• Colors: Purple Color

সংবিধান সংশোধনে সরকারের প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটিতে নাম দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। তবে দলটির একাধিক নেতা মনে করেন, সংবিধান সংস্কারের বদলে সংশোধন কমিটিতে গেলে সরকারকে নিজেদের মতো করে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার বৈধতা দেওয়া হতে পারে। তাই ওই কমিটিতে না যাওয়ার পক্ষে জামায়াতের ভেতরে জোরালো মত রয়েছে।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ২৯ এপ্রিল সংসদে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। এ কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচজন সদস্যের নাম দিতে বলা হয়।

আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি করার বিষয়ে ১২ জনের নামের তালিকা তাঁরা ঠিক করেছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য আছেন সাতজন। বাকিরা গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। বিরোধী দল পাঁচজনের নাম দিলে কমিটির সদস্যসংখ্যা হবে ১৭। তবে এই উদ্যোগ ঘিরে বিরোধী শিবিরে আস্থার সংকট কাটেনি।

সংবিধান সংশোধনে সরকারের প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটিতে নাম দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি জামায়াতে ইসলামী। তবে  না যাওয়ার পক্ষে জোরালো মত রয়েছে জামায়াতের মধ্যে। তারা মনে করছে, কমিটিতে গেলে সরকারকে নিজেদের মতো করে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার বৈধতা দেওয়া হতে পারে।

সেদিন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, এ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাঁদের ধারণাগত পার্থক্য আছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁদের আগে থেকেই মতপার্থক্য ছিল, এখনো আছে। তাঁরা সংবিধানের সংস্কার চাইলেও সরকার সংশোধনের কথা বলছে। তাঁরা প্রস্তাবটি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

সংসদে জামায়াতের ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
সংসদে জামায়াতের ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানফাইল ছবি: জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ
 

এরপর ৩০ এপ্রিল সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। বিরোধী দল এখনো সরকারকে কমিটি গঠনের জন্য নাম দেয়নি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, বিরোধী দল শুরু থেকেই সংবিধান সংশোধন নয়; বরং সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং ক্ষমতাসীন বিএনপির ৩১ দফার প্রথম দফায় প্রতিশ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনই হওয়া উচিত ছিল প্রথম পদক্ষেপ; কিন্তু সেই পথে না গিয়ে সরকার এখন সংশোধন কমিটির প্রস্তাব সামনে এনেছে।

গত ৩০ এপ্রিল ১১–দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সর্বশেষ বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সংশোধন কমিটির বিষয়ে জোটের নেতাদের মনোভাব ছিল নেতিবাচক। তাঁরা মনে করছেন, সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো বিরোধী দলের আস্থা অর্জনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে না। ফলে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করেই তাঁরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান।

আপত্তি যেখানে

বিরোধী দলের নেতাদের অভিযোগ, সংস্কারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না হওয়া এবং সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সব অধ্যাদেশ হুবহু অনুমোদন না করাকে তাঁরা এই অনীহার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা মনে করেন, সরকারি দল সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। একইভাবে সংবিধান সংশোধন কমিটিতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার নীতি প্রয়োগ করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা তাঁদের মধ্যে আছে। তাঁদের মতে, এমন কমিটিতে গিয়ে বিরোধী দলের খুব বেশি লাভ হবে না।

বিরোধী দলের নেতারা মনে করেন, সরকারি দল সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। একইভাবে সংবিধান সংশোধন কমিটিতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার নীতি প্রয়োগ করা হতে পারে-এমন আশঙ্কা তাঁদের মধ্যে আছে। তাঁদের মতে, এমন কমিটিতে গিয়ে বিরোধী দলের খুব বেশি লাভ হবে না।

সরকারের প্রস্তাবের বিষয়টি জামায়াত কীভাবে বিবেচনা করছে, তা জানতে প্রথম আলো কথা বলেছে বিরোধীদলীয় উপনেতাসহ দলটির তিনজন সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের তিনজন নেতার সঙ্গে। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, জামায়াতের ভেতরে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। তবে সংশোধন কমিটিতে নাম দেওয়া নিয়ে দলটির মধ্যে সতর্ক অবস্থান স্পষ্ট।

সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনে সরকারের প্রস্তাবের বিষয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন ও বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হকের সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা
বৈঠকে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরাফাইল ছবি: জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ

নাজিবুর রহমান ও শেখ মঞ্জুরুল হকের ভাষ্য—বিরোধী দল শুরু থেকেই সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চেয়েছে। সংস্কার বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছা থাকলে তাদের দলীয় ৩১ দফা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হতো; কিন্তু সেটি না করে সরকার এখন সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের কথা বলছে। তাঁরা মনে করেন, সরকারি দল সংসদে যেভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সবকিছু করছে, সংবিধান সংশোধন কমিটিতেও একই কাজ করতে পারে। সেখানে গিয়ে বিরোধী দলের খুব বেশি লাভ হবে না। তাই বিরোধী দল এখনো সরকারের কাছে নাম দেয়নি।

বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘যাওয়ার সুযোগ নেই’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের তিনজন নেতার সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁদের মধ্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ মনে করেন, সরকার প্রস্তাবিত কমিটিতে জামায়াতের কোনো সদস্যের যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিরোধী দল সংশোধন কমিটি গঠন করে নয়; বরং সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংবিধানের সংস্কার চেয়েছে। সরকার যে সংশোধন কমিটি গঠন করতে চায়, বিরোধী দল তার সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত নয়। তাই এই কমিটিতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তবে সংশোধন কমিটিতে নাম দেওয়া না–দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম। তিনি আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে।

বিরোধী দল সংশোধন কমিটি গঠন করে নয়; বরং সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংবিধানের সংস্কার চেয়েছে। সরকার যে সংশোধন কমিটি গঠন করতে চায়, বিরোধী দল তার সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত নয়। তাই এই কমিটিতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী

কেন আলোচনা প্রয়োজন, তা ব্যাখ্যা করে আবদুল হালিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আলোচনা প্রয়োজন এ কারণে যে জামায়াত সংবিধানের সংস্কার চেয়েছে, আর সরকার চাচ্ছে সংশোধন। এতেই পার্থক্য স্পষ্ট।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গত ৪ এপ্রিল ঢাকায় ১১–দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা  হামিদুর রহমান আযাদ
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গত ৪ এপ্রিল ঢাকায় ১১–দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদছবি: জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ
 

সংস্কার বিষয়ে সরকারের গড়িমসি রয়েছে—বিরোধী দল শুরু থেকেই এমন অভিযোগ করে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে সংশোধন কমিটিতে নাম দিলে সরকারকে নিজেদের মতো করে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার বৈধতা দেওয়া হবে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিচ্ছে জামায়াত।

এ কারণে কমিটিতে নাম দেওয়ার বিষয়ে তাড়াহুড়া না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করতে চায় তারা। এ জন্য আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিরোধী দল।

ঢাকা

শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড চ্যালেঞ্জ করে তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচাপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রিট খারিজের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, অন্তবর্তী সরকারের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে তদন্ত চেয়ে রিট করার জন্য যে এখতিয়ার, সেটির সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি রিটকারীরা নন। এটি রাষ্ট্রের কাঠামোর সাথে জড়িত। এর আগেও একই বিষয়ে রিট খারিজ হয়েছিল, একই বিষয়ে দ্বিতীয়বার রিট করায় তা খারিজ করা হয়।

এছাড়া, রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই রিট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। অন্যদিকে, রিটকারী আইনজীবীরা বলেছেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তারা।

 

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিতে পারস্পরিক আস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাজের সমন্বয়কে বড় শর্ত বলে উল্লেখ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি উন্নয়নের ক্ষেত্রে পার্বত্য এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন। তিনি পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দলের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার প্রথম আলো কার্যালয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জীবিকায়নের ধরন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাধাসমূহ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল যৌথভাবে আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্রথম আলো। সহযোগিতায় ছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

মন্ত্রী মনে করেন, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পর্যটন খাতকে থামিয়ে রাখা বা বিদেশি দাতা সংস্থাদের নিরুৎসাহিত করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ,বিজিবিসহ সব বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তাঁর মতে, পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার অর্জন করতে হলে এই খাতকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে হবে। নিরাপত্তার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে দপ্তরের কাজের সমন্বয় বাড়াতে হবে।

পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে অনেক আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ও দাতাদেশ কাজ করতে আগ্রহী হলেও নানা জটিলতায় সেটা হচ্ছে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এনজিও বা বিদেশি সংস্থা পার্বত্য অঞ্চলে ঢুকলে একধরনের নেতিবাচক ও সন্দেহপ্রবণ মনোভাব তৈরি হয়। এমন ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। এ ছাড়া ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচের কারণে জুমচাষিদের বিষয়গুলোও ইতিবাচকভাবে বিকশিত হতে পারছে না।

মন্ত্রীর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদগুলোকে উন্নয়নকাজে সম্পৃক্ত করার কথা। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকাজে আঞ্চলিক পরিষদকে গুরুত্ব না দিলে কাজ হবে না। এ কাজে জেলা পরিষদগুলোকে সম্পৃক্ত করতেই হবে।

১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ। গঠিত হয় তিন জেলা পরিষদ। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতার বিবেচনায় এই তিন জেলা পরিষদকে অনেক স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ মডেল হিসেবে বিবেচনা করেন। যে চুক্তির ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে, সেই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়েও আজ কথা বলেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, চুক্তি সম্পাদনকারী যে দল, তাদের সঙ্গে অবশ্যই আলোচনায় বসতে হবে।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করে পাহাড়ের আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। ফলে পাহাড়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা সশস্ত্র আন্দোলনের অবসান হয়।

‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জীবিকায়নের ধরন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাধাসমূহ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা
‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে জীবিকায়নের ধরন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাধাসমূহ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা

অচিরেই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ঘোষণা করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের সমালোচনা ও সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে আজ দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন সংস্থারর ইতিবাচক কাজের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে যথাযথ তদারকি বা ‘মনিটরিং’ না থাকায় দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অনেক ক্ষেত্রে অপচয় বা আত্মসাৎ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের স্থায়িত্বের মূলে রয়েছে ‘পারস্পরিক আস্থা’।

পার্বত্য অঞ্চলকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বা ভিন্ন কোনো নেতিবাচক আঙ্গিকে না দেখে, এর অধিকার ও স্বাধিকার রক্ষা করে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আস্থা ও সমন্বয়’—এই দুটি নীতিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এই অঞ্চল এক বিশাল এবং উজ্জ্বল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় সহযোগী সংগঠনগুলো একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানান মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

শাহীন আনাম জানান, এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিকূল পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও পানির সংকট মোকাবিলা করে জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল ২০ হাজার পরিবারকে স্বাবলম্বী করাই মূল লক্ষ্য।

শাহীন আনাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভাঙা রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানান। পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, ঐতিহ্য ও অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকল্প শেষেও যেন এই টেকসই উন্নয়ন বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের ফার্স্ট কাউন্সিলর এডউইন কোয়েক কোয়েক পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নে যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন, অসমতা দূরীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইইউর দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন। সেখানে আরও বক্তব্য দেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদা, ডেলিগেশন অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন টু বাংলাদেশের রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মেহের নিগার ভূঁইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চঞ্চু চাকমা, রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের লাইভলিহুডস অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের চিফ বিপ্লব চাকমা, বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলহাস আহমেদ, আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, পিআরএলসি প্রকল্পের সুবিধাভোগী কাজলী তঞ্চঙ্গ্যা, দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র সাংবাদিক জাগরণ চাকমা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রজেক্টের কো–অর্ডিরেটর নিখিল চাকমা।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যাংকের অটোমেটেড টোলার মেশিন  বা এটিএম বুথ নিয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি)-২ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঈদের সময় গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা থাকতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখতে হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন-পেমেন্ট গেটওয়ে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক এটিএম সেবা নিশ্চিত করা, এটিএম বুথে কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধান করা এবং পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি বুথে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বুথ পরিদর্শন করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে পয়েন্ট অব সেলের (পিওএস) ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক পিওএস ও কিউআর কোড সেবা নিশ্চিত করা এবং জালজালিয়াতি রোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহককে সচেতন করারও নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন-পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনের ক্ষেত্রে টু ফ্যাক্টর অথেনটিফিকেশন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। একই সঙ্গে এমএফএস সেবায় সব ব্যাংক বা তাদের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেনের ব্যবস্থা ও এজেন্ট পর্যায়ে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ঈদের ছুটিকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহক হয়রানির শিকার রোধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন সহায়তা প্রদানের কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়। যে কোনো অঙ্কের লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস এলার্ট সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে।

এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক, সব মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

পরমাণু ইস্যু ঘিরে শক্ত অবস্থান নিয়েছে ইরান। নিজেদের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে যেতে দেবে না তারা। তেহরানের এ অবস্থান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির ক্ষেত্রে একটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদিও চুক্তির লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই জবাবের পর্যালোচনা চলছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করে। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এরপর যুদ্ধে স্থায়ীভাবে বন্ধে মাত্র একবার বৈঠকে বসেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। যদিও সেখান থেকে ইতিবাচক কিছু আসেনি। এর পর থেকে চুক্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব আদান–প্রদান চললেও আশার কোনো খবর শোনা যায়নি।

একটি চুক্তির ক্ষেত্রে দুই পক্ষের বিরোধগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চায় নিজেদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করুক তেহরান। এ নিয়ে ইরান সরকারের আপত্তি রয়েছে। এরই মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোতজবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যেন বিদেশে পাঠানো না হয়।

মোজতবা খামেনির এ নির্দেশের কথা রয়টার্সকে জানিয়েছে দুটি ইরানি সূত্র। তারা বলেছে, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, একবার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠিয়ে দিলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বড় ঝুঁকিতে পড়বে তেহরান। এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এর পরিমাণ ৪৪০ কেজির বেশি। এগুলো পরমাণু অস্ত্র তৈরির মাত্রার কাছাকাছি। যুদ্ধের আগে ইরান জানিয়েছিল, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অর্ধেক বিদেশে পাঠিয়ে দিতে রাজি তারা। তবে সূত্র বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হুমকির মুখে সে সিদ্ধান্ত বদলেছে তেহরান।

এমনকি গত বুধবারও ইরানের আবার হামলা চালানো হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, একটি চুক্তি করতে ইরানের জবাবের অপেক্ষা করতে রাজি তিনি। তবে আবার হামলাও শুরু করতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, আমরা যদি সঠিক জবাব না পাই, তাহলে খুব শিগগির তা (হামলা) করা হবে। আমরা (ইরানের দিকে) যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত।’

এর আগে চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেরি বলেছেন, ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের হুমকির জবাবে রুশ গণমাধ্যমের কাছে ইরানি এক কর্মকর্তা পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে এ–ও বলেছে, তাদের কাছে এমন অস্ত্র রয়েছে, যেগুলো অত্যাধুনিক এবং আগে যুদ্ধে পরীক্ষা করা হয়নি।

তবে এমন সংঘাত যেন আর শুরু না হয়, সে জন্য তেহরানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মধ্যস্থাকারী দেশ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তাঁর লক্ষ্য হলো দুই পক্ষে মধ্যে মতবিরোধগুলো কমিয়ে আনা এবং একটি সমঝোতার পথ তৈরি করা।

রয়টার্সআল–জাজিরা

রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আট বছরের শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঢাকার পল্লবী এলাকায় শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রেস উইং জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ছিলেন।

স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই শিশুকে গত মঙ্গলবার পাশের ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়া নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সকালে শিশুটি বাসা থেকে বের হওয়ার পর ফুসলিয়ে তাকে পাশের ফ্ল্যাটে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ওই ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ দুজনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরেক ব্যক্তিকে আসামি করে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন তার বাবা।

সোহেল রানা গতকাল ঢাকার আদালতে এ ঘটনায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব