুষের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
 

সমাজে নীরবতা বজায় থাকলে সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিসেফ শিশু, নারী, পরিবার ও সমাজের মানুষকে যেকোনো সহিংসতা বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার আহ্বান জানিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে থাকে।

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মর্যাদার প্রতি সম্মান জানানো উচিত। তাদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একধরনের নতুন নির্যাতন। যাঁরা এগুলো শেয়ার করেন, তাঁরা মূলত ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেন এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন।

সমাজে নীরবতা বজায় থাকলে সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিসেফ শিশু, নারী, পরিবার ও সমাজের মানুষকে যেকোনো সহিংসতা বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার আহ্বান জানিয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগী শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে থাকে।
 

ইউনিসেফ সর্বসাধারণ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, যেন তাঁরা ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখান এবং এ ধরনের ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকেন। এর বদলে অপরাধীদের শাস্তি থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার অবসান ঘটানো ও মানুষের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

প্রতিটি শিশুরই সব জায়গায়—সমাজে, স্কুলে, ঘরে; এমনকি গণমাধ্যমে তাদের গল্প বা ছবি উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও সুরক্ষা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব