• Colors: Purple Color

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকার লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত বগা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এসে বিএনপির সমর্থকদের অবরোধের মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সড়কের মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিট তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন।

এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মিছিলে ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আজ মঙ্গলবার বেলা একটা থেকে পৌনে দুইটা পর্যন্ত উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মন্ত্রী সভাস্থলে না গিয়ে বগা ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন। ফেরি পার হয়ে চরগরবদি এলাকায় একটি মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম (মাসুদ) মন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য বগা ফেরিঘাট এলাকায় একটি সভামঞ্চ করেন। ওই সভামঞ্চের ব্যানারে কারও কোনো ছবি ছিল না। প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ছিল মন্ত্রীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে নাম ছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর। সভাপতি হিসেবে নাম ছিল পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের।

দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সংসদ সদস্য শফিকুল মন্ত্রীকে এগিয়ে আনার জন্য নদীর পশ্চিম তীরে অপেক্ষা করতে থাকেন। বেলা একটার দিকে ফেরিতে মন্ত্রীকে নিয়ে বগা ফেরিঘাট এলাকার সভামঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন। ওই সময় বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা সভামঞ্চের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকার প্রতিবাদে মন্ত্রীকে ঘিরে মিছিল করতে থাকেন।

সড়কের মধ্যে মিছিলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রীর সফর সঙ্গীরা। একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকেরা পাল্টাপাল্টি মিছিল করতে থাকলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ থাকার পর মন্ত্রী সভামঞ্চে না গিয়ে ফেরি পার হয়ে ওপারে চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন।

আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও শফিকুল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি প্রমুখ।

মন্ত্রী রবিউল আলম বক্তব্যে জানান, বগা সেতু নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর লেখা বাউফলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিরা বিনতে মাহামুদের চিঠি এবং টেলিভিশনে শিশুটির প্রচারিত সাক্ষাৎকার প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে বগা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রবিউল আলম বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই বগা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শিশু আদিরার হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন মন্ত্রী।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম–আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (ঝুরন) বলেন, ‘ক্ষমতায় বিএনপি সরকার। আর সরকার প্রধান তারেক জিয়া। সেখানে ব্যানারে তারেক জিয়ার নাম থাকবে না, সেই অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী যেতে পারে না। এ কারণে সাধারণ কর্মী সমর্থকদের প্রতিবাদ ও অবরোধের মুখে সভা মঞ্চে সেতু মন্ত্রী যেতে পারেননি।’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এক দিন পর তিনি জানান, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলায় পরিকল্পিত নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

তবে ইরানিরা সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলো ও বিশ্ব অর্থনীতির কাছ থেকে এর চরম মূল্য আদায় করতে দ্বিধা করবে না।

ইরান কী আশঙ্কা করছে

চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’–এর ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হামিদরেজা আজিজি বলেন, চলতি বছরের প্রথম দফার যুদ্ধে ইরানিরা প্রায় তিন মাসের একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

নতুন করে যেকোনো লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যাতে শত্রুকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশও বদলে দেওয়া যায়।

হামিদরেজা আজিজি, ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স

এর ফলে ইসরায়েল ও আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রেখেছিল বলে মনে করেন আজিজি।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বিপরীতে এবার যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরানি নেতারা ধারণা করছেন যে এ লড়াই হবে ‘স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র’। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত ও ভারী হামলাও চালানো হতে পারে। আজিজি ইরানের সরকারঘনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বা নিরাপত্তাকাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রকাশ্য মন্তব্যগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছেন।

এবার যেভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে ইরান

হামিদরেজা আজিজি বলেন, নতুন করে যেকোনো লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যাতে শত্রুকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশও বদলে দেওয়া যায়। এর ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর তীব্র হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও বন্দরগুলোয় আঘাত হানা হলো বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা এবং ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়গুলোর একটি। যদি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক ব্যাপক হয়, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এ যুদ্ধে আরও অনেক বেশি জড়িয়ে পড়তে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক নেতাই এ পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শিল্প অঞ্চলে বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখছেন বিদেশি শ্রমিকেরা। ৩ মার্চ ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শিল্প অঞ্চলে বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখছেন বিদেশি শ্রমিকেরা। ৩ মার্চ ২০২৬, ছবি: রয়টার্স
 

সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে ইরানের ওপর হামলায় সাহায্য করেছে, এমন মনোভাব থেকে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানি কর্মকর্তা ও সরকারঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকেরা তীব্র আমিরাতবিরোধী হুমকি ও বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ইরানের ওপর গোপনে হামলা চালিয়েছিল।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকদের একজন মেহেদি খারাতিয়ান। গত মাসে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই আমিরাতকে উটে চড়ার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং আমরা তা করতে পারি। প্রয়োজন হলে আমরা আবুধাবি দখল করব।’

আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো আলী আলফোনেহ এক ই–মেইলে বলেছেন, বক্তব্যগুলো যতই অতিরঞ্জিত হোক না কেন, এগুলো ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্বের ‘গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে’।

সম্ভাব্য সৌদি-ইরান অনাক্রমণ চুক্তির (নন-অ্যাগ্রেশন প্যাক্ট) খবরগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অবাস্তব’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন আলফোনেহ। তিনি বলেন, তেল উৎপাদনকারী বড় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলার এই হুমকিই এখনো ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে সংযত রাখার হাতে গোনা কয়েকটি নিয়ামকের একটি।

ইরান বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবহন করা হয়। সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত।

ইরানের হাতে আর কী কী ‘কার্ড’ আছে

ইরান বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবহন করা হয়। সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত।

গত দফার লড়াইয়ে ইরানিরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছে। হামিদরেজা আজিজি বলেন, যদি ইরান সরকার মনে করে, এ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সংকটের মুখে পড়েছে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটির পরিবর্তে দুটি সামুদ্রিক ফ্রন্টে মনোযোগ দিতে বাধ্য করতে চাইতে পারে।

মেহেদি খারাতিয়ান গত মাসে পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে ইরান বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল সীমিত করে এর পাল্টা জবাব দেবে।

এটা করা হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে এ কৌশল শেষ পর্যন্ত জটিল জায়গায় গিয়ে ঠেকতে পারে।

আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হলে হুতি মিলিশিয়ারা ইরানকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছে। তবে গত দফার লড়াইয়ে তারা বেশ সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। বিশ্লেষকেরা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, গোষ্ঠীটি তাদের ফুরিয়ে আসতে থাকা সামরিক মজুত থেকে ঠিক কতটুকু ব্যবহারের সামর্থ্য রাখে, সেই হিসাব-নিকাশ করছে।

নিউইয়র্ক টাইমস

সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সমন্বিত রেগুলেশনের জন্য দেশে একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ নিয়ে জুনের মধ্যে পরামর্শক কমিটি গঠন করে একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন,  সমন্বিত রেগুলেশনের মধ্যে রাখতে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন তিনি। নির্বাচনী ইশতেহারে ও বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচিতেও এটি বলা হয়েছে। তারা সেই লক্ষ্যে এগোতে চান। অগ্রগতি হচ্ছে, সব অংশীজনই এখন এই লক্ষ্যের সঙ্গে যৌথ যাত্রার মধ্যে আছেন। 

তিনি আরও বলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জুন মাসের মধ্যে পরামর্শক কমিটি গঠন করে একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আশা করছেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সরকারের কাছে এই প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব হবে।

 

ঢাকা

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার বলেন, এখনো আসামিকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর–১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের সাত নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটিকে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা শৌচাগারে পাওয়া যায়। শিশুটির শরীরের মূল অংশটি পাওয়া যায় খাটের নিচ থেকে।

পুলিশ জানায়, সোহেল রানা ওই কক্ষে দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার পর তিনি শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, শিশুটির নিখোঁজের এক ঘণ্টার মধ্যেই পাশের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে হত্যা করা হয় আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে। ৯৯৯ নম্বরে সংবাদ পেয়ে বেলা ১১টার পর শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, রামিসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তাঁর বাবার নাম আবদুল হান্নান মোল্লা। তিনি একটি রিকুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। মায়ের নাম পারভীন আক্তার। তাঁদের দুই মেয়ের মধ্যে রামিসা ছোট। বড় মেয়ে রাইসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে পল্লবীর মিরপুর–১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের সাত নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে বসবাস করছে। শিশুটির লাশ পাওয়া যায় পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে।

রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, ছবি: সংগৃহীত
 

এর আগে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার আজ বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটিকে হত্যায় পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের ভাড়াটে সোহেল রানাকেই মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি পেশায় রিকশার মেকানিক। তাঁর কক্ষ থেকেই রক্তমাখা কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শিশুটির পরিবার যা জানাল

আজ দুপুরের পর পল্লবীর ওই বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। ভিড় ঠেলে বাসায় ঢুকতেই দেখা যায়, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন। রামিসাদের বাসায় স্বজনদের ভিড়। একটি কক্ষে রামিসার মা–বাবা বাক্‌রুদ্ধ হয়ে বসে ছিলেন।

রামিসার চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসার সঙ্গে রামিসার স্কুলে যাওয়ার কথা। হঠাৎই রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর মা পারভীন ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে দেখেন, রামিসার পায়ের একটি জুতা পড়ে আছে। তখন পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করেন। ভেতর থেকে বন্ধ দরজাটি তখন খোলা হচ্ছিল না। অনেক সময় ধরে নক করা হলেও দরজা খোলা হয়নি। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রামিসার লাশ পায়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রশীদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমান কপোরেশন এমপ্লয়িজ (সার্ভিস) রেগুলেশনস ১৯৭৯–এর অনুচ্ছেদ ৫৮–এ ক্ষমতাবলে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার সকালে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মিজানুর রশীদকে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে বিকেল গড়াতেই সেই আদেশ রহস্যজনকভাবে বাতিল করা হয়েছে। গতকাল এই ঘটনা ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) খন্দকার বাকী উদ্দিন আহম্মদের সই করা এক আদেশে মিজানুর রশীদকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। এই খবর প্রকাশের পর বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং অনেকে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

তবে কয়েক ঘণ্টা না যেতেই পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় নেয়। বিকেলে একই বিভাগ থেকে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পদোন্নতি ও পদায়নের আগের আদেশটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়। কী কারণে এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো, তা নিয়ে বিমানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে।

বিমানের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পান, তবে বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৪ মার্চ মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) পদে থাকাকালে তাঁকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিনই তাঁকে আবার প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও দেওয়া হয়, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উচ্চ পদ।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব