বানিজ্য

  • Colors: Orange Color

নিজেদের তৈরি একাধিক পুরোনো মডেলের আইপডসহ একটি মডেলের ম্যাকবুক ও অ্যাপল টিভি থেকে নিজেদের প্রযুক্তি সমর্থন সুবিধা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে যন্ত্রগুলোতে অ্যাপলের হালনাগাদ প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা-সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না। ফলে কারিগরি ত্রুটি হলে যন্ত্রগুলো মেরামতের সুবিধা মিলবে না। শুধু তা–ই নয়, সাইবার হামলা হুমকিতেও থাকবেন ব্যবহারকারীরা।

অ্যাপলের ‘ভিনটেজ’ ও ‘অবসোলিট’ তালিকায় যুক্ত হওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২০১৭ সালে বাজারে আসা ১৩ ইঞ্চির ম্যাকবুক এয়ার। ‘ভিনটেজ’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় পণ্যটি নষ্ট হলে অ্যাপল স্টোর বা অনুমোদিত সেবাকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ মজুত থাকা সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে কারিগরি সেবা পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে আইপ্যাড মিনি ৪–এর সব সংস্করণ এবং ৩২ গিগাবাইট সংস্করণের অ্যাপল টিভি এইচডিকে ‘অবসোলিট’ বা প্রযুক্তিগতভাবে অচল পণ্যের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব ডিভাইসের জন্য অ্যাপল আর কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক হার্ডওয়্যার সেবা বা মেরামতসুবিধা দেবে না।

অ্যাপলের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো পণ্য পাঁচ বছরের বেশি সময় বাজারে বিক্রি না হলে সেটিকে ‘ভিনটেজ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর সাত বছরের বেশি সময় ধরে বিক্রি বন্ধ থাকলে সেটি ‘অবসোলিট’ তালিকায় যুক্ত হয়।

সূত্র: ডেইলি মেইল

আহসান হাবীব

নিজেদের তৈরি আকারে ছোট বিশেষ প্রযুক্তির হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকে নাসা। এবার বড় পরিসরে মঙ্গল গ্রহের তথ্য সংগ্রহের জন্য হালনাগাদ প্রযুক্তির আকারে ছোট শক্তিশালী হেলিকপ্টার তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। মঙ্গল গ্রহে নাসার পাঠানো প্রথম হেলিকপ্টার ইনজেনুইটির রোটর ব্লেড বা পাখার গতি শূন্য দশমিক ৭ মাত্রার কম থাকলেও নতুন মডেলের হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেডের গতি ম্যাক ১ দশমিক শূন্য ৮–এর চেয়ে বেশি। এই অভাবনীয় গতি পরবর্তী প্রজন্মের হেলিকপ্টারের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাসার এমস রিসার্চ সেন্টারের কর্মকর্তা শানা উইথ্রো–মেসার বলেন, ‘হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেডের গতির সফল পরীক্ষা আরও চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে উড্ডয়নের সম্ভাব্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। আমরা ভেবেছিলাম, ম্যাক ১ দশমিক শূন্য ৫ অর্জন করতে পারলেই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করব, কিন্তু শেষ ধাপে আমরা ম্যাক ১ দশমিক শূন্য ৮ গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। এই হেলিকপ্টারগুলো সত্যিই বিস্ময়কর হতে যাচ্ছে।’

নাসার তথ্যমতে, একটি হেলিকপ্টারের রোটর ব্লেডের গতি যখন ম্যাক শূন্য দশমিক ৮ অতিক্রম করে, তখন সেখানে শক ওয়েভ, বাতাসের প্রচণ্ড বাধা ও অস্থির বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। এর ফলে হেলিকপ্টারের ওপর একধরনের চাপ তৈরি হয়। পৃথিবীতে এই সমস্যার সমাধান করা তুলনামূলক সহজ হলেও মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডলে ব্যবহার উপযোগী এমন হেলিকপ্টারের নকশা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।

পৃথিবী ও মঙ্গলের মধ্যে অনেক মিল থাকলেও বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্যে সামান্য পার্থক্যও একটি বিমানের উড্ডয়নের প্রক্রিয়া পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর তুলনায় অত্যন্ত পাতলা। ঘনত্বে যা পৃথিবীর মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। রোটরের গতি বৃদ্ধির ফলে নতুন মডেলের হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে হেলিকপ্টারে বেশি ওজনের উন্নত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা যাবে। নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের শেষের দিকে স্কাইফল মিশনের আওতায় নতুন মডেলের তিনটি হেলিকপ্টার মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হবে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

ঈদের বাকি মাত্র কয়েক দিন। ঈদের কেনাকাটায় পছন্দের পোশাকের পাশাপাশি অনেকের তালিকায় থাকে স্মার্টফোন। ব্যবহার ও প্রয়োজন ভেদে এসব স্মার্টফোনের চাহিদাও হয় ভিন্ন রকমের। ঈদে স্মার্টফোনের বাজারে ৩০ হাজারের মধ্যে ভালো মানের কয়েকটি ফোনের খোঁজ নেওয়া যাক।

ওয়ালটন জেনন এক্স ২০

এই ফোনের দাম ২০ হাজার ৪৯৯ টাকা। ১২৮ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৬.৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির সামনে ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকায় সহজেই ভালো মানের সেলফি তোলা যায়। ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরা রয়েছে।

রিয়েলমি সি৬৫

৬.৬৭ ইঞ্চি পর্দার এই ফোনের দাম ২০ হাজার ৫৭৯ টাকা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।  

স্যামসাং গ্যালাক্সি এম৩৫

এই ফোনের দাম ২১ হাজার ৮০০ টাকা। ১২৮ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৬ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। পেছনে ৫০, ৮ ও ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাযুক্ত ফোনটির সামনে ১৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকায় সহজেই ভালো মানের সেলফি তোলা যায়। ৬.৬ ইঞ্চি পর্দার ফোনটিতে ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিও রয়েছে।

ভিভো ওয়াই ২৯

১২৮ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৬.৬৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ৬ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের দাম ২১ হাজার ৯৯৯ টাকা।

টেকনো ক্যামন ৩০

এই ফোনের দাম ২২ হাজার ৯৯৯ টাকা। ৬.৭৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির ধারণক্ষমতা ২৫৬ গিগাবাইট। ৮ গিগাবাইট র‍্যামযুক্ত ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি রয়েছে ফোনটিতে।

রিয়েলমি সি৭৫

৬.৭২ ইঞ্চি পর্দার এই ফোনের দাম ২২ হাজার ৯৯৯ টাকা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।  

অনার এক্স৭সি

এই ফোনের দাম ২২ হাজার ৯৯৯ টাকা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে। পেছনে ১০৮ ও ২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাযুক্ত ফোনটির সামনে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকায় সহজেই ভালো মানের সেলফি তোলা যায়। ৬.৭৭ ইঞ্চি পর্দার ফোনটিতে ৬ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিও রয়েছে।

অপ্পো এ৫ প্রো

এই ফোনের দাম ২৩ হাজার ৯৯০ টাকা। ৬.৬৭ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির ধারণক্ষমতা ১২৮ গিগাবাইট। ৮ গিগাবাইট র‍্যাম ও ৫ হাজার ৮০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত ফোনটির পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

ওয়ানপ্লাস নর্ড সিই৪ লাইট

৬.৬৭ ইঞ্চি এফএইচডিপ্লাস পর্দার এই ফোনের দাম ২৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। ৫ হাজার ১১০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ৫০ ও ২ মেগাপিক্সেলের দুটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটিতে ৮ গিগাবাইট র‍্যাম রয়েছে।

শাওমি রেডমি নোট ১৪ প্রো

৫ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারিযুক্ত এই ফোনের পেছনে ২০০, ৮ ও ২ মেগাপিক্সেলের তিনটি ক্যামেরার পাশাপাশি সামনে রয়েছে ৩২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। এর ফলে সহজেই ভালো মানের ছবি তোলা যায়। ৬.৬৭ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির দাম ২৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।

জাহিদ হোসাইন খান

মহাবিশ্বে একটিমাত্র নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা ছয় হাজারের বেশি গ্রহ আবিষ্কার করা হলেও দুটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহ আবিষ্কার হয়েছে মাত্র ১৮টি। তবে এবার দুটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা ২৭টি সম্ভাব্য নতুন গ্রহের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের বিজ্ঞানীরা। সন্ধান পাওয়া গ্রহগুলো পৃথিবী থেকে ৬৫০ থেকে ১৮ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের বিজ্ঞানী বেন মন্টেট জানিয়েছেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনেক কিছুই খুব সহজে অনুমেয় নয়। যখন এই গ্রহগুলো নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যায়, তখন নক্ষত্রের পৃষ্ঠে ছায়া পড়ে এবং উজ্জ্বলতা কমে যায়, যা দেখে গ্রহের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়। কিন্তু এটি কেবল তখনই সম্ভব, যখন পৃথিবী থেকে আমাদের দেখার রেখার সঙ্গে নক্ষত্র ও গ্রহের অবস্থান পুরোপুরি একই সমান্তরালে থাকে। ফলে অনেক গ্রহ নজর এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মার্গো থর্নটন আরও বলেন, দুটি নক্ষত্রের ঘূর্ণন এবং মহাকর্ষীয় টানের মতো অন্য বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার পর ১ হাজার ৫৯০টি নক্ষত্রব্যবস্থার মধ্যে ৩৬টিতে এমন ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া গেছে, যাদের আচরণ কেবল একটি তৃতীয় বস্তুর উপস্থিতির মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এই ৩৬টির মধ্যে ২৭টি বস্তুর ভর একটি গ্রহের ভরের সমান হওয়া সম্ভব। তবে সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, মহাবিশ্বের অর্ধেকের বেশি নক্ষত্র বাইনারি বা একাধিক নক্ষত্রব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিদ্যমান। সম্ভাব্য গ্রহগুলো নেপচুনের সমান বা বৃহস্পতির চেয়ে দশ গুণ পর্যন্ত ভারী হতে পারে। নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইটের তথ্য ব্যবহার করে গ্রহগুলো শনাক্ত করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

গুগলের অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাইবার অপারাধীরা প্রায় ৩০ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান গার্ডিও। নতুন এই কৌশলকে ‘অ্যাকাউন্টডাম্পলিং’ নামে অভিহিত করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভিয়েতনামভিত্তিক একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ চালিয়ে আসছে এবং হ্যাক করা অ্যাকাউন্টগুলো অবৈধভাবে অনলাইনে বিক্রি করছে।

গার্ডিওর নিরাপত্তা গবেষক শেকড চেন বলেন, এটি কোনো এককালীন ফিশিং কৌশল নয়, এটি একটি ধারাবাহিক ও ক্রমবিবর্তিত অপরাধ। এতে রিয়েল-টাইম অপারেটর প্যানেল, উন্নত কৌশল এবং একটি সুসংগঠিত বাণিজ্যিক কাঠামো রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দখল করে তা বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার ইতিহাস যুক্ত থাকে, সেগুলোর চাহিদা অবৈধ বাজারে তুলনামূলক বেশি। এই আক্রমণের শুরু হয় লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং ই–মেইলের মাধ্যমে। মূলত ফেসবুকের বিজনেস অ্যাকাউন্টধারীদের উদ্দেশে পাঠানো এসব ই–মেইলে মেটার সাপোর্ট বিভাগের পরিচয় ব্যবহার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্টে সমস্যা আছে এবং দ্রুত আবেদন না করলে অ্যাকাউন্টটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। গুগল অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্মের ‘নোরিপ্লাই’ ঠিকানা থেকে ই–মেইল পাঠানোর কারণে সাধারণ স্প্যাম ফিল্টার এগুলো শনাক্ত করতে পারছে না। পরে তাদের একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে নেওয়া হয়, যেখানে লগইন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গার্ডিও এই অভিযানে ব্যবহৃত চারটি প্রধান কৌশল চিহ্নিত করেছে। প্রথমত, নেটলিফাইয়ে হোস্ট করা ভুয়া ফেসবুক সাপোর্ট পেজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্মতারিখ, ফোন নম্বর এবং পরিচয়পত্রের ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব তথ্য সাইবার অপরাধীদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে পাঠানো হয়। দ্বিতীয়ত, ‘ব্লু ব্যাজ’ যাচাইয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের ভেরসেলে হোস্ট করা ভুয়া নিরাপত্তা যাচাই পেজে নেওয়া হয়। সেখানে নকল ক্যাপচা যাচাইয়ের পর ব্যবহারকারীদের ফিশিং পেজে পাঠিয়ে যোগাযোগের তথ্য, ব্যবসায়িক তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কোড সংগ্রহ করা হয়। তৃতীয়ত, গুগল ড্রাইভে রাখা পিডিএফ ফাইলের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই পিডিএফগুলো ‘ক্যানভা’ ব্যবহার করে তৈরি করা। এর মাধ্যমে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ব্রাউজারের স্ক্রিনশটও হাতিয়ে নেওয়া হয়।। চতুর্থত, হোয়াটসঅ্যাপ, মেটা, অ্যাপল বা কোকা-কোলার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে প্রথমে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করে পরে তাঁদের হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে নেওয়া হয়।

গার্ডিওর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম তিনটি কৌশলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কানাডা, ফিলিপাইন, ভারত, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর বাসিন্দা। তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারিয়েছেন।

সূত্র: দ্য হ্যাকার নিউজ

ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডের নতুন হালনাগাদ উন্মুক্ত করেছে গুগল। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে অনলাইনে তথ্য অনুসন্ধান ও কেনাকাটার সময় ব্যবহারকারীদের বারবার ট্যাব পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। ফলে ব্যবহারকারীরা বর্তমানের তুলনায় দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা সুবিধাটি ব্যবহার করতে পারবেন।

গুগল জানিয়েছে, ক্রোম ব্রাউজারের এআই মোডে যুক্ত নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের একই সঙ্গে ওয়েবসাইট ব্রাউজিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণের সুযোগ দেবে। নতুন হালনাগাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হচ্ছে ‘স্প্লিট-স্ক্রিন’ সুবিধা। সুবিধাটি চালুর ফলে এআই মোডে কোনো লিংকে ক্লিক করলে সেটি আলাদা ট্যাবে না খুলে একই পর্দায় এআই উইন্ডোর পাশেই দেখা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীদের আগের পাতায় ফিরে যেতে বা বারবার ট্যাব পরিবর্তন করতে হবে না।

নতুন হালনাগাদে ‘মাল্টি-মোডাল’ অনুসন্ধান সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই তাঁদের খোলা ট্যাব, ছবি বা পিডিএফ ফাইল থেকে তথ্য নিয়ে একসঙ্গে অনুসন্ধান করতে পারবেন। এর পাশাপাশি সার্চ বক্সে থাকা নতুন ‘প্লাস’মেনুতে ক্লিক করে ব্যবহারকারীরা সাম্প্রতিক ট্যাব, ছবি বা ফাইল নির্বাচন করে সেগুলোকে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যুক্ত করতে পারবেন। ফলে ব্যবহারকারীরা একাধিক উৎস থেকে তথ্য একত্রিত করে জটিল অনুসন্ধান সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন।

গুগলের দাবি, ক্রোম ব্রাউজারের নতুন সুবিধাগুলো ব্যবহারকারীদের তথ্য খোঁজা ও বিশ্লেষণের প্রক্রিয়াকে আরও সাবলীল করে তুলবে। এতে ব্যবহারকারীরা একই কাজের মধ্যে থেকে বিভিন্ন তথ্য তুলনা করতে পারবেন, নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রশ্ন করার পাশাপাশি কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব