• Colors: Purple Color

জামালপুর ও নেত্রকোনায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুর সদর উপজেলায় একজন, মাদারগঞ্জ উপজেলায় একজন ও নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় একজন মারা যান। আজ শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।

জামালপুর

বজ্রপাতে জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের পশ্চিম আরংহাটি গ্রামের কৃষক ফারুক আহামেদের (৩৭) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টির সময় নিজ বাড়ির উঠান থেকে খড় তোলার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় কাছাকাছি থাকা তাঁর বাবা আফসার আলী আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি গ্রামের মজনু মিয়া (২৫) বজ্রপাতে মারা যান। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশক্তির সদস্য ছিলেন।

পরিবার জানায়, দুপুরে বৃষ্টির সময় বাড়ির উঠানে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন মজনু মিয়া। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বলেন, ‘বজ্রপাতে মাদারগঞ্জের একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জলাশয় থেকে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এনামুল হক (২৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মাসকা হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেলা তিনটার দিকে এনামুল মাসকা হাওরে মাছ ধরতে যান। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতে তাঁর শরীর ঝলসে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে কার্যালয়ের লোকজনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বিধি অনুযায়ী মারা যাওয়া যুবকের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বজ্রপাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজধানীতে হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সাম্প্রতিক নীতিমালাকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি বলছে, পরিকল্পনাহীন ও অপরিণামদর্শীভাবে ফুটপাত ও সড়কে হকার বসার সুযোগ করে দিলে নগরজীবনে আরও বড় বিপর্যয় তৈরি হতে পারে।

আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খানের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, হকার সমস্যা শুধু ঢাকার নয়; দেশের প্রায় সব নগর এলাকাতেই এটি পথচারীদের চলাচল, নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে নয়, সারা দেশের নগর এলাকার জন্য সমন্বিত হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিন ধরেই নগর এলাকায় হকার নীতিমালার প্রয়োজন ছিল। তবে নীতিমালা প্রণয়নের পর যথাযথ পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণ ছাড়াই যেভাবে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কেও দাগ টেনে হকার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বিস্ময়কর। এতে অল্প সময়ের জন্য তৈরি হওয়া পথচারীদের স্বস্তি আবারও হারিয়ে গেছে।

আইপিডি বলছে, ফুটপাত ও সড়ক নাগরিকদের চলাচলের জন্য। সেখানে বাধা সৃষ্টি করে ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত লাইসেন্স, কর ও ফি দিয়ে ব্যবসা করা দোকান ও মার্কেটের ব্যবসায়ীদের, অনেক ক্ষেত্রে হকারদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হচ্ছে।

নীতিমালায় পথচারীদের জন্য ন্যূনতম ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। একে ‘অপ্রতুল’ মনে করছে আইপিডি। সংস্থাটির ভাষ্য, আন্তর্জাতিক ও আধুনিক নগর-পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী বড় শহরের আবাসিক এলাকায় ৮ থেকে ১০ ফুট এবং বাণিজ্যিক এলাকায় ১০ থেকে ১৬ ফুট প্রশস্ত ফুটপাত থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় এই প্রশস্ততা হওয়া উচিত ২০ থেকে ৪০ ফুট।

এ ছাড়া নতুন নীতিমালায় মেট্রোস্টেশন, বাসস্টপ বা গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরত্বে হকার বসার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইপিডি বলছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সাধারণত এসব স্থানের অন্তত ১৫০ ফুটের মধ্যে হকার বসতে দেওয়া হয় না।

তবে নীতিমালার কিছু দিককে ইতিবাচক বলেও উল্লেখ করেছে আইপিডি। বিশেষ করে হলিডে মার্কেট, নৈশকালীন মার্কেট ও হকারমুক্ত এলাকা ঘোষণার বিষয়গুলোকে তারা ভালো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি প্রান্তিক হকারদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়টিও ইতিবাচক বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তবে হকারদের লাইসেন্স ও পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণের বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা না থাকা এবং এলাকাভিত্তিক হকারদের তালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা না থাকাকে বড় ঘাটতি হিসেবে দেখছে আইপিডি। এ ছাড়া হকার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নাগরিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত না করাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইপিডির দাবি, বর্তমানে যেভাবে ফুটপাত দখল করে হকাররা ব্যবসা করছেন, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। প্রকৃত হতদরিদ্র হকারদের চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে অবৈধ দখলকে পুনর্বাসনের নামে বৈধতা দেওয়া ঠিক হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শুধু পুনর্বাসন নয়, দারিদ্র্য বিমোচনের দৃষ্টিকোণ থেকেও ভাবতে হবে। পাশাপাশি হকার সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইপিডি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, এ জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চামড়া শিল্পের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে তিনি একাধিকবার বৈঠক করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আল্লাহর তৌফিক থাকলে বাংলাদেশে চামড়া শিল্প একটি বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়কারী খাতে পরিণত হবে।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া শিল্পের যে দুর্বলতাগুলো রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মাত্র আড়াই মাসে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না। এ বিষয়ে একটু সময় দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই শিল্পকে সত্যিকারের সম্ভাবনাময় খাতে রূপান্তর করতে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। এই সাময়িক ও জরুরি সময়ে যেন এক পিস চামড়াও নষ্ট না হয়, সেজন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এটি শুধু একটি শিল্প নয়, বরং আমাদের জাতীয় সম্পদ। সচেতনভাবে কোনো সম্পদ নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ এতে দেশের অর্থনীতি ও সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 
 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, কুইক রেসপন্স টিম গঠন, হটলাইন চালু, সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আলোর ব্যবস্থা করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম এসব সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি রাতে আবাসিক হলে ফেরার পথে এক নারী শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগত এক দুষ্কৃতকারী টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় ১৪টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন। নিরাপত্তাঘাটতির অভিযোগ পেলেই এই দল দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য ভাতাও দেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত অভিযোগ জানানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি হটলাইন নম্বর চালুর সিদ্ধান্তও নিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে বহিরাগতদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে লগবুকে নাম-ঠিকানা ও প্রবেশের উদ্দেশ্য লিখে ঢুকতে হবে। ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হবে। তাঁরা দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কাছে পাস দেখিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন বিভিন্ন ভবনে কর্মরত নির্মাণশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্মাণশ্রমিক ও কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দোকানকর্মীদের তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সব ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেটে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মসজিদ ফটক, প্রান্তিক ফটক ও গেরুয়া ফটকে অতিরিক্ত প্রহরী মোতায়েন করা হবে। এক মাসের মধ্যে নতুন পুরুষ ও নারী নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া আরও ১০০ জন নতুন আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশপথের ত্রুটি দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। আলবেরুনী হলের টিনশেড এক্সটেনশন ভবন অবিলম্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হবে। একই সঙ্গে বুলিং, সাইবার বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ নীতিমালা-২০২৩’ অনুযায়ী একটি স্থায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১২ মে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন রাস্তা থেকে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। পরদিন দুপুরে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিন রাতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি জানান। তাঁরা আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দেন। কিন্তু আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আবার আন্দোলনে নামেন এবং প্রক্টরিয়াল টিমকে পদত্যাগের দাবি জানান। আজ শুক্রবার রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হবে।

সিলেটের বিছানাকান্দিতে গোসল করতে নেমে পানির স্রোতে তলিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শান্ত বণিক নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ৫ ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

শুক্রবার (১৫ মে) ব্যাচের সহপাঠীদের সঙ্গে বিছানাকান্দিতে ভ্রমণে গিয়েছিলেন শান্ত। বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকায় শান্তসহ তিন সহপাঠী একসঙ্গে পানিতে নামেন। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের টানে শান্ত তলিয়ে যান। বাকি দুজন নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শান্ত নিখোঁজ থাকেন।

শান্ত বণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার পর উদ্ধারকাজে কিছুটা বিলম্বের অভিযোগ তুলেছেন শান্তর সহপাঠীরা। পিএমই বিভাগের ২০২১-২০২২ সেশনের শিক্ষার্থী সোহেল রানা জানান, শান্ত নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ফায়ার সার্ভিস বা প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। স্থানীয় ডুবুরিরা নিজ দায়িত্বে প্রথম উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিছানাকান্দি টুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্প ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। ঘটনাস্থলটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড সংলগ্ন হওয়ায় এবং সিলেট থেকে ডুবুরি দল পৌঁছাতে সময় লাগায় উদ্ধার অভিযান শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়। স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে চেষ্টা করলেও শুরুতে সফল হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন অধিকারী শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী হওয়ায় তাকে দ্রুত স্থানীয় ডুবুরি দিয়ে উদ্ধারের ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হয়।

পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে শান্ত বণিকের মরদেহ উদ্ধার করে।

 

নিয়োগ দেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, মৌলভীবাজারের এসপি রিয়াজুল ইসলাম জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার অর্পণ করে ১৬ মের (শনিবার) মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন। আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে ৯ মে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের পৃথক দুই আদেশে ফেনী ও পঞ্চগড়ের দুই এসপিকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁরা হলেন ফেনীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

উল্লেখ্য, ৫ মে দেশের ১২ জেলার পুলিশ সুপার পদে রদবদল আনা হয়। বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে তিনজনকেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব