• Colors: Purple Color

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

এর আগে ১৬ মার্চ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ পান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। গত ২৫ মার্চ এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। সিআইডিতে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন ডিরেক্টরেটের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে (সিএমপি) দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কুষ্টিয়া, ভোলা ও শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। পেশাগত জীবনে জাতিসংঘের আফ্রিকান ইউনিয়ন-ইউনাইটেড নেশনস হাইব্রিড অপারেশন ইন দারফুর-এ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

নবনিযুক্ত উপাচার্যকে (ভিসি) প্রত্যাখ্যান করে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) চলমান আন্দোলন অব্যাহত আছে। আজ সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে পূর্বঘোষিত ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বলেন, গত বৃহস্পতিবার সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন জারির পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতা-কর্মীদের দেখা যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত।

নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তাঁরা ঢাকা-শিমুলতলী সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। শুক্রবারও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্দোলন অব্যাহত থাকে। নতুন উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার সকালে ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। সকাল থেকেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করেন। এ নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ২০ জন আহত হন।

একই দাবিতে আজ সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে দেন। সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গেটে অবস্থান করলেও শিক্ষার্থীরা তাঁদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। সকাল থেকে ডুয়েট ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনেও তালা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দিতে হবে। তাঁদের মতে, ডুয়েটের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা, একাডেমিক কাঠামো ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা তুলনামূলক বেশি। ফলে ডুয়েটের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগ অধিক কার্যকর হবে।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালের ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ বাতিল, ডুয়েটের নিজস্ব শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ এবং গতকালের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যারা জড়িত তাদের সবার বিচার করতে হবে।

এদিকে নতুন ভিসি মোহাম্মদ ইকবাল গতকাল সন্ধ্যায় যোগদান করলেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি। রাতে তিনি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভা করেছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ডুয়েটের ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলা এই আন্দোলনে স্থানীয় ও ক্যাম্পাস ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট অবস্থান ও তৎপরতা দেখা গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে গতকাল রাতে ডুয়েটিয়ানদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের দলীয় রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। দলের হয়ে কেউ ডুয়েটে রাজনীতি করতে পারবে না এবং করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান ফটকে অবস্থান করছেন। নতুন ভিসি এখনো ক্যাম্পাসে আসেননি। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মুখোমুখি অবস্থানের পর এবার নগরের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক ও এর আশপাশে সভা-সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়ক এবং এর আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ-১৯৭৮-এর ৩০ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কেউ এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় নগরের টাইগারপাস এলাকায় ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করে এনসিপি। দলটির নেতারা জানান, টাইগার পাস এলাকায় সিটি করপোরেশনের প্রবেশ ফটকের সামনে অন্তত চারটি পিলারের গ্রাফিতির ওপর সাদা ও হলুদ রং করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে এসব গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) গণবিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) গণবিজ্ঞপ্তিছবি: পুলিশের সৌজন্যে

শাহাদাত হোসেন নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে এনসিপি অভিযোগ তোলার পর টাইগারপাস এলাকায় পাল্টা অবস্থান নেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় পুলিশ এসে দুই দলের মাঝামাঝি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।

এদিকে গ্রাফিতি মুছে ফেলার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি জানিয়ে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় চসিকের জনসংযোগ শাখা। এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে নগরের কোথাও জুলাইয়ের গ্রাফিতি অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

মেয়রের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো শিল্পকর্ম, শিক্ষামূলক বা সামাজিক সচেতনতামূলক গ্রাফিতি অপসারণে তাঁর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতির ক্ষেত্রে এমন নির্দেশনার প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়।

ওই বক্তব্যের পরও সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। পরে চসিকের আমবাগানমুখী প্রবেশপথের সামনে সড়কে রং দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান লেখেন তাঁরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শুরু হয়েছে। সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। 

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানসহ অন্যরা অংশ নিয়েছেন।

এনইসি’র সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন শেষে কে এগিয়ে

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৩ ওভারে ২০৩/৪। বাংলাদেশ ২৪৯ রানে এগিয়ে।

সিলেট টেস্টে আজ তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটি ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ। সম্ভবত এই টেস্টে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন ছিল।

১৫৬ রানে এগিয়ে আজ তৃতীয় দিনে সকালের সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন নাজমুল ও মুশফিক। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটিতে উঠেছে মাত্র ৫ রান। ব্যক্তিগত ১৫ রানে খুররম শাহজাদের বলে নাজমুল আউট হওয়ার পর পঞ্চম উইকেটে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে প্রথম সেশনের খেলা শেষ করেন লিটন ও মুশফিক।

লিটন ৪৮ ও মুশফিক ৩৯ রানে অপরাজিত। আজ সকালের সেশনে ২৬.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৯৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

লিডকে আরও বড় করতে আজ সকালে সেশনে ভালো শুরুর বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের জন্য। নাজমুলের উইকেট দ্রুত হারিয়ে ধাক্কা খেলেও লিটন ও মুশফিক মিলে বড় জুটি গড়ে ঘাটতিটুকু পুষিয়ে দিয়েছেন। এখন দ্বিতীয় সেশনেও ভালো ব্যাট করতে হবে বাংলাদেশকে।

সারাদেশে প্রায় ১৫০ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক স্কুল ফিডিং প্রকল্পটি চলছে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে। প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বর্তমানে ৫ প্রকার খাবার দেওয়া হচ্ছে শিশুদের। তালিকায় রয়েছে, ডিম, বানরুটি, দুধ, কলা ও বিস্কুট। তবে অভিযোগ উঠেছে এই প্রকল্পে শিশুদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে। ১১ উপজেলায় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সপ্তাহে কলা ও ডিম-বানরুটি থেকেই লোপাট হচ্ছে ১৭ কোটি টাকা। নিম্নমানের এসব খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা।

স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার খেয়ে দুই দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল শিশু রাইসা মুনতাহা। সে জানায়, তার পেট ব্যথা করছিল। এছাড়াও তার ভাষ্যমতে, ওসব খাবার সব কেমিক্যাল।

রাইসার মিডডে মিল খাবারের ভয় এখনও কাটেনি। তেমনি তার মা জান্নাতুল সন্তানকে নিয়ে শঙ্কিত। তিনি বলেন, বিষাক্ত খাবার দিয়ে আমার লাভ কী? লাভ নেই। আর বাচ্চাদের যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে কী করবো? কে দেবে আমাকে বাচ্চা?

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার থুপশাড়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, মিডডে মিলের বানরুটিতে ফাঙ্গাস জমেছে। এর ফলে খাবার থেকে গন্ধ বের হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক জানান, এমন ঘটনা নিয়মিতই ঘটে। আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

একই চিত্র দেখা যায়, জেলার কালাই উপজেলার তেলিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। বিদ্যালয়টির শিক্ষক জানান, এই রুটি খেলে পেটে ব্যথা হবে।

১২০ গ্রাম ওজনের বান রুটির দাম ধরা হয়েছে ২৪ টাকা পর্যন্ত। এমনকি ওজন ঠিক রাখতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছে রুটি।

আশেপাশের আরও কয়েকটি জেলা ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রুটির ভেতরের বাতাস থেকে এক ধরনের দুর্গন্ধ বের হয়, যা খাওয়ার অযোগ্য করে তোলে। তাই শিশুরা অনেক সময়ই সেটা ফেলে দেয়।

তবে নিয়ম অনুযায়ী ডিম দিতে হবে ন্যূনতম ৬০ গ্রাম ওজনের। প্রতি পিসের দাম ১৪ টাকা পর্যন্ত। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একেকটি ডিমের ওজন ৩৫ কিংবা ৪০ গ্রামের বেশি নয়।

৬০ গ্রাম না দিয়ে কম ওজনের ডিম দেওয়া হচ্ছে, জানতে পাবনার একটি খামারে গেলে একজন জানান, ছোট ডিমে এক টাকা কম লাগে। তিনি আরও জানান, ৫৫ গ্রামের ডিমগুলো বড় ক্যাটাগরিতে পড়ে, দামও বেশি।

এসব কারণেই প্রতিদিন ২৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ জন শিক্ষার্থীর বাজেটে এক টাকা কম করেও দেওয়া হলে সারা বাংলাদেশে প্রতিদিন নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মকর্তাদের পকেটে ঢুকবে লাখ টাকা, সপ্তাহে কোটি টাকা।

শুধু কম ওজন আর দামে সস্তা নয়, ঠিকঠাক সিদ্ধ না করা আর পচা ডিম সরবরাহের অভিযোগও আছে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, এই ডিম খাওয়া যায় না, তেমনি পচাও থাকে।

এদিকে, শিক্ষার্থীরা জানায়, কলার মাঝের অংশ অনেক সময় খারাপ থাকে। এ বিষয়ে এক শিক্ষক বলেন, অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, এই কলা যদি খাওয়ানো হয়, তাহলে আগে বাচ্চার কাশির ওষুধ কিনে দিতে হবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এসব কলা খেতে পারছে না। তাদের ভাষ্যমতে, কলা শক্ত, এটি না পাকায় তাদের কাছে কস লাগে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গিয়ে এক স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, কলার ওজন ৯০ গ্রাম। তবে সেখানে ১০০ গ্রাম ওজনের কলা দেওয়ার কথা ছিল সরবরাহকারীদের। চুক্তি অনুযায়ী ১০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি কলার দাম সাড়ে ১০ টাকা পর্যন্ত।

দাম যাচাইয়ে উত্তরাঞ্চলের কলার অন্যতম হাট দুর্গাদহ বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একেকটি কলার দাম পড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকা। এমনকি ওজনভেদেও দামের তারতম্য দেখা যায়।

কলার বাজেটে শিক্ষার্থীর জন্য প্রতি কলায় ৭ টাকা বরাদ্দ থাকলে, সেই হিসাবে প্রতি সপ্তাহে অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে প্রায় দুই কোটি টাকা ঢুকছে।

এসব নিম্নমানের কলা, রুটি, ডিম খেয়ে বিভিন্ন স্থানে অসুস্থ হয়েছেন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। তবে সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

গত ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শঙ্করবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন ২০ জন শিক্ষার্থী। তারা জানান, পাউরুটি খেয়ে পেট ব্যথা এবং বমি হয়েছিল।

শুধু রাজশাহী বিভাগের ১২ উপজেলায় পৌনে দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য কলা, রুটি, ডিম সরবরাহ করে গণউন্নয়ন সংস্থা গাক। একজন বলেন, গণনায় ধরলে ২২ হাজার ডিম আসে। এত ডিম কি চেক করে দেওয়া সম্ভব?

প্রকল্প পরিচালক বলেন, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অ্যাকশন আমাদের নিতে হবে। কারণ আসলে কোমলমতি বাচ্চাদের এই খাবারের বিষয়ে আমরা কোনো প্রকার ছাড় দিতে রাজি নই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, উপাদানগুলো যদি ক্ষতিকর হয়, তাহলে তা শিশুদের লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। আর যদি তা বাসি বা পচা হয়, তবে ডায়রিয়া, জন্ডিস, হেপাটাইটিস-এ ও ই হতে পারে।

সার্বিক বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে অবহিত করলে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজমেন্ট কমিটি খাবার কমিটিতে থাকবে, তারা বিষয়টি বুঝে নেবে, এমনই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, স্কুল ফিডিং প্রকল্পে আগামীতে দেশের সরকারি সব প্রাথমিকে খাবার দিতে ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে চায় সরকার।

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব